বিজয়নগরের হিরে (১৯৮৯)

বিজয়নগরের হিরে – কাকাবাবু ও সন্তুর কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

০১. দুপাশে ধুধু করা মাঠ

দুপাশে ধুধু করা মাঠ, তার মাঝখান দিয়ে রাস্তা। কোনও বাড়িঘর তো দেখাই যাচ্ছে না, মাঠে কোনওরকম ফসল নেই, গাছপালাও প্রায় নেই বলতে গেলে। অনেক দূরে দেখা যায় পাহাড়ের রেখা। এই অঞ্চলটাকে ঠিক মরুভূমি বলা যায় না, ভাল বাংলাতে এইরকম জায়গাকেই বলে ঊষর প্রান্তর। রাস্তাটা অবশ্য বেশ...

০২. বড় দরজাটা দিয়ে ঢোকার পর

বড় দরজাটা দিয়ে ঢোকার পর দেখা গেল, দুপাশে বিশাল উঁচু দেওয়াল, তার মাঝখান দিয়ে সিঁড়ি। পাহাড়টা কেটে-কেটে দুর্গ বানানো হয়েছে, কিন্তু দূর থেকে শুধু পাহাড় বলেই মনে হয়। পাহাড়ের ওপরটা পর্যন্ত ঘুরে আসতে কতক্ষণ লাগবে? বড়জোর এক ঘন্টা। জোজো বলল, চল সন্তু, যাবি? সন্তু কাকাবাবুর...

০৩. সন্তু চোখ মেলে দেখল

সন্তু চোখ মেলে দেখল, তার পাশে জোজো গভীরভাবে ঘুমিয়ে আছে। আলোয় ভরে গেছে ঘর। এখন কটা বাজে কে জানে? রোদুরের রং দেখে মনে হয়, বেশ বেলা হয়েছে। রঞ্জন আগের রাত্রেই বলে রেখেছিল, আজ সে অনেক দেরি করে উঠবে। কোনও তাড়া তো নেই। জোজোকে না ডেকে সন্তু বাইরে বেরিয়ে এল। দোতলায় আর কোনও...

০৪. চোখ মেলার পর

চোখ মেলার পর সন্তু দেখতে পেল আকাশে কয়েকটা তারা ঝিকমিক করছে। চারপাশে জমাট বাঁধা অন্ধকার। দু-এক মিনিট সন্তু আকাশের দিকেই তাকিয়ে রইল। সে যে কোথায় শুয়ে আছে তা নিয়ে চিন্তাও করল না। একটু-একটু করে ঘুমের ঘোর কেটে তার মাথাটা পরিষ্কার হতে লাগল। সে চিত হয়ে শুয়ে আছে। পাশের দিকে...

০৫. অন্ধকার সিঁড়ি দিয়ে কেউ নামছে

অন্ধকার সিঁড়ি দিয়ে কেউ নামছে। ক্ষীণ একটা আলোর রেখা এসে পড়ল। পায়ের আওয়াজ শুনে মনে হচ্ছে, একজন নয়, অনেকে আসূছে। রিঙ্কু একেবারে কোণের দিকে সরে গিয়ে দাঁড়াল। ঘরটা যে মাটির নীচে তা রিঙ্কু আগেই বুঝতে পেরেছিল। মোটা পাথরের দেওয়াল, কোনওদিক দিয়েই আলো আসে না। দেওয়ালগুলো...

০৬. মোহন সিং কাকাবাবুকে নিয়ে গেল

মোহন সিং কাকাবাবুকে নিয়ে গেল শর্মাজির সঙ্গে দেখা করাতে। অন্য একটা তাঁবুতে কাকাবাবুকে বসিয়ে বিনীতভাবে বলল, আপনি একটু আরাম করুন রায়চৌধুরী সাব, আমি শর্মাজিকে খবর দিচ্ছি। সকাল থেকে ওঁর শরীরটা আবার খারাপ যাচ্ছে। কাকাবাবু শান্তগলায় বললেন, অত বুড়ো মানুষকে তোমরা এখানে নিয়ে...

০৭. রিঙ্কুকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে

রিঙ্কুকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে সেই মাটির নীচের ঘরটায়। সেখানে অবশ্য এখন মোম জ্বলছে। সেই মোমের পাশে চুপটি করে বসে আছে জানকী। তার অবশ্য মুখ আর হাত-পায়ের বাঁধন এখন খোলা। জানকীকে দেখে রিঙ্কুর একটু লজ্জা করল। সে মুখটা ফিরিয়ে রইল অন্যদিকে। জানকী শান্ত গলায় বলল, এসো বহিন! আমি...

০৮. ত্রিশূলটা সন্তুর হাতে

ত্রিশূলটা সন্তুর হাতে দিয়ে কাকাবাবু টর্চ নিয়ে এগোচ্ছেন সামনে-সামনে। তাঁর পেছনে সন্তু। তারপর জোজো। বিরজু সিং জোজোর চুলের মুঠি ধরে আছে এক হাতে, অন্য হাতে রিভলভারটা রেডি রেখেছে। সিঁড়িটা শুধু যে সরু তাই নয়, মাঝে-মাঝে দু-একটা ধাপ একেবারে ভাঙা। কাকাবাবু একটা ক্রাচ বাড়িয়ে...