জঙ্গলের মধ্যে এক হোটেল (১৯৮৭)

জঙ্গলের মধ্যে এক হোটেল (১৯৮৭) । কাকাবাবু সমগ্র । সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

০১. সন্তুকে ছোট্ট একটা ধাক্কা

সন্তুকে ছোট্ট একটা ধাক্কা দিয়ে কাকাবাবু বললেন, এই, তুই ঘুমোচ্ছিস? দ্যাখ, দ্যাখ, আমরা এসে গেছি। সন্তু চোখ মেলে তাকিয়ে একটুক্ষণ ভ্যাবাচ্যাক খেয়ে গেল। কয়েক মুহূর্তের জন্য তার মনেই পড়ল না, সে কোথায় রয়েছে। সে সত্যিই ঘুমিয়ে পড়েছিল, একটা স্বপ্ন দেখছিল। সে যেন ফিরে গেছে...

০২. অমল আর মঞ্জু

বিকেল চারটের সময় অমল আর মঞ্জু এসে উপস্থিত। কাকাবাবু একটু আগে ঘুমিয়ে পড়েছেন, আর সন্তু বসে-বসে ত্ৰৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের ভূতের গল্প পড়ছে, এখানে সে ওই একটা বইই সঙ্গে এনেছে। দুপুরে ওরা হোটেল থেকে বেরিয়ে কাছাকাছি একটা রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে নিয়েছিল। জেব্রা-জিরাফের মাংস নয়,...

০৩. হোটেলের রিসেপশান থেকে ফোন

ঠিক সাড়ে ছটায় হোটেলের রিসেপশান থেকে ফোন এল। অশোক দেশাই দেখা করতে এসেছেন। তিনি ওপরে আসতে চান। সন্তু দরজা খুলে দিল। সেই মাইক নামের ছেলেটি অশোক দেশাইকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে। আরও একজন লোক রয়েছে অশোক দেশাইয়ের সঙ্গে। ইনি একজন আফ্রিকান, পাক্কা সাহেবি পোশাক পরা। অশোক দেশাইয়ের...

০৪. প্লেনটা বেশ ছোট

প্লেনটা বেশ ছোট। ফকার ফ্রেন্ডশিপ, কুড়ি-বাইশজন যাত্রীর বসবার ব্যবস্থা। এখন যাত্রী মাত্র পাঁচজন। সন্তু আর কাকাবাবু ছাড়া একজোড়া শ্বেতাঙ্গ দম্পতি, আর একজন বুড়োমতন সাহেব একেবারে সামনের দিকে বসে আছে। পাইলটের ঘরেও একজন মাত্র সঙ্গী, সেই লোকটিই একবার বেরিয়ে এসে সবাইকে একটা করে...

০৫. মাসাইমারার রাত্তির

মাসাইমারার রাত্তির যে এত লম্বা হবে, সে সম্পর্কে কাকাবাবুরও কোনও ধারণা ছিল না। সূর্যের আলো ফুরিয়ে যাবার এক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের তাঁবুতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকে আর বেরোনো নিষেধ। তখন বাজে মাত্র আটটা। রাত্তিরের ডিনার দেওয়া হয়েছিল বড় তাঁবুটার মধ্যে। তারপর প্রত্যেক...

০৬. সকালবেলা ব্রেকফাস্ট টেবিলে

সকালবেলা ব্রেকফাস্ট টেবিলে ভাল করে আলাপ হল লিটল ভাইসরয় হোটেলের মালিক পিয়ের লাফর্গের সঙ্গে। বৃদ্ধটি আজও প্রথম দিকে গোমড়া-মুখো ছিলেন। কিন্তু কাকাবাবু তাঁর সঙ্গে ভাব জমাবার চেষ্টায় অনবরত হোটেলটার প্রশংসা করে যেতে লাগলেন। একসময় বৃদ্ধটি ঝাঁঝের সঙ্গে বলে উঠলেন, ওহে।...

০৭. গণ্ডারটা দাঁড়িয়ে আছে

গণ্ডারটা দাঁড়িয়ে আছে একটা ছোট্ট টিলার ওপরে। তার পেছন দিকে দেখা যাচ্ছে শুধু আকাশ। গণ্ডারটা এমন স্থির হয়ে রয়েছে, যেন মনে হয় একটা পাথরের মূর্তি। ম্যানেজার ফিলিপ তাদের গণ্ডার দেখাবার ছল করে এতদূর নিয়ে এসেছিল, এবারে সত্যি-সত্যি সেই গণ্ডার নিজে থেকেই দেখা দিল। কাকাবাবু...

০৮. মাসাইদের পুরো গ্রাম

মাসাইদের পুরো গ্রামটাই গোল করে উঁচু বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। তার মধ্যে ছোট-ছোট আলাদা কুঁড়ে ঘর। একটি মাত্র ছোট দরজা দিয়ে সেই গ্রামে ঢোকা যায়। লম্বা মাচার ওপরে পালা করে পুরুষেরা পাহারা দেয় সারা রাত। রাতের অন্ধকারে কোনও হিংস্ৰ জন্তু-জানোয়ারের এখানে ঢুকে পড়ার উপায় নেই।...