কলকাতার জঙ্গলে (১৯৮৬)

০১. একটা মেয়ে ডাকছে

কাকাবাবু, তোমাকে একটা মেয়ে ডাকছে। কাকাবাবু দোতলায় নিজের ঘরে বসে ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে কী একটা খুব পুরনো ম্যাপ দেখছিলেন মন দিয়ে। ম্যাপ দেখা কাকাবাবুর শখ, সময় পেলেই ম্যাপ নিয়ে বসেন। ম্যাপের আঁকাবাঁকা রেখার দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থেকে উনি কী যে রস পান কে জানে!...

০২. হালকা ঘি-রঙের হাওয়াই শার্ট

হালকা ঘি-রঙের হাওয়াই শার্ট আর সাদা প্যান্ট পরে যিনি ঘরে ঢুকলেন, তাঁকে দেখলে টেনিস খেলোয়াড় মনে হলেও আসলে তিনি পুলিশের একজন বড়কতা, তাঁর নাম ধ্রুব রায়। কী ব্যাপার, শৈবাল, তুমি কালপ্রিটকে হাতেনাতে ধরে ফেলেছ? এই বলেই তিনি কাকাবাবুকে দেখে চমকে গেলেন। এগিয়ে এসে বললেন, আরে,...

০৩. একটুক্ষণ গাড়িটা চলার পর

একটুক্ষণ গাড়িটা চলার পর কাকাবাবু জিজ্ঞেস করলেন, আপনার বাড়ি কি এ পাড়ায় নাকি? লোকটি বলল, না, আমার বাড়ি এখানে নয়। এ পাড়ায় এসেছিলুম একটা কাজে। কী অদ্ভুত যোগাযোগ বলুন তো, আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। কাকাবাবু পেছনের সিটের দিকে হাত দেখিয়ে বললেন, এ আমার ভাইপো সন্তু। লোকটি বলল,...

০৪. দরজা বন্ধ হয়ে যাবার পর

দরজা বন্ধ হয়ে যাবার পর কাকাবাবু বললেন, কী রে, সন্তু, কেমন বুঝছিস? ঠিক ভয়ে নয়, দুশ্চিন্তায় সন্তুর মুখটা শুকিয়ে গেছে। জোর করে মুখে একটা ফ্যাকাসে হাসি ফুটিয়ে বলল, লোকটা খুব সাংঘাতিক। কী রকম সাপের মতন তাকায়? কাকাবাবু বললেন, আমার ওপর ওর খুব রাগ আছে। তোর ওপরেও আছে। আমাদের...

০৫. বেঁচে আছি না মরে গেছি

ঘুম ভাঙার পর সন্তুর প্রথমেই মনে হল, বেঁচে আছি না মরে গেছি? চারদিকে মিশমিশে অন্ধকার। দিন না। রাত্রি তা বোঝার উপায় নেই। কোথায় সে শুয়ে আছে? পাশ ফিরতে গিয়েই সন্তু টের পেল তার হাত আর পা বাঁধা। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। আস্তে-আস্তে তার আগেকার কথা মনে পড়ল। রিভলভারটা? যাঃ,...

০৬. পাওয়া গেল গঙ্গা

পাশের বারান্দা দিয়ে হাঁটতে-হাঁটতে দেখতে পাওয়া গেল গঙ্গা। নৌকের ছোট-ছোট আলো। নীলচে আকাশে ছেড়া-ছোড়া সাদা মেঘ। হঠাৎ সন্তুর মনে হল, সে যেন কতদিন আকাশ দেখেনি! একটা জানলাহীন ঘরে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। তারপর হাত-পা-মুখ বেঁধে গাড়িতে করে কলকাতার একধার থেকে আর-একাধারে নিয়ে আসা...

০৭. দেবলীনা চোখ খুলল

জগাই মল্লিক বেরিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। সন্তু দেখল, এ-ঘরের দরজাও ভেতর থেকে বন্ধ করার কোনও ব্যবস্থা নেই। কাকাবাবু বসে পড়ে দেবলীনার মাথাটা কোলে তুলে নিয়ে বললেন, ইশ, কেটে রক্ত বেরিয়ে গেছে! দেবলীনা চোখ খুলে বলল, আমার বেশি লাগেনি। কাকাবাবু বললেন, শোনো, ছেলেখেলার ব্যাপার...

০৮. মূর্তি আর বাক্সগুলো

ওরা নেমে যাওয়ার পর কাকাবাবু অন্যান্য মূর্তি আর বাক্সগুলো খুলে দেখতে লাগলেন। বাক্সগুলো খোলা সহজ নয়। এক-একটা একেবারে সিল করা। কাকাবাবুর কাছে ছুরি টুরি কিছু নেই। তিনি তাঁর সাঁড়াশির মতন শক্ত আঙুল দিয়ে সেগুলো খোলার চেষ্টা করতে লাগলেন। কোনও বাক্সেই হিরে-জহরত নেই। রয়েছে...

০৯. অ্যাডভেঞ্চারে যাবে বলেছিলে

জগাই মল্লিক দুহাত তুলে বলল, দাঁড়ান দাঁড়ান, রায়চৌধুরীবাবু, আগে আমার একটা কথা শুনুন! আমি কি আপনার সঙ্গে কোনও খারাপ ব্যবহার করেছি। আপনার কী চাই বলুন! কাকাবাবু বললেন, আমি চাই, তুমি ওই সিঁড়ি দিয়ে প্রথমে নামবে! মেঝের গর্তটার দিকে তাকিয়ে জগাই মল্লিক যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস...