স্বর্গ নগরীর চাবি

অ থেকে চন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত

অ থেকে চন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত বাঁধের উপর বসে রয়েছে একজন মানুষ হাঁটুতে মুখ গুঁজে ঋষিরা তার নাম দিয়েছিল অমৃতের সন্তান দিগন্তের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চমকাচ্ছে রোদ আকাশ বর্ণহীন নদীর যৌবন নেই, দেখা যাচ্ছে তার কালো, নরম তলপেট আধপাকা ধান এলিয়ে আছে মাঠে তিল ক্ষেতে...

অচেনা দেবতা

অচেনা দেবতা বৃক্ষের চূড়ায় তিনি পা দিলেন, একজন আগন্তুক অচেনা দেবতা খর রৌদ্র হেমবর্ণ, জামা পরা প্রজাপতি, কাঠবিড়ালীর ঘুম ভাঙে প্রকৃতি নাম্নী যে নারী অকস্মাৎ কাঁপে তার আধো-জাগা বুক কিছু কিছু পুরুষেরা সবুজ চেনে না তাই অরণ্যের নীলে দেবতাটি চোখ মুখ প্রক্ষালন করে নেন, তাঁর...

অভিশাপ

অভিশাপ তুমি তো আনন্দে আছে, তোমার আনন্দ অন্য বর্ণ নিরন্তর পাশা খেলা, মাঝে মাঝে শোনা যায় হাসি তোমাকে দেখে না কেউ, এত গুপ্ত অন্তরীক্ষবাসী মনে হয়। প্রতিটি জয়ের পর আবার নতুন খেলা এতো বেশি লোভ? তুমি কতদূরে যাবে? কতো দূরে যাবে? দুঃখকে চেনো না তুমি, তোমার দুঃখের অন্য বর্ণ...

আগামী পৃথিবীর জন্য

আগামী পৃথিবীর জন্য আমরা জানি না। এক শতাব্দী পরেও এ-পৃথিবী বেঁচে থাকবে কি না আমরা জানি না। মহাপ্লাবনে ভেসে যাবে কি না শেষতম জীবন আমরা জানি না। সমস্ত সীমাই একদিন হবে কি না হিরোসিমা আমরা জানি না। হিমালয় আবার ড়ুব দেবে কি না টেথিস সাগরে আমরা জানি না। আমাদের সকলেরই নোখ হয়ে...

আলাদা মানুষ

আলাদা মানুষ এসো, আলাদা মানুষ হয়ে যাই এসো, সকলকে ডেকে বলি, আমাদের চিনতে পারো কি? বহু ব্যবহৃত এই পৃথিবীতে আমরা এসেছি এক বিষম অচেনা আবার নতুন করে লেখা হবে সব সব দৃশ্যপট বদলে নতুন উৎসব শুরু হবে এসো, অন্য মানুষ হয়ে যাই। এই নদী, এই মাটি বড় প্রিয় ছিল এই মেঘ, এই রৌদ্র, এই...

আসলে একটিও

আসলে একটিও আসলে একটিও নারী নেই, সবই নারীর আদল বহু দেখাশুনো হলো, সকলেই দেখার আড়ালে রয়ে গেল যেন মেদিনীর নিচে অগ্নিকুণ্ড, অন্য কেউ লিখে রেখে গেছে এত ভালোবাসাবাসি হলো, শয্যায় বসন্ত-যুদ্ধ সব কিছু ধুয়ে দেয় স্বপ্নময় সুগন্ধ সাবান অচেনা প্রান্তর থেকে ফের শুরু, প্রহেলিকা ভেদ...

একটাই তো কবিতা

একটাই তো কবিতা লিখতে হবে, লিখে যাচ্ছি সারা জীবন ধরে আকাশে একটা রক্তের দাগ, সে আমার কবিতা নয় আমার রাগী মুহূর্ত কবিতা থেকে বহুদূরে সরে যায় একটাই তো কবিতা লিখতে হবে অথচ শব্দ তাকে দেখায় না সহস্রার পদ্ম যজ্ঞ চলেছে সাড়স্বরে, কিন্তু যাজ্ঞসেনী অজ্ঞাতবাসে একটাই কো কবিতা কখন...

একটি ঐতিহাসিক চিত্র

একটি ঐতিহাসিক চিত্র তাঁতীপাড়ায় পেছন দিকে নাবাল জমি তার ওপাশে মুসলমানী গ্রাম ওদের দিকে আকাশটাও অনেকখানি গাঢ় ওদের ভোর মোরগঝুঁটি, এদিকে ভোর হাঁসের মতন সাদা একেক দিন কুয়াশালীন, একেক দিন বৃষ্টি সারাবেলা এখানে সব নিথর চুপ, ঘাসফড়িং-এর মুখের মতন কাঁচা-সবুজ শান্ত এখানে...

এসো চোখে চোখে

এসো চোখে চোখে ভালোবাসা গেছে সুদূর মানস হ্রদে ভালোবাসা গেছে পাহাড় ডিঙিয়ে পাহাড়ে ভালোবাসা গেছে বৈশাখী রাতে নীরব নিথর জলে ভালোবাসা যায় ছায়ার অন্বেষণে। ভালোবাসা বড় ব্যস্ত ভ্রমণকারী পায়ের তলায় চাকা, দুটি হাত ডানা চোখের নিমেষে চোখের আড়াল হঠাৎ ছদ্মবেশী শরীর ছাড়িয়ে উঠে যেতে...

কই, কেউ তো ছিল না

কই, কেউ তো ছিল না কেউ কেউ ভালোবাসে ভুল করে, কেউ কেউ ভালোই বাসে না কেউ কেউ চতুরতা দিয়ে খায় পৃথিবীকে, কেউ কেউ বেলা যায়, ফিরেও আসে না। ওপরে চাঁদের কাছে মেঘ জমে পাহাড়ের মেষ তৃণে আগুন লেগেছে যাদের বাঁচার কথা ছিল, নেই, ভুল মানুষেরা আছে বেঁচে। স্বপ্ন বারবার ভাঙে, তবু ফের...

কৌতুক

কৌতুক মেঘের সুপরামর্শে নাবাল জমিতে রোয়া হলো ইরি ধান তারপর মেঘ উড়ে চলে গেল সুদূর পশ্চিমে এ যে কৌতুক, যেন অনন্ত আকাশে এক কণা পরিহাস সবাই বুঝেছে, শুধু একজন বোঝেনি, সে শিরীষ গাছের কোলে গালে হাত দিয়ে বসে আছে— ক্ষয়াটে পাতলা মুখ, পুরোনো শিশির কাচ-রঙা দুই চোখ চিবুকে জলপাইরঙা...

ঝড়

ঝড়ের ঝাপটায় উল্টে গেল একটি ঘুঘু পাখি সে ঝড়কে ডেকেছিল ঝড়ের ভালোবাসায় জেলেদের গ্রামটিতে আছড়ে পড়লো সমুদ্র সমুদ্র ঝড়কে ডাকে পাকের পাথরের মূর্তি অন্ধকারে দু‘হাত তোলে শুকনো পাতারা জড়ো হয় তার পায়ের কাছে কানা কাড়ির মতন পথের শিশুরা এদিক-ওদিক দৌড়ে যায় মাটি কাঁপে, মাটি কাঁপে...

তিনটি অনুভব

তিনটি অনুভব মানুষের মুক্তি চাই, মুক্তিও মানুষকে খুঁজছে যেমন শ্রদ্ধা খোঁজে শ্রদ্ধেয়কে, প্রেম খোঁজে প্রেমিককে আর মমতা এখনো খুঁজে খুঁজে মরছে, কারুকে পায়নি সে এসেছিল, দেখা হলো না, ফিরে গেল ঠিক সে-সময়, সেই মুহূর্তে, আয়ুর বিন্দু আমি গেলাম, দেখা হলো না, ফিরে এলাম। তোমার...

দিনরাতের মানুষ

দিনরাতের মানুষ দিনের মানুষ সবাই হলুদ, রাতের মানুষ নীল দিনের মানুষ বিষম ব্যস্ত, হাত পা বাঁধা রাতের মানুষ নিজের মধ্যে গোলকধাঁধা দিন-মানুষের সময় খুচরো টাকায় কেনা রাত-মানুষের সবই উজাড়, বিষম দেনা এবং তারা পরস্পরের খুব অচেনা, এইটুকুই যা...

দীর্ঘ অন্ধকার

দীর্ঘ অন্ধকার দেখ, অন্ধকারে শুয়ে কী বিশাল দিগন্ত মরাল আমি আসি আলো সাঁতরে, নদীতীরে বিষণ্ণ ধীবর জাল ফেলে একা, ক্লান্ত, ভয় দেখায় নিশীথ কঙ্কাল তুমি এসে ডাক দাও, আলিঙ্গনে সৃষ্টি করো ঘর। বৃষ্টির অজস্র বিন্দু নেমে এসে দিগন্তেরও আনুক সীমানা। তোমার স্বপ্নের মুখে মুখ রাখলে হাত...

দূর যাত্রার মাঝপথে

দূর যাত্রার মাঝপথে পঁচিশ বছর আগে কোনো এক কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচের সাদা বাড়িতে আমি থাকতাম। রেলওয়ে ক্রীপার জড়ানো কঞ্চির বেড়া দেওয়া একচিলতে বাগান, মনে আছে, সব মনে আছে। বসবার ঘরের দেয়ালে অসংখ্য পেরেক, ক্যালেণ্ডার বা ছবির তেমন আধিক্য ছিল না আমার ছোট কাকীমা লাল আকাশের নিচে...

দেখা হবে

দেখা হবে রাত্রির সমুদ্রতীরে দেখা হবে রাত্রির সমুদ্র আর কিছু নয় জলের কিনার ঘেঁষে জলের গভীর মর্ম ছুঁয়ে বসে থাকা হবে শব্দ দেবে প্রতিচ্ছবি বর্ণ দেবে নিবিড় বন্ধুত্ব স্বপ্নে যে রকম নীলের সাম্রাজ্যে বাঁধ ভেঙেছে জ্যোৎস্নার অকস্মাৎ ছুটে গেছে রথ ঢেউগুলি ক্রমাগত যে স্তব্ধতার...

নাচ-খেলা

নাচ-খেলা পাহাড়ের সানুদেশে জ্বলছে আগুন এখানে সমস্ত রাত নাচ খেলা হবে গর্ভবতী মেঘ, আজ এদিকে এসো না! সারাদিন এলোমেলো পাগলা বাতাসে উড়েছে অসংখ্য রেণুকণা যেন এই দুর্দান্ত দাহনে হলো ফুলদের ভালোবাসাবাসি শুকনো পাতারা সব স্বেচ্ছাসেবকার মতো জড়ো হলো নিচে চিকন সবুজ আর খয়েরিরা করে...

নীরার জন্য

নীরার জন্য নীরা, তুমি নাও দুপুরের পরিচ্ছন্নতা নাও রাত্রির দূরত্ব তুমি নাও চন্দন বাতাস নাও নদীতীরের কুমারী মাটির স্নিগ্ধ সারল্য নাও কতলে লেবু-পাতার গন্ধ নীরা, তুমি মুখ ফেরাও, তোমার জন্য রেখেছি বছরের শ্রেষ্ঠ বর্ণাঢ্য সূর্যাস্ত তুমি নাও পথের ভিখারি বালকের হাসি নাও...

প্রতীক জীবন

প্রতীকের মুরুভূমি পায় না কখনো মরূদ্যান যেমন নরীর নেই আঙুলের ব্যথা কবিতায় আমার সমুদ্র নেই বিছানা, শিয়রের কাছে শান্ত মেঘ কবিতায় আছে। বিংশ শতাব্দরি ঠিক মাঝামাঝি ভেঙেছিল ঘুম গ্রাম্য সোঁদা গন্ধ-মাখা ক্ষ্যাপাটে কৈশোর কেটেছে বাসনা-ক্ষুব্ধ মুখ চোরা দিন, প্রতিদিন অথচ অক্ষরে,...