কাকাবাবু ও একটি সাদা ঘোড়া (২০০৬)

কাকাবাবু ও একটি সাদা ঘোড়া (২০০৬) – কাকাবাবু ও সন্তু সমগ্র - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

০১. জোজো ভুরু কুঁচকে বলল

জোজো ভুরু কুঁচকে বলল, এই বাড়িটায় এক হাজারটা ঘর আছে? যাঃ, বাজে কথা! সন্তু বলল, তুই গুনে দ্যাখ!জোজো বলল, শুধু শুধু কষ্ট করে। গুনতে যাব কেন? দেখেই তো বোঝা যাচ্ছে। আমাদের কলকাতায় এক-একটা বিশাল বিশাল মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিং-এ কত ঘর থাকে! বড়জোর আড়াইশোতিনশো! এ-বাড়িটা মোটেই...

০২. হোটেলটির নাম রত্নমঞ্জুষা

হোটেলটির নাম রত্নমঞ্জুষা। একেবারে নতুন। তেমন বড় নয়, দোতলা একতলা মিলিয়ে বারোটি ঘর। সামনে ও পিছনে অনেকখানি বাগান। সামনের বাগানে একটা ফোয়ারা রয়েছে, সন্ধের পর সেখানে অনেকরকম জলের ধারা বেরোয়। সব মিলিয়ে দেখতে বেশ সুন্দর। কাকাবাবুর একটা মিটিং ছিল বহরমপুরে। সেখানে তাঁর জন্য...

০৩. তিনটি স্থানীয় ছেলেমেয়ে

সকালবেলা প্রথমে কাকাবাবুর সঙ্গে দেখা করতে এল তিনটি স্থানীয় ছেলেমেয়ে। এরা একটা ক্লাবের সদস্য, ওদের নাম রাজীব, নাসের আর এলা। নাসেরকে কাকাবাবুর একটু চেনাচেনা মনে হল। বোধহয় আগে কোথাও দেখেছেন। ব্রেকফাস্ট খাওয়া হয়ে গিয়েছে। জোজো আর সন্তু জামা-প্যান্ট পরে বাইরে যাওয়ার জন্য...

০৪. প্রত্যেকদিন কাকাবাবুই আগে জেগে ওঠেন

প্রত্যেকদিন কাকাবাবুই আগে জেগে ওঠেন। আজ সন্তু আর জোজো সকালবেলা বাইরে বেরিয়ে দেখল, কাকাবাবুর ঘরের দরজা বন্ধ। কচুরি আর জিলিপি কিনতে বেরিয়ে গেল দুজনে। দোকানটা একটু দূরে, সেখানে গরম গরম জিলিপি ভাজা হচ্ছে। দোকানেই বসে ওরা খেয়ে নিল ভাল করে, তারপর কাকাবাবুর জন্যে কিনে নিয়ে...

০৫. কাকাবাবুর জ্ঞান ফিরলে

কাকাবাবুর জ্ঞান ফিরলেও ঘোর কাটতে খানিকটা সময় লাগল। প্রথমে তিনি ভাবলেন, এটা হোটেলের ঘর, না কোন ঘর? খাটটা অনেক বড়। হোটেলের ঘরের দেওয়ালে গঙ্গার একটা বাঁধানো ছবি ছিল। এ ঘরের কোনও দেওয়ালে কোনও ছবি নেই। তারপর তিনি দেখলেন, তিনি তার ডোরাকাটা স্লিপিং সুটটাই পরে আছেন। এই পোশাক...