পাগল সংঘ

পাগল সংঘ – তিন গোয়েন্দা – সেবা প্রকাশনী – প্রথম প্রকাশ : মে, ১৯৯১

০১. আহ, বন্ধ করো

আহ, বন্ধ করো, অনুনয় করলো কিশোর, বন্ধ করো ওটা। সুইভেল চেয়ারে এলিয়ে পড়েছে সে। খসখসে হয়ে উঠেছে কণ্ঠস্বর। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় বিকৃত হয়ে গেছে মুখ। তার সব চেয়ে ঘনিষ্ঠ দুজন বন্ধুর সামনে অত্যাচার করা হচ্ছে তাকে, অথচ সেটা থামানোর কোনো চেষ্টা করছে না ওরা। বরং তার কষ্ট দেখে হাসছে...

০২. হলিউডের ভাইন স্ট্রীট

হলিউডের ভাইন স্ট্রীট গেটের সামনে লিমুজিনটাকে থামতেই হলো। শোফারকে চেনে ইউনিফর্ম পরা গার্ড, তবু থামালো। গাড়ির পেছন দিকে এসে পেহুনের সীটে বসা তিন কিশোরকে দেখলো, হাতে একটা লিস্ট। নাম-ঠিকানা মিলিয়ে নেয়ার জন্যে ওদের নাম জিজ্ঞেস করলো। কিশোর পাশা, বললো কিশোর। মনে মনে ঠিক করে...

০৩. লাঞ্চ টেবিলটা পরিষ্কার করে

লাঞ্চ টেবিলটা পরিষ্কার করে সরিয়ে নেয়া হলো। তার জায়গায় এনে অর্ধচন্দ্রের আকারে গোল করে রাখা হলো সুইভেল চেয়ার। মাঝখানের চেয়ারটায় বসলো হ্যারিস বেকার, অনেকটা উপস্থাপকের ভূমিকা নেবে সে। কিংবা বলা যায় গৃহকর্তার। তার একপাশে নেলি, আরেক পাশে মড়ার খুলি। কিশোর বসেছে একমাথায়,...

০৪. শুরু হয়নি এখনও

শুরু হয়নি এখনও, রবিন বললো। চ্যানেল ঠিক আছে তো? মুসার প্রশ্ন। মাথা ঝাঁকালো রবিন। পৌনে পাঁচটায় দেখানোর কথা, খবরের আগে। কাগজে তো তাই লিখেছে। কিন্তু এখন তো দেখছি পুরনো এক ওয়েস্টান হবি। রকি বীচে ফিরেই সোজা এসে হেডকোয়ার্টারে ঢুকেছে তিন গোয়েন্দা। রকিং চেয়ারে বসে টেবিলে পা...

০৫. আর্ক লাইটের আলোয় স্তব্ধ

আর্ক লাইটের আলোয় স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তিন গোয়েন্দা। ধাতব দণ্ডটায় এখনও হাত রয়ে গেছে মুসা আর রবিনের। কিশোরের হাত রিফ্রেক্টর বক্সের ভেতরে। যেখানে আহো, দাঁড়িয়ে থাকো, আদেশ দিলো একটা কণ্ঠ। দাঁড়িয়ে রইলো হেলেরা। আলো জ্বালানোর মাস্টার কন্ট্রোল সুইচ বক্সের কাছ থেকে তাদের...

০৬. পরদিন সকালে নাস্তা সেরে

পরদিন সকালে নাস্তা সেরে মেরিচাচীকে বাসন-পেয়ালা ধুতে সাহায্য করলো কিছুক্ষণ কিশোর। তারপর বেরিয়ে এসে ঢুকলো তার ওয়ার্কশপে। কুইজ শোর অনুষ্ঠান রেকর্ড করতে টেলিভিশন স্টেশনে যাবার কথা দুটোর সময়। বেশির ভাগ কুইজ শোতেই, জানে সে, যার যার নিজের বিষয় পছন্দ করে নিতে বলা হয়।...

০৭. নিরাশ হলো না গোয়েন্দাপ্রধান

কিন্তু তাতেও নিরাশ হলো না গোয়েন্দাপ্রধান। সে আশাও করেনি টেলিফোনটা কাজ করবে। যে লোক তাকে এখানে আটকে রেখে গেছে, সে টেলিফোন চালু রেখে যাবে এতো বোকা নিয়ে নয়। তিন নম্বর কাজ, ফোনটা ঠিক করা, সম্ভব হলে। কোথায় লাইনটা কাটা হয়েছে, সহজেই খুঁজে পাওয়া গেল। মেঝের কাছাকাছি জায়গায়।...

০৮. পাগল সংঘের প্রথম কুইজ শো

পাগল সংঘের প্রথম কুইজ শো শুরু হলো। রসিকতা আর কিছু উষ্ণ হাসির মাধ্যমে দর্শকমণ্ডলীকে তাতিয়ে নিয়ে, কুইজের নিয়মকানুন কলতে শুরু করলো বেকার। এক এক করে প্রশ্নের জবাব দেবে প্রতিযোগীরা। সঠিক জবাব দিতে পারলে পাঁচ নম্বর পাবে, প্রতি প্রশ্নের জন্যে। যদি কেউ কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে...

০৯. যাদেরকে সন্দেহ করি

যাদেরকে সন্দেহ করি, কিশোর কললো। এক নম্বর, একটা আঙুল তুললো সে, ভারিপদ। হেডকোয়ার্টারে আলোচনায় বসেছে তিন গোয়েন্দা। টেলিভিশন স্টেশন থেকে ফিরে সোজা এসে ঢুকেছে এখানে। ভারিপদ,আবার বললো কিশোর, তার সম্পর্কে কি কি জানি আমরা? জবাব পেলো না সে। আশাও করেনি পাবে। আসলে মনে মনে না...

১০. চিনেই ফেললে তাহলে

চিনেই ফেললে তাহলে, হেফার কললো। অন্য পাগলদের চেয়ে আমাকে নাকিই বলতে পারো, অন্তত মড়ার খুলির চেয়ে তো বটেই। আমার মা নাম সিনেমায় কক্ষণো ব্যবহার করিনি। তাছাড়া কথা বলতাম সুর করে। অভিনয় ছেড়ে দেয়ার পর চুল লম্বা করে ফেললাম, ফলে কাটার মতো আর দাঁড়িয়ে থাকলো না, অনেক নুয়ে পড়লো।...

১১. ভোরে ঘুম থেকে উঠলো কিশোর

পরদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলো কিশোর। রান্নাঘরে এসে নিজেই ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে নিয়ে নাস্তা সেরে চলে এলো তার ওয়ার্কশপে। দিনটা মেঘলা। জোরে জোরে বাতাস বইছে। কাজ করার আগে একটা তারপুলিন দিয়ে ঘিরে নিতে হলো ওয়ার্কবেঞ্চের চারপাশ। নতুন জিনিসটা দিয়ে আপাতত কোনো কাজ হবে কিনা...

১২. দুটো বাজতে আর এক মিনিট বাকি

দুটো বাজতে আর এক মিনিট বাকি। কিশোর দেখলো, উদ্বিগ্ন হয়ে ঘড়ি দেখহে হারিস বেকার। এই নিয়ে তিনবার এরকম করলো সে। আর মিনিটখানেক বাদেই শুরু হবে পাগলদের দ্বিতীয় কুইজ শো, অথচ হাজির রয়েছে মাত্র তিনজন। মড়ার খুলি, শিকারী কুকুর আর কিশোর। নেলি আর ভারিপদ আসেনি। দর্শকমণ্ডলীর দিকে...

১৩. টেলিভিশন নেটওয়ার্ক

টেলিভিশন নেটওয়ার্ক বিল্ডিঙের একটা বড় অফিসে জমায়েত হয়েছে অনেকে। নকল মড়ার খুলি, হ্যারিস বেকার, রাফায়েল সাইনাস, তিন গোয়েন্দা, শিকারী কুকুর, ভারিপদ, আর টেলিভিশন কোম্পানির একজন সিকিউরিটি গার্ড। ডেস্কের ওপাশে বসেছে বেকার। তার সামনে রাখা কিশোরের তোলা ছবিটা। মুখোমুখি একটা...

১৪. বেভারলি হিলের গিরিখাতগুলোর দিকে

মোড় নিয়ে বেভারলি হিলের গিরিখাতগুলোর দিকে এগিয়ে চললো হলুদ গাড়িটা। ধীরগতি, সাবধানী ড্রাইভার সাইনাস। বৃদ্ধ পরিচালকের সন্দেহ না জাগিয়েও তাঁর পিছে লেগে থাকতে অসুবিধে হলো না হোফারের। এঁকেবেঁকে চলে গেছে পথ, ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে, তারপর একসময় ঢুকে গেল পাহাড়ের মধ্যে। বাড়িঘর...

১৫. একদম চুপ

একদম চুপ! সাইনাসের দিকে তাকিয়ে আবার ধমক দিলো নকল মড়ার খুলি। তোমার সব কথাই শুনেছি। আমাকে এসবে ঢুকিয়েছো তুমি। কাপগুলো চুরি করিয়েছো। আমাকে দিয়ে। বলেছো আধা বখরা দেবে। পুরস্কার যাতে জিততে পারি তার জন্যে সব প্রশ্নের জবাব শিখিয়ে দিয়েছে। এখন আমি কি কচুটা পেয়েছি? কিছু না।...

১৬. পুরস্কারের টাকা পেয়ে

পুরস্কারের টাকা পেয়ে এতো খুশি হয়েছে নেলি, কিশোর বললো, মিস্টার সাইনাস বা মড়ার খুলি, কারো বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেনি। এখন সে কলেজে যেতে পারবে, রবিন বললো। যা সে চাইছিল। টাকার জন্যে পারছিলো না এতদিন। সেপ্টেম্বরেই বার্কেলিতে ভর্তি হবে, মুসা জানালো। প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে মুখ...