ভূতের হাসি

ভূতের হাসি - রকিব হাসান - প্রথম প্রকাশ : মে, ১৯৮৮

০১. সাইকেলের লাইট জ্বেলে দিল মুসা আর রবিন

সাইকেলের লাইট জ্বেলে দিল মুসা আর রবিন। বাড়ি এখনও মাইল দুয়েক। শীতকালে ক্যালিফোর্নিয়ার এই পার্বত্য অঞ্চলে হঠাৎ করেই রাত নামে। খাইছে! বলে উঠল সহকারী গোয়েন্দা। আরও আগে রওনা দেয়া উচিত ছিল। হুঁ, অন্ধকারে হাসল রবিন মিলফোর্ড। খাইছে বলা মুদ্রাদোষ হয়ে গেছে তার বন্ধু মুসা...

০২. নিরেট, নিখাঁদ স্বর্ণ

নিরেট, নিখাঁদ স্বর্ণ! বিড়বিড় করল কিশোর। হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছে পুতুলটা। দামী? জিজ্ঞেস করল রবিন। সোনার চেয়েও দামী, মাঝে মাঝে কঠিন শব্দ ব্যবহার, কিংবা দুর্বোধ করে কথা বলা কিশোরের স্বভাব। সোনা আবার সোনার চেয়ে দামী হয় কিভাবে? বুঝতে পারছে না মুসা। হাসিতে বিকশিত...

০৩. পরদিন সকালে নাস্তা সেরেই

পরদিন সকালে নাস্তা সেরেই স্যালভিজ ইয়ার্ডে ছুটে এল মুসা আর রবিন। রেন্টআ-রাইড অটো কোম্পানিতে ফোন করেছিল কিশোর, রাজকীয় রোলস-রয়েস নিয়ে হাজির হয়েছে হ্যানসন। পুরানো মডেলের কুচকুচে কালো বিশাল গাড়িটার জায়গায় জায়গায় সোনালি অলঙ্করণ, খুব সুন্দর। আগে হলিউড যাব, হ্যানসন, বলল...

০৪. এই, কি হচ্ছে এখানে

এই, কি হচ্ছে এখানে? হালকা-পাতলা একজন মানুষ, কাঁধ সামান্য কুঁজো। ধূসর চুল। পুরু কাচের চশমা। ছেলেদের দিকে চেয়ে আছেন। আমাদের অ্যামিউলেট নিয়ে গেল! নালিশ করল যেন মুসা। ছুরি দেখিয়ে, রবিন যোগ করল। তোমাদের অ্যামিউলেট? চোখে বিস্ময় ফুটল মানুষটির। অ তোমাদেরকেই পাঠিয়েছে...

০৫. চাম্যাশরা স্বর্ণ ব্যবহার করে না

শোনো, বললেন প্রফেসর, চাম্যাশরা স্বর্ণ ব্যবহার করে না। এদিকে সোনার খনি কখনই ছিল না। পুতুলটা সোনার হলে, নিশ্চয় চাম্যাশ বোর্ড থেকে এসেছে। চ্যামাশ হোর্ড কি জিনিস, স্যার? জিজ্ঞেস করল রবিন। সতেরোশো নব্বই সাল থেকে আঠারোশো বিশের মধ্যে, বলে চললেন প্রফেসর, ভয়ানক একদল খুনে...

০৬. ছেলেদের দেখেই বলে উঠলেন

এই যে, বেরিয়েছে, ছেলেদের দেখেই বলে উঠলেন মেরিচাচী। এই, ছিলি কোথায়? এত ডাকাডাকি করছি। একেক সময় ভাবি, ইয়ার্ডটা বানানোই হয়েছে বুঝি তোদের লুকোচুরি খেলার জন্যে। নে, কথা বল। ছেলেটাকে দেখিয়ে দিয়ে চলে গেলেন তিনি, অফিসে অনেক কাজ। লম্বা একটা ছেলে, তিন গোয়েন্দার চেয়ে বয়েসে বড়,...

০৭. আমাদের কার্ড তাহলে কোথায়

আমাদের কার্ড তাহলে কোথায় দেখল সে? মুসার প্রশ্ন। দেখেনি, রবিন বলল। নিশ্চয় শুঁটকি বলেছে। মনে হয় না, জোর দিয়ে বলল কিশোর। শুঁটকির কাছে যাওয়ার আগেই আমাদের কথা জেনেছে সে, আমি শিওর। আর শুঁটকি আমাদের সুনাম কিছুতেই করবে না, হিসুংক নাম্বার ওয়ান। তাছাড়া ওর কাছে শুনে থাকলে সেকথা...

০৮. চিড়িয়াখানায় অন্ধকারে হায়েনার হাসি

চিড়িয়াখানায় অন্ধকারে হায়েনার হাসি শুনেছে কিশোর, হাসিটা অনেকটা সেরকম লাগল তার কাছে। ওটাই! গলা কেঁপে উঠল মুসার। ভূতের ছায়া। আজ অন্যরকম লাগছে! মানে? সেদিনের মত কুঁজো নয়। তবে হাসিটা একরকম। জলদি করা দরকার। নইলে হারিয়ে ফেলব। চলো। উঠে, টিলার উল্টো ধার দিয়ে দ্রুত নেমে এল...

০৯. পরদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই

পরদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নামল রবিন। তাড়াহুড়ো করে কাপড় পরে নিচতলায় নামল। বাবা-মা ওঠেননি। তাদের দরজায় টোকা দিয়ে ডেকে বলল, মা, আমার নাস্তা খেয়ে নিচ্ছি। মায়ের ঘুমজড়ানো কণ্ঠ শোনা গেল, ঠিক আছে। কোথায় যাবি? ইয়ার্ডে। জানালা দিয়ে রোদ ঢুকছে রান্নাঘরে। রুটি,...

১০. বাড়ির কোণের দিকে

বাড়ির কোণের দিকে দৌড় দিল ওরা। দ্বিধায় পড়ে গেল লোক দুজন। ক্ষণিকের জন্যে। চেঁচিয়ে উঠল গলা ফাটিয়ে। ফিরেও তাকাল না ছেলেরা। বাগানের শেষে নিচু বেড়া লাফ দিয়ে ডিঙিয়ে এসে পড়ল বাদামী পাহাড়ের গোড়ায়, পথে। পাহাড়ে ওঠো, হাঁপাতে শুরু করল কিশোর। পরিশ্রম একেবারেই সয় না তার। আগে ছুটছে...

১১. ওত পেতেই ছিলেন মেরিচাচী

ওত পেতেই ছিলেন মেরিচাচী, রবিন আর কিশোরকে ঢুকতে দেখেই পাকড়াও করলেন। ওয়ার্কশপের দেয়ালে সাইকেল হেলান দিয়ে রাখল দুই গোয়েন্দা। গোপন পথ দিয়ে ঢুকেও রেহাই মিলল না। কিশোর, কই গিয়েছিলি? সেই কখন থেকে বসে আছে তোর চাচা। এস্টেটে যাবি না? যাব, চাচী। তুমি যাও, আমি এক্ষুণি আসছি।...

১২. কঠিন হয়ে উঠেছে ডাংম্যানের চেহারা

কঠিন হয়ে উঠেছে ডাংম্যানের চেহারা। শক্ত করে ধরে রেখেছে পিস্তল। বুনো পথ ধরে কিশোরের পিছু পিছু প্রায় ছুটে চলেছে শিকারীর বাংলোটার দিকে। তোমার ধারণা, বলল ডাংম্যান, যারা পুতুল ছিনিয়ে নিয়েছে, তারাই আমাকে আক্রমণ করেছিল? তোমাদেরও তাড়া করেছিল? কোন সন্দেহ নেই। তাহলে ওরাই চারজনকে...

১৩. লাঞ্চ শেষে ইয়ার্ডে ফিরে

লাঞ্চ শেষে ইয়ার্ডে ফিরে হেডকোয়ার্টারে ঢুকল আবার রবিন আর মুসা। ফোনধরার যন্ত্রটা দেখল। না, কোন মেসেজ কোড করা নেই, কেউ ফোন করেনি তাদের অবর্তমানে। বেরিয়ে এসে ভেজিট্যারিয়ান লীগ-এ রওনা হলো দুজনে। খুব সতর্ক রয়েছে ওরা। লোক দুটোকে চোখে পড়ল না। কোন নড়াচড়া, কোন রকম সাড়া নেই...

১৪. ইয়ার্ডে পৌঁছেই আগে হেডকোয়ার্টারে ঢুকল

ইয়ার্ডে পৌঁছেই আগে হেডকোয়ার্টারে ঢুকল কিশোর। মুসা আর রবিন ফেরেনি। মেসেজ-রিসিভার যন্ত্রটা দেখল, কোন মেসেজ নেই, ফোন আসেনি। বেরিয়ে এসে তাড়াতাড়ি থানায় ছুটল সে। অফিসেই পাওয়া গেল পুলিশ চীফ ইয়ান ফ্লেচারকে। এই যে, ইয়াং ডিটেকটিভ, এসো এসো, হেসে ডাকলেন তিনি। তারপর, কি মনে করে?...

১৫. পনেরো মিনিট পর সবুজ ফটক

পনেরো মিনিট পর সবুজ ফটক এক দিয়ে নিঃশব্দে বেরিয়ে এল কিশোর। উঠল রাজকীয় রোলস-রয়েসে। চকচকে কালো শরীরে সোনালি অলঙ্করণ, চমত্তার একটা গাড়ি, যদিও মডেলটা পুরানো। ভেজিট্যারিয়ান লীগ, হ্যানসন। জলদি, ঠিকানা বলল কিশোর। ছুটতে শুরু করল রোলস-রয়েস। ইঞ্জিনের শব্দ প্রায় নেই বললেই চলে।...

১৬. মরচে ধরা পুরানো একটা লোহার টেবিল

মরচে ধরা পুরানো একটা লোহার টেবিলের সামনে বসে আছে ডাংম্যান। চেয়ে রয়েছে রঙচটা কাঠের দেয়ালের ধারে বসা মুসা আর রবিনের দিকে। সত্যি বলছি, তোমাদের ব্যথা দিতে খুব খারাপ লাগছে আমার, হাসল ডাংম্যান। জবাব দিল না দুই গোয়েন্দা। কি বলবে? শক্ত করে হাত-পা বাঁধা। কোথায় রয়েছে, জানে না।...

১৭. হুড়মুড় করে অফিসে ঢুকল

হুড়মুড় করে অফিসে ঢুকল কিশোর আর হ্যানসন। ডেস্কের ওপাশে বসে আছেন ইয়ান ফ্লেচার। দুজনকে ওভাবে ঢুকতে দেখে ভুরু কোঁচকালেন। ডাংম্যান একটা ভণ্ড, স্যার! কণ্ঠস্বর সংযত রাখতে কষ্ট হচ্ছে কিশোরের। হোর্ভ চুরির তালে আছে ব্যাটা। তাড়াহুড়ো করে চলে যেতে দেখলাম ওকে। নিশ্চই পেদ্রোজ...

১৮. ছুরি হাতে আবছা অন্ধাকার

ছুরি হাতে আবছা অন্ধাকার কেবিনে দাঁড়িয়ে আছে লোক দুজন। ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছে রবিন আর মুসা। টেবিলের কাছে এসে থামল মুসা, হাত বাড়াল লণ্ঠনটার দিকে, ছুঁড়ে মারবে যে কোন একজনের মুখে। মুসার উদ্দেশ্য বুঝে মাথা নাড়ল একজন, ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে বলল, না না, আমরু বন্ধু। সাহায্য করব।...

১৯. হতাশা ঢাকতে পারলেন না মিস্টার মিলফোর্ড

কিভাবে? হতাশা ঢাকতে পারলেন না মিস্টার মিলফোর্ড। কোথায় আছি কিছুই জানি না। কোন সূত্র নেই। ধারণা নেই। কি করে খুঁজব? সবাই বেরিয়ে এসেছে বাড়ির বাইরে। চাঁদের আলোয় প্রতিটি জিনিসকে কেমন রহস্যময়, ভূতুড়ে দেখাচ্ছে। গাড়ি বারান্দায় পায়চারি করতে করতে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল কিশোর। চীফ,...

২০. নড়ো না, ডাংম্যান

নড়ো না, ডাংম্যান, কঠিন গলায় আদেশ দিলেন ফ্লেচার। তাকে ধরার নির্দেশ দিলেন সহকারীদের। ডাংম্যান, আরেকটা চোর কোথায়? এই যে, স্যার, ধরেছি, অন্ধকার থেকে বলে উঠল একজন পুলিশ। সার্চ করা হচ্ছে ডাংম্যানকে, হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে সে। তার কাছ থেকে ছোট একটা বস্তা নিয়ে চীফের দিকে...