জাগরণ হেমবর্ণ

অন্য লোক

যে লেখে, সে আমি নয় কেন যে আমায় দোষী করো! আমি কি নেকড়ের মতো ক্রুব্ধ হয়ে ছিঁড়েছি শৃঙ্খল? নদীর কিনারে তার ছেলেবেলা কেটেছিল সে দেখেছে সংসারের গোপন ফাটল মাংসল জলের মধ্যে তার আয়না খুঁজেছে, ভেঙেছে। আমি তো ইস্কুলে গেছি, বই পড়ে প্রকাশ্য রাস্তায় একটা চাবুক পেয়ে হয়ে গেছি...

অপেক্ষা

সকালবেলা এয়ারপোর্টে গেয়েছিলাম একজন বৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ফরাসীর সঙ্গে দেখা করার জন্য, যিনি নিজের শৈশবকে ঘৃণা করেন। তিনি তখনো আসেননি, আমি একা বসে রইলাম ভি আই পি লাউঞ্জে। ঠান্ড ঘর, দুটি টাটকা ডালিয়া, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বিসদৃশ রকমের বড় ছবি। সিগারেট ধরিয়ে আমি বই খুলি। যে-...

অভিশাপ

অভিশাপ তুমি তো আনন্দে আছে, তোমার আনন্দ অন্যবর্ণ নিরন্তর পাশা খেলা, মাঝে মাঝে শোনা যায় হাসি তোমাকে দেখে না, কেউ, এত গুপ্ত, অন্তরীক্ষবাসী মনে হয়। প্রতিটি জয়ের পর আবার নতুন খেলা এত বেশী লোভ? তুমি হেরে যাবে, তুমি ঠিক হেরে যাবে। দুঃখকে চেনো না তুমি, তোমার দুঃখের অন্যবর্ণ...

আমিও ছিলাম

পাঁচজনে বলে পাঁচ কথা, আমি নিজেকে এখনো চিনি না চেয়েছিলাম তো সকালবেলার শুদ্ধ মানুষ হতে দশ দিকে চেয়ে আলোর আকাশে আয়নায় মুখ দেখা আমিও ছিলাম, আমিও ছিলম, এই সুখে নিশ্বাস জনি না কোথায় ভূল হয়ে যায়, ছায়া পড়ে ঘোর বনে ঝড়ে বৃষ্টিতে পায়ে পায়ে হেঁটে যাকে মনে করি বন্ধু সে মুখ ফিরিয়ে...

এখন

এখন এখন সময় ভরা বাবলা-কাঁটা ভালো করে না এসেই চলে যায় শীত এখন তারার দেশে যুক্তি তর্কে ঝড় ওঠে এইভাবে কেটে যায় দিন। এখন কারুর কোনো ঋণ নেই চণ্ডালেও হাতে পরে ঘড়ি কাকেদের শোকসভা অকস্মাৎ ভেঙে যায় গৃহ ভাঙে, তৈরি হয় বাড়ি। মেয়েদের ডাক নাম সকলেই জানে একদা শিল্পের নাম ছিল বুঝি...

ঐ তো আমার

ঐ তো আমার নদীর ওপারে ঝুঁকে আছে বাঁশবন ঐ তো আমার স্বৰ্গ ঐ তো আমার বিস্মরণের ভিতরে একটি জোনাকি ধপধপে সাদা বক উড়ে যায় মায়াবী সন্ধ্যা পেরিয়ে নদীর ওপারে ঝাড়লণ্ঠন জ্বালিয়ে রেখেছে আকাশ প্রতিধ্বনির মতো ফিরে এলো বন্ধু শুকনো পাতায় শব্দ ছড়িয়ে নিশ্বাস উড়ে যায় কে যেন হাসলো, ঠিক...

ওরা

ওরা তারও তো যাবার কথা ছিল, যে রইলো অন্ধকারে এক এক শুয়ে সে হাত বাড়িয়ে দিল হওয়ায় উড়িয়ে নিল শব্দ দিগন্তে লুকিয়ে গেল আলো তারও তো যাবার কথা ছিল। পিপুল গাছের নিচে উইঢিপি তার পাশে পড়ে আছে ভাঙা শালিকের, ডিম, পিঁপড়েরা এসে গেছে ঝিম অন্ধকারে এক পুকুরের পাড়ে দু’পায়ের কাদা ধুচ্ছে...

কত দূরে?

কত দূরে? ভোরবেলায় বৃষ্টি একজন সাক্ষী চেয়েছিল, তাই আমি হঠাৎ ঘুম ভেঙে বাইরে আসি। বারান্দায় সামনেই শ্ৰীজ, একটাও মানুষ নেই, মাথার মধ্যে নেশার মতন বৃষ্টির শব্দ, দূরে ছানার জলের মতন হালকা নীল আলো। এই যে দৃশ্য, আমি কি এর যোগ্য? পৃথিবীতে জন্মেছি বলেই কি আমি সুন্দরের অংশভাগ...

কবিতার মধ্যে

কবিতার মধ্যে বহু চিঠি, ভ্ৰমণকারীর মতো প্রতিটি বন্দর থেকে; মনে আছে, মনে পড়ে? ছবির পোস্টকার্ড। ঈষৎ দূরত্বে এসে যেন কোনো সাঁকোর ওপরে একলা দাঁড়িয়ে থাকা-ভ্রূ-সন্ধিতে ঘাম নীচে জলস্রোত বহু দূরে যায় সেই দূর মুহুর্তে বিধুর হয়ে ওঠে একাকিত্বে হাওয়ায় হাওয়ায় শিহরন বেঁচে আছি, এই...

কবির দুঃখ

শব্দ তার প্রতিবিম্ব আমাকে দেখাবে বলেছিল শব্দ তার প্রতিবিম্ব আমাকে দেখাবে বলেছিল গোপনে শব্দ তার প্রতিবিম্ব আমাকে দেখাবে বলেছিল। শব্দ ভেঙে গেল যেন শৃঙ্খলের মতো শব্দ হয় পাহাড়ের চূড়া থেকে খসে পড়া রূপালি পাতার মতো সন্ধ্যায় সূর্যকে দীপ্ত দেখে লক্ষ বৎসরের পর এক মুহূর্তের...

গুহাবাসী

গুহাবাসী -চলে যাবে? সময় হয়েছে বুঝি? –সময় হয়নি, তাই চলে যাওয়া ভালো –এসো না এখনো এই গুহার ভিতরে খুঁজি পড়ে আছে কিনা কোনো স্মৃতিশূন্য আলো —অথবা দু’জনে চলো বাইরে যাই? –আমার এ নির্বাসন দণ্ড আজ শেষ হবে? –ওসব হেঁয়ালি আমি বুঝি না, তোমাকে সবার মধ্যে চাই...

ঘরে-বাইরে

ঘরে-বাইরে সেদিন ছিল একটি বিন্দু, যা মানুষকে ঘরে ফেরায় ঘরে ফেরার পথে ছিল শুকনো কাঁটা, কয়েক ফোঁটা রক্ত পথের থেকে পথ ঘুরে যায়, হাওয়ায় ওড়ে পালক যে পাখিটি মরেই গেছে, তারই পালক-এও যেন জীবন্ত পূর্ব কিংবা দক্ষিণে যে জীবন তাকে হাতছানি দেয় সেদিন ছিল একটি বিন্দু, যা মানুষকে ঘরে...

চেনার মুহূর্ত

চেনার মুহূর্ত বহু অৰ্চনা করেছি। তোমায়, এখন ইচ্ছে টেনে চোখ মারি হে বীণাবাদিনী, তুমিও তো নারী, ক্ষমা করো এই বাক-ব্যবহার তুমি ছাড়া আর এমন কে আছে, যার কাছে আমি দাস্য মেনেছি এবার আমাকে প্রশ্রয় দাও, একবার আমি ছিলা টান করি। একবার এই পাংশুবেলায় তুমি হয়ে ওঠো শরীরী প্ৰতিমা অনেক...

চেনার মুহূর্ত

বহু অর্চনা করেছি তোমায়, এখন ইচ্ছে টেনে চোখ মারি হে বীণাবাদিনী, তুমিও তো নারী, ক্ষমা করো এই বাক-ব্যবহার তুমি ছাড়া আর এমন কে আছে, যার কাছে আমি দাস্য মেনেছি- এবার আমাকে প্রশ্রয় দাও, একবার আমি ছিনা টান করি। একবার এই পাংশুবেলায় তুমি হয়ে ওঠো শরীরী প্রতিমা অনেক দেখেছি দুনিয়া...

চেয়ার

চেয়ার তারপর সেখানে পড়ে রইলো কয়েকটা খালি চেয়ার বাগানে, আকাশের নিচে ঠিক সাজানো নয়, কাছাকাছি ও দূরে এবং মুখোমুখি শূন্য চেয়ারগুলোর ওপর ঝরে পড়ছে হিম। একটু আগে ওর একটি চেয়ারে আমিও ছিলাম এখন ঘরের ভেতরে জানলায় মুখ রেখে কেন যে আমি উৎসুকভাবে তাকিয়ে আছি চেয়ারগুলির দিকে নিজেই...

চোখ ঢেকে

চোখ ঢেকে যে-যেমন জীবন কাটায় তার ঠিক সেই রকম এক-একটি পোশাক রয়েছে আলো ও হাওয়ার মধ্যে লুটোপুটি খেয়ে কে যে আনন্দ-ভিখারী উড়ুনি ভিজিয়ে সেও বিধ্বংসী নদীর থেকে শান্তি চেয়েছিল সহসা বিদ্যুৎ-স্পর্শে চোখ ঢেকে আমিও একদা দিগম্বর মৃত্যু স্থির দাঁড়িয়ে...

জাগরণ হেমবর্ণ

জাগরণ হেমবর্ণ, তুমি ওকে সন্ধ্যায় জাগাও আরও কাছে যাও ও কেন হিংসার মতো শুয়ে আছে যাখন পৃথিবী খুব শৈশবের মতো প্রিয় হলো জল কনা- মেশা হওয়া এখন এ আশ্বিনের প্রথম সোপানে বারবার হাতছানি দিয়ে ডেকে যায় আরও কাছে যাও জাগরণে হেমবর্ণ, তুমি ওকে সন্ধ্যায় জাগাও। মধু-বিহ্বলেরা কাল...

জীবন-স্মৃতি

জীবন-স্মৃতি —তোমার ছিল স্বপ্ন দেখার অসুখ, তুমি আপন মনে কথা বলতে –তোমার ছিল বিষম দুঃখ, তুমি কখনো নদীর পারে একলা যাওনি —তোমার ছিল ছুরির মতন ধারালো রাগ হঠাৎ যেদিন হাতে তোমার কাঁটা ফুটলো গোপাল গাছটা লণ্ডভণ্ড করেছিলে, মনে পড়ে না? —শুধু কি তাই, প্রজাপতির ডানা ছিঁড়েছি...

তুমি যেই এসে দাঁড়ালে

তুমি যেই এসে দাঁড়ালে তুমি জেনেছিলে মানুষে মানুষে হাত ছুঁয়ে বলে বন্ধু তুমি জেনেছিলে মানুষে মানুষে মুখোমুখি এসে দাঁড়ায় তুমি যেই এসে দাঁড়ালে– কেউ চিনলো না কেউ দেখলো না সবাই সবার...

তুমি যেখানেই যাও

তুমি যেখানেই যাও আমি সঙ্গে আছি মন্দিরের পাশে তুমি শোনো নি নিঃশ্বাস? লঘু মরালীর মতো হাওয়া উড়ে যায় জ্যোৎস্না রাতে নক্ষত্রেরা স্থান বদলায় ভ্রমণকারিণী হয়ে তুমি য়েলে কার্শিয়াং অন্য এক পদশব্দ পেছনে শোনো নি? তোমার গালের পাশে ফুঁ দিয়ে কে সরিয়েছে চুর্ণ অলক? তুমি সাহসিনী, তুমি...