ঋগ্বেদ ০৮।০১৩

ঋগ্বেদ ০৮।০১৩
ঋগ্বেদ সংহিতা ।। ৮ম মণ্ডল  সূক্ত ১৩
ইন্দ্র দেবতা। কণ্বগোত্রীয় নারদ ঋষি।

১। সোম অভিযুত হইলে, ইন্দ্র যজ্ঞকৰ্ত্তা ও স্তোতাকে পবিত্র করেন, ইন্দ্রই বৃদ্ধিকর বললাভার্থ মহান হইয়াছেন।

২। ইন্দ্র প্রথম ব্যোম প্রদেশে দেবসদনে যজমানের বর্ধয়িতা, তিনি কার্য পরিসমাপ্তি করেন; অত্যন্ত যশোযুক্ত এবং জললাভার্থ জয় করেন।

৩। বলবান ইন্দ্রকে বললাভকর সংগ্রামে আহ্বান করিতেছি। হে ইন্দ্র! সুখ অভিলষিত হইলে, তুমি আমাদের বর্ধনার্থ সখা হও।

৪। হে স্তুতিভাক ইন্দ্র! তোমার উদ্দেশে সোমাভিষবকারী যজমানের প্রদত্ত আহুতি গমন করিতেছে। তুমি মত্ত হইয়া উহার যজ্ঞে বিরাজ কর।

৫। হে ইন্দ্র! সোমাভিষবকারিগণ, যে ধন তোমার নিকট প্রত্যাশা করে, তুমি অবশ্য সেই ধন আমায় দান কর। আরও বিচিত্র, স্বর্গপ্রাপক ধন আমাদের জন্য আহরণ কর।

৬। হে ইন্দ্র! বিশেষদর্শী স্তোতা যখন তোমার উদ্দেশে শত্রুর প্রসহনসমর্থ স্তুতি করে, যখন বাক্যসকল তোমায় প্ৰীত করে, তখন সখার ন্যায় সকল গুণ তোমায় আরোহণ করে।

৭। হে ইন্দ্র! পূর্বকালের ন্যায় স্তোত্র উৎপাদন কর, স্তোতার আহ্বান শ্রবণ করে। যখনই সোমদ্বারা প্রমত্ত হও, তখনই সুকাৰ্য্যকারী যজমানের উদ্দেশে ফল বহন কর।

৮। ইন্দ্রের সুনৃত বাক্য নিম্নাভিগামী জলের ন্যায় বিহার করিতেছে; স্বৰ্গপতি ইন্দ্র এই স্তুতিদ্বারা পরিকীৰ্ত্তিত হইতেছেন।

৯। বশী এক ইন্দ্রই মনুষ্যসমূহের পালয়িতা বলিয়া উক্ত হন। তুমি স্তোত্রদ্বারা বৰ্দ্ধনকারী ও রক্ষণেচ্ছুগণের সহিত সোমাভিষবে প্রমত্ত হও।

১০। হে স্তোতা বিপশ্চিৎ! বিখ্যাত ইন্দ্রকে স্তব কর; উহাঁর শত্রুপরাজয়কারী অশ্বদ্বয় নমস্কারকারী হবিষ্মানের গৃহে গমন করে।

১১। হে ইন্দ্র! তোমার বুদ্ধি মহাফলপ্রদ, তুমি স্নিগ্ধরূপ, শীঘ্রগামী অশ্বের সহিত যজ্ঞে আগমন কর। যেহেতু উহাতেই তোমার সুখ।

১২। হে বলবত্তম, সৎপতি ইন্দ্র! আমরা স্তুতি করিতেছি, আমাদিগকে ধন প্রদান কর। স্তোতাগণকে বিনাশরহিত ব্যাপ্তিযুক্ত অন্ন প্রদান কর।

১৩। হে ইন্দ্র! সূৰ্য্য উদিত হইলে তোমাকে আহ্বান করি, দিবসের মধ্যভাগে তোমাকে আহ্বান করি। তুমি প্রীত হইয়া গমনশীল অশ্বের সহিত আগমন কর।

১৪। হে ইন্দ্র! শীঘ্র আগমন কর, শীঘ্র গমন কর, গব্যমিশ্রিত অভিযুত সোমে প্রীত হও। অনন্তর, আমি যেরূপ জানিতেছি, সেইরূপ পূর্বকৃত বিস্তৃত যজ্ঞ নিষ্পন্ন কর।

১৫। হে শত্রু! হে বৃত্রহন! যদি দূরদেশে থাক, যদি সমীপে থাক, যদি বা অন্তরিক্ষে থাক, সকল স্থান হইতে সোম পান করতঃ রক্ষাকারী হও।

১৬। আমাদের স্তুতিসমূহ ইন্দ্রকে বৰ্দ্ধিত করুক, অভিযুত সোমসমূহ ইন্দ্রকে বৰ্দ্ধিত করুক, হব্যযুক্ত মনুষ্যগণ ইন্দ্রের প্রতি রত হইয়াছে।

১৭। মেধাবী রক্ষাভিলাষিগণ সেই ইন্দ্রকেই তৃপ্তিকর আহুতিসমূহদ্বারা বৰ্দ্ধিত করে, পৃথিবীস্থিত সমস্ত লোক শাখার ন্যায় বৰ্দ্ধিত করে।

১৮। দেবগণ ত্রিকদ্রুক যজ্ঞে চৈতন্যদাতা ইন্দ্রকে যাগ করিয়াছিলেন, আমাদের স্তুতিসমূহ সর্বদা বৰ্দ্ধয়িতা সেই ইন্দ্রকেই বৰ্দ্ধিত করুক।

১৯। হে ইন্দ্র! তোমার স্তোতা অনুকূলকর্মা হইয়া কালে কালে উকথসমূহ উচ্চারণ করে; তুমি অদ্ভুত, শুদ্ধ ও পাবক বলিয়া স্তুত হও।

২০। যাঁহাদের উদ্দেশে বিশিষ্ট জ্ঞানবিশিষ্ট ব্যক্তিগণ স্তোত্র উচ্চারণ করেন, সেই রূদ্রের অপত্য মরুদগণ চিরন্তন স্থানসমূহে আছেন।

২১। হে ইন্দ্র! যদি তুমি আমায় সখ্য প্রদান কর ও এই সোমরূপ অন্ন পান কর; তাহা হইলে আমরা সমস্ত শত্রুগণকে অতিক্রম করিতে পারিব।

২২। হে স্তুতিভাক ইন্দ্র! কখন তোমার স্তোতা অত্যন্ত সুখী হইবে? কখন আমাদিগকে গোসমূহ, অশ্বসমূহ ও নিবাসভূত ধন দান করিবে?

২৩। হে জরারহিত ইন্দ্র! সুন্তুত ও সেচনসমর্থ অশ্বদ্বয় তোমার রথ আমাদের নিকট আনয়ন করুক; তুমি অত্যন্ত মদযুক্ত, আমরা তোমার নিকট যাচঞা করিতেছি।

২৪। মহান ও বহুকর্তৃক স্তুত সেই ইন্দ্রের নিকট তৃপ্তিকর আহুতিদ্বারা যাচঞা করি। তিনি প্ৰীতিকর কুশোপরি উপবেশন করুন, অনন্তর দ্বিবিধ হব্য স্বীকার করুন।

২৫। হে বহুকর্তৃক স্তুত ইন্দ্র! তুমি ঋষিগণকর্তৃক স্তুত, রক্ষাকাৰ্য্যদ্বারা আমাদিগকে বৰ্দ্ধিত কর এবং আমাদের অভিমুখে প্রবৃদ্ধ অন্ন দান কর।

২৬। হে বজ্রবান ইন্দ্র! তুমি এই প্রকারে স্তুতিকারীর রক্ষক হইয়া থাক; আমি যজ্ঞহেতু তোমার স্তোত্ৰপ্ৰাপ্য অনুগ্রহ লাভ করি।

২৭। হে ইন্দ্র! প্রসিদ্ধ ও হর্ষান্বিত ও বিস্তীর্ণ ধনবিশিষ্ট অশ্বদ্বয়কে যোজিত করতঃ এই যজ্ঞে সোমপানার্থে আগমন কর।

২৮। তোমার যে রুদ্রপুত্র মরুৎগণ আছেন তাঁহারা শ্ৰয়ণীয়, এই যজ্ঞে আগমন করুন; আর মরুৎগণযুক্ত প্রজাগণও আমাদের হব্যাভিমুখে আগমন করুন।

২৯। ইন্দ্ৰেয় এই হিংসক মরুৎপ্রভৃতি প্রজাগণ দ্যুলোকে যে স্থানে আছে, তাহা সেবা করেন এবং যাহাতে আমরা ধন লাভ করিতে পারি, এরূপ যজ্ঞে নাভি প্রদেশে সন্নিহিত থাকেন।

৩০। যজ্ঞগৃহে যজ্ঞ আরম্ভ হইলে পর, এই ইন্দ্র দ্রষ্টব্য ফলার্থে যজ্ঞ আনুপূৰ্বরূপে পরিদর্শন করিয়া নিষ্পন্ন করেন।

৩১। হে ইন্দ্র! তোমার এই রথ, অভীষ্টবৰ্ষী, তোমার অশ্বদ্বয় অভীষ্টবৰ্ষী। হে শতক্রতু! তুমি অতীষ্টবর্ষী, তোমার আহ্বান অভীষ্টবৰ্ষী।

৩২। অভিষব প্রস্তর অভিষ্টবর্ষী। মত্ততা অভীষ্টবৰ্ষী, এই অভিযুত সোম অভীষ্টবৰ্ষী, যে যজ্ঞ তোমার নিকট গমন করিতেছে উহা অভীষ্টবৰ্ষী, তোমার আহ্বান অভিষ্টবর্ষী।

৩৩। হে বজ্রবান! তুমি অভিষ্টবৰ্ষী, আমি হব্য সেচক, আমি নানাবিধ স্ততিদ্বারা আহ্বান করি। যেহেতু তুমি তোমার উদ্দেশে কৃত স্তুতি গ্রহণ কর, অতএব তোমার আহ্বান অভীষ্টবৰ্ষী।

0 thoughts on “ঋগ্বেদ ০৮।০১৩

  1. জল ঘোলা হওয়াটাই কি উপন্যাসের একটা বৈশিষ্ট্য নয় ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *