এসেছি দৈব পিকনিকে

অবেলায় প্রেম

অবেলায় প্রেম তুমি কি বিশ্বাস ভুলবে, বলবে এসে, প্রথম তরুণ আমাকে মৃত্যুর থেকে তুলে নাও, মুহূর্তে বাঁচাও চোখ তুলে অথবা মুহূর্ত যেন জন্মান্তর পায়, যেন পাপহীন ভুলে সুকুমার স্তন ওষ্ঠ জঙ্মূ ল, ভবিষ্যৎ ভ্রূণ অচিরাৎ সৌন্দর্যের এ পান্থনিবাসগুলি বেঁচে বর্তে থাকে! বিবিধ অপ্রেম...

আত্মদর্শন

আত্মদর্শন অস্ত্র বানিয়েছিলুম পশুর বিরুদ্ধে, আজ পশুরা নিঃশেষিতপ্রায় যে ক’টি রয়েছে, তাদের আদর যত্নে রেখেছি সাজানো বাগানে এদিকে জমে গেছে অস্ত্রের পাহাড় দিবাবসানের রক্ত আলোয় দেখা যায় মানুষের স্রোত চতুর্দশী চাঁদের দিকে রোমহর্ষক ব্যস্ততা যন্ত্র কষে দেয় ন্যায় অন্যায়ের হিসেব...

আমাকে জড়িয়ে

হে মৃত্যুর মায়াময় দেশ, হে তৃতীয় যামের অদৃশ্য আলো তোমাদের অসম্পূর্ণতা দেখে, স্মৃতির কুয়াশা দেখে আমার মন কেমন করে সারা আকাশ জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে এক পরম কারুণিক নিষাদ তার চোখ মেটে সিঁদুরের মতো লাল, আমি জানি তার দুঃখ হে কুমারীর বিশ্বাসহন্তা, হে শহরতলীর ট্রেনের প্রতারক তোমাদের...

এ কার উদ্যান?

এ কার উদ্যান? এ কার উদ্যান? কে এত সযত্নে সাজিয়েছে ফুলের কেয়ারি সবুজ ঘাসের পাশে গোলাপ দুর্দান্ত লাল, এবং মাধবী কিশোরী মেয়ের মতো সদ্য যৌবনের দিকে হাত বাড়িয়েছে। শিউলি ফুলের রাশি ঝরে আছে শৈশবের স্মৃতি বিভিন্ন সুগন্ধ যেন ঝড় হয়ে ছুটে আসে ঘ্রাণে— এ কার উদ্যান? এই পটুলেকা, এই...

এই জীবন

ফ্রয়েড ও মার্ক্স নামে দুই দাড়িওয়ালা বলে গেল, মানুষেরও রয়েছে সীমানা এঁচোড়ে পাকার মত এর পর অনেকেই চড়িয়েছে গলা নৃমুন্ড শিকারী দেয় মনোলোকে হানা। সকলেই সব জানে, এত জ্ঞানপাপী বলেছে মুক্তর রং শাদা নয় খাকি তবু যারা সিংহাসন নেয় তারা কথার খেলাপি আবং আমার ভাই, মা-বোন নিখাকী।...

এই দৃশ্য

হাঁটুর ওপরে থতনি, তুমি বসে আছো নীল ডুরে শাড়ী, স্বপ্নে পিঠের ওপরে চুল খোলা বাতাসে অসংখ্য প্রজাপতি কিংবা সবই অভ্রফুল? হাঁটুর ওপরে থুতনি, তুমি বসে আছো চোখ দুটি বিখ্যাত সুদূর, পায়ের আঙুলে লাল আভা। ডান হতে, তর্জনিতে সামান্য কালির দাগ একটু আগেই লিখছিলে বাতাসে সুগন্ধ, কোথা...

এই সময়

এই সময় দুঃখ চেয়েছি, তা বলে এতটা দুঃখিত হয়ে থাকতে চাইনি সকলি গোপন, সকলি নীরব, একা একা শুধু বুক ভার করা কার কাছে যাবো, কাকে যে বলবো, কেউ নেই, কোনো নাম মনে নেই সকলে আলাদা, নিরালায় একা, কেউ কারো মুখে। সহজে চায় না কোনো কথা নেই, শুধুই শুকনো লৌকিকতার লঘু চোখাচোখি জীবন চলেছে...

এক জীবন

এক জীবন শামুকের মতো আমি ঘরবাড়ি পিঠে নিয়ে ঘুরি এই দুনিয়ায় আমি পেয়ে গেছি অনন্ত আশ্রয় এই রৌদ্র বৃষ্টি, এই শতদল বৃক্ষের সংসার অস্থায়ী উনুন, খুদ কুঁড়ো– আবার বাতাসে ওড়ে ছাই আমি চলে যাই দূরে, আমি তো যাবোই, জন্ম মৃত্যু ছাড়া আর আমি কোনো সীমানা মেনেছি? এ আকাশ আমারই নিজস্ব...

একটি স্তব্ধতা চেয়েছিল…

একটি স্তব্ধতা চেয়েছিল আর এর এক নৈঃশব্দকে ছুঁতে তারা বিপরীত দিকে চলে গেল, এ জীবনে দেখাই হলো না। জীবন রইলো পড়ে বৃষ্টিতে রোদ্দুরে ভেজা ভূমি তার কিছু দূরে নদী- জল নিতে এসে কোনো সলাজ কুমারী দেখে এক গলা-মোচড়ানো মারা হাঁস। চোখের বিস্ময় থেকে আঙুলের প্রতিটি ডগায় তার দুঃখ সে...

এখন আমি

এখন আমি হাতের মুঠোয় ছিলএকটা মস্তবড় নদী নদীর মধ্যে ছিল আমার বাল্যকালের ভয় ভয়ের পাশে সরলতার বাগান আর প্রাসাদ হারিয়ে গেল, সমস্তই হারিয়ে গেল! নদীও নেই, ভয়ও নেই, কোথায় সেই কাননঘেরা বাড়ি? এখন আমি মানুষ, আমি কঠিন একটি...

এখানে কেউ নেই

এখানে কেউ নেই এখানে কেউ নেই, এখানে নির্জন, এই যে শালবন টগর চেয়ে আছে, শুকনো পাতা ওড়ে ভ্রমর ফিরে আসে, এখানে কেউ নেই, এখানে নির্জন, এই যে শালবন এখানে প্যান্ট খোললা, এখানে শার্ট খোললা, জাঙ্গিয়া গেঞ্জিও এখানে কেউ নেই, এখানে নির্জন, এই যে শালবন এখানে রোদ আছে, বাতাস দেহ...

কথা ছিল

কথা ছিল এই দুরন্ত রাতের খেলা, কথা ছিল বনের মধ্যে রেশম, এত লাল রেশম, কথা ছিল? বাতাস ভাঙে বিজন দ্বীপ, আকাশ ভাঙে ঘর দুঃখ ভাঙে নরম হাত, কঠিন হাত, কথা ছিল। হে সুন্দর, হে আনন্দ, এত সুদূর? ফেরার পথ ভুলে যাবার কথা...

কালো অক্ষরে

কালো অক্ষরে কালো অক্ষরে থেকেছি মগ্ন সারাদিন সারা মাস ও বছর চোখ ক্ষয়ে গেল, বুক জ্বলে গেল, জুলপি ও চুলে সাদা সাদা ছোপ বাইরে আকাশ, বাইরে মধুর, বাইরে নারীরা এই যে আয়ুর হনন এই যে দিন দিনান্ত হৃদয়ে প্রবাস এই যে পরের দুঃখ ও সুখ, যে যার খেলায় রয়েছে মত্ত কার নিশ্বাস কার চাপা...

কে তুমি

কে তুমি –কে তুমি? আড়াল থেকে সামনে এসো। —কোথায় আড়াল? এ প্রকাশ্য দিবালোকে সামনে এসেছি। —তবুও চোখের সামনে যেন একটা মসলিনের পর্দা, রৌদ্রে আরও ধাঁধা লাগে, কে তুমি? কে তুমি? –দ্যাখো, আরো একটু সামনে এসেছি, এখনো চিনলে না? —খানিকটা চেনা, চেনা এখনো অস্পষ্ট মুখ ঐ...

কেঁদুলির যাত্রী

কেঁদুলির যাত্রী সেই অন্ধকার পথ ভেঙে যাওয়া, অজস্র জোনাকি, বুকের উষ্ণতা কাড়ে হাওয়া, তবু শ্ৰবণ উৎকর্ণ, আরো দূরে, অথচ তেমন দূরে নয়, আঁধার নিমার্ণ থেকে উঠে আসে অঙ্গহীন রথ, অদেখা নদীর কাছে খেলা করে স্বর্গের সৌরভ… পায়ে পায়ে যাওয়া, শুধু যাওয়া, খুব বেশি দূরে নয়, অথচ পথের...

কেউ শুধালো না

কেউ শুধালো না মাথায় একটা ডাণ্ডা, একটা বুনো শব্দ, শেষ! লোকটা মরে পড়ে রইলো, লোকটা মরে পড়ে রইলো শিশির ভেজা মাঠে! লোকটা কোনো শিশুর গালে দেয়নি বুঝি টোকা? ঘোমটা-পরা নারীর হাত মুঠোয় ধরে পার হয়নি মাঠের রেল লাইন? ঘাম-জড়ানো বুকের মধ্যে ছোয়নি কোনো কান্না? এই লোকটি মাটিকে...

খেলাচ্ছলে

খেলাচ্ছলে ‘ফেরা’ এই শব্দটিকে ভিজে নিয়ে চোষাচুষি করি খেলাচ্ছলে এবং একার খেলা কোনোদিন নিয়ম মানে না ছাদের পাঁচিল ছেড়ে লাফ দেয় তেজী বল উড়ে যায় ব্রীজের ওপারে বাতাস আঁচড়ায় শীত, সন্ধ্যা আনে কালো আলোয়ান জিভ ক্ষার হয়ে আসে, শব্দটি সশব্দ হয়ে ভয় পাওয়ায় এতক্ষণ একা ঠায় দাঁড়িয়ে...

খেয়াঘাটে

খেয়াঘাটে ডোরাকাটা সসায়েটারের মতো চামড়া একটি কুকুর ছুটে গেল কোনাকুনি পশ্চিমের দিকে তখন বৃষ্টির ঠিক আগের মুহূর্ত তীব্র নাদে কাঁপিয়ে ভল্লুক বর্ণ মেঘ একটি রুপালি কশা সোজা এসে গেথে গেল নদীর পাঁজরে পিত্তল বাসন নিয়ে সিক্ত এক নারী চলে গেল শাড়ী সপসপিয়ে ঈষৎ পৃথুলা, তবু কোমরে...

চায়ের দোকানে

চায়ের দোকানে এইটুকুনি শহর তার দু’দিকে ট্রেন লাইন মাথার ওপর আকাশ আর যেদিকে যাও আকাশ নক্সা কাটা রেল কলোনি, খানিক দূরে বাজার তার ভিতরে চায়ের দোকান, তার ভিতরে কবির দলের টেবিল। উনিশ থেকে তেইশ কিংবা খানিক এদিক-ওদিক সেদিন যারা কিশোর ছিল এখন সদ্য যুবক বোতাম খোলা শার্টের নীচে...

জলের কিনারে

জলের কিনারে এই অন্ধকার পথ চলে গেছে সমুদ্র কিনারে যেখানে তৃষ্ণার কোনো শান্তি নেই তবু এই তৃষিতটি কেন ঐ পথে যেতে চায়? সকলেরই গৃহ আছে, সকলেরই নিজস্ব সীমানা যেখানে অর্ধেক মৃত্যু অর্ধেক জীবন তবু এই গৃহহারা কেন যায় জলের...