রাজবাড়ির রহস্য (১৯৮৮)

রাজবাড়ির রহস্য - কাকাবাবু ও সন্তুর কাহিনী - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

০১. টুক করে একটা শব্দ

টুক করে একটা শব্দ হতেই শৈবাল দত্তর ঘুম ভেঙে গেল। এত সহজে তাঁর ঘুম ভাঙে না। শব্দটা ঠিক যেন কোনও ঘরের ছিটকিনি খোলার শব্দের মতন। তিনি বেডসাইড টেবলের ঘড়িটা দেখলেন। অন্ধকারে ঘড়ির কাঁটাগুলো জ্বলজ্বল করছে, এখন রাত দুটো বেজে কুড়ি মিনিট। গতকাল রাতেও প্রায় এই সময়েই একটা...

০২. দুজন ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা

দুজন ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলছেন কাকাবাবু, এমন সময় ঝনঝন করে বেজে উঠল টেলিফোন। এখন বম্বে থেকেও স্পষ্ট কথা শোনা যায়। কাকাবাবু ফোন তুলে বলেন, ইয়েস, রাজা রায়চৌধুরী স্পিকিং…কে, বলবস্তু রাও?…হ্যাঁ, কী ব্যাপার বলল…সেই মিউজিয়ামে ডাকাতির ব্যাপারটা…হ্যাঁ,...

০৩. সন্তু দারুণ রাগারাগি করতে লাগল

সন্তু দারুণ রাগারাগি করতে লাগল। এ-পর্যন্ত প্রত্যেকবার সে কাকাবাবুর সঙ্গে বাইরে গেছে। এবারে সে বাদ পড়ে যেতে কিছুতেই রাজি নয়। কাকাবাবু এক কথা বলে দিয়েছেন, এবারে সন্তু তাঁর সঙ্গে যাবে না। আর মাত্র সাতদিন বাদে সন্তুর পরীক্ষা। তার পড়াশুনো নষ্ট করা চলবে না। সন্তু মুখ গোঁজ...

০৪. দেবলীনা বড় গেটটার গায়ে

দেবলীনা বড় গেটটার গায়ে দুমদুম করে ধাক্কা দিয়ে চেঁচিয়ে ডাকতে লাগল, দুর্যোধন! গেট খোলো! মনোজবাবু! শশাবাবু! গেট খুলে দিতে বলুন! কেউ সাড়া দিল না। কাকাবাবু একটা একটা করে সুটকেস বয়ে নিয়ে এলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার, এরা টেলিগ্রাম পায়নি না কি? দুটো টেলিগ্রাম পাঠানো...

০৫. কাকাবাবু দেবলীনাকে ডেকে তুললেন

সকাল আটটার সময় কাকাবাবু দেবলীনাকে ডেকে তুললেন। এর মধ্যে কাকাবাবুর স্নান করা, দাড়ি কামানো হয়ে গেছে। আগে নিজে এক কাপ চা-ও খেয়েছেন। আবার এক পট চা দিয়ে গেছে দুর্যোধন। কাকাবাবু বললেন, ওঠ দেবলীনা, দ্যাখ কী সুন্দর সকাল! উঠোনের দেবদারু গাছে একঝাঁক টিয়াপাখি এসে বসেছে! দেবলীনা...

০৬. ছুটির ঘন্টা বেজে গেল

ঢং ঢং ঢং ঢং করে ছুটির ঘন্টা বেজে গেল। সন্তুর তখনও তিন-চার লাইন লেখা বাকি। সন্তু মুখ তুলে একবার দেখে নিল, প্রোফেসর সেন সব ছাত্রদের কাছ থেকে খাতা নিয়ে নিচ্ছেন। সন্তু বসেছে একেবারে পেছনে, তার কাছে পৌঁছতে এক-দু মিনিট সময় লাগবে। সে ঝড়ের বেগে লিখতে লাগল। প্রোফেসর সেন যখন...

০৭. রাত সাড়ে এগারোটার সময়

রাত সাড়ে এগারোটার সময় কাকাবাবু বললেন, তা হলে দেবলীনা, এবারে সেই এক্সপেরিমেন্টটা করা যাক? দেবলীনা ঘাড় হেলিয়ে বলল, হ্যাঁ! খাওয়া-দাওয়ার পর অনেকক্ষণ বারান্দায় বসে ছিল ওরা দুজন। আজ ঝড়বৃষ্টি নেই, আকাশ পরিষ্কার। সন্ধে থেকে কিছুই ঘটেনি। আজ আর কোনও ঘর থেকে কোনও রহস্যময় ব্যক্তি...

০৮. কাকাবাবু বুঝতে পারলেন

কাকাবাবু বুঝতে পারলেন, কে যেন তাঁকে ডাকছে। কেউ তাঁর গায়ে হাত দিয়ে ঠেলছে তবু তাঁর চোখ খুলতে ইচ্ছে করছে না। আরও ঘুম পাচ্ছে। ঘুম কী আরামের! তারপর তিনি সন্তুর গলার আওয়াজ চিনতে পারলেন। একবার চোখ মেললেন অতিকষ্টে। হ্যাঁ, সন্তুই তো দাঁড়িয়ে আছে তাঁর বিছানার কাছে। কাকাবাবু...

০৯. লাল রঙের বেনারসি

একটা সুন্দর লাল রঙের বেনারসি পরানো হয়েছে দেবলীনাকে। সে ঘুমিয়ে আছে একটা ধপধপে সাদা চাদরের ওপর। একটা মস্ত বড় ধুনুচি থেকে কুণ্ডল পাকিয়ে উঠছে ধোঁয়া। তার সামনেই সেই মুণ্ডুসমেত বাঘছালটার ওপর চোখ বুজে বসে আছেন গুরুদেব। পাহাড়ের গায়ে এই আশ্রম-ঘর। ছোট্ট একটা গুহার সামনে খড়ের...

১০. গুরুদেবের আশ্রমের দরজা

গুরুদেবের আশ্রমের দরজাটা ঠেলে ঢুকলেন কাকাবাবু। ভেতরে মশাল জ্বলছে। বাঘছালটার ওপর গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছেন গুরুদেব। তাঁর সবেমাত্র তন্দ্রা এসেছে। তিনি এখনও ঘুমোননি। কাকাবাবুর পায়ের শব্দ পেয়ে তিনি চোখ না খুলেই বললেন, ওরে ঝমরু, এবার মশালটা নিবিয়ে দিয়ে যা! কাকাবাবু বললেন,...