মন ভালো নেই

অন্য ভ্ৰমণ

অন্য ভ্ৰমণ ঈষৎ ধারালো রোদে কুমীরের ডিম খোঁজে মানুষ-শিশুরা খাঁড়িতে জোয়ার সারি সারি কুর্মকায় ম্যানগ্রোভ ঝোপে ছলাৎ হুলাৎ করে ঢেউ অদূরে অরণ্যভূমি প্রত্যক্ষদশীর মতো স্থির পাডোক গাছের শীর্ষে টিট্রিভের মন-কাড়া ডাক তারই মধ্যে বেজে ওঠে স্টিমারের ভোঁ। জাহাজ ঘাটার থেকে বিশ পা...

আমার গোপন

আমার গোপন একটা ভীষণ গোপন কথা খাঁচার মধ্যে বন্দী আছে গোপন সে তো খুবই আপন তবু এমন ছটফটানি যেন সকাল থেকে সন্ধে সারা বিশ্ব থমকে থেকে আমার ক্ষুদ্র গোপনতার নিশান দেখে সুনাম গাইবে। আমার গোপন ক্ষুদ্র ছিল যখন তার জন্ম হয়নি ক্রমশ তার চক্ষু ফোটে ডানায় কাটে স্নিগ্ধ বাতাস খাঁচায়...

এখনো সময় আছে

এখনো সময় আছে (একটি ফরাসী কবিতার ভাব-অনুসরণে) তখন তোমার বয়স আশী, দাঁড়াবে গিয়ে আয়নায় নিজেই বিষম চমকে যাবে, ভাববে। এ কে? সামনে এ কোন ডাইনী? মাথা ভর্তি শণের নুড়ি, চামড়া যেন চোত-বোশেখের মাটি চক্ষু দুটি মজা-পুকুর, আঙুলগুলো পাকা সজনে ডাঁটা! তোমার দীর্ঘশ্বাস পড়বে, চোখের কোণে...

কবিতা মুর্তিমতী

শুয়ে আছে বিছানায়, সামনে উম্মুক্ত নীল খাতা উপুড় শরীর সেই রমণীর, খাটের বাইরে পা দু’খানি পিঠে তার ভিজে চুল, এবং সমুদ্রে দু’টি ঢেউ ছায়াময় ঘরে যেন কিসের সুদন্ধ, – জানায় রৌদ্র যেন জলকণা, দূরে নীল নক্ষত্রের দেশ। কী লেখে সে, কবিতা? না কবিতা রচনা করে তাকে? সে বড়...

কিছু পাপ ছিল

কিছু পাপ ছিল মেহের ভিতরে কিছু পাপ ছিল যেমন গ্রন্থের মধ্যে ঘুণ, বিশ্বাসের মধ্যে কোনো শাপ ছিল জতুগৃহে যেমন আগুন? স্নেহ কেন জেগে ওঠে সশস্ত্ৰ উত্তরে, বিশ্বাসও স্বৈরিণী হয় অন্ধকার...

ঘুরে বেড়াই

ঘুরে বেড়াই তোমার পাশে, এবং তোমার ছায়ার পাশে ঘুরে বেড়াই তোমার পোষা কোকিল এবং তোমার মুখে বিকেলবেলা রোদের পাশে ঘুরে বেড়াই তোমার ঘুমের এবং তোমার যখন তখন অভিমানের অর্থ খুঁজি অভিধানে ঘুরে বেড়াই ঘুরে বেড়াই গাছের দিকে মেঘের দিকে বেলা শেষের নদীর দিকে পথ চেনে না পথের মানুষ ঘুরে...

চরিত্রের অভিধান

চরিত্রের অভিধান ১) রূপসী কোথায় তোমার রূপ, গ্রীবায় না চক্ষের মণিতে। অথবা স্তন-কোরকে, উন্মুক্ত জঙ্ঘায়, ঠিক জানি না। এক এক বয়েসে তুমি এক এক রূপিণী, তোমার না, আমার বয়েসে! কে আছে হেন পুরুষ, এক শরীরের রূপ দেখে নিতে পারে নিতান্ত এক জীবন, মর চক্ষে? কেউ পারে না, জানি! অসতী...

চাসনালা

চাসনালা এসেছে হাজারে হাজারে মানুষ, এসেছে, দেখেছে, হাজারে হাজারে মানুষ এসেছে, দেখেছে এসেছে পুলিশ, জিপ, ভ্যান, ট্রাক, এসেছে অনেকে ক্যামেরা ঝুলিয়ে এসেছে গ্রামীণ, এসেছে বিদেশী, এসেছে শ্রমিক, এসেছে মালিক এসেছে ভিস্তি, এসেছে বাদাম, ছোলা, কোকাকোলা হালুয়া বরাফি, গুলাবি রেউড়ি...

চুপ করে আছি তাই

চুপ করে আছি তাই সে ভেবেছে, চুপ করে আছি তাই সকলি মেনেছি সে জানে না, কোন তমসার পারে বাঁধা আছে তাঁবু সে ভেবেছে, বকুল তলায় যাকে নিত্য দেখা যায় সে কখনো দুপুর রোদ্দুরে আর একা বেরুবে না সে ভেবেছে, জীবন দিয়েছে যাকে হলদে ঝুমঝুমি খেলা ঘরে যার বেলা টুকিটাকি সান্ত্বনা পেয়েছে সে...

ছবি খেলা

মনে আছে সেই রাত্রি? সেই চাকভাঙা মধুর মতন জ্যোৎস্না উড়ো উড়ো পেঁজা মেঘ অলীক গর্ভের প্রজাপতি দুগ্ধবর্ণ বাতাসের কখনো স্পর্শ ও ছবি খেলা মিনারের মতোন পাঁচটি প্রচীন সুউচ্চ গাছ, সেই মানবিক চষা মাঠ, তিনটি দিগন্ত দূর, আরও দূর পুকুরের ঢালু পাড়ে তুমি শুয়ে ছিলে মনে আছে সেই রাত্রি,...

ছায়ার জন্য

ছায়ার জন্য কেউ কাছে নেই,           ছায়া গেছে দূর বনে ভাবনা ছড়ানো দিন পাথর ভাঙছে            পাথরের কারিগর পশ্চিমে যায় আয়ু! নদীর কিনারে            দাঁড়িয়ে রয়েছে নারী বিরলে নিজেকে দেখা কেউ কাছে নেই            ছায়া গেছে দূর বনে নারীর কিনারে নদী। যে কোন সোপান          ...

জল বাড়ছে

কেউ জানে না, গোপন- গোপনে জল উঠছে জল বাড়ছে তিস্তায়, জল বাড়ছে তোর্সা রাইডাক কালজানি নদীতে জল বাড়ছে, জল বাড়ছে, শুকনো নদীগুলো এখন উন্মাদিনী নেমে আসছে পাহাড়ী ঢল, ভেসে যাচ্ছে ফসলের ক্ষেত, ভেঙে পড়ছে চা-বাগান ডুবছে গ্রাম, চুয়াপাড়া, হাসিমারা, বাকসাদুয়ার জল বাড়ছে মহানন্দায়, জল...

জলের কিনারে

জলের কিনারে আমার মন খারাপ, তাই যাই জলের কিনার জল তো চেনে না, জল কঠিন হৃদয় বিস্মরণ মূর্তিমান হয়ে থাকে জলের গভীরে ছায়া পড়ে! কার ছায়া? যে দেখে সে নিজেও চেনে না জলে রাখি ওষ্ঠ, যেন কবেকার সেই ছেলেবেলা প্রথম ঊরুর কাছে মুখ, বুক কেঁপে ওঠা প্ৰথম নারীর ঘ্রাণ আসলে তা...

জেনে গেছি

জেনে গেছি এমন মানুষ রোজই দেখি, যাঁরা আমায় আগে চিনতেন ডেকে বলতেন এই যে সুনীল, কেমন আছে, বসে, চা খাও এখন তাঁরা মুখ ফিরিয়ে শুকনো হাস্য, আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন। কালো গহ্বর! বৃষ্টি হয়নি বিকেলবেলা, পোড়া গরম, আমারই দোষ? সে অপরাধে অনেকবার আমি হয়েছি মূল আসামী ঘরে ঢুকলে অনেকে আজ...

ঝর্ণার পাশে

ঝর্ণার ডুব দিয়ে দেখি নিচে একটা তলোয়ার একটুও মর্চে পড়েনি, অতসী ফুলের মতো আভা আমার হাতের ছোঁয়ায় হঠাৎ ভেঙে গেলে তার ঘুম তুলে নিয়ে উঠে আসি, চুপ করে বসে থাকি কিচুক্ষন কাছাকাছি আর কেউ নেই যেন ঝর্ণাটাই আমার হাতের মুঠোয়, রৌদ্রে দেখছি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মাঝে মাজে এক-একটা ঝিলিকে চোখ...

তমসার তীরে নগ্ন শরীরে

চিত্ত উতলা দশদিকে মেলা সহস্র চোখ আমাকে এবার ফিরিয়ে নেবার জন্য এসেছে? আর দুটো দিন করুণ রঙিন পথ ঘুরে দেখা হবে না আমার? পুরোনো জামার ছিঁড়েছে বোতাম? তমসার তীরে নগ্ন শরীরে দাঁড়ালাম আমি পাশে নেই আর মায়া-সংসার আকাশে অশনি নদীটি এখন বড় নির্জন জলে শীত ছোঁওয়া কে জানে কোথায়...

তুমি জেনেছিলে

তুমি জেনেছিলে মানুষে মানুষে হাত ছুঁয়ে বলে বন্ধু তুমি জেনেছিলে মানুষে মানুষে মুখোমুখি এসে দাঁড়ায় হাসি বিনিময় করে চলে যায় উত্তরে দক্ষিণে তুমি যেই এসে দাঁড়ালে- কেউ চিনলো না কেউ দেখলে না সবাই সবার...

তোমার কাছেই

সকাল নয়, তবু আমার প্রথম দেখার ছটফটানি দুপুর নয়, তবু আমার দুপুরবেলার প্রিয় তামাশা ছিল না নদী, তবুও নদী পেরিয়ে আসি তোমার কাছে তুমি ছিলে না তবুও যেন তোমার কাছেই বেড়াতে আসা! শিরীষ গাছে রোদ লেগেছে শিরীষ কোথায়, মরুভূমি! বিকেল নয়, তবু আমার বিকেলবেলর ক্ষুৎপিপাসা চিঠির খামে...

তোমার খুশির জন্য

তোমার খুশির জন্য যদি আর আমি কিছুই না লিখি? সব ছেড়ে ছুঁড়ে বনবাসী হই, তুমি খুশি হবে? সে বন এখনো মানুষ চেনে না আমি ছাড়া কেউ একলা যাবে না এবং ফেরার কোনো পথ নেই তুমি খুশি হবে? যা লিখেছি সব পুড়িয়ে ছড়িয়ে চাঁড়ালের হাতে ছাই সঁপে দিয়ে যদি চলে যাই? সমস্ত নাম উকো দিয়ে ঘষে মুছে...

দুঃখ ও জানে না

দুঃখ ও জানে না চোখে চোখ লেগে থাকে শরীর নীরব হরিৎ আভার মতো স্মৃতি জানে সেরকম ভাষা– ইতিহাস কিংবা তারও আগে থেকে মানুষের যাবৎ পিপাসা চোখে চোখে রেখে দেয়—শব্দ করে নৈঃশব্দের স্তব। আমার চোখের কোণে লেগে আছে। হিম দুঃখ স্মৃতি দুঃখ ও জানে না দূর অন্ধকারে পোড়ে কার...