দেখা হলো ভালোবাসা বেদনায়

ইচ্ছে হয়

এমনভাবে হারিয়ে যাওয়া সহজ নাকি ভিড়ের মধ্যে ভিখারী হয়ে মিশে যাওয়া? এমনভাবে ঘুরতে ঘুরতে স্বর্গ থেকে ধুলোর মর্ত্যে মানুষ সেজে এক জীবন মানুষ নামে বেঁচে থাকা? রূপের মধ্যে মানুষ আছে, এই জেনে কি নারীর কাছে রঙের ধাঁধা খুঁজতে খুঁজতে টনটনায় চক্ষু-স্নায়ু কপালে দুই ভুরুর সন্ধি,...

এই জীবন

বাঁচতে হবে বাঁচার মতন, বাঁচতে-বাঁচতে এই জীবনটা গোটা একটা জীবন হয়ে জীবন্ত হোক আমি কিছুই ছাড়বো না, এই রোদ ও বৃষ্টি আমাকে দাও ক্ষুধার অন্ন শুধু যা নয় নিছক অন্ন আমার চাই সব লাবণ্য নইলে গোটা দুনিয়া খাবো! আমাকে কেউ গ্রামে গঞ্জে ভিখারী করে পালিয়ে যাবে? আমায় কেউ নিলাম করবে...

একজন মানুষের

একজন মানুষের সদ্য হাসপাতাল থেকে আসছি, সে এবার বেঁচে উঠবে সমস্ত বিকেল এই বাতা উড়িয়ে দিল বাতাসে বিশেষ সংস্করণে ট্রামে বাসে চৌরাস্তায় সকলেই বলাবলি করছে যেন কে বাঁচলো, কে পেয়েছে নিশ্বাস ইজারা কেউ তাকে চিনুক বা না চিনুক, অনেকেই নামই শোনেনি তবু যে মৃত্যুর পাশে অসংখ্য...

একটা মাত্র জীবন

একটা মাত্র জীবন একটা মাত্র জীবন তার হাজার রকম দুনিয়াদারি এক জীবনে চক মেলানো উল্টো সোজা দিলাম পাড়ি পায়ের তলায় মায়া সর্ষে, পায়ের তলায় ঝড়ের হাওয়া ফুলঝরানো দিনের শেষে ফুল-বিলাসী কুহক পাওয়া একটা মাত্র জীবন তার হাজার রকম দুনিয়াদারি! স্বপ্নে আমার জীবনটাকে বদলেছিলাম সহস্রবার...

এখন

এখন দারুণ সুন্দর কিছু দেখলে আমার একটু একটু কান্না আসে এমন আগে হতো না, আগে ছিল দুরন্ত উল্লাস আগে এই পৃথিবীকে জয় করে নেবার বাসনা ছিল এখন মনে হয় আমার এই পৃথিবীটা বিলিয়ে দিই সকলকে পরশুরামের মতো রক্তস্নান সেরে চলে যাই দিগন্ত কিনারে যত সব মানুষকে চিনেছি, তাদের ডেকে বলতে...

কথা আছে

বহুক্ষণ মুখোমুখি চুপচাপ, একবার চোখ তুলে সেতু আবার আলাদা দৃষ্টি, টেবিলে রয়েছে শুয়ে পুরোনো পত্রিকা প্যান্টের নিচে চটি, ওপাশে শাড়ির পাড়ে দুটি পা-ই ঢাকা এপাশে বোতাম খোলা বুক, একদিন না-কামানো দাড়ি ওপাশে এলো খোঁপা, ব্লাউজের নীচে কিছু মসৃণ নগ্নতা বাইরে পায়ের শব্দ, দূরে কাছে...

কথা ছিল না

কথা ছিল না টিলার মতন উঁচু বাড়ির শিখরতলায় আমার বসতি হবার কথা ছিল না আমার কথা ছিল না সংবাদপত্র অফিসের ঠাণ্ডা ঘরে চোখ গরম মানুষের ভিড়ে বসে থাকার রাস্তায় চলতে চলতে কেউ আমার মুখের সামনে হঠাৎ চট করে একটা আয়না তুলে ধরলে আমি চমকে উঠি, ভয় পাই, এ কে? এমন গাম্ভীর্য, এমন ভুরুর...

কবিতা লেখার চেয়ে

কবিতা লেখার চেয়ে কবিতা লিখবো লিবো এই ভাবনা আরও প্রিয় লাগে ভোর থেকে টুকটাক কাজ সারি, যেন ঘর ফাঁকা করে সময়ে সুগন্ধ নিয়ে তৈরি হতে হবে দরজায় পাহারা দেবে নিস্তব্ধতা, আকাশকে দিতে হবে নারীর ঊরুর মসৃণতা, তারপর লেখা হীরক-দ্যুতির মতো টোবল আচ্ছন্ন করে বসে থাকে কালো রং কবিতার...

কবিতা হয় না

কবিতা হয় না শাশ্বত সত্যের পাশে দাঁড় করাও তো ঐ ন্যাংটো ভিখিরি বাচ্চাকে উপনিষদের শ্লোকে ব্যাখ্যা করো গাড়ি বারান্দার নিচে ফুটপাথে হলুদ খিচুড়ি ঈশ্বরের কলার চেপে টেনে হিচড়ে নিয়ে যেতে ইচ্ছে হয় ময়না, দাসপুরে মরিচঝাঁপিতে গেলে কার্ল মার্কসও বিব্রত হয়ে বলে উঠবেন হেথা নয়, অন্য...

কবির মিনতি

কবির মিনতি কাঠগুদামের পাশে এক টুকরো পড়ো জমি দুটি দুঃখী প্রাণ সেইখানে বসেছিল সন্ধেবেলা একটু পরেই ওরা মিশে যাবে মলিন বাতাসে। যেমন শালিক পাখি খানিকটা শব্দ রেখে যায় যেমন সোনালি সাপ ঘাসের গোড়ায় ঢালে বিষ সে রকমই ও দু’জন ওখানে কি একটুখানি দুঃখ ফেলে গেল? যেন যায়, তাই যেন যায়!...

কাছাকাছি মানুষের

কাছাকাছি মানুষের যারা খুব কাছাকাছি তাদের গভীরে যেতে যেতে একদিন থেমে যাই, কেননা, এমন দূর পথ যেতে হবে, তাও তো ছিল না জানা, যারা খুব চেনা তাদের হৃদয় খুব জানাশোনা ভেবে বসে আছি যত ভালোবাসা স্নেহ পাবার নিয়মে পেয়ে গেছি কখনো ভাবিনি তার প্রত্যেকের ভিন্ন বর্ণচ্ছটা প্রত্যেক...

কিছু পাগলামি

জুলপি দুটো দেখতে দেখতে শাদা হয়ে গেল! আমাকে তরুণ কবি বলে কেউ ভুলেও ভববে না পরবর্তী অগণন তরুণেরা এসেছে সুন্দর ক্রুদ্ধ মুখে তাদের পৃথিবী তারা নিজস্ব নিয়মে নিয় নিক! আমি আর কফি হাউস থেকে হেঁটে হেঁটে হেঁটে নিরুদ্দিষ্ট কখনো হবে না আমি আর ধোঁয়া দিয়ে করবো না ক্ষিদের আচমন্‌‌!...

কৃত্তিবাস

ছিলে কৈশোর যৌবনের সঙ্গী, কত সকাল, কত মধ্যরাত, সমস্ত হল্লার মধ্যে ছিল সুতো বাঁধা, সংবাদপত্রের খুচরো গদ্য আর প্রইভেট টিউশানির টাকার অর্ঘ্য দিয়েছি তোমাকে, দিয়েছি ঘাম, ঘোরঘুরি, ব্লক, বিজ্ঞপন, নবীন কবির কম্পিত বুক, ছেঁড়া পাঞ্জাবি ও পাজামা পরে কলেজপালঅনো দুপুর, মনে আছে...

কোথায় গেল, কোথায়

কোথায় গেল, কোথায় যারা বারুদ ঘরে আগুন দিতে গিয়েছিল, তাদের তিনজন এখন দেয়ালে ঝুলছে, আলাদা মুখ, একই রকম চাহনি বাকি এগারোজন হারিয়ে গেল, কোথায় গেল, কোথায়? আর কিছুদিন পর এই শতাব্দী নিঃশব্দে বিদায় নেবে অনড় গম্ভীর মহাকুর্মের পিঠে ছেনি হাতুড়ি দিয়ে দিয়ে লেখা হবে হিসেব যারা...

গুহাবাসী

-চলে যাবে? সময় হয়েছে বুঝি? -সময় হয়নি, তাই চলে যাওয়া ভালো -এসো না এখনো এই গুহার ভিতরে খুঁজি পড়ে আছে কিনা কোনো চুপচাপ আলো -অথবা দু‘জনে চলো বাইরে যাই? -আমার এ নির্বাসন-দণ্ড আজ শেষ হবে? ওসব হেঁয়ালি আমি বুঝি না, তোমাকে সবার মধ্যে চাই -বহূদিন জনারণ্যে কাটিয়েছি, উৎসবে-পরবে...

গোল্লাছুট

গোল্লাছুট মানুষ হলো সংখ্যা, আর সংখ্যার তো মন থাকে না! কত মানুষ এলো, এবার কত মানুষ গেল? তিন কিংবা তিনশো কিংবা পঁচিশ তিরিশ হাজার শূন্য, শূন্য ট্রেন লাইনের দু’পাশ জুড়ে পড়ে রইলো মানুষ নয়, শূন্য, শূন্য, শূন্য জলে কাদায় খাঁ খাঁ রোদে সংখ্যাগুলো উল্টে পাল্টে শোয়, শুয়েই থাকে...

চোখ নিয়ে চলে গেছে

এই যে বাইরে হু হু ঝড়, এর চেয়ে বেশী বুকের মধ্যে আছে কৈশোর জুড়ে বৃষ্টি বিশাল, আকাশে থাকুক যত মেঘ, যত ক্ষণিকা মেঘ উড়ে যায় আকাশ ওড়ে না আকাশের দিকে উড়েছে নতুন সিঁড়ি আমার দু বাহু একলা মাঠের জারুলের ডালপালা কাচ ফেলা নদী যেন ভালোবাসা ভালোবাসার মতো ভালোবাসা দু‘দিকের পার ভেঙে...

ছিল না কৈশোর

ছিল না কৈশোর আমার প্রকৃতি প্রেম খুব-একটা ছিল না কৈশোরে বসেছি নদীর ধারে, নদীকে দেখিনি, ছিল ওপারে যাবার ছটফটানি জীবনে দু’তিনবার, মাত্রই দু’তিনবার হেঁটে গেছি বুক ভরা আকাশের নীচে আমার ছিল না দুই সীমানা-পেরুনো লঘু লোভ আমার গোপন আমার দুঃখেরা ছিল দীন দুঃখী, অন্ধকারে, ছিল ওরা...

দরজার পাশে

দরজার পাশে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে তোমায় হঠাৎ চুমুতে চমকে দিয়েছি ঝড়ের মধ্যে আলোর ঝলক, রূপালি চামচে লাবণ্য পান চোখ ছিল দ্রুত, হাতে বিদ্যুৎ, বুকে মেঘ-নাদ দরজার পাশে সব কথা শেষে বিদায়ের আগে যেমন সহসা শেষ কথা থাকে দরজার পাশে তেমনি নীরব, তেমনি থমকে মুখোমুখি দেখা দুটি নিশ্বাসে...

দীর্ঘ কবিতাটির খসড়া

দীর্ঘ কবিতাটির খসড়া এই পৃথিবীর সঙ্গে একটা আলাদা পৃথিবী মিশে রয়েছে অরণ্যের সঙ্গে এক সমান্তরাল অরণ্য দুপুরের নির্জনতার মধ্যে অন্য এক নির্জনতা আমাকে চমকে দেয়, এক এক সময় দারুণ চমকে দেয় ভালোবাসার মুখমণ্ডল ঘিরে আছে অন্য এক ভালোবাসা দীর্ঘশ্বাসের পাশে এক দীর্ঘশ্বাস কোনো দিন...