প্রজাপতির খামার

প্রজাপতির খামার - তিন গোয়েন্দা সিরিজ - সেবা প্রকাশনী - প্রথম প্রকাশ : মার্চ, ১৯৯১

০১. মেঝেতে ম্যাপ বিছিয়ে

এখানেই বিছাই, বলে, মেঝেতে ম্যাপ বিছিয়ে দেখতে বসে গেল কিশোর পাশা। হ্যাঁ, এইই ভালো হয়েছে, বললো রবিন। টেবিলটা একটু সরাতে হয়েছে, এই যা। তবে বড় ম্যাপ দেখতে মাটিতেই সুবিধে। বেশি আওয়াজ করো না, হুঁশিয়ার করলো জিনা। বাবা স্টাডিতে। শব্দ শুনলেই এসে চেঁচামেচি শুরু করবে। না, করবো...

০২. সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে

সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে গিয়ে গোলাঘরে রেখেছে জনি। দুটো তাঁবু, দুটোই ভালো। আবহাওয়া এখন যেরকম, তেমন থাকলে এই ভাবুরও দরকার নেই। খোলা আকাশের নিচেই ঘুমাতে পারবে অভিযাত্রীরা। জিনিসগুলোর প্রশংসা করলো তিন গোয়েন্দা আর জিনা। একটা ঠেলাগাড়ি বের করে তাতে জিনিসগুলো তুলতে আরম্ভ করলো...

০৩. সরু একটা পাহাড়ী পথ

সরু একটা পাহাড়ী পথ ধরে ওদেরকে নিয়ে চললেন ডাউসন। এতো জঙ্গল হয়ে আছে, পথটা প্রায় চোখেই পড়ে না। মাঝামাঝি আসতেই শোনা গেল একটা ভেড়ার বাচ্চার ডাক, পরক্ষণেই কথা বলে উঠলো একটা কচিকণ্ঠ, ভাইয়া, ভাইয়া, আমি এখানে। আমাকে নিয়ে যাবি? ল্যারি আর টোগো। প্রায় একই রকম করে লাফাতে লাফাতে...

০৪. গরগর করে উঠলো রাফি

গরগর করে উঠলো রাফি আর ডবি। পাই করে ঘুরলো সবাই। ডাইনীর মতো দেখতে মহিলাটা দাঁড়িয়ে আছে। মুখের ওপর এসে পড়েছে তার পাটের আঁশের মতো ফিনফিনে চুল। কি ব্যাপার, মিসেস ডেনভার? দ্রকণ্ঠে বললো কিশোর। আমরা খামার দেখতে এসেছি। কিছু নষ্ট করব না। করো আর না করো, সেটা ব্যাপার না, দাঁত নেই...

০৫. কিছু না-ই যদি হবে

কি বলো? কথাটা ধরলো কিশোর, কিছু না-ই যদি হবে, তাহলে লিখেছে কেন? ওরকম নোটিশ এই এয়ারফীন্ডের আশেপাশে অনেক দেখতে পাবে, হালকা গলায় বললো জনি। বিপদ আছে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়ে সরে থাকতে বলেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটা বিপদও দেখিনি আমি। শুধু প্লেন আছে, কামান-বন্দুকবোমা কিছু নেই।...

০৬. খেতে খেতে অনেক কথাই হলো

খেতে খেতে অনেক কথাই হলো। শেষে বিদায় নিয়ে যাওয়ার জন্যে উঠলো জ্যাক। তাকে গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিলো ছেলেমেয়েরা। টোগোকে নিয়ে ল্যারিও এলো তাদের সঙ্গে। লম্বা লম্বা পায়ে পাহাড়ের মোড়ে হারিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত গেটের কাছে দাঁড়িয়ে রইলো ওরা। তারপর আবার ফিরে এলো বাড়িতে। ডিম, দুধ,...

০৭. রাতের খাওয়ার জন্যে তৈরি

রাতের খাওয়ার জন্যে তৈরি হতে লাগলো ওরা। রবিন আর জিনা গিয়ে খাবার নিয়ে এলো ভাঁড়ার থেকে। রাফিয়ান গেছে সাথে, যদি কোনো সাহায্য করতে পারে এই আশায়। কিন্তু মুখে ঝুলিয়ে আনার মতো কিছু না থাকায় খালিমুখেই ফিরতে হয়েছে তাকে। খেতে বসে বার বার অস্বস্তিভরে পশ্চিম আকাশের দিকে তাকাতে...

০৮. একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগলো

অবাক হয়ে একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগলো ওরা। এমন কি জরুরী ব্যাপার ঘটলো যে এই দুর্যোগের মাঝেওউড়তে হলো বিমানটাকে? ঝড়ের মাঝে ওড়ার ট্রেনিং দিচ্ছে? নিজের কানেই বেখাপ্পা শোনালো যুক্তিটা। না, তা হতে পারে না। এখান থেকে ওড়েনি, রবিন বললো। হয়তো অন্য কোনোখান থেকে এসেছে। কিংবা উড়ে...

০৯. প্রবেশপথের বাইরে দাঁড়িয়ে

প্রবেশপথের বাইরে দাঁড়িয়ে হাঁপাতে লাগলো দলটা। শব্দ শুনে ভয় পেয়ে পালিয়ে এসেছে বলে এখন গাধা মনে হচ্ছে নিজেদের। বাবারে বাবা! কপালের ঘাম মুছে বললো মুসা। মনে হচ্ছিলো কানের ফুটো দিয়ে একেবারে মগজে ঢুকে যাচ্ছে। ভয়ানক শব্দ! ফ্যাকাসে হয়ে গেছে জিনার মুখ। ওই গুহায় আর ঢুকছি না...

১০. পাহাড় বেয়ে নেমে

পাহাড় বেয়ে নেমে খামারের দিকে এগিয়ে গেল দুজন পুলিশ। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলো ছেলেমেয়েরা। রাফিও দুপায়ের ফাঁকে লেজ ঢুকিয়ে দিয়ে চেয়ে রয়েছে। সে জানে না কি হয়েছে, কিন্তু বুঝতে পারছে খারাপ কিছু ঘটেছে। এখানে দাঁড়িয়ে থেকে আর লাভ নেই, কিশোর বললো। প্রজাপতি মানবদের কাছে...

১১. প্রায় সারাটা বিকেল

প্রায় সারাটা বিকেল বিমান চুরি আর কালো চশমা পরা লোকটার কথা আলোচনা করেই কাটালো ওরা। একটা কথা কিছুতেই বুঝতে পারছে না, নিজেকে ভরি বলে চালাতে গেল কেন সে? এতো বড় বোকামি কেন করলো? তার বোঝা উচিত ছিলো, কারো সন্দেহ হলে, আর সামান্য খোঁজ করলেই ব্যাপারটা ফাঁস হয়ে যাবে। হয়তো ব্যাটা...

১২. নিঃশব্দে কটেজের কাছে

নিঃশব্দে কটেজের কাছে চলে এলো তিনজনে। জানালার বেশি কাছে যাবে না, সতর্ক করলো কিশোর, ফিসফিস করে কথা বলছে। যতোটা না গেলে নয় ঠিক ততোটা। আমরা দেখবো, কিন্তু আমাদের যেন দেখে না ফেলে। ওটা বোধহয় রান্নাঘরের জানালা, মুসা বললো। মিসেস ডেনভার হয়তো ওখানেই থাকে। ঘুমিয়েছে কিনা কে জানে!...

১৩. পালানোর চেষ্টা করলে

পালানোর চেষ্টা করলে অবশ্য সবাই ধরা পড়তো না, কিন্তু সে চেষ্টা করলো না ওরা। জনি আর মুসার কজি চেপে ধরলো টেড। অবাক হলো মুসা। সাংঘাতিক জোর লোকটার গায়ে। হাতই নাড়াতে পারছে না সে, এতো জোরে ধরেছে। বেরিয়ে এলেন মিস্টার ডাউসন আর ডরি। কিশোরকে ধরলেন। এখানে কি করছো? কাচের ঘর ভাঙলে...

১৪. এখানে আর কথা বলা যাবে না

চলো যাই, জিনা বললো। এখানে আর কথা বলা যাবে না। মিসেস ডেনভারও বোধহয় আর কিছু জানে না। ওর ছেলেটাকে ধরে নিয়ে যাওয়ায় খুব খুশি হয়েছি। আমি। আর এসে মাকে মারতে পারবে না। এমন বদমাশ ছেলে, মাকে মারে… তোমরাও কি কম নাকি? জানালার বাইরে থেকে বললেন ডাউসন। চুপ করুন! রেগে গেল জিনা।...

১৫. থমথমে নীরবতা

থমথমে নীরবতা। কেউ জানে না কোথায় খুঁজতে হবে। কথাটা যেন প্রচণ্ড আঘাত করে স্তব্ধ করে দিয়েছে সবাইকে। সবার মনেই এক প্রশ্নঃ কোথায় আছে রিড আর জ্যাক? এতো সহজে কজা হয়ে গেল দুজনে? মুসা মুখ খুললো। নিশ্চয় এয়ারফীল্ডে বিশ্বাসঘাতক রয়েছে, চোরগুলোকে সাহায্য করেছে যে। থাকতে পারে, কলিউড...

১৬. ল্যারির নাম ধরে ডাকতে ডাকতে

ল্যারির নাম ধরে ডাকতে ডাকতে পুকুরের দিকে চলে গেল জনি। মাঝখানটা বেশ গভীর ওটার, আর ল্যারি সাঁতার জানে না। রাফিয়ানকে নিয়ে জিনা আর তিন গোয়েন্দা ছুটলো গেটের দিকে। খাড়া ঢাল বেয়ে ওঠার সময় এদিক ওদিক তাকালো ওরা, বার বার ডাকতে লাগলো ল্যারির নাম ধরে। কিন্তু ছেলেটার ছায়াও নেই।...

১৭. ঝাড়-জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে

ঝাড়-জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে রুদ্ধশ্বাসে প্রায় দৌড়ে চলেছে দলটা। ভেড়ার বাচ্চাটা মুসার কোলে। ওটা বুঝতেই পারছে না ব্যাপারটা কি? মানুষগুলো এরকম করছে কেন? আর সেজন্যেই যেন থেকে থেকে চেঁচিয়ে উঠছে ব্যা ব্যা করে। শরীর মুচড়ে, লাথি মেরে নেমে পড়তে চাইছে কোল থেকে, কিন্তু কেউ তার আবেদন...