আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি

অচেনা

অচেনা তোমার হাতে গোলাপ, তুমি ফুলের কাছে ঋণী রইলে… তোমার হাতে গোলাপ, তুমি ফুলের কাছে ঋণী রইলে… বাসের অমন ভিড়ের মধ্যে মেয়েটা আমাকে এক লাইন কবিতা দিয়ে হঠাৎ নম্র-নেত্রপাতে বেলগাছিয়ায় নেমে গোল রক্ত গোলাপ হাতে বাকিটা পথ রইলো শুধু ঘামের গন্ধ, ব্রিজের ধুলো তোমার...

অনর্থক নয়

বেয়ারা পাঠিয়ে কারা টাকা তোলে ব্যঙ্ক থেকে? আমি তো নিজের সইটা এখনো চিনি না বিষম টাকার অভাব!নেই। শুধু হৃৎপিন্ড হাওয়া টেনে নেয়ে হাসি কুলকুচো করি। মাথায় মুকুট নেই বলে কেউ ধার দিতেও চায় না। কিছু টাকা জমা আছে ব্লাড ব্যাঙ্কে। সামান্য। কাঁটা ছাড়ানো মাছের মতন গদ্য লিখলে ক্যাশ...

অপমান এবং নীরাকে উত্তর

সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু তিনজন সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু তিনজন সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, নীরা, কেন হেসে উঠলে, কেন সহসা ঘুমের মধ্যে যেন বজ্রপাত, যেন সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে, নীরা, হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু...

অবেলায়

অবেলায় আমার নিঃসঙ্গ জাগা ভাঙে না কোথাও ঘুমঘোর অতিরিক্ত অবিশ্বাস মানুষের পাশাপাশি হাঁটে মানুষ না প্রতিবিম্ব? অবিশ্বাস না মায়ার শোক? আমার নিঃসঙ্গ জাগা অবেলায় অস্থির ললাটে গভীর ধ্বনির মধ্যে ভেসে রয়, অফুরন্ত অলীকের পাশাপাশি...

অমলের স্ত্রীর জন্য

অমলের স্ত্রীর জন্য আমি খুব দূর, দূর দেশ থেকে অলক্ষ্যে বাণ ছুঁড়ি তুমি কাছে এসে এক কণা কস্তুরী তুলে নিলে করকমলে সখী, আজ আর আমাকে বলোনা নিষ্ঠুর হতে আমাকে বলে না অমলের শবযাত্রায় কাঁধ দিতে, আমি আজ গঙ্গার স্রোতে থুতু ফেলবো না, দেখো এই মুখ, এ কি নিষ্ঠুর মানুষের মুখ? আমার...

অসমাপ্ত

অসমাপ্ত মেঘের সঙ্গে কথা বলিনি, তাই বিস্মরণে দুঃখ নেই পাতা পোড়ানো গন্ধ মনে পড়ে, ছেলেবেলার পাতা পোড়ানো গন্ধ, কলকাতায় পাতা পোড়ে, গন্ধ পাই না– কেউ কি ময়দানে গিয়ে গান গেয়ে কুকর্ম করেনি? আমি রক্ষী ছিলাম, আমি খাকি পোশাকের মতো মুখে চুপ করে গাছের পাশে দাঁড়াতে দেখেছি।...

অসুখের ছড়া

একলা ঘরে শুয়ে রইলে কারুর মুখ মনে পড়ে না মনে পড়ে না মনে পড়ে না মনে পড়ে না মনে পড়ে না চিঠি লিখবো কোথায়, কোন মুন্ডহীন নারীর কাছে? প্রতিশ্রুতি মনে পড়ে না চোখের আলো মনে পড়ে না ব্লেকের মতো জানলা খুলে মুখ দেখবো ঈশ্বরের? বৃষ্টি ছিল রৌদ্র ছায়ায়, বাতাস ছিল বিখ্যাত করমচার সবুজ...

আটাশ বছরে

আটাশ বছরে মৃত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলে চোখে চোখে কথা শেষ হয় তুমি কিংবা আপনি বলবো মনেও পড়ে না জানলায় বাদুড় এসে হেসে যায় দগ্ধ ভোরবেলায় বিবাহিত রমণীরা সিঁড়ির উপর থেকে চকিতে দাঁড়িয়ে যেন বহু কষ্ট কেনা মুণ্ডহীন হাসি দিয়ে চলে যায় কুল বারান্দায়, এখন প্রত্যেক দিন দাড়ি না...

আমার কয়েকটি নিজস্ব শব্দ

পরিত্রাণ, তুমি শ্বেত, একটুও ধূসর নও, জোনাকির পিছনে বিদ্যুৎ, যেমন তোমার চিরকাল জোনাকির চিরকাল; স্বর্গ থেকে পতনের পর তোমার অসুখ হলে ভয় পাই, বহু রাত্রি জাগরণ- প্রাচীন মাটিতে তুমি শেষ উত্তরাধিকার। একাদশী পার হলে-তোমার নিশ্চিত পথ্য হবে। আমার সঙ্গম নয় কুয়াশায় সমুদ্র ও নদী;...

আমার খানিকটা দেরি হয়ে যায়

যে পান্থনিবাসে যাই দ্বার বন্ধ, বলে, “ঐ যে রুগ্ন ফুলগুলি বাগানে রয়েছে শুধু, এখন বসবেন?’ কেউ মুমূর্ষূ অঙ্গুলি আপন উরসে রেখে হেসে ওঠে, পাতা ঝরানো রহাসি, ‘এই অবেলায় কেন এসেছেন আপনি, কী আছে এখন? গত বসন্ত মেলায় সব ফুরিয়েছে, আর আলো নেই, দেখুন না তার ছিঁড়ে গেছে, সব ঘরে ধূলো,...

আমার ছায়া

আমার ছায়া সতীশের মৃত্যু হলো, জিভ দিয়ে চেটেছিল শ্বেতবর্ণ বিষ। আমরা সব বেঁচে আছি ঠিকঠাক, কী আশ্চর্য দেখা হে সতীশ, ব্যস্ত হয়ে কাজ করছি উদ্ভিদের মতো এক লোবরেটরিতে রোদ্দুর মেশাচ্ছি দেহে প্রতিদিন, ঝরে যাইনি বর্ষা কিংবা শীতে। তোমার নবোঢ়া পত্নী কিস্তি হারে শেলাইয়ের কল কিনেছে...

আমি ও কলকাতা

কলকাতা আমার বুকে বিষম পাথর হয়ে আছে আমি এর সর্বনাশ করে যাবো- আমি একে ফুসয়িয়ে নিয়ে যাবো হলদিয়া বন্দরে নারকোল নাডুর সঙ্গে সেঁকো বিষ মিশিয়ে খাওয়াবো- কলকাতা আমার বুকে বিষম পাথর হয়ে আছে। কলকাতা চাঁদের আলো জাল করে, চুম্বনে শিয়ালকাঁটা অথবা কাঁকর আজ মেশাতে শিখেছে, চোখের জলের...

আমি কিরকম ভাবে বেঁচে আছি

আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ এই কী মানুষজন্ম? নাকি শেষ পরোহিত-কঙ্কালের পাশা খেলা! প্রতি সন্ধ্যেবেলা আমার বুকের মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে, হৃদয়কে অবহেলা করে রক্ত; আমি মানুষের পায়ের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে থাকি-তার ভেতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে। আমি আক্রোশে...

আর্কেডিয়া

আর্কেডিয়া এই বিকেলটা অন্যরকম জীবন আমার ছিড়ে নেবো জমিয়ে রাখবো বাক্সে চেনা রাস্তায় ঘুরবো একটা মাঠের মধ্যে বাড়ি আমার পকেট ভর্তি ঠিকানা আজকে আমি নত হবো কান্না পেলে লুকোবো না চাইনে আজ বন্ধুবান্ধব ভাববে ওরা গেছি আমি চাইবাসায় কিংবা ফরাক্কাবাদ– ওদের চক্ষু এড়িয়ে আজ...

এই হাত ছুঁয়েছিল

এই হাত ছুঁয়েছিল আহা রে সোনার মূর্তিও কি অবিরল ঝরে যাবে রাত্তিরে , রোদ্দুরে, বৃষ্টিপাতে পরপুরুষের হাতে স্তনবৃন্ত দুটি কোন খোলা সুইচ? ছুঁয়ে দিলে হাত কেঁপে ওঠে এই হাত ছুঁয়েছিল বহু কৃমি, বুকে বাঁধা পাশবালিশ, রক্ত, যেন রক্তের লালায় লোভহীন ডুবে মরা, এই হাত ছুঁয়েছিল অশ্রুহীন...

এক সন্ধেবেলা আমি

এক সন্ধেবেলা আমি এই হ্রদে ঈশ্বর ছিলেন এই হ্রদে ঈশ্বর ছিলেন ঈশ্বর, তোমার ভূমিকম্প এসে মুছে দিল তোমার মহিমা; এই বৃক্ষ ঈশ্বর আমার এই বৃক্ষ ঈশ্বর আমার ঈশ্বর, তোমার বজ্র তোমাকেই পোড়ালো বীভৎস ঈশ্বর, তোমার মতো নিরীশ্বর আর কেউ নেই!… *** নীরা, তুমি অমন সুন্দর মুখে তিনশো...

একই স্বপ্ন দু’জনে দেখেছি

একই স্বপ্ন দু’জনে দেখেছি যেন কাল মরে যাবো ক্ষণকাল সেই কথা ভেবে গোধূলির দিকে আমি বিদায়ের অস্ত্ৰ তুলে ধরি গোধূলি কি ফসলের বিবর্তন? নাকি উল্লুকের প্ৰশান্ত নাচের ভঙ্গি? দুঃখ ঝরে রক্তের মতন, ঝরে যায় কিংবা রক্ত দুঃখের মতন? যেন কাল মরে যাবো ক্ষণকাল সেই কথা ভেবে আমি গোধূলির...

একটি কবিতা লেখা

একটি কবিতা লেখা প্ৰতিধ্বনি তুমি তো স্বর্গের দিকে গিয়েছিলে কেন ফিরে এলে? একদিনে লিখিনি। ‘প্ৰতিধ্বনি’ শব্দটা অত্যন্ত দুর্বোধ্য ও অবাস্তব ভাবে মাথার মধ্যে কয়েকদিন ঘুরঘুর করতে থাকে। শেষ কবিতা লেখার দেড়মাস পর। কী সাধারণ কথা এই প্ৰতিধ্বনি, তবু তারও একটা দাবি টের পাই।...

একবার হাসপাতালে যাও

একবার হাসপাতালে যাও একবার হাসপাতালে যাও সুস্থ একটি আপেলের মতো শায়িতা মূৰ্তিরা সব তোমাকে ঠোকরাবে চোখে চোখে ছিমছাম নার্সেরা ঘুরবে, অবিশ্বস্ত নম্রতায় নত দৈনিক চাকরির মতো আত্মীয়েরা মুহ্যমান ধরাবাঁধা শোকে। কেউ বা যকৃৎরোগী, ফুসফুসে পোকা পুষিছে কেউ মাতাল গোরার হাতে হাড়ভাঙা...

এবার কবিতা লিখে

এবার কবিতা লিখে আমি একটা রাজপ্রাসাদ বানাবো এবার কবিতা লিখে আমি চাই পনটিয়াক গাড়ি এবার কবিতা লিখে আমি ঠিক রাষ্ট্রপতি না হলেও ত্রিপাদ ভূমির জন্য রাখবো পা উঁচিয়ে- মেশপালকের গানে এ পৃথিবী বহুদিন ঋণী! কবিতা লিখেছি আমি চাই স্কচ, শাদা ঘোড়া, নির্ভেজাল ঘৃতে পক্ক মুরগী দু-ঠ্যাং...