ভাঙা ঘোড়া

ভাঙা ঘোড়া – তিন গোয়েন্দা – সেবা প্রকাশনী – প্রথম প্রকাশ : জুন, ১৯৯১

০১. ইস্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে

এইই, কিশোর, ইস্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে ডাক দিলো মুসা আমান, পিনটু আলভারেজ কথা বলতে চায় তোমার সঙ্গে। সবে ছুটি হয়েছে ইস্কুল, বাইরে তারই জন্যে অপেক্ষা করছে রবিন আর কিশোর। ওই নামের কাউকে চেনো বলে জানতাম না তো, রবিন বললো কিশোরকে। ঠিক চিনি বলতে পারবো না এখনও, জবাব দিলো...

০২. ডরির হুমকি

ডরির হুমকি তখনও যেন কানে বাজছে তিন গোয়েন্দার। দেখলো, চলন্ত ওয়াগনটার দিকে তাকিয়ে আছে পিনটু, চোখে বিতৃষ্ণা। এই অহংকারই সর্বনাশ করলো আমাদের! দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে তার অন্তর থেকে বেরিয়ে এলো ক্ষোভটা। না, পিনটু, প্রতিবাদ করলো লম্বা লোকটা, এটা অহংকার নয়। আত্মসম্মানজ্ঞান।...

০৩. গোলাঘর থেকে ছুটে বেরোলো তিন গোয়েন্দা

গোলাঘর থেকে ছুটে বেরোলো তিন গোয়েন্দা। হালকা ধোঁয়ার গন্ধ নাকে ঢুকলো। চত্বরে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছে আর চিৎকার করছে দুজন লোক। রিগো! পিনটু! আগুন! ওই যে! বাঁধের কাছে। ফ্যাকাসে হয়ে গেছে রিগোর মুখ। কোরালে দাঁড়িয়েই দেখতে পেলো সবাই, উত্তরের শুকনো বাদামী পর্বতের ভেতর থেকে মেঘলা...

০৪. দেখে মনে হচ্ছে ধোঁয়ার ভেতর থেকে

দেখে মনে হচ্ছে ধোঁয়ার ভেতর থেকে এই বুঝি লাফিয়ে এসে ওদের ঘাড়ে পড়বে ঘোড়াটা। তার জন্যে অপেক্ষা করলো না আর দুজনে, ঘুরেই দিলো দৌড়। চিৎকার শুনে ওদের দিকে ছুটে আসতে লাগলো রবিন আর পিনটু। পেছনে সরু পথে চলার গতি বাড়িয়ে দিলেন রাশেদ পাশা, রিগো, হুগো আর স্টেফানো। মাথা নেই! মাথা...

০৫. চিৎকার করে উঠলেন প্রফেসর ওয়ালটার সাইনাস

ফ্যানটাসটিক! চিৎকার করে উঠলেন প্রফেসর ওয়ালটার সাইনাস, চকচক করছে চোখ। কোনো সন্দেহ নেই, ইয়াং ম্যান, কোনো সন্দেহ নেই! এগুলো ক্যাসটিলির রয়াল কোট অভ আরমরেই চিহ্ন! শুক্রবার বিকেল। হলিউডে প্রফেসরের স্টাডিতে বসে আছে তিন গোয়েন্দা। সেদিন সকালে ফোন করে বিখ্যাত চিত্রপরিচালক...

০৬. শনিবার সকাল

শনিবার সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলো কিশোর। বৃষ্টি থামেনি, পড়েই চলেছে। তবে বৃষ্টি তাকে আলভারেজ র‍্যাঞ্চে যাওয়া ঠেকাতে পারতো না, যেতে পারলো না অন্য কারণে। ফোন করে রবিন আর মুসা জানালো, বাড়িতে জরুরী কাজ আছে, দুপুরের আগে আসতে পারবে না। গেল মনটা খারাপ হয়ে। শেষে আর ঘরে বসে থাকতে...

০৭. ইলশে গুঁড়িতে পরিণত হলো বৃষ্টি

রোববার সকালে ইলশে গুঁড়িতে পরিণত হলো বৃষ্টি। হেরিয়ানার কাছ থেকে একটা সাইকেল আর একটা রেনকোট চেয়ে নিয়ে শহরে রওনা হলো পিনটু। হিসটোরিক্যাল সোসাইটির সামনে কিশোরের সাথে দেখা করলো দুপুরের দিকে। রবিন গেছে লাইব্রেরিতে খুঁজতে, কিশোর জানালো। কাউন্টি ল্যাণ্ড অফিসে গেছে মুসা। কনডর...

০৮. বৃষ্টি থেমেছে

বৃষ্টি থেমেছে। কিন্তু পর্বতের ওপরে এখনও ইতিউতি ঘুরছে কালো মেঘের ভেলা যে-কোনো সময় ঝরঝর করে নামার পাঁয়তাড়া কষছে যেন। কাঁচা রাস্তা ধরে সাইকেল চালিয়ে বাঁধের দিকে চলেহে দুই গোয়েন্দা আর পিনটু। শুকনো অ্যারোইওর কাছে একজায়গায় মোড় নিয়েছে পথটা, সেখানে এসে থামলো পিনটু। আমি যতদূর...

০৯. আবার বেজে উঠলো হুইসেল

আবার বেজে উঠলো হুইসেল। শান্ত হয়ে গেল কুকুরগুলো, শুয়ে পড়লো গাছের গোড়ায়। দেখো। হত তললো রবিন। ভটকি আর তার মানেজার! লাফিয়ে লাফিয়ে বাঁধের ওপর দিয়ে দৌড়ে আসহে তালপাতার সেপাই ছেলেটা। পেছনে তার হোল্কা ম্যানেজার। গাহের ওপরে ছেলেদের দেখে দাঁত বের করে হাসলো টেরিয়ার। আমাদের এলাকায়...

১০. হেরিয়ানোকে খবর দিতে চললো পিনটু

হেরিয়ানোকে খবর দিতে চললো পিনটু। রকি বীচে ফিরে চললো মুসা আর রবিন। তাড়াতাড়ি সাইকেল চালালো ওরা। বাড়ি ফিরে বার বার কিশোরকে ফোন করলে দুজনে, কিন্তু সাড়া পাওয়া গেল না স্যালভিজ ইয়ার্ড থেকে। বার্থডে পার্টি থেকে ফেরেনি বোধহয় কিশোররা। শুতে যাওয়ার আগে আরও একবার ফোন করলো দুজনে,...

১১. পুলিশ হেডকোয়ার্টারে

পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ওপরের একটা তলায় রকি বীচ জেলখানা। তালাবদ্ধ গরাদের সামনে ডেস্কে বসে আছে একজন ডিউটিরত পুলিশ্যান। দ্বিধাজড়িত পায়ে তার দিকে এগিয়ে গেল দুই গোয়েন্দা। রিগো আলভারেজের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চাইলো। সরি, বয়েজ, লোকটা বললো, লাঞ্চের পরে ভিজিটিং আওয়ার। তবে...

১২. হাসিয়েনডার চত্বরে

হাসিয়েনডার চত্বরে ঢুকলো রবিন আর মুসা। বৃষ্টি থেমেছে। পোড়া কালো ধ্বংসপটা নীরব, নির্জন। কিছু পোড়া খুঁটি আর দেয়াল দাঁড়িয়ে রয়েছে এখনও, যেন ঘরগুলোর কঙ্কাল। হাসিয়েনডার পেছনে পাহাড়ের মাথায় আগের মতোই দাঁড়িয়ে রয়েছে ভাঙা ঘোড়ার মূর্তি, নিচ দিয়ে ভেসে যাওয়া মেঘের মধ্যে কেমন যেন...

১৩. লাইব্রেরিতে এসে

লাইব্রেরিতে এসে পিনটুকে খুঁজে বের করলো কিশোর। মুখ কালো করে বসে আছে আলভারেজদের শেষ বংশধর। কললো, গিরিখাতে গোলাগুলির অনেক খবর আছে। কিন্তু ডনের কি হয়েছিলো, সে-সম্পর্কে কিছুই নেই। দরকারও নেই। জিনিস পেয়ে গেছি আমি। রবিন আর মুসাও নিশ্চয় কাজ শেষ কবে ফেলেছে। চলো, যাই। কোথায়?...

১৪. রাতে আবার জোর বৃষ্টি

রাতে আবার জোর বৃষ্টি শুরু হলো। ঝরলো পরদিন সারাটা কেলা। ইস্কুলে যেতে হলো তিন গোয়েন্দাকে। ক্লাসে বসে তলোয়ারটার কথা আলোচনার সুযোগ পেলো না। বিকেলে ভাইকে চাবিটা দেখাতে নিয়ে গেল রিগো। তিন কাউবয়ের কথা বললো। রিগোও চিনতে পারলো না ওদের। চাবিটাও না। পোড়া গোলাবাড়িতে কেন এসেছিলো...

১৫. বৃহস্পতিবার ইস্কুল ছুটি হলো

বৃহস্পতিবার ইস্কুল ছুটি হলো। বৃষ্টি কিছুটা কমে এসেছে। সূত্র খুঁজতে রওনা হলো গোয়েন্দারা। বৃষ্টিতে ভিজে কাহিল হয়ে আছে রাস্তার অবস্থা। সাইকেল চালানোই মুশকিল। কাঁচা রাস্তার ধারে মাঝে মাঝে হাউনি রয়েছে, হঠাৎ বৃষ্টি এলে বা অন্য কোনো অসুবিধেয় পড়লে পথচারীদের মাথা গোঁজার জন্যে।...

১৬. কাদায় ভরা কাঁচা রাস্তায়

কাদায় ভরা কাঁচা রাস্তায় পৌঁছার আগে থামলো না ছেলেরা। হাঁপাতে হাঁপাতে তাকালো ডানে-বাঁয়ে। বুঝতে পারছে না এখন কোনদিকে যাওয়া দরকার। এটা দিয়ে গেলে, মুসা বললো, কাউন্টি রোডে যাওয়ার আগেই ধরে ফেলবে। পাহাড়ে উঠতে গেলেও দেখে ফেলবে, বললো রবিন। বাঁধের ওপর দিয়েও আর যাওয়া যাবে না এখন,...

১৭. বাতাসে মিলিয়ে গেছে যেন মুসা

বাতাসে মিলিয়ে গেছে যেন মুসা। কোথায় গেল? এদিক ওদিক তাকাচ্ছে পিনটু, চোখে অবিশ্বাস। মুসাআ! চিৎকার করে ডাকলো রবিন। মুসা, কোথায় তুমি? ডেকে জিজ্ঞেস করলো কিশোর। ঢালে যতদূর চোখ যায়, চোখ বোলালো ওরা। মুসার চিহ্নও নেই। সাড়াও দিলো। কান পেতে রয়েছে তিনজনে। তারপরে শোনা গেল আওয়াজটা।...

১৮. পেছনে লোক লেগে ছিলো

পেছনে লোক লেগে ছিলো, কিশোর বললো, এটা জানতেন ডন। এখানে আনেননি হয়তো সেজন্যেই। তাহলে কোথায় লুকালেন? রবিনের প্রশ্ন। পিনটু বললো, ডন চিঠিতে কনডর ক্যাসলের কথা লিখেছিলেন। যাতে তাঁর ছেলে এসে তলোয়ারটা খোজে এখানে। ঠিক? ঠিক, বললো কিশোর। তিনি হয়তো আশা করেছিলেন, ছেলে ফিরে আসা...

১৯. ঠিক দেখেছো তো মুসা

ঠিক দেখেছো তো মুসা? শান্তকণ্ঠে বললো কিশোর, হয়তো তেমন বড় নয়। চলো, দেখে আসি। সুড়ঙ্গটা সরু, কিন্তু ঠাসাঠাসি করে জায়গা হয়ে গেল চারজনের। সবাই মিলে ঠেলা লাগালো পাথরটায়। হাউফ করে নিঃশ্বাস ছাড়লো মুসা। বা পরে বাপ! পা ফসকে গেল পিনটুর। গায়ের জোরে ঠেলছে কিশোর আর রবিন। কিন্তু এক...

২০. একসাথে চেঁচিয়ে

কী, কিশোর? একসাথে চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলো মুসা আর রবিন। কথা বলতে গিয়ে থেমে গেল গোয়েন্দাপ্রধান। কাউন্টি রোডের দিকের শৈলশিরাটার দিকে হাত তুললো। মানুষ! কাউবয়গুলো না তো? কপালের ওপর হাত তুলে এনে বৃষ্টি বাঁচিয়ে ভালোমতো তাকালো মুসা। চারজন লোক আসছে। না না, কাউবয় না! খুশি হয়ে...