কাকাবাবুর চোখে জল (২০০৮)

কাকাবাবুর চোখে জল (২০০৮) – কাকাবাবু ও সন্তু সমগ্র - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

০১. হঠাৎ সন্ধে সাড়ে সাতটার সময়

হঠাৎ সন্ধে সাড়ে সাতটার সময় একটা দারুণ ভাল খবর পাওয়া গেল। আজকাল সত্যি সত্যি আনন্দের খবর তো পাওয়াই যায় না! খবরের কাগজে শুধু মারামারি, এ দলে ও দলে ঝগড়া। এই তো কালই শিয়ালদা স্টেশনে যাত্রীরা কী কারণে যেন খেপে গিয়ে অফিসঘর আর জানলা-দরজা ভাঙচুর করল। আজ সকালেই বাবা বাথরুমে পা...

০২. বাড়িতে ছোট ছেলেমেয়ে নেই

বাড়িতে ছোট ছেলেমেয়ে নেই, তাই অনেক সময়ই কারও কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না। আর বিল্টুর মতো কেউ যদি আসে, তা হলে এক মুহূর্তে বাড়ি একেবারে সরগরম হয়ে ওঠে! এসেই বিল্টু প্রথমে সিঁড়ি দিয়ে দুমদাম শব্দ করে উঠে এল তিনতলায়। খয়েরি হ্যাফপ্যান্ট আর লাল শার্ট পরা। সন্তু পড়াশোনা করছে,...

০৩. বিল্টুদের পাশের বাড়ির দুটি মেয়ে

বিল্টুদের পাশের বাড়ির দুটি মেয়ে পড়ে মর্ডান হাই স্কুলে। আর পার্কের দুপাশে বাড়ির দুটি ছেলে পড়ে সেন্ট লরেন্সে। বিল্টু ডন বস্কোতে। এই পাঁচজন একসঙ্গে স্কুলে যায়। একটা ভাড়ার গাড়ি ওদের তুলে নিয়ে যায়, ছুটির পরে ফিরিয়ে আনে। কোনওদিন ভুল হয় না। তিনটে স্কুলেরই ছুটির সময় মোটামুটি...

০৪. জয়ন্তী কাঁদতে শুরু করলেন

জয়ন্তী কাঁদতে শুরু করলেন। রিনি বলল, মা, তুমি ঠিক দশ মিনিট কাদতে পারো। তারপর আর কাঁদবে না। বাবার সামনে একদম কান্নাকাটি করবে না। সিদ্ধার্থ বলল, এখন কান্নাকাটি করলে আমরা ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করতে পারব না। স্নিগ্ধা বলল, এখনও ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না। বিল্টু! তাকে অন্য লোক ধরে...

০৫. চব্বিশ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে

চব্বিশ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে, বিল্টু বাড়িতে নেই। এরকম আগে কখনও হয়নি। কাল রাত থেকে এ বাড়ির কেউ কিছু খায়নি, কেউ শুতেও যায়নি। শুধু শেষ রাতে বসে বসেই ঘুমে চোখ তুলে এসেছিল। পুলিশে খবর দেওয়ার কোনও উপায় নেই। অন্য কাউকে কিছু জানানো চলবে না। পাশের বাড়ির মেয়ে দুটিকে জানিয়ে দেওয়া...

০৬. জোজো দোতলায় উঠে এসে দেখল

জোজো দোতলায় উঠে এসে দেখল, কাকাবাবুর ঘরের দরজা বন্ধ। সে বাইরে থেকে দুবার ডাকল, কাকাবাবু, কাকাবাবু! কোনও উত্তর নেই। সে আবার বলল, কাকাবাবু, আমি জোজো। তাও কোনও উত্তর নেই! জোজো আস্তে আস্তে জিজ্ঞেস করল, কাকাবাবু, আপনি ব্যস্ত আছেন? এবারে ভিতর থেকে শোনা গেল কাকাবাবুর গলা।...

০৭. গাড়ি ছুটছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে

গাড়ি ছুটছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে। সন্ধে হয়ে গিয়েছে। গাড়ি চালাচ্ছে সিদ্ধার্থ, পাশে বসে আছেন অমিতাভ। দুজনেরই মুখে কোনও কথা নেই। অমিতাভর হাতে মোবাইল। মাঝে মাঝেই সেই ফোনে নির্দেশ আসছে। একটু পরেই আবার ফোন বেজে উঠল। অমিতাভ হ্যালো বলতেই একটা গম্ভীর কণ্ঠ জিজ্ঞেস করল,...

০৮. জঙ্গলের মধ্যে একটা বাড়ি

জঙ্গলের মধ্যে একটা বাড়ি। চারপাশ উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। হয়তো একসময় ছোটখাটো একটা দুর্গ ছিল। এখন দু-এক জায়গা ভেঙে পড়েছে, সেখানে গাছ গজিয়ে গিয়েছে। একটা ভাঙা জায়গায় কয়েকটা বড় বড় শিংওয়ালা গোরু বাঁধা থাকে। দুটো বাছুরও রয়েছে। একজন দুধওলা আর তার বউ সেই গোরুর দুধ দোয়। কাছাকাছি...

০৯. দুপুরে বেশ গরম ছিল

দুপুরে বেশ গরম ছিল, বিকেলে কিছুক্ষণ বৃষ্টি হল। বিন্দু ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘরের জানলা খোলা, বৃষ্টির ছাঁট এসে গায়ে লাগতেই বিন্দুর ঘুম ভেঙে গেল। উঠে এসে সে জানলা বন্ধ করল না। দাঁড়িয়ে থেকে দেখতে লাগল। বাইরের বৃষ্টি। তার জামা ভিজে যাচ্ছে, কিন্তু এখানে তো বারণ করার কেউ নেই। মা...

১০. সকাল নটাতেই পুলিশ এসে হাজির

সকাল নটাতেই পুলিশ এসে হাজির। ডেপুটি কমিশনার অশেষ দত্ত সিদ্ধার্থকে দেখে বললেন, আপনাকে আগে কোথায় দেখেছি বলুন তো? চেনা চেনা লাগছে! সিদ্ধার্থ বলল, কাকাবাবুর বাড়িতে দেখেছেন। সেখানে একদিন আপনার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। অশেষ দত্ত বললেন, দ্যাটস রাইট। কাকাবাবু আপনার খুব প্রংশসা...

১১. দিনের বেলা এখানে একটু একটু গরম

দিনের বেলা এখানে একটু একটু গরম পড়লেও রাতে বেশ ঠান্ডা পড়ে। উঠোনের একপাশে কিছু চ্যালা কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালা হয়েছে। সেই আগুন ঘিরে বসে আছে ওরা কয়েকজন। বিল্টুর একটা হাত শক্ত করে ধরে আছে। শিবু সর্দার। কাকাবাবু উপুড় হয়ে পড়ে আছেন মাটিতে। এখনও তার জ্ঞান ফেরেনি। কালো চশমা পরা...

১২. গাড়ি চালাচ্ছে সিদ্ধার্থ

গাড়ি চালাচ্ছে সিদ্ধার্থ। সামনের সিটে কাকাবাবু আর বিল্টু। পিছনের সিটে সন্তু আর জোজো আর রিনি। যাওয়া হচ্ছে এয়ারপোর্টের দিকে। কাকাবাবুর সঙ্গে বিল্টু আর রিনি যাবে দিল্লি। কাকাবাবুর বন্ধু নরেন্দ্র ভার্মার বাড়িতে থাকা হবে। কাকাবাবুর দুহাতেই ব্যান্ডেজ। জোজো বলল, এবার বিন্দুই...