ডালটনগঞ্জের সার্কিট হাউসে এত রাতেও অপেক্ষা করছেন নরেন্দ্র ভামা, এই জেলার এস. পি, ডি, এম, আরও কয়েকজন অফিসার। কাকাবাবুদের গাড়িটা থামতেই সবাই ব্যর্থ হয়ে বেরিয়ে এলেন।

কাকাবাবু দরজা খুলে বললেন, নাও নরেন্দ্র, তোমার জন্য ভাল উপহার এনেছি।

নরেন্দ্র ভার্মা ভেতরে মুখ বাড়িয়ে দেখে নিয়ে বললেন, এ কী? এ তো ঠাকুর সিং! সাইমন বুবুম্বা কোথায়?

কাকাবাবু বললেন, হবে, হবে, সব ব্যবস্থা হবে! আগে একে নামিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করো।

এস. পি জিজ্ঞেস করলেন, লোকটা মরে গেছে নাকি?

কাকাবাবু বললেন, না, ঘুমোচ্ছে!

এস. পি দারুণ অবাক হয়ে বললেন, ঘুমোচ্ছে? অমন একটা দুর্দান্ত লোককে ঘুম পাড়ালেন কী করে?

কাকাবাবু বললেন, সেসব গল্প পরে হবে। এখন অনেক কাজ আছে।

ঠাকুর সিংকে ধরাধরি করে একটা ঘরে শুইয়ে দেওয়া হল। কাকাবাবুরা বসলেন পাশের ঘরে। কাকাবাবু সবাঙ্গ চুলকাচ্ছেন। যে ঝোপের মধ্যে তিনি লুকিয়ে ছিলেন, সেখানে একটা পিঁপড়ের বাসা ছিল। সারা গায়ে পিঁপড়ে ছড়িয়ে গেছে। এতটুকু-টুকু পিঁপড়ের কামড়ে কী জ্বালা!

সেই অবস্থাতেই কাকাবাবু বললেন, নরেন্দ্র, দু গাড়ি পুলিশ পাঠাও রূপ মঞ্জিলে। সাইমন বুবুম্বা সেখানে আছে। ঠাকুর সিং উপস্থিত থাকলে সেখান থেকে ওকে উদ্ধার করা মুশকিল ছিল। চট করে কোথাও সরিয়ে দিত। কিংবা ঠাকুর সিং ওকে মেরে ফেলত। সেইজন্যই টোপ দিয়ে ঠাকুর সিংকে বাইরে আনতে হল। ওর চ্যালারা বিশেষ বাধা দিতে পারবে না। ঠাকুর সিংয়ের হুকুম ছাড়া সাইমনকে মেরেও ফেলতে পারবে না!

ডি, এম বললেন, ঠাকুর সিংয়ের মতন একটা দুর্দান্ত ক্যারেকটারকে ঘুম পাড়িয়ে, বেঁধে নিয়ে এলেন, এটা এখনও যেন অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।

কাকাবাবু বললেন, চোখের সামনে দেখতে তো পাচ্ছেন। পুলিশ পাঠাবার ব্যবস্থা করুন, আর দেরি করবেন না। আমি নিজেও সঙ্গে যেতাম, কিন্তু পিঁপড়ের কামড়ে অস্থির হয়ে গেছি। এক্ষুনি আমাকে স্নান করতে হবে! আপনারাই যান।

এস. পি আর ডি. এম দুজনেই চলে গেলেন পুলিশের সঙ্গে।

কাকাবাবু বাথরুমে ঢোকার আগে বললেন, সন্তু, জোজো, মহিম, তোমরা একটু ঘুমিয়ে নাও বরং। ওদের ফিরে আসতে তো সময় লাগবে! তোমাদেরও অনেক ধকল গেছে। দ্যাখো, এখানে অনেক ঘর আছে!

প্রায় আধঘণ্টা বাদে কাকাবাবু স্নান করে, সুস্থ হয়ে বেরোলেন।

সেই ঘরে নরেন্দ্র ভামা একা বসে আছেন একটা ইজি চেয়ারে। কাকাবাবু খাটের ওপর খানিকটা হেলান দিয়ে আরাম করে বসলেন।

তারপর বললেন, উঃ, পিঁপড়ের কামড়ে সারা গা ফুলে গেছে। জঙ্গলের মধ্যে প্রায় পায়ের ওপর দিয়ে একটা বিষাক্ত সাপ চলে গেল, ঠাকুর সিং রাইফেলের গুলি ছুড়ল, সে সবেও কিছু হয়নি, কিন্তু কাবু করে দিল এই পিঁপড়েগুলো।

নরেন্দ্র ভার্মা শুকনো গলায় বললেন, রাজা, আমার খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে। সাইমন বুবুম্বাকে উদ্ধার করা যাবে তো?

কাকাবাবু বললেন, কাল সকালেই ওকে আমরা দেখে এসেছি। এর মধ্যে মেরে ফেলার কথা নয়। সাতদিনের সময়সীমা তো পেরোয়নি?

নরেন্দ্র ভার্মা বললেন, তুমি দেখে এসেছ, তারপর প্রায় চল্লিশ ঘণ্টা কেটে গেছে। এর মধ্যে কত কী হতে পারে। আমার ভয় হচ্ছে কী জানো? সাইমন বুবুম্বা বেশ দুঃসাহসী মানুষ, খেলাধুলোয় ওস্তাদ ছিল ছাত্র বয়েসে। সে নিজে যদি পালাবার চেষ্টা করে? এরা তো সঙ্গে-সঙ্গে গুলি করে দেবে! অসমে একজন রাশিয়ান বিজ্ঞানীকে আতঙ্কবাদীরা বন্দি করে রেখেছিল। কাল রাতে তাঁর ডেড বডি পাওয়া গেছে। তিনি পালাতে গিয়ে মরেছেন। আমাদের সরকার খুব চিন্তিত। মুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাইয়ের খবর জানতে চেয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। সাইমনকে উদ্ধার করতে না পারলে দু দেশের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে, তা হলে আমরা শস্তায় পেট্রোল পাব না। আমাদের বিরাট ক্ষতি হবে!

কাকাবাবু বললেন, ফাইলে পড়লাম, সাইমন ছাত্র বয়েসে পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলো বেশি করেছে। ইংল্যান্ডে দুবার মারামারিও করেছিল।

নরেন্দ্র ভার্মা বললেন, হ্যাঁ, মানুষটা খুব তেজী। সাহেবদের দেশে কেউ ওকে কালো লোক বলে ঠাট্টা করলেই তাকে মেরে বসত! এখন অবশ্য প্রেসিডেন্টের দূত হিসেবে সব দেশে যায়, সকলের সঙ্গে ভদ্র ব্যবহার করতে হয়।

কাকাবাবু বললেন, আরও একটা জিনিস দেখলাম। বছর দু-এক আগে টার্কিতেও সাইমনকে একটা দল গুম করেছিল। সে-দেশের সরকারের কাছ থেকে দু কোটি ডলার মুক্তিপণ দাবি করেছিল তারা। সে-দেশের সরকার টাকা। দিয়েই ছাড়াতে বাধ্য হয়েছিল। লোকটা খুব বেশি দামি দেখা যাচ্ছে।

নরেন্দ্র ভার্মা বললেন, দামি তো বটেই! মুরুন্ডি দেশটা ছোট হলেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। পেট্রোল আছে প্রচুর। তাই অনেক দেশই ওই ছোট্ট দেশকে খাতির করে। ওইসব দেশের আতঙ্কবাদীরাও জানে যে সাইমনকে ধরে রাখতে পারলে সরকার কেঁপে যাবে। টাকা দিতে বাধ্য হবে। টার্কিতে কী হয়েছিল জানো? আমাদের মতন ওসব দেশের কাগজে তো সব কিছু বেরোয় না। টার্কির সরকার ওকে উদ্ধার করার অনেক চেষ্টা করেও পারেনি। শেষপর্যন্ত সরকার বিপ্লবী দলকে দু কোটি টাকা দিতে বাধ্য হয়ে সাইমনকে ছাড়িয়ে নেয়। ওদের সরকার সেটা স্বীকার করেনি। কিন্তু আমাদের ইনটেলিজেন্স রিপোর্ট আছে।

কাকাবাবু বললেন, ওসব দেশ টাকা দিতে পারে। কিন্তু ভারতবর্ষ গরিব দেশ, এত টাকা দেবে কী করে? এক কোটি ডলার! অনেক টাকা!

নরেন্দ্র ভার্মা বললেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজ বিশেষ ক্যাবিনেট মিটিং ডেকেছেন। এই ব্যাপারটা নিয়েই। সাতদিনের মধ্যে আমরা কিছু করতে না পারলে বোধ হয় আমাদের সরকারও টাকাটা দিয়েই দেবে। সাইমন বুবুম্বার প্রাণের ঝুঁকি কিছুতেই নেওয়া যায় না।

হঠাৎ নরেন্দ্র ভার্মা ঝুঁকে কাকাবাবুর একটা হাত জড়িয়ে ধরে বললেন, রাজা, আজ যদি সাইমনকে উদ্ধার করা যায়, তা হলে তুমি শুধু যে আমার মুখরক্ষা করলে তাই-ই না, আমাদের দেশেরও মহা-উপকার করলে। তোমার মতন দুঃসাহসী মানুষ ছাড়া কেউ এটা পারত না।

কাকাবাবু লজ্জা পেয়ে বললেন, আরে, তুমিই তো আমাকে ঠাকুর সিংয়ের কাছে পাঠালে। তোমারই তো কৃতিত্ব! আমি আর কী করেছি।

নরেন্দ্র ভার্মা বললেন, তুমি ঠাকুর সিংকে ঘুম পাড়িয়ে ধরে আনলে কী করে, সেটা বলো!

কাকাবাবু বললেন, তাও আমাকে বিশেষ কিছু করতে হয়নি। সন্তু আর জোজোই যা কিছু করেছে। আর তুমি যে পুলিশের লোকটিকে ড্রাইভার করে পাঠিয়েছ, সেই মহিমেরও খুব সাহস আছে।

নরেন্দ্র ভার্মা বললেন, তবু তুমি সবটা বলো। যতক্ষণ না ফিরে আসে ওরা–

কাকাবাবু জঙ্গলের মধ্যে ফাঁদ পাতার ঘটনাটা সব বুঝিয়ে দিলেন!

শোনার পর নরেন্দ্র ভার্মা বললেন, তাই তো, তুমি কিছুই করোনি! ওরা রইল গাছে, তুমি রইলে মাটিতে। তুমি যখন চেঁচিয়ে উঠলে, তখন যদি ওরা ঝোপের মধ্যে গুলি করত? তোমার পায়ের ওপর দিয়ে সাপ চলে গেল, সারা গায়ে বিষ-পিঁপড়ে, তবু তুমি নড়লে না, খোঁড়া পা নিয়ে বুকে হেঁটে-হেঁটে ঠাকুর সিংয়ের কাছে এসে তার কপালে রিভলভাল ঠেকালে, এসব তো কিছু না, তাই না? তুমি ছাড়া এরকম ঝুঁকি আর কেউ নিতে পারে, এরকম মানুষ আমি জানি। না। তবে সন্তু-জোজোরাও দারুণ কাজ করেছে।

কাকাবাবু বললেন, তুমি জানো, নরেন্দ্র, সাইমন খুব জ্যোতিষীদের বিশ্বাস করে। কলকাতায় একজন জ্যোতিষীর কাছে হাত দেখাতে গিয়েছিল।

নরেন্দ্র ভার্মা বললেন, তাই নাকি? কলকাতায়, কার কাছে?

কাকাবাবু বললেন, আমাদের জোজো, তার বাবার কাছে। উনি বেশ নামকরা জ্যোতিষী শুনেছি। সাইমন ওঁর কাছে গিয়েছিল নিজের দেশের

প্রেসিডেন্ট হতে পারবে কি না কিংবা কবে হবে, সেটা জানতে।

নরেন্দ্র ভার্মা বললেন, হা, ওর খুব প্রেসিডেন্ট হওয়ার শখ। কিন্তু ওর দাদা প্রেসিডেন্ট কেনেথ বুবুম্বা খুব ভাল লোক। সাধারণ মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। সামনের ভোটে তিনিই জিতবেন। যদি না তিনি ভাইয়ের জন্য সরে দাঁড়ান!

নরেন্দ্র ভার্মা উঠে গিয়ে জানলার ধারে দাঁড়িয়ে বললেন, রাজা, আমি আর টেনশান সহ্য করতে পারছি না। ওরা কখন আসবে? কাল সকালেই আমাকে দিল্লিতে রিপোর্ট করতে হবে! ওরা এত দেরি করছে কেন?

কাকাবাবু বললেন, এমন কিছু দেরি হয়নি। এবার এসে পড়বে। তুমি বরং এককাপ করে কফির ব্যবস্থা করতে পারো? এত রাতে কি এখানে কেউ কফি বানিয়ে দেবে? আমার খুব কফি খেতে ইচ্ছে করছে!

নরেন্দ্র ভার্মা হাঁকডাক করতেই একজন বেয়ারা এসে হাজির হল। তাকে কফির কথা জিজ্ঞেস করতেই সে বলল, হ্যাঁ সার, হবে।

কাকাবাবু বললেন, নরেন্দ্র, বেশি উত্তেজিত হোয়ো না। শান্ত হয়ে বোস। এখানে তো তবু ঘরের মধ্যে বসে আছি। মাথার ওপর পাখা ঘুরছে। আর খানিক আগে আমরা ছিলাম জঙ্গলের মধ্যে ঘাপটি মেরে, একটু নড়াচড়া করার উপায় ছিল না, সেই অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠাকুর সিংয়ের জন্য প্রতীক্ষা। প্রত্যেকটা মিনিটকে মনে হচ্ছিল এক মাইল লম্বা।

নরেন্দ্র ভার্মা ধপাস করে চেয়ারে বসে পড়ে দু হাতে মাথা চেপে ধরে বললেন, ওফ!

বেয়ারা এসে কফি দিয়ে গেল। সবেমাত্র ওঁরা দু-তিন চুমুক দিয়েছেন, এই সময় বাইরে গাড়ির শব্দ হল।

নরেন্দ্র ভার্মা অমনই ছুটে গেলেন। কাকাবাবু ছুটতে পারেন না, তিনি কাচ ঠকঠকিয়ে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালেন দরজার কাছে।

দুটো গাড়িই ফিরে এসেছে। প্রথমে নামলেন এস. পি সাহেব।

নরেন্দ্র ভামা তাঁর হাত চেপে ধরে জিজ্ঞেস করলেন, কী হল? পাওয়া গেছে?

এস. পি একগাল হেসে বললেন, অপারেশান সাকসেসফুল!

কাকাবাবু একটা স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

নরেন্দ্র ভার্মা বললেন, সাইমন বুবুম্বাকে পেয়েছেন? নিয়ে এসেছেন?

এস. পি বললেন, হ্যাঁ। খুব সহজেই। মিঃ রাজা রায়চৌধুরী ঠিকই বলেছিলেন। ঠাকুর সিং নেই বলে ওর চ্যালা-চামুণ্ডারা পুলিশ দেখে ঘাবড়ে গেল। কোনও বাধাই দিল না।

অন্য গাড়ি থেকে ডি. এম নামলেন, তাঁর সঙ্গে সাইমন বুবুম্বা। জিন্স আর হলুদ গেঞ্জি পরা, চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা। বুকে ঝুলছে একটা ক্রস।

ডি. এম সাহেব খাতির করা গলায় ইংরেজিতে তাকে বললেন, আসুন, মিঃ বুবুম্বা, ভেতরে আসুন। আপনার অনেক কষ্ট হয়েছে জানি।

সাইমন বুবুম্বা কোনও কথা বললেন না, উঠে এলেন সিঁড়ি দিয়ে। নরেন্দ্র ভার্মা যে ইজি চেয়ারটায় বসে ছিলেন, সেটাতে বসানো হল তাঁকে।

এস. পি বললেন, আমরা ঠাকুর সিংয়ের রূপ মঞ্জিলে গিয়ে দুটো ফাঁকা আওয়াজ করলাম। তারপর গেট খোলার হুকুম দিতেই গেট খুলে গেল। বাড়িটা সার্চ করতে আধঘণ্টার বেশি লাগেনি। ভেতরে প্রায় পঁয়তিরিশজন লোক, প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র, কিন্তু আমাদের বাধা দেয়নি।

নরেন্দ্র ভার্মা বললেন, দাঁড়ান, ওইসব ডিটেইলস একটু পরে শুনব।

তিনি সাইমন বুবুম্বার কাছে এসে বললেন, মিঃ বুবুম্বা, আমাদের দেশে এসে আপনার এই যে বিশ্রী ভোগান্তি হল, সেজন্য আমরা খুবই দুঃখিত। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আমি দুঃখপ্রকাশ করছি। কাল সকালেই আপনাকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আপনার সঙ্গে দেখা করবেন।

সাইমন বুবুম্বা সোজা চেয়ে রইলেন, কোনও কথা বললেন না।

এস. পি বললেন, সার, উনি বোধ হয় খুব মানসিক আঘাত পেয়েছেন, এ-পর্যন্ত একটাও প্রশ্নের উত্তর দেননি।

রাত এখন আড়াইটে। এরকম একজন বিশিষ্ট বিদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে সার্কিট হাউজের সবাই দেখতে এসেছে। সন্তুরা ছিল একটা অন্য ঘরে, জোজো ঘুমিয়ে পড়লেও সন্তু আর মহিম ঘুমোয়নি। তারাও ছুটে এসেছে এ-ঘরে।

কাকাবাবুর মুখখানা প্রসন্ন। তিনি মহিমকে দেখে বললেন, পুরস্কারটা তোমার কপালেই নাচছিল। আমি রেকমেন্ড করে দেব, পুরস্কারের দশ লাখ টাকা যেন তোমাকেই দেওয়া হয়।

মহিম বলল, সার, আমি আর কী করেছি! সব তো আপনার জন্যই হল। আমি এক লাখ পেলেই খুশি হব।

সন্তু একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাইমন বুবুম্বার দিকে। অন্যদের ঠেলাঠেলিতে তাকে পেছন দিকে চলে যেতে হল।

নরেন্দ্র ভার্মা আর অন্য অফিসাররা সাইমন বুবুকে কথা বলাবার চেষ্টা। করছেন, কিন্তু তিনি একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি এ-পর্যন্ত।

এবার কাকাবাবু এসে বললেন, মিঃ বুবুম্বা, আপনি কফি খাবেন?

এবারও তিনি উত্তর দিলেন না, এমনকী মাথাও নাড়লেন না।

কাকাবাবু বললেন, থাক, এখন ওসব কথা থাক। এখন ওঁর বিশ্রাম দরকার। ওঁকে শুতে দাও। ঘরের মধ্যে এত ভিড়, ঘর খালি করে দাও!

এস. পি-সাহেব বললেন, সেই ভাল। উনি ঘুমোন। আপনারা কেউ ওঁকে অফিশিয়ালি আইডেন্টিফাই করবেন? আমাকে একটা রিপোর্ট তৈরি করতে হবে।

নরেন্দ্র ভার্মা বললেন, আমি নিজে ওকে দেখিনি, ছবি দেখেছি। রাজা, ছবিগুলো কোথায়?

কাকাবাবু বললেন, সে ফাইল তো ফরেস্ট বাংলোয় রয়েছে। ছবির সঙ্গে মিল আছে। কাল সকালে জোজো একবার আইডেন্টিফাই করেছিল। সন্তু, একবার জোজোকে ডাক তো।

সন্তু বলল, জোজোকে ডাকবার দরকার নেই। এই লোকটি সাইমন বুবুম্বা নয়!

সবাই সন্তুর দিকে তাকাল।

কাকাবাবু বললেন, অ্যাঁ কী বলছিস তুই, সন্তু?

সন্তু বলল, কোনও আফ্রিকানের কি টিকি থাকে? এর চুলে টিকি আছে!

এস. পি সাহেব প্রায় হুমড়ি খেয়ে পড়লেন লোকটির মাথার ওপর।

ভাল করে পরীক্ষা করতেই বোঝা গেল, লোকটির মাথায় যে কোঁকড়া-কোঁকড়া চুল, তা আসলে পরচুলা। তার তলা দিয়ে, ঘাড়ের কাছে। বেরিয়ে পড়েছে একটা বেশ পুরুষ্টু টিকি। ওর ভুরু দুটোও কিছুটা আঁকা।

একটানে পরচুলাটা খুলে ফেলতেই দেখা গেল, লোকটার মাথায় অনেকখানি টাক, বাকি চুলগুলো একটুও কোঁকড়ানো নয়। মোটেই আফ্রিকান নয়, এ এক টিকিওয়ালা বিহারী ব্রাহ্মণ। ছদ্মবেশ ধরলেও টিকিট কাটতে রাজি হয়নি।

এস. পি বললেন, মাই গড! এ যে একটা ইমপস্টার। নকল লোক!

নরেন্দ্র ভার্মা সাঙ্ঘাতিক হতাশ হয়ে ধপ করে বসে পড়লেন মাটিতে।

কাকাবাবুর মুখখানা পাথরের মতন শক্ত হয়ে গেছে।

এস. পি-সাহেব রিভলভার বার করে ধমক দিয়ে বললেন, এই, বোবা সেজে থাকলে তোর খোপড়ি উড়িয়ে দেব, তুই কে? তোর নাম কী বল!

লোকটি এবার হাতজোড় করে বলল, হুজুর, আমার নাম রামশরণ দুবে। আমার কোনও দোষ নেই। ঠাকুরসাহেব আমাকে যেরকম সেজে থাকার হুকুম দিয়েছেন, আমি সেরকম থেকেছি। আমি আরকিছু জানি না!

এস. পি-সাহেব রাগ সামলাতে পারলেন না। ঠাস করে এক চড় কষালেন লোকটার গালে।

নরেন্দ্র ভামা ব্যাকুলভাবে বললেন, কী হবে, রাজা? পাওয়া গেল না! সাইমন বুবুম্বা কোথায় আছে, এখনও আমরা জানি না!

কাকাবাবু বললেন, ঠাকুর সিং নোকটা এত ধড়িবাজ! ভেবেছিলাম ওর বুদ্ধি নেই! ও একটা নকল লোককে সাজিয়ে রেখে আমাদের চোখে ধুলো দিয়েছে! আসল লোকটাকে লুকিয়ে রেখেছে অন্য কোথাও!

সন্তু বলল, কাকাবাবু, কাল সকালে যখন ঠাকুর সিং আমাদের দেখিয়েছিল সাইমন বুবুম্বাকে, তখনই আমার একটু-একটু সন্দেহ হয়েছিল। অত সহজে দেখাবে কেন?

কাকাবাবু বললেন, আমারও যে সন্দেহ হয়নি তা নয়। তারপর ভেবেছিলাম, লোকটা অত্যন্ত অহঙ্কারী। বোকা আর অহঙ্কারী। অহঙ্কারের চোটে আমাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

এস. পি-সাহেব বললেন, তা হলে দেখলেন তো, ঠাকুর সিংকে আমরা কেন জেলে ভরতে পারি না? ও কোনও প্রমাণ রাখে না। সাইমন বুবুম্বাকে যে ও কিংবা ওর দল গুম করেছে, তা এখনও প্রমাণিত হল না। ও বলবে, একজন

নকল লোককে সাজিয়ে রেখে ও আমাদের সঙ্গে মজা করেছে।

নরেন্দ্র ভামা আবার বললেন, রাজা, তোমার এত পরিশ্রম, সব নষ্ট হয়ে গেল! টাকা না দিলে সাইমনকে ওরা মেরে ফেলবে। টাকা দিতেই হবে। আমরা কিছুই করতে পারলাম না!

কাকাবাবু বললেন, তুমি এত ভেঙে পড়ছ কেন? এখনও তো তিনদিন সময় আছে। একবার যখন এই কাজে নেমে পড়েছি, তখন এর শেষ না দেখে ছাড়ব না! সাইমন বুবুম্বাকে আমি উদ্ধার করবই!

নরেন্দ্র ভার্মা বললেন, আবার সব নতুন করে শুরু করতে হবে। তিনদিনের মধ্যে কি তা সম্ভব!

কাকাবাবু বললেন, ঠাকুর সিংকে আমি ছাড়ব না। ও যেখানেই লুকিয়ে রেখে থাকুক…

এস. পি-সাহেব বললেন, ঠাকুর সিংকে এখনও আপনার চিনতে বাকি আছে। হাজার জেরা করলেও ওর মুখ থেকে একটা কথা বার করা যায় না। অবশ্য আমরা তবু চেষ্টা করব—

কাকাবাবু বললেন, আপনাদের যা করার করবেন। তার আগে আমি একলা ওর সঙ্গে কিছু কথা বলতে চাই। একটা জলের জাগ নিয়ে আয় তো, সন্তু–

কাকাবাবু পাশের ঘরের দরজাটা খুলে আলো জ্বাললেন। ঠাকুর সিং এখনও চোখ বুজে আছে। সন্তুর কাছ থেকে জলের জাগটা হাতে নিয়ে কাকাবাবু বললেন, তুই বাইরে থাক।

খাটের কাছে এসে কাকাবাবু ঠাকুর সিংয়ের মুখে-চোখে জলের ছিটে দিতে লাগলেন। বিছানা ভিজে যেতে লাগল, তাতে কাকাবাবু ভ্রূক্ষেপ করলেন না। বেশ কয়েকবার ছিটে দেওয়ার পর বাকি জলটা সবটাই ঢেলে দিলেন ঠাকুর সিংয়ের মুখে।

ঠাকুর সিংয়ের ঘোর অনেকটা কেটে গিয়েছিল এর মধ্যে, তারপর জল লাগায় চোখ পিটপিট করতে লাগল। একসময় পুরো চোখ মেলে কাকাবাবুকে দেখেই ধড়মড় করে উঠে বসল, তারপর টের পেল যে তার হাত-পা বাঁধা।

প্রথমে সে যেন কিছুই মনে করতে পারল না।

বেশ কয়েক মুহূর্ত অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে বলল, তুমি… তুমি… রায়চৌধুরী?

কাকাবাবু ঠাট্টার সুরে বললেন, হাঁ জনাব!

ঠাকুর সিং একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, তোমার ওপর আমি দু দুবার গুলি চালালাম, তবু তুমি বেঁচে আছ?

ওরকম দু-চারটে রাইফেলের গুলি আমি হজম করে ফেলতে পারি!

তুমি জঙ্গল থেকে… একটা জানোয়ারের মতন আমাকে বেঁধে এনেছ?

বেঁধে আনতেই হয়েছে।

অনেক লোক দেখেছে?

এত রাত্রে খুব বেশি লোক দেখেনি। কাল সকালে দেখবে। তোমাকে এখান থেকে এই অবস্থায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে থানায়!

ঠাকুর সিং মাথাটা পেছন দিকে হেলিয়ে কাতরভাবে বলল, হায় ভগবান!

তারপর জ্বলন্ত চোখে কাকাবাবুর দিকে তাকিয়ে বলল, রায়চৌধুরী, বাংগালিবাবু, তোমাকে দেখে আমার কী মনে হচ্ছে জানো? দুটো ইচ্ছে হচ্ছে। প্রথমটা হল, আমার এই দু হাতে তোমার গলা টিপে মেরে ফেললে আমার মনে শান্তি হবে!

কাকাবাবু জিভ দিয়ে চুকচুক শব্দ করে বললেন, না, না, না, না, ওরকম ইচ্ছে মনেও স্থান দেওয়া উচিত নয়। আমাকে গলা টিপে মারা মোটেই সহজ। নয়। আমার গলাটা বেশ শক্ত। আমার হাত দুখানায় বেশ জোর আছে।

আমায় কেউ গলা টিপতে এলে তারও আমি গলা টিপে ধরব যে?

ঠাকুর সিং বলল, আর দ্বিতীয় ইচ্ছেটা হল, তোমার দু পায়ে হাত দিয়ে একবার প্রণাম করি। আমার মাথা তোমার পায়ে ঠেকাই।

কাকাবাবু একটু চমকে গিয়ে বললেন, ওরে বাবা! এ যে উলটো কথা। হঠাৎ এরকম অতিভক্তির কারণটা কী?

রায়চৌধুরী সাব, আমাদের যোদ্ধার বংশ। আমাদের পূর্বপুরুষ সিপাই। মিউটিনির সময় লড়েছে। আমার বাপ-দাদার ভয়ে বাঘে-গোরুতে এক ঘাটে জল খেত। আমার সামনেও এ-তল্লাটে কেউ উঁচু গলায় কথা বলে না। একমাত্র তুমি আমাকে দু-দুবার জব্দ করেছ! তোমাকে সম্মান করব না? তুমি এক আজব মানুষ!

ওসব কথা থাক। তোমার সঙ্গে আমার লড়াই শেষ হয়নি, ঠাকুর সিং! সাইমন বুবুম্বাকে তুমি কোথায় লুকিয়ে রেখেছ?

তোমাকে আমি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলাম, আমার বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করতে পারবে না।

এ আবার কীরকম চ্যালেঞ্জ! একটা নকল লোক সাজিয়ে রেখেছিলে। ওকে দেখিয়ে দিলে, যাতে ওর পেছনে আমরা সময় নষ্ট করি। তোমার বাড়িতে সাইমন বুবুম্বা নেই। যদি থাকত, আর আমি উদ্ধার করতে ব্যর্থ হতাম, তা হলে চ্যালেঞ্জের একটা মানে হত।

তুমি তাকে খুঁজে পাবে না।

এমন কোন জায়গায় লুকিয়েছ, যাতে খুঁজে পাব না? তোমাকে আমি ছাড়ব না ঠাকুর সিং!

পুলিশকে আমি গ্রাহ্য করি না। পুলিশ আমার কাছ থেকে কোনও কথা বার করতে পারবে না। তুমি একাজ থেকে সরে যাও। তুমি ঝুঁকি কেন নিচ্ছ? টাকার জন্য?

না, টাকার পরোয়া আমি করি না। আমার যা টাকা আছে তাতে আমার বেশ চলে যায়। আমি এ কাজ করছি দেশের জন্য। আমাদের দেশের সম্মান বাঁচাবার জন্য। তুমি দেশটেশ গ্রাহ্য করো না। কিন্তু দেশের মানুষের কাছে তোমার কী হেনস্থা করি, তুমি কাল সকালে দেখবে। তোমার হাতে দড়ি বেঁধে টানতে-টানতে নিয়ে যাব রাস্তা দিয়ে, সবাইকে বলব, দ্যাখো, দোর্দণ্ডপ্রতাপ ঠাকুর সিংকে আমি জানোয়ারের মতন বেঁধে এনেছি। এই লোকটা টাকার লোভে একজন সম্মানীয় বিদেশি অতিথিকে গুম করেছে, তাকে খুন করার হুমকি দিয়েছে। যারা এমন দেশের শত্রুতা করে, তাদের এই শাস্তি। এর মুখে এক ঘা করে জুতো মেরে যাও!

ঠাকুর সিংয়ের গায়ে যেন লোহার ছ্যাকা লেগেছে, সে কাতরে উঠল। ব্যাকুলভাবে মিনতি করে বলল, না, না, ওরকম কোরো না। বরং আমায় গুলি করে মারো।

কাকাবাবু কঠোর স্বরে বললেন, তুমি আমাকে মারার জন্য দুবার … ইফেলের গুলি ছুড়েছিলে। তার বদলা হিসেবে আমি কাল রাস্তায় দাঁড়িয়ে তোমার দু গালে দুটো জুতো মারবই!

তোমার পায়ে পড়ি, রায়চৌধুরীসাহেব, তুমি এখানেই আমার মাথায় দুটো গুলি ছুঁড়ে দাও! লোকের সামনে আমার অমন বে-ইজ্জত কোরো না। আমার ছেলেমেয়েরা তা হলে আর মুখ দেখাতে পারবে না। আমরা একসময় এখানকার জমিদার ছিলাম। এ-তল্লাটের সব মানুষ আমাদের মানে।

আগে জমিদার ছিলে, এখন টাকার জন্য চুরি-ডাকাতি করো।

না, আমি চুরি-ডাকাতি করি না। ব্যবসা করি। সে ব্যবসা তোমরা বুঝবে। তোমাকে একটা কথা বলি, সাইমন বুবুম্বাকে আমি লুকিয়ে রাখিনি।

তোমার বাড়িতে রাখখানি, অন্য কোথাও রেখেছ।

না। তাও রাখিনি। সে আমার জিম্মায় নেই!

কাল যে বলেছিলে সে তোমার জিম্মায় আছে। সেটা তা হলে ভাঁওতা দিয়েছিলে আমাদের? কোনটা সত্যি, কালকের কথা, না আজকের কথা?

আজকের কথা। রামজির নাম নিয়ে বলছি, ওই আফ্রিকানকে আমার জিম্মায় রাখিনি।

সাইমন বুবুম্বার গুম হওয়ার ব্যাপারে তোমার কোনও সম্পর্ক নেই? তাহলে বাড়িতে একজনকে সাজিয়ে রেখেছিলে কেন?

সম্পর্ক আছে। তা ঠিক?

সম্পর্ক আছে, অথচ তোমার জিম্মায় রাখোনি, এটা কি ধাঁধা, নাকি? তবে কি তোমার চেনা অন্য কারও জিম্মায় তাকে লুকিয়ে রেখেছ?

ঠাকুর সিং একদৃষ্টিতে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল কাকাবাবুর দিকে।

তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, রায়চৌধুরীবাবু, তুমি আমায় তলোয়ার লড়াইয়ে হারিয়ে দিয়েছ, তোমার ছোকরা দুটো সে কথা রটিয়ে দিয়েছে। তাতেই আমার যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। এর পর লোকে যদি জানে যে, জঙ্গলের মধ্যে তুমি একটা খোঁড়া মানুষ হয়েও আমাকে পেড়ে ফেলেছ, তারপর জানোয়ারের মতন হাত-পা বেঁধে ঘুম পাড়িয়ে নিয়ে এসেছ, তা হলে আর আমার সম্মান কিছুই থাকবে না। তারপর আমার আর বেঁচে থাকারও মানে থাকবে না। আমাদের এদিকে পুলিশে ধরে নিয়ে গেলে কিংবা জেল খাটলে মান যায় না। কিন্তু কারও কাছে লড়াইয়ে হেরে গেলে সবাই ছি-ছি করে। তুমি যদি এই কথাটা কাউকে না বলল, আমার হাত-পায়ের দড়ি খুলে দাও, তা হলে তোমাকে একটা গোপন কথা জানাতে পারি।

কাকাবাবু বললেন, ঠিক আছে, তোমার গোপন কথাটা শুনি, তারপর তোমার শর্ত মানব কি না ভেবে দেখব।

ঠাকুর সিং বলল, কাছে এসো, কানে কানে বলব।

কাকাবাবু বললেন, কানে কানে কেন? এমনই বলল, আমি শুনতে পাব।

ঠাকুর সিং বলল, না, শুধু তোমাকে বলব, দরজার বাইরে কারা দাঁড়িয়ে আছে, সব শুনছে। একটু কাছে এসো

কাকাবাবু নাকটা একবার কোঁচকালেন। কারও কানে কানে কথা বলা তিনি পছন্দ করেন না। অনেকের মুখে গন্ধ থাকে।

তা ছাড়া, কাকাবাবু ভাবলেন, লোকটা তাঁর কানটা কামড়ে ধরবে না তো?

অবশ্য লোকটা বেশ নরম হয়ে এসেছে। অপমানের ভয় ওর প্রাণের ভয়ের চেয়েও বেশি।

কাকাবাবু কানটা এগিয়ে দিলেন, ঠাকুর সিং ফিসফিস করে কথা বলতে লাগল।

প্রথমে কাকাবাবুর মুখে বিরক্তি ও অস্বস্তির ভাব ছিল। তারপর সেখানে ফুটে উঠল বিস্ময়। তারপর সারা মুখে ছড়িয়ে গেল হাসি।

মাথাটা সরিয়ে এনে কাকাবাবু হা-হা করে হেসে উঠলেন।

Share This