০১. উঃ, কী শীত, কী শীত

উঃ, কী শীত, কী শীত! এখানকার হাওয়ার যেন ভয়ঙ্কর দাঁত আছে, শরীর কামড়ে ধরে একেবারে। সন্তু কাকাবাবুর সঙ্গে একবার কাশ্মীরেও গিয়েছিল, কিন্তু সেখানকার শীতের সঙ্গে এখানকার শীতের যেন তুলনাই হয় না।

হাওয়ার ভয়ঙ্কর দাঁত, আছে, এ কথাটা সন্তুরই মনে পড়েছিল। গরম জামা-কাপড় দিয়ে শরীরের সব জায়গা ঢাকা যায়, শুধু নাকটা ঢাকা যায় না। আর কোনও জায়গা খালি না পেয়ে হাওয়া যেন বারবার সন্তুর নাকটা কামড়ে ধরছে। এবং এক সময় মনে হচ্ছে নাকটা আর নেই। গ্রাভস পরা হাত দিয়ে সন্তু মাঝে-মাঝে দেখছে যে, হাওয়াতে তার নাকটা সত্যিই কামড়ে ছিঁড়ে নিয়েছে কি না।

তারপর এক সময় সে হঠাৎ বলে উঠল, দূর ছাই! আমিও আবার দাঁতের কথা ভাবছি। কেন। আর ভাবব না, কিছুতেই ভাবব না।

একটা দাঁতের জন্যই এবার এতদূর ছুটে আসা। জায়গাটার নাম গোরখাশোপ। এসব জায়গার নাম কে রাখে কে জানে! জায়গা মানে কী, বাড়িঘর গাছপালা কিছুই নেই, শুধু পাথর আর বরফ। তবে, চারদিকের উঁচু-উঁচু পাহাড়ের মধ্যে এই জায়গাটা খানিকটা সমতল। এখানে-সেখানে পড়ে আছে কিছু পোড়া কাঠ, আর অনেক খালি-খালি টিনের কৌটো, তার কোনওটা দুধের, কোনওটা কড়াইণ্ডটির, কোনওটা শুয়োরের মাংসের। মাঝে-মাঝেই এই জায়গায় এভারেস্ট-অভিযাত্রীরা তাঁবু গেড়ে থাকে। কয়েকদিন আগেও এখানে ছিল ব্রিটিশ অভিযাত্রী দলের বেস ক্যাম্প।

সামনেই একটা ছোট পাহাড়, তার নাম কালাপাথর। সেটার ওপরে উঠলেই এভারেস্ট-চুড়া স্পষ্ট দেখা যায়। এভারেস্ট! পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ! সন্তু রোজ সেই এভারেস্ট-শৃঙ্গকে দেখছে! তার বয়েসি আর কোনও বাঙালির ছেলে এভারেস্টকে এত কাছ থেকে দেখেনি, নিশ্চয়ই দেখেনি!

সন্তু এবার সঙ্গে এনেছে একটা ক্যামেরা, সে নিজে এভারেস্টের ছবি তুলেছে। কলকাতায় ফিরে গিয়ে সেই ছবির রীল ডেভেলপ আর প্রিন্ট করাবার জন্য সন্তু ছটফট করে। কিন্তু কবে যে কলকাতায় ফেরা হবে, তার কিছুই ঠিক নেই। এক-এক সময়, বিশেষত রাত্তিরের দিকে, মনে হয়, হয়তো আর ফেরাই হবে না কোনওদিন।

দিনের বেলা ভয় করে না, শীতও তেমন বেশি লাগে না। যখন রোদ ওঠে, তখন বরফের ওপর রোদ ঠিকরে এমন ঝকমক করে যে, খালি চোখে সেদিকে তাকালে যেন চোখ কলসে যায়। সেই জন্য সন্তুকে দিনের বেলা রঙিন চশমা। পরে থাকতে হয়। কাকাবাবুও সেই রকম পরেন। অথচ নেপালিরা দিব্যি খালি চোখেই সব সময় ঘোরাফেরা করে, তাদের কিছু হয় না।

এখানে সন্তুদের সঙ্গে সাতজন নেপালি রয়েছে, দুজন শেরপা আর পাঁচজন মালবাহক। তারা থাকে পাশের দুটো তাঁবুতে। সন্তু আর কাকাবাবু থাকেন একটা পাথরের গম্বুজে।

এই জনমানবশূন্য জায়গাটায় এরকম একটা পাথরের গম্বুজ কে বানিয়েছিল, তা এখন আর কেউ বলতে পারে না। গম্বুজটা প্ৰায় তিনতলা বাড়ির সমান উঁচু। মোটা থেকে ক্রমশ সরু হয়ে গেছে। একতলাটা বেশ চওড়া, তাতে দুজন মানুষ অনায়াসে শুয়ে থাকতে পারে। ভেতর দিয়েই উঠে গেছে সিঁড়ি, একদম চুড়ার কাছে একটা ছোট্ট চীেকো জানলা, সেখান দিয়ে আসে কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া। কিন্তু সে জানলাটাকে কিছু দিয়ে বন্ধ করার উপায় নেই, তা হলে ভেতরে দম বন্ধ হয়ে মরে যেতে হবে।

শেরপারা বলে যে, এই গম্বুজটা হাজার-হাজার বছর ধরে রয়েছে এখানে। কিন্তু কাকাবাবুর ধারণা, এটার বয়েস একশো বছরের বেশি হবে না। এবং এটা নিশ্চয়ই কোনও সাহেবের তৈরি। গম্বুজটাতে ঢোকার জন্য রয়েছে একটা শক্ত লোহার দরজা। খুব সম্ভবত কোনও সাহেব এখানে বসে এভারেস্টের দৃশ্য দেখবার জন্য এটা বানিয়েছিল। পাহাড় সম্বন্ধে উৎসাহ বা পাগলামি সাহেবদেরই বেশি।

কিন্তু ওপরের জানলাটা দিয়ে এভারেস্ট দেখা যায় না। কালাপাথর নামের ছোট পাহাড়টায় একটুখানি আড়াল পড়ে যায়। তাও কাকাবাবু বলেন, এখন দেখা না-গেলেও একশো-দেড়শো বছর আগে হয়তো এখান থেকেই এভারেস্ট দেখা যেত। এখানকার ভূপ্রকৃতির মধ্যে নানারকম পরিবর্তন চলছে। অনবরত। কোনও পাহাড়ের চুড়া ভেঙে পড়েছে, কোনও জায়গা বসে যাচ্ছে, কোনও জায়গায় হয়তো হঠাৎ একদিন দেখা গেল কোথা থেকে একটা নদী এসে বইতে শুরু করেছে।

সন্তু নিজেই তো এরই মধ্যে একটা দুদন্তি ব্যাপার দেখেছিল। সেটা অবশ্য এই জায়গা থেকে নয়। সেই জায়গাটার নাম কুন্‌ড, অনেকটা পেছন দিকে।

কুন্‌ড একটা ছোটখাটো গ্রামের মতন, একটা ছোট হাসপাতাল আর ইস্কুলও আছে। সেখানে সন্তুরা দুদিন ছিল বিশ্রাম নেবার জন্য। একদিন বিকেলবেলা হঠাৎ এমন সাঙ্ঘাতিক শব্দ হল যেন দশখানা জেট প্লেন এক সঙ্গে মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। সন্তু আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে কিছুই নেই। আকাশে মেঘও নেই যে, বজ্ৰপাত হবে। কিছু নেপালি যেন ভয় পেয়ে ছোটাছুটি করছে। কাকাবাবু বসে ছিলেন সামনের মাঠে একটা কাঠের টুলে, তিনি উত্তেজিতভাবে উঠে দাঁড়িয়ে হাতছানি দিয়ে সন্তুকে ডাকলেন কাছে আসবার জন্য।

সন্তু বাড়ি ছেড়ে দৌড়ে গেল কাকাবাবুর কাছে। কাকাবাবু সামনের দিকে হাত বাড়িয়ে বলেছিলেন, ওই দ্যাখ! এরকম দৃশ্য দেখতে পাওয়া ভাগ্যের কথা!

সন্তু সামনে তাকিয়ে দেখেছিল যে, অনেক দূরে, অন্তত পাঁচ ছমাইল তো হবেই, এক জায়গায় পাহাড় জুড়ে শুধু সাদা রঙের ধোঁয়া, আর সেই কান-ফাটানো শব্দটা আসছে ওখান থেকেই।

সন্তু জিজ্ঞেস করেছিল, ওখানে কী হচ্ছে কাকাবাবু? কাকাবাবু বলেছিলেন, বুঝতে পারলি না? আভালান্স? পাহাড়ের মাথা থেকে হিমবাহ ভেঙে পড়ছে।

বরফ ভাঙার ঐ রকম প্রচণ্ড শব্দ হয়! হাজার-হাজার লোহার হাতুড়িতে ঠোকাঠুকি করলেও এত জোর শব্দ হবে না। সাদা রঙের ধোঁয়া ক্রমশ ছড়িয়ে যেতে লাগল চারদিকে। ঝড়ের মতন হাওয়ার ঝাপটা এসে লাগিছিল সন্তুদের গায়ে। দুঘণ্টার মধ্যেও সেই শব্দ থামল না।

সন্তু জিজ্ঞেস করেছিল, কাকাবাবু, ঐ হিমবাহ ভেঙে গড়িয়ে এখানে চলে আসতে পারে না?

কাকাবাবু বলেছিলেন, হ্যাঁ, আসতে পারে। মাঝখানে একটা নদী আছে। সেটা যদি ভরে যায়-

সন্তু বলেছিল, এখানে এসে পড়লে কী হবে? কাকাবাবু খুব শান্তভাবে বলেছিলেন, কী আর হবে, আমরা চাপা পড়ে যাব। মাঝে-মাঝেই তো কত গ্রাম। এইভাবে চাপা পড়ে যায়।

কাকাবাবুর সেই উত্তরটা এখনও সন্তুর কানে বাজে। ভয় বলে কোনও জিনিসই যেন কাকাবাবুর নেই। হিমবাহ এসে চাপা দিয়ে দেওয়াটাও যেন কাকাবাবুর কাছে খুব একটা সাধারণ ব্যাপার।

এখানে এই গম্বুজের মধ্যে শুয়ে থেকেও সন্তু মাঝে-মাঝে দূরের কোনও জায়গার গুম গুম শব্দ শুনতে পায়। কোথাও হিমবাহ ভাঙছে। যদি এখানেও এসে পড়ে? হিমবাহের এমনই শক্তি যে, এই শক্ত পাথরের গম্বুজটাকেও নিশ্চয়ই ভেঙে গুড়িয়ে দিতে পারে। কিংবা যদি নাও ভাঙে, যদি গম্বুজটার চুড়া পর্যন্ত বরফে ঢেকে যায়? তাহলেও তো তারা এখান থেকে আর কোনওদিন বেরুতে পারবে না!

গম্বুজটা অন্য সময় নেপাল গভর্নমেন্ট বন্ধ করে রাখেন। কাকাবাবু বিশেষ অনুমতি নিয়ে এটা খুলিয়ে এখানে আস্তানা গেড়েছেন। এখানে সন্তুদের ছদিন কেটে গেল।

দিনের বেলা তবু এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করা যায়। সন্ধে হয়ে গেলেই আর কিছু করার নেই। গম্বুজের মধ্যে ঢুকে পড়তে হয়। ক্লিপিং ব্যাগের মধ্যে ঢুকে চেন টেনে দিলে সন্তুর চেহারাটা হয়ে যায় একটা পাশবালিশের মতন। সেই অবস্থায় আর নড়াচড়া করা যায় না।

কিন্তু সন্ধে হবার সঙ্গে-সঙ্গেই তো ঘুমিয়ে পড়া যায় না। শীতের হাত থেকে বাঁচবার জন্য ক্লিপিং ব্যাগের মধ্যে ঢুকে পড়তে হয়, কিন্তু বই পড়বার উপায় নেই। ঘরে আলো আছে যথেষ্ট। ব্যাটারি দেওয়া এক ধরনের হ্যাজাক লণ্ঠন এনেছেন কাকাবাবু বিলেত থেকে, তাতে ঠিক নিয়ন আলোর মতন আলো হয়। গম্বুজের মধ্যে সেই আলো জ্বলছে। বইটা পাশে রেখে কাত হয়ে পড়া যায়, কিন্তু ক্লিপিং ব্যাগের ভেতর থেকে হাত বার করা যায় না বলে বইয়ের পাতা ওল্টানো যায় না। বারবার চেন খুলে হাত বার করতে গেলেই ভেতরে হাওয়া ঢুকে কিছুক্ষণের জন্য এমন শীত করে যেন হাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দেয়।

তার সমস্ত সোয়েটার, কোট, মাফলার গায়ে দিয়েও সন্তু কিছুতেই সন্ধে সাড়ে সাতটার পর আর ক্লিপিং ব্যাগের বাইরে থাকতে পারে না। কিন্তু কাকাবাবু পারেন। কাকাবাবুর শরীরে যেমন ভয় নেই, তেমনি বোধহয় শীতবোধও নেই। রাত দশটা এগারোটা পর্যন্ত কাকাবাবু চামড়ার জ্যাকেট গায়ে দিয়ে গম্বুজের চুড়ার কাছে বসে জানলা দিয়ে চেয়ে থাকেন বাইরে। কখনও-কখনও মাঝরাত্রে ঘুম ভাঙলেও কাকাবাবু ক্লিপিং ব্যাগ থেকে বেরিয়ে একবার গম্বুজের ওপরটা থেকে ঘুরে আসেন। একজন খোঁড়া লোকের এতখানি উৎসাহ আর ক্ষমতা, চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না।

যতক্ষণ ঘুম না আসে ততক্ষণ সন্তু জুলজুল করে চেয়ে থাকে আর কলকাতার কথা ভাবে। সাড়ে সাতটা, আটটা মোটে বাজে, এখন কলকাতায় কত হৈ-চৈ। কতরকম গাড়ির আওয়াজ, রাস্তাঘাট মানুষের ভিড়ে গমগম করে। আর এখানে কোনও রকম শব্দ নেই। এ জায়গাটা যেন পৃথিবীর বাইরে।

কাকাবাবু নীচে না এলে বাতিটা নেভানো যাবে না। চোখে আলো লাগলে কাকাবাবুর ঘুম হয় না বলে উনি হাজাকিটা নিভিয়ে দেন। কিন্তু ওটা সারা রাত জ্বালা থাকলেই সন্তুর বেশি ভাল লাগত। অন্ধকার হলেই শরীরটা কেমন যেন ছমছম করে। ঠিক ভয় নয়, আন্দামানে গিয়ে সন্তু আর কাকাবাবু, যেরকম বিপদে পড়েছিল, সেরকম কোনও বিপদের সম্ভাবনা তো এখানে নেই। হিমবাহ ভেঙে আসার একটা ভয় আছে বটে, কিন্তু একশো বছর এখানে এই গম্বুজটা টিকে আছে যখন, তখন হঠাৎ এই সময়েই হিমবাহ এসে এটাকে গুঁড়িয়ে দেবে, তা ঠিক বিশ্বাস হয় না। অবশ্য কিছুই বলা যায় না। তবু সেজন্যও নয়, এত বেশি চুপচাপ বলেই সব সময় একটা ভয়ের অনুভূতি থাকে।

কাকাবাবুর যে কী উদ্দেশ্য, তা সন্তু এখনও কিছুই বুঝতে পারছে না। এখানে দিনের পর দিন এই গম্বুজের মধ্যে বসে থাকার কী মানে হয়! শেরপা দুজন আর মালবাহকরাও বেশ অস্থির হয়ে উঠেছে। এই নেপালিরা খুব কাজ ভালবাসে, পরিশ্রম করতেও পারে খুব, এক জায়গায় চুপচাপ বসে থাকা যেন ওদের সহ্য হয় না। গত পাঁচ ছদিন ধরে ওরা শুধু রান্না করে খাচ্ছে। আর ঘুমোচ্ছে। এদের সদরের নাম মিংমা, তার সঙ্গে বেশ ভাব হয়ে গেছে সন্তুর। মিংমার বয়েস ৩৪/৩৫ হবে, ঠিক যেন বাদামি রঙের পাথর দিয়ে গড় ওর শরীর। এর আগে একটি অভিযাত্রী-দলের সঙ্গে এভারেস্টের খুব কাছে ও পৌঁছেছিল। ওর খুব শখ একবার এভারেস্টের চুড়ায় ওঠার। মিংমা সন্তুকে ডেকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করে, আংকেলের কী মতলব? আংকেল এখানে থেমে রইলেন কেন? এভারেস্টের দিকে যাবেন না?

সন্তু এসব কথার কিছুই উত্তর দিতে পারে না।

দিনের বেলা রোদ থাকলে সন্তু এদিক-ওদিক বেড়াতে যায়। কিন্তু কাকাবাবু তাকে একলা ছাড়েন না। কক্ষনো। একজন শেরপাকে সঙ্গে রাখতেই হয়। পাহাড়ি রাস্তায় যে-কোনও সময় বিপদ হতে পারে। প্রত্যেকদিন সন্তু কালাপাথর পাহাড়টায় উঠে একবার এভারেস্ট দেখে আসবেই। এভারেস্টের দিকে তাকালেই যেন বুক কাঁপে। ঐ পাহাড়ের চুড়াতেও মানুষ পা রেখেছে, তা যেন কিছুতেই বিশ্বাস করা যায় না। চাঁদের ওপরেও তো মানুষের পায়ের ধুলো লেগেছে, চাঁদের দিকে তাকালে কি তা বোঝা যায়? কাকাবাবু ক্রাচ বগলে নিয়ে এই বরফের রাজ্য পেরিয়ে ঐ এভারেস্টের চুড়ায় উঠতে চান? এ যে অসম্ভব ব্যাপার।

রাতগুলো যেন আর কাটতেই চায় না। কাকাবাবু গম্বুজের চুড়ায় বসে থাকেন আর সন্তু ক্লিপিং ব্যাগের মধ্যে বন্দী হয়ে থাকে।

যে কাঠের বাক্সগুলোতে করে জিনিসপত্র আনা হয়েছিল, তারই একটা খালি বাক্স দুই বিছানার মাঝখানে রাখা হয়েছে একটা টেবিলের মতন করে। হাজাক বাতিটা তার ওপরেই রাখা। তার পাশে একটা ঘড়ি, টর্চ আর একটা ছোট্ট চৌকো কাচের বাক্স। অনেকটা গয়নার বাক্সের মতন, তার মধ্যে গয়নার বদলে রয়েছে একটা মানুষের দাঁতের মতন জিনিস। সেই দাঁতটার দিকে তাকালেই সন্তুর গা শিরশির করে। অথচ সাত রাজার ধন এক মানিকের মতনই কাকাবাবু সব সময় ঐ দাঁতটাকে কাছে কাছে রাখেন। আর মাঝে-মাঝেই ওটার দিকে একদৃষ্টি তাকিয়ে থাকেন, ঠিক যেন ধ্যান করছেন, এইভাবে।

ঐ দাঁতটার একটা মস্ত বড় ইতিহাস আছে।