স্মৃতির শহর ২৫

কলকাতা আমার বুকে বিষম পাথর হয়ে আছে
আমি এর সর্বনাশ করে যাবো—
আমি একে ফুসলিয়ে নিয়ে যাবো হলদিয়া বন্দরে
নারকোল নাড়ুর সঙ্গে সেঁকোবিষ মিশিয়ে খাওয়াবো
কলকাতা আমার বুকে বিষম পাথর হয়ে আছে।
কলকাতা চাঁদের আলো জাল করে, চুম্বনে শিয়ালকাঁটা অথবা কাঁকর
আজ মেশাতে শিখেছে
চোখের জলের মতো চায়ে তুমি চিনি দিতে ভুলে যাও, এত উপপতি
তোমার দিনে-দুপুরে, ঊরুতে সম্মতি!
দিল্লির সুপ্রিমকোর্টে, সুন্দরী, তোমাকে আমি এমন সহজে
যেতে দিতে পারি? তার বদলে হৃদয়ে সুগন্ধ মেখে সন্ধ্যেবেলা
প্রখর গরজে
তোমার দু বাহু চেপে ট্যাকসিতে বাতাস খেতে নিয়ে যাবো—
হোটেলে টুইস্ট নাচবে, হিল্লোলে আঁচল খুলে বুকে রাখবে দুদুটো ক্যামেরা
যদু…মধু এবং শ্যামেরা তুড়ি দেবে;
শরীরে অমন বাজনা, আয়নার ভিতরে অতি মহার্ঘ আলোর মতো
তুমি, তোমার চরণে
বিশুদ্ধ কবিতাময় স্তাবকতা দক্ষিণ শহর থেকে এনে দিতে পারি
সোনার থালায় স্থলপদ্ম চাও দুই হাতে?
তুমি খুন হবে মধ্যরাতে।
কলকাতা, আমার হাত ছাড়িয়ে কোথায় যাবে, তুমি
কিছুতে ক্যানিং স্ট্রিটে লুকোতে পারবে না—
চীনে-পাড়া-ভাঙা রাস্তা দিয়ে ছুটলে, আমিও বাঘের মতো
ছুটে যাবো তোমার পিছনে
ডিঙিয়ে ট্রাফিক বাতি, দুঃখের বড়বাজার, রোগীর পথ্যের মতো
চৌরঙ্গি পেরিয়ে
আমার অনুসরণ, বায়ুভূত নিরালম্ব আত্মার মতন ভঙ্গি
কাতর ভালোবাসার, প্রতিশোধে—
কোথায় পালাবে তুমি? গঙ্গা থেকে সব কটা জাহাজের মুখগুলো
ফিরিয়ে
অন্ধকারে ময়দানে প্রচণ্ড সার্চলাইট ফেলে
টুটি চেপে ধরবো তোমার—
তোমার শরীর-ভরা পয়ঃপ্রণালীর মধ্যে বারুদ ছড়িয়ে
আমার গোপন যাত্রা, একদিন শ্রোণীযুগে জ্বালবো দেশলাই
উড়ে যাবে হসারি, ছেটকাবে ইটকাঠ, ধ্বংস হবে
সব লাস্য, অলঙ্কার, চিৎপুরের অমর ভুবন
আমাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিলে যদি, তোমার সহমরণ
তবে কে বাঁচাবে?