দাঁড়াও সুন্দর

অতৃপ্তি

অতৃপ্তি বৃষ্টির দিনে আরাম চেয়ারে জানলার পাশে বসবো ভেবেছি তাও তো পারি না একজন কেউ বৃষ্টি ভিজতে আমার চোখের সম্মুখ দিয়ে হেঁটে চলে যাবে কে? নাম জানি না! সকালবেলায় দ্বিতীয় পেয়ালা চায়ের কাপেও তৃপ্তি হয় না হৃদয় ভরে না একজন কেউ সেই মুহূর্তে বন্যায় ডোবে, অথবা তৃষ্ণা বুকে নিয়ে...

অনেক দূরে

অনেক দূরে পরিত্যক্ত মন্দিরের ভাঙা সিঁড়িতে বসে। দু’এক মুহূর্ত বিশ্রাম মন্দির কখনো গৃহ হয় না আমাকে অনেক দূরে যেতে হবে। গন্ধলেবুর ঝোপে ডেকে ওঠে তক্ষক সাপ এ কিসের সঙ্কেত? যে-আকাশ আশ্চর্য সুন্দর নীল ছিল এখন সেখানে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ছে শকুন বাতাস হঠাৎ পাগল হয়ে দাপাদাপি করে— এ...

অন্যরকম

অন্যরকম পাহাড় শিখর ছেড়ে মেঘ ঝুঁকে আছে খুব কাছে চরাচর বৃষ্টিতে শান্ত আমি গভীর উদাসীন ব্ৰহ্মপুত্রের পাশে চুপ করে দাঁড়াই জলের ওপারে সব জল-রং ছবি নারীর আচমকা আদরের মতন স্নিগ্ধ বাতাস– এই চোখজুড়োনো সকাল, অদ্ভুত নিথর দিগন্ত মনে হয় অজানা সৌভাগ্যের মতন তবু সুন্দরের এত...

আছে ও নেই

হাওড়া স্টেশনের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে সেই পাগলটি পৃথিবীর সমস্ত পাগলের রাজা হয়ে সে উলঙ্গ, কেননা উম্মাদ উলঙ্গ হতে পারে, তাতে প্রকৃতির তালভঙ্গ হয় না কখনো পাশেই গম্ভীর ট্রেন, ব্যস্ত মানুষের হুড়োহুড়ি সকলেই কোথাও না কোথাও পৌছুতে চায় তার মধ্যে এই মূর্তিমান ব্যতিক্রম, ইদানীং...

আমি নয়

পথে পড়ে আছে এত কৃষ্ণচুড়া ফুল দু’পায়ে মাড়িয়ে যাই, এলোমেলো হাওয়া বড় প্রীতি-স্পর্শ দেয়, যেন নারী, সামনে বকুল যার ঘ্রাণে মনে পড়ে করতল, চোখের মাধুরী তারপরই হাসি পায়, মনে হয় আমি নয়, এই ভোরে এত সুন্দরের কেন্দ্র চিরে গল্পের বর্ণনা হয়ে হেঁটে যায় যে মানুষ সে কি আমি? ক্ষ্যাপাটের...

উপত্যকার পাশে

উপত্যকার পাশে দুঃখ এসে আমার ধরলো উপত্যকারী পাশে এতদিন তো পালিয়ে ছিলাম নদীর ধারে যাইনি যাইনি বকুল গাছের নিচে শিশির ভেজা ঘাস মাড়িয়ে লুকোচুরির খেলায় ওকে ক’বার দিলাম ফাঁকি! এমনকি এই ভোরের বেলায় রৌদ্র যখন কাঁপে নারী যখন বৃষ্টি হয়ে চক্ষু দুটি ধাঁধায় কোমল বুকে নখের দাগে...

উৎসব শেষে

উৎসব শেষে অনেক উৎসবে ছিল আমাদের ঘোর নিমন্ত্রণ তাওয়া হয় না। পথগুলি বদলে যায় সকালে বিকেলে। এমনও হয়েছে আমরা গেছি কোনো বসন্ত-উৎসবে ভুল দিনে, ভুল স্থান–সামনে পড়ে ছিল ধুধু মাঠ তাতেই দারুণ সুখ, ধুলোয় গড়িয়ে খুব হাসাহাসি হলো তারপর বাড়ি ফেরা, রোগা একটা রাস্তা ধরে,...

একটি কথা

একটি কথা বাকি রইলো, থেকেই যাবে মন ভোলালো ছদ্মবেশী মায়া আর একটু দূর গেলেই ছিল স্বর্গ নদী দূরের মধ্যে দূরত্ব বোধ কে সরাবে। ফিরে আসার আগেই পেল খুব পিপাসা বালির নীচে বালিই ছিল, আর কিছু না রৌদ্র যেন হিংসা, খায় সমস্তটা ছায়া রাত্রি যেমন কাঁটা, জানে শব্দভেদী ভাষা বালির নীচে...

একটি শীতের দৃশ্য

মায়ামমতার মতো এখন শীতের রোদ মাঠে শুয়ে আছে আর কেউ নেই ওরা সব ফিরে গেছে ঘরে দু’একটা নিবারকণা খুঁটে খায় শালিকের ঝাঁক ওপরে টহল দেয় গাংচিল, যেন প্রকৃতির কোতোয়াল। গোরুর গাড়িটি বড় তৃপ্ত, টাপুটুপু ভরে এছ ধানে অন্যমনা ডাহুকীর মতো শ্লথ গতি অদূরে শহর আর ক্রোশ দুই পথ সেখানে...

একবারই জীবনে

একবারই জীবনে দুই হাতে মৃত্যু নিয়ে ছেলেখেলা করার বিলাস প্ৰথম যৌবনে ছিল। ভাবতাম, নদীর আকাশে লঘু মাছরাঙা পাখির মতন মৃত্যুর দু’ধারে ঘেঁষে ছুটোছুটি জীবনকে রূপরস দেয়। বারবার আমি কি যাইনি সেই মৃত্যুমুখী দক্ষিণের ঘরে? বাঁধের কিনার থেকে গড়ানো বন্ধুর হাত ধরে থাকা আন্তরিক মুঠি...

এখন একবার

এখন একবার সবচেয়ে কী বেশি ভেঙে চুরে, গুঁড়িয়ে ছন্নছাড়া হয়ে যায়? স্বপ্ন! মেঘলা দুপুরবেলা পথে পথে ছড়ানো দেখতে পাই ওদেরই ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ। গাড়ির চাকায় ছোটকানো নোংরা জলের মতন এক একটা উপলব্ধি চমকে দেয় কোনো রাস্তাই কোথাও যায় না, যে যেখানে— নিসর্গের ফুঁয়ের মতন পাতলা কুয়াশা...

কথা ছিল

সামনে দিগন্ত কিংবা অনন্ত থাকার কথা ছিল অথচ কিছুটা গিয়ে দেখি কানা গলি ঘরের ভিতরে কিচু গোপন এবং প্রিয় স্মৃতিচিহ্ন থেকে যাওয়া উচিত ছিল না? নেই, এই দুৎখ আমি কার কাছে বলি! সমস্ত নারীর মধ্যে একজনই নারীকে খুঁজেছি এ-রকমই কথা ছিল স্নিগ্ধ ঊষাকালে প্রবল স্রোতের মতো প্রতিদিন ছুটে...

চরিত্র বিচার

চরিত্র বিচার কেউ কেউ আলো চায় না, চিরদিন এই পৃথিবীকে মাতৃগর্ভ মনে করে বেঁচে থাকে কলুষ আঁধারে কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কয়েকটি সনেট যায় লিখে কেউ বা কুকুর-সম প্রভুর পত্নীর স্নেহ কাড়ে। অনেক মানুষ শুধু সরল রেখার মতো বোবা একটিও ইন্দ্ৰিয় নেই, ষড়রিপু ছোঁয়নি ঘৃণায় হঠাৎ দেখলে ঠিক...

চাবি

চাবি বহু রকমের চাবি-বন্দী হয়ে আছে এই ঘর দেরাজ, আলমারি, বাক্স, বস্তুর সমস্ত স্পর্ধা দমন করেছে এই একটি মাত্র পিতলের কাঠি মাঝে মাঝে ভাবি আমি, চাবিরও কি প্ৰাণ আছে নাকি? বড় তেজী, অভিমানী, ওরা জানে জীবনের মর্ম ঠিক কিসে তাই তো অজ্ঞাতবাসে চলে যায় প্রায়শই অন্ধকারে চুপি চুপি...

চায়ের দোকানে

চায়ের দোকানে লণ্ডনে আছে লাস্ট বেঞ্চির ভীরু পরিমল, রথীন এখন সাহিত্যে এক পরমহংস দীপু তো শুনেছি খুলেছে বিরাট কাগজের কল এবং পাঁচটা চায়ের বাগানে দশ আনি অংশ তদুপরি অবসর পেলে হয় স্বদেশসেবক; আড়াই ডজন আরশোলা ছেড়ে ক্লাস ভেঙেছিল পাগলা অমল সে আজ হয়েছে মস্ত অধ্যাপক! কি ভয়ংকর...

জন্মান্ধের গান

জন্মান্ধের গান ‘যতদিন বাঁচবো যেন দুচোখ খুলেই বেঁচে থাকি’ একজন অন্ধ ভিখারী গান গাইছে। রাসের মেলায়, তিনজন শহুরে বাবু তুড়ি দিচ্ছে, এবং পোশাকি হাসি হেসে পয়সা খুঁড়ছে এলোমেলো, নিতান্ত হেলায়। তারা কিন্তু অন্ধ নয়, চোরা চোখে দেখছে চারদিকে নধর ডাঁটার মতো ষ্টুড়িটি বেশ, সঙ্গে আছে...

তোমাকে ছড়িয়ে

তোমাকে ছড়িয়ে জাদুদণ্ড তুলে বললে, এখন বিদায়! জানালা ঘুরে হাওয়া এলো আলমারির কোণে ঝোলানো কিরীচ থেকে ঝলসে উঠলো প্ৰতিহিংসা শ্রাবণের অপরাহ্নে মহিষের ঘণ্টাধ্বনি মনকে ফেরায়। আমার চোখের নিচে কালো দাগ, এসে দেখো, কিংবা থাক এখন এসো না ব্যান্ডেজের মধ্যে একটা পোকা ঢুকলে যত অসহায়...

দাঁড়িয়ে রয়েছ তুমি

দাঁড়িয়ে রয়েছ তুমি দাঁড়িয়ে রয়েছ তুমি বারান্দায় অহঙ্কার তোমাকে মানায় না তুমি কি যে-কোনো নারী যে-কোনো বারান্দা থেকে সন্ধ্যার শিয়রে মাথা রেখে আছো? তুমি তো আমারই শুধু, দূর থেকে দেখা শুকনো চুল, ভিজে মুখ, করতলে মসৃণ চিবুক তুমি নারী অহঙ্কার তোমাকে মানায় না— যে তোমাকে দেখে,...

দুই বন্ধু

দুই বন্ধু –কোন দিকে যাবো? —যেদিকে যখন খুশি, যাসনি দক্ষিণে –এই মাত্র উত্তর সন্ধান করে ফিরে আসছি –কে দেখলি? –একটি রমণী তার হিংস্ৰ নখে মেরে ফেললো একটি টিয়া পাখি, পাখির রক্তের মধ্যে মেশালো দুফোঁটা অশূ তারপর হেসে উঠলো। –তারপর? –নির্জনে...

দেখি মৃত্যু

দেখি মৃত্যু আমি তো মৃত্যুর কাছে যাইনি, একবারও, তবুও সে কোন ছদ্মবেশে মাঝে মাঝে দেখা দেয়। এ কি নিমন্ত্রণ, এ কি সামাজিক লঘু যাওয়া আসা? হঠাৎ হঠাৎ তার চিঠি পাই, অহংকার নম্র হয়ে ওঠে যেমন নদীর পাশে দেখি এক নারী তার চুল মেলে আছে চেনা যায় শরীরী সংকেত অমনি বাতাসে ওড়ে নশ্বরতা ভয়...