সত্যবদ্ধ অভিমান

অন্ধকারে নদী

অন্ধকারে নদী নদী, তুমি অন্ধকার। এ যে রাত্রি এ যে স্রোত বিপুল বহতা তরঙ্গের চকিত ঝাপট, ঘূর্ণি, মাংসল স্বাস্থ্যের মতো জল সেই রাত্রিকায় নদী— শীত, ঘন কৃষ্ণপক্ষ; বাঁ হাত চেনে না ডান হাত চোখ চেয়ে আছে, তবুও দেখে না এত অন্ধকার যেন বাতাস চেনে না জল, ভ্ৰমর হারায় ফুল, মানুষ তো পথ...

অভিমানিনী

অভিমানিনী ছিল নিঝুম পুষ্করিণী জলে নামলো কে? এলো যে আজ অভিমানিনী ওলো জোকার দে! বুক জলে যায় আড়পানে চায়— যা না ঠাকুরঝি অভিমানিনী একা নাইবে দেখবে শুধু সুয্যি। চাঁপার বন্ন ঠোঁট দুখানি ভোমরাপান অক্ষি অভিমানিনী ঘাটে রইলে দেখবে না কাকপক্ষী পুটুস করে সুয্যিও যে মুখ লুকিয়ে...

অলীক বাদুড়

অলীক বাদুড় অলীক বাদুড়, তুই কোন স্পর্ধাভরে উড়ে এলি? গাছের শিখরে ছিল হিরণ্য চাঁদের স্নান বৃষ্টি ভেজা মুখ বাতাস দিয়েছে সুখ হেমন্ত-কাতর পল্লীটিকে সদ্য ঘুম ভেঙে আমি ভোগ করি দুৰ্নিবার স্মৃতির কুহেলি— অলীক বাদুড়, তুই কোন স্পর্ধাভরে উড়ে এলি? কে যেন বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছে দুঃখের...

খণ্ডকাব্য

খণ্ডকাব্য –কে যায়? –এই মাত্র চলে গেল বিহুল রজনী –অদূরে কিসের শব্দ? –রৌদ্র থেকে ফিরে আসে ছায়া –জলস্রোতা ফিরে গেছে যেখানে যাবার কথা ছিল? –চাঁদ ভুলে গেছে তাকে –বাতাসে কিসের গন্ধ? —আমি এক মরালীকে চুম্বন করেছি –কেউ কি এসেছে।...

গাছের নিচে

গাছের নিচে যখন বৃষ্টি পড়ে তখন গাছের নিচে দাঁড়াই একলা দূরে মাঠের ওপারে মাঠ শূন্য ঝাপসা বৃষ্টি থেকে বৃষ্টি আসে, ঢেউ-এর পর ঢেউ-এর বৃষ্টি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকার নিঃস্বতা কি বিষম নিঃস্ব। জানি আমার প্রান্তরের বৃষ্টিময় অতি চেতনা এপাশ থেকে ঝাপটা এলে ওপাশে যাই,...

চে গুয়েভারার প্রতি

চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয় আমার ঠোঁট শুকনো হয়ে আসে, বুকের ভেতরটা ফাঁকা আত্মায় অভিশ্রান্ত বৃষ্টিপতনের শব্দ শৈশব থেকে বিষণ্ন দীর্ঘশ্বাস চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরধী করে দেয়- বোলিভিয়ার জঙ্গলে নীল প্যান্টালুন পরা তোমার ছিন্নভিন্ন শরীর তোমার খোলা বুকের মধ্যখান...

জেদী মানুষ

জেদী মানুষ ডান হাতখানি বাড়িয়ে দাও তো দেখি ছুঁয়ে দেখি কোনো ম্যাজিক রয়েছে কিনা কী করে এমন মায়াপাশি তুলে আনো হৃদয় পৃথিবী করতলে আমলকী? আঙুলে তোমার মৃদুরক্তিম আভা বাহুর ডোলে চম্পক অনুভব ধুলো মলিনতা তোমাকে ছোঁয় না কেন? খুলে ফেলে দাও হীরক অঙ্গুরীয়? ওষ্ঠ-অধরে ক্ষীণ চাঁদ ওই...

দাঁড়াও! কেন?

দাঁড়াও! কেন? অন্ধকারে কে ডেকে উঠলো, দাঁড়াও! অন্ধকার নদীর পাশে তখন নদীর মতন অন্ধকার প্রান্তর— প্ৰান্তরে আমি একা, কে ডেকে উঠলো, দাঁড়াও! বৃক্ষ নেই, হাওয়া নেই, তবু সেই অলৌকিক স্বর শিহরন তোলে আমি শরীরবাদী বলে ভৎসনা পেয়েছি, আমি অশরীরীকে ভয় করি না, তবু সেই নদীর মতন অন্ধকার...

দুপুর থেকে রাত্রি

দুপুর থেকে রাত্রি তিনজন তেজী ছেলে দুপুরে ছুটছিল সাইকেলে বুক খোলা শার্ট, তারা রোদ্দুরে অদৃশ্য হয়ে যেতেই শ্লথ মানুষের ভিড় বেনোজল হয়ে ঘিরে আসে যে-যার পথের থেকে খুঁটে নেয় কাচ ও পালক নারী হয় কচিৎ রমণী, ধুলোভরা হাওয়া ঘুরে যায় আমিও প্ৰস্থান করি অন্তিম পর্বের দিকে বাসের...

দেখা

দেখা –ভালো আছো? –দেখো মেঘ, বৃষ্টি আসবে। –ভালো আছো? –দেখো ঈশান কোণের কালো, শুনতে পাচ্ছো ঝড়? –ভালো আছো? –এই মাত্র চমকে উঠলো ধপধাপে বিদ্যুৎ। –ভালো আছো? –তুমি প্রকৃতিকে দেখো –তুমি প্রকৃতি আড়াল করে দাঁড়িয়ে রয়েছে...

নিসর্গের পাশাপাশি

নিসর্গের পাশাপাশি সিংহাসন থেকে ধীর পদক্ষেপে নেমে আসে ছারপোকা লেলিহান আগুন প্ৰদক্ষিণ করে সে রক্ত সমুদ্রের সামনে বিষন্নভাবে চেয়ে থাকে কিছুক্ষণ হালকা হাওয়ার মতন মৃত্যুকে অনুভব করার আমেজে চোখ বুজে আসে। তখন বারুদ রঙের মেঘের আড়ালে ডুকে গেছে সূর্য একটা কাক লুঠেরার মতন তীব্ৰ...

পৃথিবীর নিচু কোণে

পৃথিবীর নিচু কোণে পৃথিবীর নিচু কোণে, এই কলকাতার খুব অন্ধকার প্রান্তে এক প্ৰাচীন গুহায় শুয়ে আছি– ___দিন ভালুকের সঙ্গে দেখা হয়। ____বিকেল উড়ে যায় স্ট্রাটোস্ফিয়ারের খুব কাছাকাছি স্বর্গে শিশুর ওষ্ঠের মতো তরল অরুণ শুধু চুঁইয়ে পড়ে গীর্জার ঘড়িতে দমকল ছুটে গেলে আরতির...

ফেরা

ফেরা এমন ভাবে হারিয়ে যাওয়া সহজ নাকি ভিড়ের মধ্যে ভিখারী হয়ে মিশে যাওয়া? এমন ভাবে ঘুরতে ঘুরতে স্বৰ্গ থেকে ধুলোর মর্ত্যে মানুষ সেজে একজীবন মানুষ নামে বেঁচে থাকা? সমুদ্রেরও হৃদয় আছে, এই জেনে কি নারীর কাছে অতলে ডুবে খুঁজতে খুঁজতে টনটনায় চক্ষু স্নায়ু! কপালে দুই ভুরুর সন্ধি,...

মনে মনে

মনে মনে যে আমায় চোখ রাঙিয়ে এইমাত্র চলে গেল। গটগটিয়ে সে আমায় দিয়ে গেল একটুকরো সুখ। শরীরে নতুন করে রক্ত চলাচল, টের পাই ইন্দ্ৰিয় সুতীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে মৃদু হেসে মনে মনে আমি তার নাম কেটে দিই! সে আর কোথাও নেই হিম অন্ধকার এক গভীর বরফ ঘরে নির্বাসিত আহা, সে জানে না! সে তার জুতোর...

মাল্লা

মাল্লা নৌকায় মাঝি চারজনা, হাল দাঁড় মোটে তিনখানি ছয় চোখ করে জল ঘোলা, দুই চোখ মুদে রায় ধ্যানী। সাদা পাল চায় –পশ্চিমে যায় নায়ের গলুই দক্ষিণে একজন হাসে তিনজনা ভারে, বায়ু চলে যায় পথ চিনে। বিজলি হানলো আকাশ দুখন জল উঠে পড়ে গম্বুজে কবি কয়, ওরে মুর্খ মাল্লা, ঘুমায়ে পড়গা...

যে-যাই বলুক

যে-যাই বলুক যে-যাই বলুক, আমার ভীষণ বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে সন্ধেবেলায় নীলচে আলোয় পথ ঘুরে যায় মোমিনপুরে আমি তখন কোন প্রবাসে, বেঁচে থাকার থেকেও দূরে ঘুরে মরবো! নরম হাত ঠোঁট ছোঁবে না, চোখ ছোঁবে না? যে-যাই বলুক, আমার ভীষণ বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে। মধ্য নিশীথ আমায় ডেকে...

সত্যবদ্ধ অভিমান

এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ আমি কি এ হাতে কোনো পাপ করতে পারি ? শেষ বিকেলের সেই ঝুল বারান্দায়                 তার মুখে পড়েছিল দুর্দান্ত সাহসী এক আলো যেন এক টেলিগ্রাম, মুহূর্তে উন্মুক্ত করে                       নীরার সুষমা চোখে ও ভুরুতে মেশা হাসি, নাকি অভ্রবিন্দু ?...

স্রোত থেমে আছে

স্রোত থেমে আছে এই সূর্যস্তের মতো স্মৃতির বিকাশ ছিল, স্রোত থেমে আছে ওষ্ঠে লাগে তিক্ত স্বাদ, সর্বক্ষণ ললাটে সোপান হাত দিয়ে স্পর্শ করি-এই সূর্যাস্তের মতো স্মৃতির বিকাশ ছিল, স্রোত থেমে আছে। তাকাই দুরের দিকে– রেনট্রি গাছের ছায়া যেন অবিরল পূর্বপুরুষের দীর্ঘশ্বাস ছুঁয়ে...