কাকাবাবু ও আশ্চর্য দ্বীপ (২০০৪)

কাকাবাবু ও আশ্চর্য দ্বীপ - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

০১. কাকাবাবু বললেন, আঃ, কী আরাম

দুহাত ছড়িয়ে কাকাবাবু বললেন, আঃ, কী আরাম! চোখ একেবারে জুড়িয়ে গেল। মাথার মধ্যেও কী শান্তি। জানিস সন্তু, এমন সুন্দর দৃশ্যও তেমন ভাল লাগে, যদি মনের মধ্যে কোনও দুশ্চিন্তা থাকে। এবারে সব ঝামেলা চুকে গেছে, আর কোথাও দৌড়োদৌড়ি করতে হবে না! সন্তুও মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে সামনের...

০২. অধ্যাপক ভার্গবের বাড়ি

অধ্যাপক ভার্গবের বাড়িটি একটি টিলার ওপরে। এখান থেকেও সমুদ্র দেখা যায়। বাড়ির সামনে অনেকখানি বাগান, গেটের সামনে দুজন বন্ধুকধারী গার্ড। একবার অধ্যাপক ভার্গবের ওপর গুন্ডারা হামলা করেছিল। তারপর থেকেই এরকম পাহারার ব্যবস্থা হয়েছে। কাকাবাবুদের গাড়িটা থামতেই একজন গার্ড এগিয়ে এল...

০৩. ঋষিকোণ্ডায় যে গেস্ট হাউজ

ঋষিকোণ্ডায় যে গেস্ট হাউজে নরেন্দ্র ভার্মা থাকার ব্যবস্থা করেছেন, তার কাছাকাছি আর কোনও বাড়ি নেই। বেলাভূমি একেবারে ফাঁকা। সমুদ্র আর আকাশ ছাড়া এখানে আর কিছু নেই। া, কিছু সি-গাল পাখি আছে। এখানে বালির রং হলুদ, আকাশ আর সমুদ্র গাঢ় নীল, আর পাখিগুলো ধপধপে সাদা। কাকাবাবু,...

০৪. রাত্তিরে খাওয়া-দাওয়ার পর

রাত্তিরে খাওয়া-দাওয়ার পর সবাই বসেছে অতিথি ভবনের ছাদে। সন্ধেবেলা আকাশে অত মেঘ ঘনিয়ে এলেও তেমন ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। তবে এখনও এদিকে ফিনফিনে বাতাস বইছে। এখান থেকে সমুদ্র দেখা যায়, ঢেউয়ের শব্দও শোনা যায়। সমুদ্র এখন কালো। আকাশে চাঁদের সঙ্গে মেঘের লুকোচুরি খেলা চলছে। কাকাবাবু...

০৫. অন্য বোটে জোজোকে নিয়ে এসে

ওরা অন্য বোটে জোজোকে নিয়ে এসেই তার চোখ বেঁধে ফেলল। তারপর তাকে নীচে শুইয়ে ফেলে একজন তার দুটো পা চাপিয়ে রাখল জোজোর বুকের ওপর। এদের এত সাংঘাতিক নিষ্ঠুরতা দেখে জোজো একেবারে হতবাক হয়ে গেছে। নরেন্দ্র আংকলকে মেরেই ফেলল? কাকাবাবু অনেক সময় গুন্ডা-বদমাশদের সামনেও ঠাট্টা ইয়ার্কি...

০৬. এরকম আগে কখনও হয়নি

এরকম আগে কখনও হয়নি যে, কাকাবাবুর সামনেই কেউ গুলি চালাল, অথচ কোনও বাধা দিতে পারলেন না। জোজোকে ধরে নিয়ে গেল, অথচ সন্তু আটকাবার কোনও চেষ্টাই করতে পারল না, এরকমও আগে হয়নি। নরেন্দ্র ভার্মার গায়ে গুলি লাগার পর তিনি মারা গেছেন কি না, এই চিন্তাই তখন কাকাবাবুর কাছে প্রধান।...

০৭. পদ্মনাভন ফিরে গেলেন তাঁর অফিসে

পদ্মনাভন ফিরে গেলেন তাঁর অফিসে। সন্তু আর কাকাবাবু হোটেলে এসে ঘরে গিয়ে নীচের লবিতেই বসে রইলেন। ঘড়িতে ঠিক বারোটা বাজে। অনেক লোক যাচ্ছে, আসছে। বারোটায় অনেকে হোটেল ছেড়ে চলে যায়। এই হোটেলের এক তলায় একটা রেস্তরাঁ আছে, অনেক বাইরের লোকও খেতে আসে সেখানে। হঠাৎ সন্তু এক সময় বলে...

০৮. এই বোটটা বেশ বড় আর সুসজ্জিত

এই বোটটা বেশ বড় আর সুসজ্জিত। বসবার জায়গা বেশ আরামদায়ক আর ঠাণ্ডা, একটা ছোট রান্নাঘরও আছে। সকাল থেকে প্রায় কিছুই খাওয়া হয়নি। যাত্রা করার সময় কিছু পাউরুটি, ডিম আর কফি তুলে নেওয়া হয়েছে। সন্তু আর রাধা দুজনে মিলে টোস্ট আর ডিমসেদ্ধ বানিয়ে ফেলল, তবু খাওয়াটা ঠিক জমল না। এই...

০৯. আকাশের অন্ধকার কাটিয়ে চাঁদ উঠল

সন্ধের একটু পরেই আকাশের অন্ধকার কাটিয়ে চাঁদ উঠল। এখন আর মেঘও নেই। ফুরফুরে হাওয়ায় ঠান্ডা হবে। এই দ্বীপের জেটিটা একেবারে ভাঙা। কাকাবাবু খুব কায়দা করে বোটটা সেখানে ভেড়ালেন। তবু খানিকটা জলে পা দিয়েই নামতে হল। ওপরে এসেই রাধা জিজ্ঞেস করল, এখানে কচ্ছপ নেই? সেলিম বললেন, খুঁজে...