চরিত্রের অভিধান

চরিত্রের অভিধান

১) রূপসী

কোথায় তোমার রূপ, গ্রীবায় না চক্ষের মণিতে।
অথবা স্তন-কোরকে, উন্মুক্ত জঙ্ঘায়, ঠিক জানি না।
এক এক বয়েসে তুমি এক এক রূপিণী,
তোমার না, আমার বয়েসে!
কে আছে হেন পুরুষ, এক শরীরের রূপ
দেখে নিতে পারে
নিতান্ত এক জীবন, মর চক্ষে?
কেউ পারে না, জানি!
অসতী দর্পিতা হলে রূপ আসে, স্ফুরিত অধরে
ঝলসাক মিথ্যে প্রেম, মোহিনী ভ্রূ-ভঙ্গে
লোভ রতি প্রবঞ্চনা, জাদুদণ্ড হাতে তুলে নিলে
কবিতায়, শিল্পে তার স্থান দিতে
হুড়োহুড়ি পড়ে যাবে কিনা?

২) বাচাল

ওদের সবার জন্য একটা পৃথক ভূমি খুঁজে দিতে হবে
বাচাল বুড়োর দল সারাক্ষণ
ছেলেখেলা নিয়ে মত্ত থাকে সেইখানে।
সব অস্ত্রশস্ত্ৰ নিয়ে,আণবিক, অতি দানবিক
ক্রেমলিন-লণ্ডন-রোম-প্যারিস-পিকিং, সাদা বাড়ি
ঐ যে অদ্ভুত মুখ, উত্তেজিত ক্ষীণ মুষ্টি
জুলজুলে চোখ সারি সারি
ওরা নিজেদের জন্য তিন হাত মাটি খুঁড়ে নিক্‌।

৩) প্ৰতিপক্ষ

রোদ্‌দুর বৃষ্টির স্বাদ ঐ লোকটা
বেশি পেয়েছিল
বুক ভরে আজীবন ঐ লোকটা
নিশ্বাস নিয়েছে
পবিত্র ঘুমের স্বাদ, সমস্ত স্বপ্নের স্বর্গ,
স্বচ্ছ জীবনের
সব উপভোগ থেকে আমাকে বঞ্চিত করে।
একলা ঐ লোকটা গেল বেঁচে।

8) প্রেমিক

চোখে চোখ রাখো বাহুতে শয়ান বাহু
ধমনী শোনাক্‌ দুই হৃৎস্পন্দন
মুখচন্দ্রিমা গ্রাসে ওষ্ঠের রাহু
পান করো এই দেহের তীব্ৰ অমিয়
স্মৃতি যেন পায় রক্তবীজের আয়ু
পান করো এই দেহের তীব্ৰ অমিয়
তবে, এক নয়, ছোটদেরও কিছু দিও!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *