কাকাবাবু ও চন্দনদস্যু (১৯৯৯)

কাকাবাবু ও চন্দনদস্যু - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

০১. বই পড়তে পড়তে

বই পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে একটু ঘুমিয়ে নেওয়া কাকাবাবুর অভ্যেস। একটানা বেশিক্ষণ পড়তে পারেন না। বড়জোর আধঘণ্টা পড়ার পর চোখ বুজে যায়। দশ-পনেরো মিনিট সেই অবস্থায় থাকেন, কখনও সখনও একটু একটু নাকও ডাকে। তারপর আবার পড়া শুরু হয়। তাতে নাকি তাঁর আরাম হয় চোখের। এক-একদিন সারারাত ধরে...

০২. কালিকটের প্লেন

কালিকটের প্লেন মুম্বই থেকে সকাল সাড়ে আটটায় ছাড়ে। কলকাতা থেকে ভোরের প্লেনে এলেও সেটা ধরা যায় না। তাই মুম্বই যেতে হল আগের দিন রাত্তিরে। ওখানে কাকাবাবুর চেনাশুনো অনেক মানুষ আছে। কিন্তু কারও বাড়িতে উঠলেই সে অন্তত দু-তিনদিন ধরে রাখতে চাইবে। কিছুতেই পরের দিন যেতে পারবেন না।...

০৩. অমলই পৌঁছে দিয়ে গেল এয়ারপোর্টে

সকালবেলা অমলই পৌঁছে দিয়ে গেল এয়ারপোর্টে। প্লেন ছাড়ল ঠিক সময়ে। জোজো জানলার ধারে বসেছে। তারপর সন্তু, একপাশে কাকাবাবু। সন্তু ফিসফিস করে বলল, কাকাবাবু, সেই বড় জুলপিওয়ালা লোকটাও এই প্লেনে উঠেছে। জোজো বলল, কোথায়? কোথায়? সন্তু বলল, আমাদের পেছনে, দুটো সারি পরে। কাকাবাবু...

০৪. খাবারের তালিকা দেখে

খাবারের তালিকা দেখে জোজো খুব নিরাশ হয়ে গেল। চিংড়ি মাছ তো নেই-ই, কোনওরকম মাছ-মাংসই পাওয়া যাবে না। এই হোটেলে সবই নিরামিষ। ইডলি, বোসা, সম্বর এইসব, ভাতও আছে। কাকাবাবু বললেন, এবেলা এইসবই খেয়ে দেখা যাক। বাইরে অনেক রেস্তরাঁ আছে। রাত্তিরে সেরকম কোনও জায়গা থেকে খেয়ে এলেই হবে।...

০৫. সন্ধের পর সত্যিই গরম

সন্ধের পর সত্যিই গরম অনেক কমে গেল। বৃষ্টি একেবারে থামেনি, মাঝে মাঝেই পড়ছে। আটটা বাজার পর ওঁরা হোটেল থেকে বেরিয়ে পড়লেন। অ্যান্টনি জিজ্ঞেস করল, সার, একটা চার্চ দেখতে যাবেন? একটু দূরে একটা ভাল চার্চ আছে। কাকাবাবু বললেন, চার্চ কাল দেখব। একবার চলো তো বন্দরটা দেখে আসি।...

০৬. সিঁড়ি দিয়ে নামতে হল নীচে

সিঁড়ি দিয়ে নামতে হল নীচে। প্রসাদ তাঁর ঘাড়ে রিভলভারটা ঠেকিয়ে আছে। কাকাবাবু বললেন, রিভলভারটা সরাও। অত কিছুর দরকার নেই। আমি খোঁড়া মানুষ, আমি কি দৌড়ে পালাতে পারব নাকি? প্রসাদ বলল, শাট আপ! কাকাবাবু বললেন, তুমি বুঝি আর কোনও ইংরিজি কথা জানো না? প্রসাদ কাকাবাবুকে এমন একটা...

০৭. সারাদিনে আর কোনও খাবার দিল না

সত্যিই, সারাদিনে আর কোনও খাবার দিল না। বেচারি জোজো খিদের জ্বালায় কাহিল। উপুড় হয়ে শুয়ে আছে আর মাঝে মাঝে উঃ-উঃ করছে। কাকাবাবু বসে আছেন এক দিকের দেওয়ালে ঠেসান দিয়ে। চোখ বোজা। সন্তু দাঁড়িয়ে আছে জানলার কাছে। গান গাইছে গুনগুন করে। জোজো উঠে গিয়ে বাথরুমের কলে জল খেয়ে এল। এই...

০৮. সকালবেলার খাবারও বেশ লোভনীয়

সকালবেলার খাবারও বেশ লোভনীয়। হাতে-গড়া রুটি, কলা, ডিম সেদ্ধ আর কফি। হাত-মুখ ধুয়ে, সেসব খেয়ে তিনজনেই বাইরে এসে দাঁড়াল, কাছাকাছি কোনও পাহারাদার নেই। এবার জায়গাটা ভাল করে দেখা গেল। চারপাশে বড় বড় গাছের ঘন জঙ্গল, মাঝখানে খানিকটা ফাঁকা জায়গা। যেঘরটায় কাকাবাবুরা রাত কাটালেন,...

০৯. চালাঘরটায় ফিরে এসে

চালাঘরটায় ফিরে এসে কাকাবাবু দেখলেন, সন্তু আর জোজো বসে বসে একবাটি করে ক্ষীর খাচ্ছে। কাকাবাবু বললেন, এ আবার কোথায় পেলি? জোজো বলল, কুলসম দিয়ে গেল। খুব ভাল মেয়ে। আপনার জন্যও নিয়ে আসবে। কাকাবাবু বললেন, কুলসুমকে আমিও দেখেছি। দেখলেই মনে হয়, মেয়েটির বেশ দয়ামায়া আছে। হাঁ রে...

১০. জোজো আর সন্তু বসে ছিল

জোজো আর সন্তু বসে ছিল জঙ্গলের মধ্যে ছোট নদীটার ধারে। ছোট ছোট মাছ আছে নদীতে, মাঝে মাঝে ঝিলিক দিয়ে যাচ্ছে। জোজো জলে হাত ড়ুবিয়ে সেই মাছ ধরার চেষ্টা করছে, একটাও ধরা যাচ্ছে। এক সময় সে জিজ্ঞেস করল, হ্যাঁ রে সন্তু, এখনও কি কেউ ঝোপের আড়ালে বসে আমাদের ওপর নজর রাখছে? সন্তু বলল,...

১১. একটা গাছের তলায় শুয়ে ছিলেন

একটা গাছের তলায় শুয়ে ছিলেন কাকাবাবু। ফুরফুরে হাওয়া, নানারকম পাখির ডাক। ওপরের আকাশ দেখতে দেখতে কাকাবাবুর ঘুম এসে গেল। খানিক বাদে ভুড়ু এসে ডাকল তাঁকে। কাকাবাবু ধড়মড় করে উঠে বসতেই ভুড়ু বলল, আমার সঙ্গে আসুন, একটা মজার জিনিস দেখাব। কাকাবাবু ভুড়ুর সঙ্গে হাঁটতে লাগলেন। দুটো...

১২. মুম্বইয়ে অমলের ফ্ল্যাটে

মুম্বইয়ে অমলের ফ্ল্যাটে সকাল থেকে আড্ডা জমেছে খুব। চা খাওয়া হয়েছে। দুবার, এখন অমল লুচি ভাজছে। টেবিলের ওপর অনেক খবরের কাগজ ছড়ানো। জোজো একটা কাগজ দেখতে দেখতে বলল, কাকাবাবু, সব খবরের কাগজেই বিক্রম ওসমানের খবর আর ছবি ছাপা হয়েছে। আপনার ছবি কোথাও বেরোয়নি কেন? কাকাবাবু...