কাকাবাবু বনাম চোরাশিকারি (১৯৯৫)

কাকাবাবু বনাম চোরাশিকারি – কাকাবাবু ও সন্তু সিরিজ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

০১. ঝিঁঝির ডাক

এমন ঝিঁঝির ডাক যে, কানে যেন তালা লেগে যায়। রাত্তিরবেলার জঙ্গল। খুব নিস্তব্ধ হয় বলেই তো সবাই জানে। কিন্তু রাত্তিরেও যে জঙ্গলের কোথাও-কোথাও এত ঝিঁঝি ডাকে, তা সন্তুর জানা ছিল না। জঙ্গল একেবারে মিশমিশে অন্ধকারও নয়। আকাশে একটু-একটু জ্যোৎস্না আছে। মাঝে-মাঝে পাতলা সাদা মেঘ...

০২. তেজপুর শহরের একটু বাইরে

তেজপুর শহরের একটু বাইরে, ছোট্ট একটা টিলার ওপর সুন্দর সাদা রঙের একটি দোতলা বাড়ি। সামনে গোলাপ ফুলের বাগান, কিন্তু পাঁচিল-টাচিল নেই। বারান্দায় বসলে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়। বাগানেই বেতের টেবিল ও কয়েকখানা চেয়ার পেতে চায়ের ব্যবস্থা হয়েছে। সকালবেলায় রোদুর মিঠে লাগছে খুব।...

০৩. বিকেলের দিকে বাতাস

বিকেলের দিকে বাতাস এমন ঠাণ্ডা হয়ে গেল যে, বাগানে আর বসা যায় না। ডাকবাংলোর তিন দিকে রয়েছে চওড়া ঢাকা বারান্দা। সেখানে চাদরমুড়ি দিয়ে গুটিসুটি মেরে চেয়ারে বসেছে সন্তু আর জোজো। কাকাবাবু ওভারকোট পরে নিয়েছেন। একবার চা, একবার কফি পান করা হয়ে গেছে। জোজো গল্প বলে যাচ্ছে অনবরত।...

০৪. মিহিমুখ নামে একটা জায়গা

মিহিমুখ নামে একটা জায়গা থেকে হাতি নিতে হয়। এখনও ভোরের আলো পুরোপুরি ফোটেনি। আকাশের একদিক অন্ধকার, একদিক একটু লালচে-লালচে। শেষরাতে উঠে ব্ৰহ্মপুত্র নদ পেরিয়ে আসতে চমৎকার লেগেছে, কিন্তু শীত বড্ড বেশি। সন্তু আর জোজো সোয়েটারের ওপর কোট, গলায় মাফলার, হাতে গ্লাভস পরে তৈরি হয়ে...

০৫. বাংলোর দুখানা ঘরের মধ্যে

বাংলোর দুখানা ঘরের মধ্যে কাকাবাবুর ঘরটাই বেশি বড়। এক দিকে খাট ও লেখাপড়ার জন্য টেবিল-চেয়ার, অন্য দিকে কয়েকটি সোফা পাতা রয়েছে। খাটের দু পাশে বড় দুটি বাতিদান। কাকাবাবুর সঙ্গে সবাই চলে এল এ-ঘরে। দেবেন্দ্র বড়ঠাকুর বললেন, অন্যরা পাশের ঘরে গল্প করুক বরং, আমি আর রাজ সিং আপনার...

০৬. রাত্তিরবেলা ঘরে যে-কোনও শব্দ

রাত্তিরবেলা ঘরে যে-কোনও শব্দ হলেই কাকাবাবুর ঘুম ভেঙে যায়। প্রথমে তিনি বুঝতে পারলেন না শব্দটা কীসের। তারপর আবার সামান্য ক্যাঁচ করে শব্দ হল। দরজাটা খুলে যাচ্ছে। চাবি দিয়ে কেউ দরজাটা খুলেছে। বালিশের নীচে রিভলভার রাখা কাকাবাবুর বরাবরের অভ্যেস। সেটা বার করে কাকাবাবু উঠে...

০৭. বুকের মাঝখানে আর ঘাড়ের কাছে

বুকের মাঝখানে আর ঘাড়ের কাছে চুরুট দিয়ে পোড়ানো দুটো জায়গায় জ্বালা করছে খুব! পেটের কাছে একটা জায়গায় চুলকোচ্ছে। কাকাবাবু ভাবলেন, এখনই কী, এর পর যখন পিঁপড়েরা আসবে, তখনই আসল যন্ত্রণা শুরু হবে। সামান্য একটা পিঁপড়েকেও মারার উপায় নেই তাঁর এখন। কতক্ষণ এইভাবে থাকতে হবে? তিনি...

০৮. তেজপুর থেকে শিলচরে

তেজপুর থেকে শিলচরে চলে আসার পর কেটে গেল সাতটা দিন। এর মধ্যে কাকাবাবু আর সার্কিট হাউস থেকে বেরোলেনই না। শুধু বিছানায় শুয়ে-শুয়ে বিশ্রাম। এর মধ্যে সন্তু আর জোজো বেড়িয়ে এল দুটো চা বাগানে। সেখানে তাদের খাতির যত্ন করে খুব খাওয়ানো-দাওয়ানো হয়েছে। চা-বাগানের আতিথেয়তা খুব...

০৯. গভীর জঙ্গলে বড় ঝিলটার কাছে

গভীর জঙ্গলে বড় ঝিলটার কাছে কাকাবাবুরা সদলবলে পৌঁছে গেলেন দুপুরের একটু পরেই। চারটে বড় গাছে মাচা বাঁধা হয়েছে। অন্য গাছের ডাল। কেটে সেই মাচাগুলোর সামনে এমনভাবে ঢেকে দেওয়া হয়েছে যে, তলা থেকে কেউ কিছু বুঝতেই পারবে না। কাছাকাছি অন্য ঝিলগুলো শুকিয়ে ফেলা হয়েছে বলে এই দিনের...

১০. বড়ঠাকুরের গাড়ি খারাপ

বড়ঠাকুরের গাড়ি খারাপ, ইচ্ছে থাকলেও তাঁরা কাকাবাবুকে অনুসরণ করতে পারলেন না। কাকাবাবু চলে গেলেন অনেক দূরে। গভীর অরণ্যের মধ্যে ঘুরতে-ঘুরতে তিনি চিল্কার করতে লাগলেন, টিকেন্দ্রজিৎ! টিকেন্দ্রজিৎ! যদি সাহস থাকে সামনে এসো! আমি একলা আছি, ভিতুর মতন লুকিয়ে থেকো না! জঙ্গলের...