কাকাবাবু ও ব্ল্যাক প্যান্থার (২০০৩)

কাকাবাবু ও ব্ল্যাক প্যান্থার - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

০১. সদর দরজা খুলে দিয়ে সন্তু দেখল

সদর দরজা খুলে দিয়ে সন্তু দেখল, বাইরে একটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। তারই সমবয়েসি। জিন্স আর হলুদ টি-শার্ট পরা। খুব ফরসা রং, মাথার চুল পাট করে আঁচড়ানো। কাঁধে একটা ব্যাগ ঝুলছে। প্রথম দেখেই সন্তুর মনে হল, এ কলকাতার ছেলে নয়। কেন এরকম মনে হয়, তা ব্যাখ্যা করা যায় না। তার মুখের ভাবে...

০২. পুরু এ বাড়িতেই থেকে গেছে

পুরু এ বাড়িতেই থেকে গেছে। সন্তুর কাছে সে ভাল করে বাংলা শিখবে। পুরু কোনওদিন ট্রামে চাপেনি। ভিড়ের বাস দেখলে সে আঁতকে ওঠে। রাস্তা পার হওয়ার সময় সে সন্তুর হাত চেপে ধরে থাকে। সন্তু জিজ্ঞেস করে, তোমাদের দেশেও তো অনেক গাড়ি। সেখানে রাস্তা পার হও কী করে? পুরু হাসে। রাস্তায় সে...

০৩. নিউ জলপাইগুঁড়ি স্টেশনে ট্রেন পৌঁছল

নিউ জলপাইগুঁড়ি স্টেশনে ট্রেন পৌঁছল সকালবেলা। কলকাতার তুলনায় এখানে শীত একটু বেশি। মেঘ নেই, ঝকঝক করছে নীল আকাশ। স্টেশনের বাইরে এসে গৌতমকাকু জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে বললেন, বাঃ, এখানকার বাতাস অনেক টাটকা। পলিউশান ফ্রি! পুরু বলল, ড্যাড, টুমি ইংরাজি বলছ? গৌতমকাকু বললেন, ওঃ হো।...

০৪. বড় রাস্তা ছেড়ে জঙ্গলে ঢোকার পর

বড় রাস্তা ছেড়ে জঙ্গলে ঢোকার পর এঁকেবেঁকে অনেকখানি গিয়ে তারপর চোখে পড়ল চাপড়ামারি বনবাংলো। বিকেল প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, পড়ন্ত রোদ্দুরে একটু-একটু লালচে দেখাচ্ছে গাছের পাতা। একসঙ্গে অনেক পাখি ডাকছে। ওরা ঘুমোতে যাওয়ার আগে প্রাণভরে ডেকে নেয়। দূরে শোনা গেল একটা ময়ূরের ডাক।...

০৫. সবারই ঘুম ভাঙল অনেক দেরিতে

সবারই ঘুম ভাঙল অনেক দেরিতে। রাত প্রায় দুটো পর্যন্ত জেগে দেখা হয়েছে জঙ্গলের রাত্রির দৃশ্য। বাঘটার ডাকই শোনা গেছে কয়েকবার। কিন্তু সার্চলাইট ফেলেও সেটাকে দেখা যায়নি। কাকাবাবুর অবশ্য ধারণা, বাঘ একটা নয়, দুটো। ওরা হাতির পাল দেখে রেগে রেগে ডাকছিল। হাতিদের জন্যই জল খেতে আসতে...

০৬. বিয়েবাড়ির উৎসবের মধ্যে

বিয়েবাড়ির উৎসবের মধ্যেও জোজোর একেবারে মন টিকছে না। একটা মস্ত বড় বাড়িতে একসঙ্গে দুটো বিয়ে হচ্ছে। একতলায় অন্য দল, জোজোর মাসির বিয়ে দোতলায়। জোজোর ওপরে দায়িত্ব পড়েছে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে শুধু তাদের অতিথিদের দোতলার সিঁড়ি দেখিয়ে দেওয়া। দুদিকে দুটো গেট, সিঁড়িও আলাদা। ফুল দিয়ে...

০৭. জিপগাড়িতে ওঠার পর

জিপগাড়িতে ওঠার পর কাকাবাবু আর গৌতমকাকুর চোখ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কাকাবাবু গৌতমকাকুকে বললেন, বাধা দিয়ো না। দ্যাখোই না কী হয়। ভয়ের কিছু নেই। গৌতমকাকু বললেন, আমি মোটেই ভয় পাইনি। তুই তো সঙ্গে আছিস! কাকাবাবু মুখ ফিরিয়ে বললেন, মিস্টার শঙ্কর রায়বর্মন, আপনাকে দু-একটা প্রশ্ন...

০৮. পুলিশ মহলে হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে

পুলিশ মহলে হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যেমন ভাবেই হোক, কাকাবাবু আর তার বন্ধুকে উদ্ধার করতেই হবে। কিন্তু ওঁদের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তাও দেখতে হবে। কলকাতা থেকে অনেক বড় বড় পুলিশ অফিসার এসে গেছেন। ঘন ঘন মিটিং বসছে। জঙ্গলের মধ্যে শঙ্কর...

০৯. দুপুরবেলা খেতে দেওয়া হল

দুপুরবেলা খেতে দেওয়া হল দুখানা করে মোটাসোটা রুটি, আর খানিকটা বেগুন পোড়া। গৌতমকাকু বললেন, এরা কি রোজ নিরামিষ খায়? চেহারাগুলো তো ভালই দেখছি। কাকাবাবু বললেন, নিজেরা মাছ-মাংস খায় বোধ হয়। আমরা তো বন্দি, আমাদের তা দেবে কেন? গৌতমকাকু বললেন, নিরামিষ খাওয়া অবশ্য ভালই। বেগুন...

১০. কাকাবাবু জঙ্গলের রাস্তাও চেনেন না

কাকাবাবু জঙ্গলের রাস্তাও চেনেন না, এখন আর কিছু দেখাও যাচ্ছে না। তবু কাকাবাবু এলোমেলোভাবে গাড়ি চালিয়ে জায়গাটা থেকে সরে যেতে চাইলেন। খানিক বাদে জিপটা থামিয়ে কান পেতে শুনলেন। পেছনে কোনও শব্দ নেই, কেউ তাড়া করে আসছে না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, গৌতম, কী দেখলি? লোকটা বেঁচে আছে?...