সোনার মুকুট থেকে

কে যেন মনীশকে ডাকলো, মনীশের জাগরণ ভেঙে তবু ভালো, শোনার মতন কেউ নেই সকলেই ঘোর অমাবস্যা দেখতে গিয়েছে সমুদ্রে মনীশেরও পোশাকের মধ্যে আছে অতিশয় শশব্যন্ত অ-মনীশ তার বন্ধু অ-সিদ্ধার্থ, অ-লাবণ্য এরাও গিয়েছে কে যেন মনীশকে ডাকলো, মনীশের জাগরণ ভেঙে- অ-ভালোবাসায় মগ্ন ওরা সব,...

অন্তত একবার এ-জীবনে

সুখের তৃতীয় সিঁড়ি ডানপাশে তার ওপাশে মাধুর্যের ঘোরানো বারান্দা স্পষ্ট দেখা যায়, এই তো কতটুকুই বা দূরত্ব যাও, চলে যাও সোজা! সামনের চাতালটি বড় মনোরম, যেন খুব চেনা পিতৃপরিচয় নেই, তবু বংশ-মহিমায় গরীয়ান একটা বাড় গাছ, অনেক পুরোনো তার নিচে শৈশবের, যৌবনেরর মানত-পুতুল এত ছায়াময়...

অন্য ভাষ্য

অন্য ভাষ্য প্রতিটি ব্যর্থ প্রেমই আমাকে নতুন অহংকার দেয় আমি মানুষ হিসেবে একটু উঁচু হয়ে উঠি দুঃখ আমার মাথার চুল থেকে পায়ের নোখ পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় যেন ভোরের আলোয় নদীতে স্নানের মতন স্নিগ্ধ সমস্ত মানুষের চেয়ে আমি অন্য দিকে আমার আলাদা পথ আমার হাতে পৃথিবীর প্রথম ব্যর্থ...

অপরাহ্নে

তোমার মুখের পাশে কাঁটা ঝোপ, একটু সরে এসো এ-পাশে দেয়াল, এত মাকড়সার জাল! অন্যদিকে নদী, নাকি ঈর্ষা? আসলে ব্যস্ততাময় অপরাহ্নে ছায়া ফেলে যায় বাল্যপ্রেম মানুষের ভিড়ে কোনো মানুষ থাকে না অসম্ভব নির্জনতা চৌরাস্তায় বিহ্বল কৈশোর এলোমেলো পদক্ষেপ, এতদিন পরে তুমি এলে? তোমার মুখের...

অসমাপ্ত কবিতার ওপরে

অসমাপ্ত কবিতার ওপরে অসমাপ্ত কবিতার ওপরে ছড়িয়ে আছে ঘুম চুলগুলি এলোমেলো যেন সে আদর চায় কবিতার কাছে চায় কিছুটা উষ্ণতা গুটিসুটি শরীরটি ছোট হয়ে আছে কেমন করুণ ক্লান্ত, ঘুমের প্রাঙ্গণে অসহায় সেই কবি! সারারাত জ্বলে থাকে আলো জানলার ঝিল্লিতে ঝরে অভ্রফুল, তুষারের মতো সাজানো...

আত্মপরিচয়

আত্মপরিচয় আমাকে চিনতেন তিনি, দেখা হতে বললেন, কে তুমি? তখন বিকেল ছিল নদীর উড়ন্ত বুকে ঝুঁকে আমি বললুম, সেই বারুদ ঝড়ের দিনে একলা ধানক্ষেতে যে সহাস্যে শুয়ে ছিল রক্তমাখা মুখে আমি তারই বিদেশী যমজ। তাঁর কালো আলখাল্লায় সোনালী রোদের বাঁকা সুতো দাড়ির জঙ্গলে জ্বলে শতাব্দী ছাড়ানো...

একটা দুটো ইচ্ছে

একটা দুটো ইচ্ছে একটা দুটো ইচ্ছে আমায় ছুটি দিচ্ছে না যাবার কথা ছিল আমার সাড়ে ন’টার ট্রেনে ছিল অটুট বন্দোবস্ত, রাত-পোশাকের বোতাম তিনটে বাতিঘর পেরুলেই সীমা-সুখের স্বর্গ একটা দুটো ইচ্ছে আমায় ছুটি দিচ্ছে না। খেলাচ্ছলে দেখা হলো, খেলা ভাঙলো রাতে শরীরময় জড়িয়ে রইলো সুদূরপন্থী...

একটি প্রার্থনা-সংগীত

একটি প্রার্থনা-সংগীত গরুদের জন্য দাও ঘাস জমি, খোলামেলা ঘাস জমি, চিকন সবুজ ওরা তো চেনে না কোনো রানাঘর, ওরা বড় ন্যাখ্যাপা অবোধ অবুঝ কুকুরের জন্য দাও কাঁচা মাংস, লাল মাংস, রক্তমাখা হাড় ওরা তো খায় না ঘাস, সবুজকে ঘেন্ন করে, ওরা চায় হাড়ের পাহাড় বাঘেরা বেচারি বড়, দিন দিন কমে...

একমাত্র সাবলীল

একমাত্র সাবলীল এই সাবলীলতার কাছে তুমি হাঁটু মুড়ে বসো আর সবই জটিল, অলীক মানুষের কাছাকাছি মানুষের দূরত্ব গহন হাতে কিছু ছোঁয়া যায় না, চোখ দিয়ে দেখা যায় না কিছু একমাত্র সাবলীল, যার ধ্বনি মাতৃগর্ভ জানে। পিঁপড়ে জানে, পাখিরাও জানে বুড়ো ঘোড়া পাহাড়ের প্রান্তে গিয়ে চোখ বুজে শোয়...

কল্যাণেশ্বরী বাংলোয়

কল্যাণেশ্বরী বাংলোয় এই নিস্তব্ধতা বড় তী, যে শব্দভেদী, যে প্রেমহীন মানুষের কাছাকাছি মানুষের বিকিরণ টের পাওয়া যায় এখানে মানুষ নেই, বৃক্ষ-সমাজের থেকে এত বেশি নিশ্বাসের হাওয়া আমাকে একলা নিতে হবে, সতেরো জনের খুশি হবার মতন পাখিদের ডাকাডাকি আমার একার জন্য, এতদূর আকাশ সীমানা...

কাব্যজিজ্ঞাসা

কাব্যজিজ্ঞাসা মায়ের কপট ঘুম, বাপ বাইরে, তিনটি শিশু কাঁদে অহরহ ক্ষুধার্ত মানুষ আনে কাব্যে কোন্ রস, তা কি জানেন ভামহ? নদীটির মৃতদেহ আগলে আছে গ্রামখানি, নির্মেঘ দুপুর এই দৃশ্যে লাগে কোন্ অলংকার, তা কি লিখেছেন...

কে?

কে? বাগানে কার পায়ের ছাপ? ফুল-ঘাতক কে? নদীর ধারে পথ হারানো একলা-মুখো কে? দৌড়ে হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে গেল কে? বাঁ হাত ভরা প্রতিশ্রুতি, ডান হাতে ভয় কে? রিক্সাওয়ালার মাথার ওপর দাঁড়িয়ে নাচে কে? ফিরে আসবো বলেও আর ফিরে এলো না কে? সারাবছর স্বপ্ন দ্যাখে ছুটি চুরির কে? তোমার...

খণ্ড ইতিহাস

খণ্ড ইতিহাস মাঠের ভিতরে এত পরিশুদ্ধ ঘর বাড়ি, এসব কাদের? কাঠবিড়ালি ও ভোমরা, সদ্য-বিবাহিত পাখিদের! মাঠের কি স্মৃতি নেই, মনে নেই তার বাল্যকাল এইখানে শুয়ে ছিল বাপ-মা-খেদানো এক উদাসী রাখাল কিছুটা জঙ্গলও ছিল, পাতা-ঝরা গান হতো শীতে একটি জারুল সব লিখে গেছে আত্মজীবনীতে।...

খিদে-তেষ্টা

খিদে-তেষ্টা সজোরে খিদে পেয়েছিল, তাই গিয়েছি খিড়কির দরজায় এরকম ছোট ভুল হয় নিজের হাত-পা তো কামড়ে কামড়ে খাইনি দাঁত বসাইনি কোনো চকিত হরিণীর ঘাড়ে শুধু ভিক্ষে চেয়েছিলুম তার কাছে। ঘুমের মধ্যে সারা শরীরে ঝাঁকুনি দিয়ে ভেঙে যায় ভুল তবু আবার তো ঘুমোতেই হয় মানুষকে পরবর্তী ভুলটির...

চেনা হলো না

চেনা হলো না অন্তত সাড়ে তিন হাজার উপমা দিয়েছি তবুও চেনা হলো না তোমাকে, না তোমাকে, না তোমাকে। ধর্ম কিংবা ঈশ্বর চিন্তায় মন দিইনি কখনো তাতে বাঁচিয়েছি অনেকটা সময় সেই সময় নিয়ে মাথা খুঁড়েছি ছন্দ মিলে শব্দের প্রতিবেশী শব্দ ধ্বনির পাশাপাশি ধ্বনি সব-কিছুর ওপর ঝড়ে নির্লিপ্ত ঘুম...

জনমদুখিনী

জনমদুখিনী যতদিন ছিলে তুমি পরাধীনা ততদিন ছিলে তুমি সবার জননী এখন তোমাকে আর মা বলে ডাকে না কেউ লেখে না তোমার নামে কবিতা বুক মোচড়ানো সুরে সেইসব গান গুপ্ত কুঠুরিতে মৃদু মোমের আলোর সামনে আবেগের মাতামাতি জনমদুখিনী মা কোনোদিন স্বাধীন হলে না এখন তোমাকে আর ভুলেও ডাকে না কেউ...

জলের দর্পণে

জলের দর্পণে মাথার ভিতরে এক কালো দিঘি অতিকায় জলের দর্পণ স্তব্ধ, স্থির, নিবাত নিষ্কম্প, শুধু রাজহংসীটির ছেলেখেলা কোনাকুনি জলকে দুভাগ করে চলে যায় খুব কাছে ঝুঁকে পড়ে মেঘ রাজহংসীটির এই রমণীয় একাকিত্ব মেধার গহনে আনে তাপ জল ভাঙে, জলের ভিতরে ছবি ভেঙে যায় মেঘের সারল্য সব ঈর্ষা...

ডাক শোনা যাবে

ডাক শোনা যাবে এই সুখ কে এনেছে তাকে তুমি মৃত্যুদণ্ড দাও! এই ছিটে-বেড়া-দেওয়া বাড়ি কে ছিল এখানে শিউলি গাছটি আজ হিম ঝড়ে নত সে কি জানে? এত এলোমলো পদাঘাত তুমুল শৈশবে দু’হাতে বারুদ মেখে খেলা শেষ হলো কবে? সবুজ দিঘির পাশ ধুলো-মাখা-হাঁস হংসীটিও কালো বাতাসে পরাগ-গন্ধ, মাদক বাতাস...

নিসর্গ

নিসর্গ পাতা পোড়া গন্ধ পায় না পাতা-পোড়ানীরা ঝুলি ঝুলি অন্ধকারে পাথরের মুখ বসে থাকে বনস্থলী কথা বলে ঘুম ভাঙে ফুলের সংসারে এ বছর শীত কিছু বেশি। রাজ্যহীন রাজা যেন বসে আছে একলা ভিমরুল অদৃশ্য নদীর খাতে পড়ে আছে নদীটির নাম টিয়া পাখিনীটি তার পুরুষের বুক ঘেঁষে নেয় মৃদু আঁচ...

নীরা তুমি…

নীরা, তুমি নিরন্নকে মুষ্টিভিক্ষা দিলে এইমাত্র আমাকে দেবে না? শ্মশানে ঘুমিয়ে থাকি, ছাই-ভস্ম খাই, গায়ে মাখি নদী-সহবাসে কাটে দিন এই নদী গৌতম বুদ্ধকে দেখেছিল পরবর্তী বারুদের আস্তরণও গায়ে মেখেছিল এই নদী তুমি! বড় দেরি হয়ে গেল, আকাশে পোশাক হতে বেশি বাকি নেই শতাব্দীর বাঁশবনে...