উল্কা-রহস্য (১৯৯০)

উল্কা-রহস্য - কাকাবাবু ও সন্তু - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

০১. জঙ্গলের মধ্যে এই জায়গাটা বেশ পরিষ্কার

জঙ্গলের মধ্যে এই জায়গাটা বেশ পরিষ্কার। প্রায় চৌকোমতন জায়গাটাতে শুধু ঘাস হয়ে আছে, অনায়াসেই একটা ব্যাডমিন্টন কোর্ট কাটা যায়। অনেক গভীর জঙ্গলের মধ্যেই হঠাৎ-হঠাৎ এরকম এক-একটা ফাঁকা জায়গা থাকে। কেন যে এখানে বড় গাছ জন্মায় না তা কে জানে! সেই জায়গাটার এককোণে একটা গোল পাথরের...

০২. ডাকবাংলোটা একটা টিলার ওপরে

ডাকবাংলোটা একটা টিলার ওপরে। বারান্দায় বসলেই সামনের দিকে পাহাড়ের ঢেউ দেখা যায়। একটার পর একটা পাহাড়, সবই গভীর জঙ্গলে ঢাকা। চতুর্দিকে শুধু সবুজ। মাঝে-মাঝে মেঘ এসে সব কিছু ঢেকে দেয়, একঝাঁক বৃষ্টি হওয়ার পরই আবার আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। পুরনো আমলের বাংলো। মস্ত বড় বড় ঘর।...

০৩. ব্যাপারটা এতই তাড়াতাড়ি ঘটে গেল

ব্যাপারটা এতই তাড়াতাড়ি ঘটে গেল যে, কাকাবাবু প্রথমে কিছু বুঝতেই পারলেন না। কুমার সিংরা সবাই মিলে দুদিন ধরে দারুণ যত্ন করছে, খাওয়াচ্ছে দাওয়াচ্ছে, অনেক জায়গা দেখাচ্ছে, তাদের সঙ্গে শত্রুতার কোনও প্রশ্নই নেই। তবু হঠাৎ তারা এরকম ব্যবহার করবে, সেরকম কোনও সন্দেহই হয়নি।...

০৪. আগাগোড়া জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পথ

আগাগোড়া জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পথ, ছোট-ছোট পাহাড় ঘুরে-ঘুরে এগিয়ে চলল গাড়িটা। পাশে-পাশে দেখা যায় জাটিংগা নদী। বর্ষার জলে একেবারে ভর্তি, স্রোতও খুব। মনে হয় যেন নদীটা মাঝে-মাঝে লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটছে। নদীর ধারে-ধারে রেল লাইন। উলটো দিকের একটা ট্রেন যাচ্ছে। ছোট ট্রেন, দূর থেকে...

০৫. কলকাতার প্লেনের টিকিট

পরদিনই কাকাবাবু কলকাতার প্লেনের টিকিট কাটলেন। সন্তু একবার জিজ্ঞেস করল, আমরা হাফলঙ ফিরে যাব না? কাকাবাবু গম্ভীর মুখে বললেন, না। কলকাতায় গিয়ে কয়েকদিন বিশ্রাম নিতে হবে। তারপর কী করব ভেবে দেখা যাবে। শিলচর বিমানবন্দরটি শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে। সুন্দর পাহাড়ি রাস্তা।...

০৬. এক ঘন্টা বাদেই ফিরে এলেন কাকাবাবু

ঠিক এক ঘন্টা বাদেই ফিরে এলেন কাকাবাবু। সন্তু ইজিচেয়ারে শুয়ে একটা বই পড়ছে। দরজাটা ভেজানো। দরজার বাইরে শোনা গেল তিন-চারজন লোকের গলার আওয়াজ। তারা খাতির করা সুরে বলছে, আপনার কোনও অসুবিধে হবে না, সার। আমাদের একজন লোক সব সময় এখানে থাকবে। আপনার জন্য গাড়ি রেডি থাকবে। কাকাবাবু...

০৭. সন্তু আর কাকাবাবু গেলেন সমুদ্রের ধারে

সকালবেলা ব্রেকফাস্ট খেয়ে সন্তু আর কাকাবাবু গেলেন সমুদ্রের ধারে বেড়াতে। আকাশ খানিকটা মেঘলা। বেলাভূমিতে খুব বেশি লোক নেই। কিছু ছেলেমেয়ে স্নান করতে নেমেছে। দূরে-দূরে দেখা যাচ্ছে খেলনা নৌকোর মতন ভাসছে জেলে ডিঙি। কাকাবাবু জিজ্ঞেস করলেন, তোর পায়ের ব্যথাটা কেমন রে, সন্তু?...

০৮. সন্তু আলো জ্বেলেই দৌড়ে গেল বাথরুমের দিকে

সন্তু আলো জ্বেলেই দৌড়ে গেল বাথরুমের দিকে। বাথরুমের দরজা খোলা। বারান্দার দিকের দরজাটা বন্ধ, তবু সন্তু সেই দরজা খুলে একবার দেখল, সেখানেও কেউ নেই। কাকাবাবুকে কেউ জোর করে ধরে নিয়ে গেছে, এটা সন্তু কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারল না। ঘরের মধ্যে ধস্তাধস্তির কোনও চিহ্ন নেই। সেরকম...

০৯. গোপালপুরে উল্কা পড়ল একখানা

পদ্মনাভন ব্যায়ামের ভঙ্গিতে হাত দুটো ছুঁড়তে-ছুঁড়তে বললেন, ওফ, সারা গায়ে ব্যথা হয়ে গেছে। ভাঙা বাড়িগুলোর বাইরে ফাঁকা জায়গায় বালির ওপর বসেছেন কাকাবাবু। সন্তু আর অম্বর তাঁর দুপাশে। এখন জ্যোৎস্না অনেক স্পষ্ট। সমুদ্রের ঢেউয়ের মাথায় দুলছে অনেক ফসফরাসের মালা। ঢেউগুলো ভেঙে পড়ছে...