অথর্ববেদ সংহিতা ১৮।০৩ (অষ্টাদশ কাণ্ড : তৃতীয় অনুবাক)

অথর্ববেদ সংহিতা : অষ্টাদশ কাণ্ড : তৃতীয় অনুবাক

প্রথম সূক্ত

এ পুর্বোবর্তিনী স্ত্রী সহধর্মচারিণী বলে পতির অনুষ্ঠিত যাগাদিকর্মের ফলরূপ স্বর্গাদি লোক বরণ করতে চায় । হে মরণশীল মানষ, এ স্ত্রী ভূলোক থেকে নির্গত তোমার কাছে অনুমরণের জন্য পুরাতন ( স্মৃতি-পুরাণাদি প্রসিদ্ধ ) ধর্ম অনুপালনের জন্য যাচ্ছে । সে অনুমরণে গমনশীল স্ত্রীর জন্ম-জন্মান্তরেও এ ভুলোকে পুত্রপৌত্ৰাদি ও ধন দাও ।। ১ ।।

হে ধৰ্মপত্নী, এ জীবলোকের উদ্দেশে পতির কাছ থেকে উঠে এস । যে মৃত পতির কাছে শয়ন করেছ, সেখানে দৃষ্ট প্রয়োজনের অভাবে তার কাছে থেকে চলে এস । তোমার পাণিগ্রহণকর্তা পতি অপত্যাদিরূপে জন্মলাভ করেছে ।৷ ২ ৷।

মৃতদেহের কাছে নীয়মান জীবিত যুবতী নারীর জন্য গাভীর আস্তরণ দেখছি । ( জীবিত যুবতীর মৃত গোদেহের আস্তরণ অযুক্ত-এ জেনেছি) । গাভী গাঢ় অন্ধকারে অচ্ছন্ন, হিতাহিতজ্ঞানশূন্য, অতএব এ গাভীকে মৃতদেহের কাছ থেকে আমাদের দিকে নিয়ে আসব ৷৷ ৩ ৷৷

হে অবধ্য গাভী, ভূলোক জেনে ইন্দ্ৰাদি দেবগণের উদ্দেশে যাগের জন্য দধি দুগ্ধ হবি প্রভাতির নিষ্পাদন-কর্ত্রী তুমি এস, তোমার পালকের সেবা কর, এ মৃত পুরুষকে স্বর্গলোকে প্রেরণ কর ।। ৪।।

নদীর জলের ওপর প্ররূঢ় ভমিসংস্পর্শরহিত অবকা ও নদীতীরবর্তী বেতসে রক্ষণসমর্থ সারভূতাংশ বিদ্যমান । ( বেতস ও অবকার অপসারত্ব তৈত্তিরীয় সংহিতায় বলা হয়েছে )। হে অগ্নি, তুমি জলের পিত্তরূপ অবকা ও বেতস প্রভাতির দ্বারা তোমার উপশম করছি । ৫ ।।

হে অগ্নি, তুমি যে পুরুষকে দগ্ধ করছ, তাকে দাহ-জনিত উষ্ণতা পরিহার করে আবার সুখী কর। ( এ জন্য পূর্বে জলের পিত্তরূপে অগ্নির জলকার্যত্ব বলা হয়েছে ) । এ দহনপ্রদেশে কাম্বূ নামক ওষধি ও বিবিধ শাখাযুক্ত দীর্ঘ কাণ্ডবিশিষ্ট দূর্বা উৎপন্ন হোক ৷৷ ৬ ৷৷

হে প্ৰেত, তোমার পরলোক গমনের জন্য গার্হপত্য জ্যোতি, অপর আহার্য-পচনাখ্য জ্যোতি, তৃতীয় আহ্বনীয় জ্যোতির সাথে তুমি মিলিত হও, অগ্নিসংস্কারজনিত দেবশরীরের দ্বারা তুমি শোভন হও, তারপর উৎকৃষ্ট দেবলোকে ইন্দ্ৰাদি দেবগণের প্রীতির বিষয় হও ।। ৭ ।।

হে প্রেত, তুমি এ স্থান হতে ওপরে উঠে দ্রুত গমন কর। অলৌকিক অন্তরিক্ষলোকে তোমার আবাসস্থান ( গৃহ ) কর । সেখানে বহির্য(?) অগ্নিষ্বাত্ত প্রভৃতি পিতৃদেবতার সাথে একমত হয়ে সোমপানে তৃপ্ত হয় । ( সোমযাগে নরাশংস নামক সোমরসের ভাগ পিতৃগণের, তা উপভোগ করে হৃষ্ট হও ) । ৮।।

হে প্রেত, এখান থেকে প্রচ্যুত হও, তার জন্য হস্তপাদাদির সাথে শরীর একত্র কর, তোমার হস্তপাদাদি যেন পরিত্যক্ত না হয়, সেরূপ শরীরের অবয়ব মধ্যদেহও যেন ত্যাগ না কর। যে স্থানে তোমার মন নিবিষ্ট হয়েছে, সে স্বর্গাদি লোকে প্রবিষ্ট হও । সেরূপ যে ভূপ্রদেশে তুমি প্রতি হও, সে স্থান লাভ কর। ৯ ৷।

সোম্য ( সোমার্হ ) পিতৃদেবগণ যজমান আমাকে তেজের সাথে যুক্ত করুক । সেরূপ সকল দেবগণ মাধুর্যযুক্ত ঘৃতের দ্বারা আমাকে লিপ্ত করুক, দীঘকাল দর্শনের জন্য রোগাদি থেকে আমাকে পার করুক এবং জরাকাল পর্যন্ত আমার অন্ন জীর্ণ করে আমার বর্ধন করুক । ১o ॥”

টীকা : ১-১০ । তৃতীয় অনুবাকে সাতটি সূক্ত, তার প্রথম সূক্তের প্রথম ঋকে ভার্যার সহমরণের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সূক্তে যদি এ জগতের ভোগাকাঙ্ক্ষী থাকে, তাহলে তাকে নিবৃত্ত হতে বলেছে । এ দেখে মনে হয়-এ সহমরণ প্রথা ছিল একেবারেই ঐচ্ছিক । ‘সতীদাহ’ প্রথায় পরবর্তী কালে কোথাও কোথাও অত্যাচার হয়েছে সত্য, কিন্তু তা শাস্ত্রানুমোদিত নয়, কারণ বিধবাদের অনুষ্ঠেয় বিধি শাস্ত্রে দেখা যায় । সহমরণ ঐচ্ছিক না হলে বিধবাগণের আচরণের বিধান শাস্ত্রে থাকত না । তবুও ঐচ্ছিক সহমরণ আমাদের কাছে নিষ্ঠুর কার্য মনে হয় ।

3 thoughts on “অথর্ববেদ সংহিতা ১৮।০৩ (অষ্টাদশ কাণ্ড : তৃতীয় অনুবাক)

  1. অথর্ব্বেদ ১১/৩/১১এর মানে কি?
    এটি কততম খন্ডের কততম শুক্তের কততম মন্ত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *