ঋগ্বেদ ০৮।০৬১

ঋগ্বেদ ০৮।০৬১
ঋগ্বেদ সংহিতা ।। ৮ম মণ্ডল সূক্ত ৬১
ইন্দ্র দেবতা। প্রগাথের পুত্র ভর্গ ঋষি।

১। ইন্দ্র আমাদের এই উভয়বিধ বাক্য শ্রবণ করুন। আমাদের সহগামী কৰ্ম্মযুক্ত হইয়া মঘবান অত্যন্ত বল লাভ করতঃ সোমপানাৰ্থ আগমন করুন।

২। দ্যাবাপৃথিবী সেই শোভমান বৃষ্টিপ্রদ ইন্দ্রের সংস্কার করিয়াছেন। তাহাকে বলের জন্য সংস্কার করিয়াছিলেন। এই জন্য হে ইন্দ্র! তুমি উপমানভূত দেবগণের মূখ্য হইয়া বেদীতে উপবিষ্ট হও এবং তোমার মন সোমাভিলাষী।

৩। হে বহুধনবান ইন্দ্র! তুমি জঠরে অভিযুত সোম সেক কর, হে হরি নামক অশ্বযুক্ত ইন্দ্র! তোমাকে সংগ্রামে শত্রুগণের অভিভবকারী, কাহারও দ্বারা অধৰ্ষণীয় ও অন্যের ধর্ষক বলিয়া জানি।

৪। হে মঘবান ইন্দ্র! তোমার সত্য কেহ হিংসা করিতে পারে না, যাহাতে ক্রতুদ্বারা ফল কামনা করিতে পারি তাহাই হউক, হে হনুযুক্ত বজ্রবান! তোমার আশ্রয়ে অন্ন ভজনা করিব এবং শীঘ্র শত্রুগণকে অভিভব করিব।

৫। হে যজ্ঞপতি ইন্দ্র! সমস্ত রক্ষার সহিত অভিমত ফল প্রদান কর। হে শূর! তুমি যশস্বী ও ধনপ্রাপক, তোমাকে ভাগ্যের ন্যায় পরিচর্য্যা করি।

৬। হে ইন্দ্র! তুমি অশ্বের পোষক, তুমি গোসমূহের সংখ্যা বৃদ্ধি কর, তুমি হিরন্ময় শরীর ও উৎস সদৃশ। তুমি আমাদের যাহা দান করিতে বাসনা কর, তাহা কেহই হিংসা করিতে পারে না। অতএব যাহা যাচ্ঞাকরি, তাহা আহরণ কর।

৭। হে ইন্দ্র! তুমি আগমন কর। তুমি ধনদানার্থ পরিচর্য্যাকারীকে ধন প্রদান কর। আমি গাভী ইচ্ছা করি, আমাকে গোসমূহ প্রদান কর। আমি অশ্ব ইচ্ছা করি, আমাকে অশ্ব প্রদান কর।

৮। হে ইন্দ্র! তুমি বহুশত ও বহুসহস্র পশুযূথ প্রদানের অনুমতি কর। নগরবিদারক ইন্দ্রকে রক্ষার্থ স্তব করতঃ বিবিধ বাক্যযুক্ত হইয়া তাহাকে আমাদের অভিমুখে আনয়ন করিব।

৯। হে ইন্দ্র! হে শতক্রতু! হে অপ্রতিহত ক্রোধবিশিষ্ট! হে সংগ্রামে অহঙ্কারবিশিষ্ট! যে মেধাশূন্য, বা মেধাবী তোমার স্তব করে, তোমার অনুগ্রহে সে আনন্দিত হয়।

১০। উগ্রবাহু, বধকারী, নগরবিদারী ইন্দ্র যদি আমার আহ্বান শ্রবন করেন, তাহা হইলে আমরা ধনাভিলাষে ধনপতি, বহুকৰ্ম্ম ইন্দ্রকে স্তোত্ৰদ্বারা আহ্বান করিব।

১১। আমরা পাপী, আমরা ইন্দ্রকে জানি না। আমরা ধনশূন্য, আমরা অগ্নিরহিত, আমরা ইন্দ্রকে জানি না, অতএব এক্ষণে আমরা সোম অভিযুক্ত হইলে তাহার জন্য একত্রিত হইয়া ইন্দ্রকে সখা করিয়া লইব।

১২। উগ্র ও যুদ্ধে শত্রুগণের অভিভবকর ইন্দ্রকে আমরা যোজিত করিব। তাহার পূজা ধ্যানের ন্যায় অবশ্য প্রদেয়। তিনি অহিংসনীয়, রথস্বামী এবং বহু অশ্বের সহিত মিলিত বেগবান অশ্বকে জানেনত। তিনি দাতা, তিনি বহুলোকের মধ্যে আমাদিগকে প্ৰাপ্ত হইয়াছেন।

১৩। হে ইন্দ্র! যাহা হইতে আমরা ভয় পাই, তাহা হইতে আমাকে অভয় প্রদান কর। হে মঘবন! তুমি সমর্থ, আমাদের অভয় প্রদানার্থ রক্ষাকার্য সম্পাদনদ্বারা শত্রুগনকে ও হিংসাকারীগণকে বিনাশ কর।

১৪। হে ধনস্বামী! তুমিই মহাধনের পরিচর্যাকারীর গৃহের বর্ধয়িতা। হে মঘবন! হে স্তুতিভাক! তুমি এইরূপ হওয়ায় আমরা সোম অভিষব করতঃ তোমায় আহ্বান করিতেছি।

১৫। এই ইন্দ্র সকলের জ্ঞাতা, ইনি বৃত্রহা, ইনি পরপালয়িতা ও বরণীয়। সেই ইন্দ্র আমাদের পুত্র রক্ষা করুন। শেষ পুত্র রক্ষা করুন, মধ্যমপুত্র রক্ষা করুন, আমাদিগকে সম্মুখ ও পশ্চাৎ উভয় দিক হইতে রক্ষা করুন।

১৬। হে ইন্দ্র! তুমি আমাদিগকে পশ্চাৎ ভাগ হইতে, পুৰ্ব্বভাগ হইতে ও অধোভাগ হইতে ও উত্তর ভাগ হইতে, সৰ্ব্ব দিক হইতে রক্ষা কর। হে ইন্দ্র! দৈব ভয় আমাদের নিকট হইতে দূরে নিক্ষেপ কর, অদেব অস্ত্র শস্ত্র দূর করিয়া দেও।

১৭। হে ইন্দ্র! অদ্য ও কল্য এবং পরেও আমাদিগকে ত্রাণ কর। হে সাধুগণের পালক! আমরা তোমার স্তোতা, সকল দিন আমাদিগকে রক্ষা কর।

১৮। এই মঘবান শূর, বহুধনবিশিষ্ট ইন্দ্র বীরত্বের জন্য সকলের সহিত মিলিত হন। হে শতক্রেতু! তোমার সেই দুই অভিলাষপ্রদ বাহু বজ্র গ্রহণ করুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *