বন্দী জেগে আছো

অনন্ত মুহূর্ত

অনন্ত মুহূর্ত মধ্যাহ্ন-বাগানে এসে ঝুঁকে আছে সাতফুট আলো আমি জানি ওখানে শয়তান দাঁড়িয়ে নেই। আমার বাঁ পাশে একটি বাজে পোড়া আমলকী বৃক্ষ তাকে আমি গোপনে হিন্তাল বলে ডাকি তার নিচে অতি স্বচ্ছ দৰ্পণ গোষ্পদ ওখানে অন্সরীরা খেলা করে না সাতফুট স্থির আলো, আমি জানি ওখানে কেউ দাঁড়িয়ে...

অরূপ রাজ্য

অরূপ রাজ্য মায়ের গোলাপ গাছে ঠিক একটি গোলাপের মতো ফুল ফুটে আছে চোখের মতন চোখে দেখতে পাই ভোরবেলার মতো ভোরবেলা– দেশলাই কাঠিতে জ্বললো বিশুদ্ধ আগুন, আমি সিগারেট মুখে নিয়ে ছাদ থেকে নেমে আসি প্রধান মাটিতে পায়ের তলায় ভিজে ঘাস, ঠিক পায়ের তলায় ভিজে ঘাস। দুঃখ নিয়ে ঘুম...

আজ সকালবেলা

আজ সকালবেলা মাঠের সামনের ঝুল বারান্দায় শীতের সকালে রোদ এলে বেতের চেয়ারে আমি কবির মত বসে থাকি এখন রোদ্দুর দেখে অনায়াসে বলা যায়, ‘হেমশস্য’ নারী নয়, বৃক্ষও প্রকৃতি পাতার ভিতরে হাওয়া ‘আন্দোলন’ করে যায় প্রসারিত সবুজের ভিতরে শিশির খোঁজে চোখ ঠিক কবির মতন চোখ ঘোরে ফেরে আকাশে...

আত্মা

প্রতিটি ট্রেনের সঙ্গে আমার চতুর্থভাগ আত্মা ছুটে যায় প্রতিটি আত্মার সঙ্গে আমার নিজেস্ব ট্রেন অসময় নিয়ে খেলা করে। আলোর দোকানে আমি হাজার হাজার বাতি সজিয়ে রেখেছি নষ্ট-আলো সঞ্জীবনী শিক্ষা করে আমার চঞ্চল অহমিকা। জাদুঘরে অসংখ্য ঘড়িতে আমি অসংখ্য সময় লিখে রাখি নারীর ঊরুর কাছে...

আথেন্‌‌স থেকে কায়রো

বিমানের মধ্যে টাই খুলে ফেলে, সিট্‌ বেল্ট বরিয়ে উঠে দাঁড়ালুম চিৎকার করে বললুম কে কোথায় আছো? পেঁজা তুলোর মতন তুলতুলে মুখ দু’জন হাওয়া-সখী ছুটে এলো- তখন মাথার ওপর ও নিচে ভূমধ্য আকাশ এবং রূপালি সাগর মাঝখানে নীল মেঘ ও ফড়িং পিছনে সন্ধেবেলার ইওরোপ জ্বলছে দাউ দাউ আগুনে সামনে...

আরও নিচে

সিংহাসন থেকে একটু নিচে নেমে, পাথরের সিঁড়ির উপর বসে থাকি একা, চিবুক নির্ভরশীল চোখ লোকচক্ষু থেকে দূরে। ‘সম্রাটের চেয়ে কিছু কম সম্রাটত্ব’ থেকে ছুটি নিয়ে আজ হলুদ দিনাবসানে পরিকীর্ণ শব্দটির মোহে মাটির মানুষ হতে সাধ হয়। এক-একদিন একরকম হয়। আমার চোখের নীচে কালো দাগ...

ইচ্ছে

কাচের চুড়ি ভাঙার মতন মাঝে মাঝেই ইচ্ছে করে দুটো চারটে নিয়ম কানুন ভেঙে ফেলি পায়ের তলায় আছড়ে ফেলি মাথার মুকুট যাদের পায়ের তলায় আছি, তাদের মাথায় চড়ে বসি কাঁচের চুড়ি ভাঙার মতই ইচ্ছে করে অবহেলায় ধর্মতলায় দিন দুপুরে পথের মধ্যে হিসি করি। ইচ্ছে করে দুপুর রোদে ব্লাক আউটের হুকুম...

ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি

প্রিয় ইন্দিরা, তুমি বিমানের জনলায় বসে, গুজরাটের বন্যা দেখতে যেও না এ বড় ভয়ঙ্কর খেলা ক্রুদ্ধ জলের প্রবল তোলপাড়ের উপড়ে গেছে রেললাইন চৌচির হয়েছে ব্রীজ, মৃত পশুর পেটের কাছে ছন্নছাড়া বালক তরঙ্গে ভেসে যায় বৃদ্ধের চশমা, বৃক্ষের শিখরে মানুষের আপৎকালীন বন্ধুত্ব এইসব টুকরো...

উত্তরাধিকার

নবীন কিশোর, তোমায় দিলাম ভূবনডাঙার মেঘলা আকাশ তোমাকে দিলাম বোতামবিহীন ছেঁড়া শার্ট আর                            ফুসফুস-ভরা হাসি দুপুর রৌদ্রে পায়ে পায়ে ঘোরা, রাত্রির মাঠে চিৎ হ’য়ে শুয়ে থাকা এসব এখন তোমারই, তোমার হাত ভ’রে নাও আমার অবেলা                            আমার...

একদিন…

একদিন তোমার হাত ধরে জয়পুরের রাস্তা দিয়ে বেড়াবো, অসমাপ্ত পাহাড়কে বলবো, আমরা এসেছি। একটা শুকনো নদীর গর্ভে নেমে গিয়ে মরা ঝাঁঝি হাতে তুলে নিয়ে বলবো, মনে আছে ঝাড়লন্ঠনের বিচ্ছুরিত আলোর মতন আনন্দ খেলা করবে শরীরে। কোনদিন জয়পুর যাইনি কিন্তু জানি কোথায় জয়পুর আছে– চিনতে...

কঙ্কাল ও শাদা বাড়ি

শাদা বাড়িটার সামনে আলো-ছায়া-আলো, একটি কঙ্কাল দাঁড়িয়ে এখন দুপুর রাত অলীক রাত্রির মতো, অররণা রয়েছে খুব ঘুমে- যে-রকম ঘুম শুধু কুমারীর, যে ঘুম স্পষ্টত খুব নীল; যে স্তনে লগৈনি দাঁত তার খুব মৃদু ওঠপড়া তলপেটে একটুও নেই ফাটা.দাগ, এ শরীর আজও ঋণী নয় এই সেই অরুণা ও রুনি নাম্মী...

কৃতঘ্ন শব্দের রাশি

কৃতঘ্ন শব্দের রাশি চিঠি না-লেখার মতো দুঃখ আজ শিরশির করে ওঠে আঙুলে বা চোখের পাতায় নিউ মার্কেটের পাশে হঠাৎ দুপুরবেলা নীরার পদবী ভুলে যাই— এবং নীরার মুখ। জলে-ডোবা মানুষের বাতাসের জন্য হাঁকুপাকু–সেই অস্থিরতা নীরার মুখের ছবি–সোনালি চশমার ফ্রেম, নাকি কালো!...

কেউ কথা রাখেনি

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল                       শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমী ...

গহন অরণ্যে

গহন অরণ্যে আর বারবার একা যেতে সাধ হয় না- শুকনো পাতার ভাঙা নিশ্বাসের মতো শব্দ তলতা বাঁশের ছায়া, শালের বল্লরী, সরু পথ কালভার্টে, টিলার জঙ্গলে একা বসে থাকা কী-করম নিঝুম বিষন্ন বড় হিংস্র দুঃখময়। অসংখ্য আত্মার মতো লুকোনো পাখী ও প্রাণী, অপার্থিব নির্জনতা ফুলের সুবর্ণরেখা...

চিঠি

চিঠি ভৌতিক পিওন যবে খেলাচ্ছলে পার হয় রাসবিহারী মোড় আমার হুকুমে সব গাড়ি থেমে থাকে লাল আলো, লাল আলো, ঐ শোনো কণ্ঠস্বর ঐ দাখো অশ্বখের বাঁকা ডাল নুয়ে আছে বিদ্যুতের দিকে ঘূর্ণিবাতাসের মধ্যে চিঠি উড়ে যায়। হিমানী স্তব্ধতা ভেঙে নেমে এলো অলৌকিক রোদ বহু থেকে এক হলো একটি রমণী...

চিনতে পারোনি?

যে-কোনো রাস্তায় যে-কোনো লোককে ডেকে বলো, তুমি আমার বাল্যকালের খেলার সঙ্গী, মনে পড়ে না? কেন তোমার ব্যস্ত ভঙ্গি? কেন আমায় এড়িয়ে যাবার চঞ্চলতা! আমার অনেক কথা ছিল, তোমার জামার বোতাম ঘিরে অনেক কথা এই মুখ, এই ভূরুর পাশে চোরা চাহনি, চিনতে পারেনি? যে-কোনো রাস্তায় যে-কোনো লোককে...

ছায়ার জন্য

গাছের ছায়ায় বসে বহুদিন, কাটিয়েছি কোনোদিন ধন্যবাদ দিইনি বৃক্ষকে এখন একটা কোনো প্রতিনিধি বৃক্ষ চাই যাঁর কাছে সব কৃতজ্ঞতা সমীপেষু করা যায়। ভেবেছি অরণ্যে যাব-সমগ্র সমাজ থেকে প্রতিভূ বৃক্ষকে খুঁজে নিতে সেখানে সমস্তক্ষণ ছায়া সেখানে ছায়ার জন্য কৃতজ্ঞতা নেই সেখানে রক্তিম আলো...

ছেলেটা

ছেলেটা ঐ ছেলেটা পাগল, ওর কথার কোনো মাথামুণ্ডু, ঠিকানা নেই! ঐ ছেলেটা সমুদ্রেরও সীমানা চায়, নদীর কাছে হাজির হয়ে নদীকে খুব সরল হতে মিনতি করে; ভিখারীকেও ত্যাগ শেখাতে চেয়েছিল, ঐ ছেলেটা এমন পাগলা, মৃত্যু দেখে শৈশবে যায়, লেবু পাতার গন্ধে নাকি অমরত্ব! নারীর বুকে শপথ রেখে...

জলের সামনে

ব্রিজের অনেক নিচে জল, আজ সেইখানে ঝুঁকেছে মানুষ কখনো মানুষ হয়ে উঠি আমি, কখনো মানুষ নই, তবুও সন্ধ্যায় ব্রিজের খিলান ধরে ঝুঁকে থেকে মনে হয় অবিকল মানুষেরই মতো মানুষের জল দেখা, জলের মানুষ দেখা পরস্পর মুখ; মানুষ দেখেছে জল বহুদিন মানুষ দেখেছে অশ্রজল মানুষ দেখেছে মুখ...

জীবন ও জীবনের মর্ম

জীবন ও জীবনের মর্ম মুখোমুখি দাঁড়ালে আমি ভুল বুঝতে পারি আমার ক্ষামা চাইতে ইচ্ছে হয়। বুদ্ধের বুকের হাঁস হানা ঝাপটায়, আমি মাংসলোভী বিশাল বৃক্ষের ছায়া জলে ভাসে-আমি তমস্বান হয়ে ছুটে গেছি আমি ভুল বুঝতে পারি- বিস্মৃতিকে কতবার মনে ভেবেছি বিষন্নতা ট্রেন লাইনের পশে এসে থমকে...