সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় । Sunil Gangopadhyay

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচনাবলী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের রচনাসমগ্র

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় – সাম্প্রতিক আপডেট

মনে পড়ে যায়

মনে পড়ে যায় ভালোবাসার জন্য কাঙালপনা আমার গেল না এ জীবনে আমার গেল না কাঙালপনা এ জীবনে ভালোবাসার জন্য যে-সব নদী শুকিয়ে গেছে, মরে ভূত হয়ে হারিয়ে গেছে যে-সব আগাছা ভরা দুঃখী মাঠ উধাও হয়ে গেছে জনারণ্যে ছেলেবেলায় শিউলি ফুল, কার্নিশে আটকানো ছেঁড়া ঘুড়ির ফরফর শব্দ কিছুই হারাতে...

একজন মানুষের

একজন মানুষের সদ্য হাসপাতাল থেকে আসছি, সে এবার বেঁচে উঠবে সমস্ত বিকেল এই বাতা উড়িয়ে দিল বাতাসে বিশেষ সংস্করণে ট্রামে বাসে চৌরাস্তায় সকলেই বলাবলি করছে যেন কে বাঁচলো, কে পেয়েছে নিশ্বাস ইজারা কেউ তাকে চিনুক বা না চিনুক, অনেকেই নামই শোনেনি তবু যে মৃত্যুর পাশে অসংখ্য...

হে পিঙ্গল অশ্বারোহী

হে পিঙ্গল অশ্বারোহী হে পিঙ্গল অশ্বারোহী, থামো ঐ দ্যাখো থেমেছে সময় দিগন্তের কিছুটা ওপারে থেমে গেল বারুদের ঝড় আকাশ একাকী ছিল চাঁদ তাকে খেল পাহাড়ী ভল্লুকে হে পিঙ্গল অশ্বারোহী, থামো চেয়ে দ্যাখো তোমার দক্ষিণে লাফ দিয়ে উঠেছে শূন্যতা পাহাড়ের মতো সে বিশাল বাঘের থাবার মতো...

গোল্লাছুট

গোল্লাছুট মানুষ হলো সংখ্যা, আর সংখ্যার তো মন থাকে না! কত মানুষ এলো, এবার কত মানুষ গেল? তিন কিংবা তিনশো কিংবা পঁচিশ তিরিশ হাজার শূন্য, শূন্য ট্রেন লাইনের দু’পাশ জুড়ে পড়ে রইলো মানুষ নয়, শূন্য, শূন্য, শূন্য জলে কাদায় খাঁ খাঁ রোদে সংখ্যাগুলো উল্টে পাল্টে শোয়, শুয়েই থাকে...

নদীর ধারে

নদীর ধারে নদীপ্রান্তে বসে আছে এক উন্মাদ, আমি প্রথমে তাকে কবি ভেবেছিলাম। বস্তুত তাকে দার্শনিকও বলা যাবে, না কেন না সে জানে না চশমা বদলাতে। নদীর সঙ্গীত বা সূর্যাস্তের চিত্র প্রর্শনীতেও তার চোখ কান নেই, সে তার লম্বা আঙুলে চুলেখ জট ছাড়াচ্ছিল। নদীপ্রান্তের সেই উন্মাদকে...

কবির মিনতি

কবির মিনতি কাঠগুদামের পাশে এক টুকরো পড়ো জমি দুটি দুঃখী প্রাণ সেইখানে বসেছিল সন্ধেবেলা একটু পরেই ওরা মিশে যাবে মলিন বাতাসে। যেমন শালিক পাখি খানিকটা শব্দ রেখে যায় যেমন সোনালি সাপ ঘাসের গোড়ায় ঢালে বিষ সে রকমই ও দু’জন ওখানে কি একটুখানি দুঃখ ফেলে গেল? যেন যায়, তাই যেন যায়!...

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় - সূচীপত্র