কাকাবাবু হেরে গেলেন? (১৯৯২)

কাকাবাবু হেরে গেলেন? - কাকাবাবু ও সন্তু - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

০১. গাড়ির দরজাটা বন্ধ হওয়ার পর

গাড়ির দরজাটা বন্ধ হওয়ার পর কাকাবাবু জানলার কাচ খুলে একবার ওপর দিকে তাকালেন। দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে সন্তু। মনখারাপের ভাবটা সে কিছুতেই লুকোতে পারছে না। কাকাবাবু বাইরে যাচ্ছেন, কিন্তু এবার সঙ্গে যেতে পারছে না সন্তু। কিছুতেই সম্ভব নয়। পরশু থেকে তার পরীক্ষা আরম্ভ।...

০২. সেই বিশাল প্রাসাদ

গাড়িটা একটা বাঁক ঘুরতেই দেখা গেল সেই বিশাল প্রাসাদ। রোদ্র নেই বলে বিকেলবেলাতেই সন্ধে-সন্ধে ভাব। সেই ম্লান আলোয় বাড়িটাকে মনে হয় আকাশ জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিক থেকে আর একদিকের যেন শেষ নেই। কাকাবাবু মহাবিস্ময়ের সঙ্গে বলে উঠলেন, এত বড় বাড়ি, আমি যে আগে ধারণাই করতে পারিনি।...

০৩. রাত্তিরে খাওয়ার আগে

রাত্তিরে খাওয়ার আগে বারান্দায় কয়েকখানা চেয়ার পেতে নানারকম গল্প হল অনেকক্ষণ। এ-দিকের কয়েকটা ঘরে ইলেকট্রিকের আলো থাকলেও নিভে গেল একটু বাদেই। গ্রামের দিকে লোডশেডিং হয় শহরের চেয়েও বেশি। এক-এক সময় দু-তিনদিন একটানা কারেন্ট থাকে না। দীপা বলল, এই রে, সারারাত অন্ধকারে থাকতে...

০৪. সকালবেলা চায়ের পাট

সকালবেলা চায়ের পাট শেষ করার পর বিমান বলল, চলুন, এবার আপনাদের সারা বাড়িটা ঘুরিয়ে দেখানো যাক। প্রথমে কোনদিকে যাবেন? নীচের তলা থেকে শুরু করব? অসিত বলল, না, না, আগে ছাদের ঘরটা দেখব। ওই ঘরটা সম্পর্কে এমন গল্প বলেছেন যে, কৌতূহলে ছটপট করছি। দীপা বলল, সেই ভাল। আগে ছাদটা ঘুরে...

০৫. সকালের আলো

জানলা দিয়ে এসে পড়েছে সকালের আলো। কাছেই ডেকে চলেছে একটা চিল। অনেক দূরে কারা যেন কথা বলছে। খুব মিষ্টি এক ঝলক বাতাসের স্পর্শে কাকাবাবু চোখ মেলে তাকালেন। প্রথমে তিনি বুঝতেই পারলেন না, এটা কোন দিন। তিনি কতক্ষণ শুয়ে আছেন। মাথাটা ভারী মনে হতেই হাত দিয়ে দেখলেন অনেকখানি...

০৬. কলকাতায় ফেরার পথে

পরদিন কলকাতায় ফেরার পথে কাকাবাবুর একটু-একটু জ্বর হল। বিমান আর দীপা বেশ চিন্তায় পড়ে গেল। মাথায় আর পায়ে চোট লাগার পর প্রথম দুদিন জ্বর আসেনি, এখন হঠাৎ জ্বর হল কেন? সেপটিক-টেপটিক হয়নি তো! কাকাবাবু বললেন, না, না, চিন্তার কিছু নেই। ছাদের ঘরটা যখন ভাঙা হচ্ছিল, তখন প্রচুর...

০৭. এলগিন রোডে

সকাল আটটা থেকে এলগিন রোডে অসিত ধরের বাড়ির উলটো দিকের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে আছে সন্তু। কাকাবাবু আসেননি, বাড়ির নাম্বার আর অসিত ধরের চেহারার একটা নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে দিয়েছিলেন। প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট কেটে গেল, তবু অসিত ধরের দেখা নেই। এমনিতে সন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা হাঁটতে পারে,...

০৮. এয়ারপোর্টে

কাকাবাবু সন্তুর প্রথম ফোন পাওয়ার পরই বেরিয়ে গিয়েছিলেন, দুপুরে আর বাড়িতে আসেননি। ফিরলেন প্রায় রাত আটটার সময়। সারা দিনের রিপোর্ট দেওয়ার জন্য সন্তু ছটফট করছিল। কাকাবাবু না ফিরলে সে বাড়ি থেকে বেরোতে পারছিল না। একবার শুধু দৌড়ে গিয়ে ছবিগুলো নিয়ে এসেছে। অনেকগুলো ছবিই উঠেছে...