ছুটি

ছুটি - তিন গোয়েন্দা

০১. বড় ম্যাপটা ভাঁজ করে

বড় ম্যাপটা ভাঁজ করে পকেটে রাখতে রাখতে বলল কিশোর পাশা, হ্যাঁ, যা চাই সবই আছে। বিশাল প্রান্তর, জলাভূমি, পাহাড়, জঙ্গল, মাঝে মাঝে ছোট খামার, বাড়ি-ঘর। কয়েকটা সরাইখানাও আছে। কাঁচা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাব আমরা। রাফিয়ানের খুব মজা হবে। ওর তো পোয়াবারো, বলল পাশে বসা মুসা আমান।...

০২. আহ, ছুটির কি আনন্দ

আহ, ছুটির কি আনন্দ! অনেক পেছনে ফেলে এসেছে স্কুল। অক্টোবরের রোদে উষ্ণ আমেজ। শরতের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে প্রকৃতি, গাছে গাছে হলুদ, লাল, সোনালি রঙের সমারোহ। রোদে যেন জ্বলছে। জোরে বাতাস লাগলে বোটা থেকে খসে, যাচ্ছে মরা পাতা, ঢেউয়ে নৌকা যেমন দোলে, তেমনি দুলতে দুলতে নামছে...

০৩. হঠাৎ করেই নামল রাত

হঠাৎ করেই নামল রাত। সূর্য ডোবার পর অন্ধকার আর সময়ই দেয়নি সাঁঝকে। কাল মেঘ জমেছে আকাশে। এ কি কাণ্ড দেখো, গম্ভীর হয়ে বলল মুসা। দিনটা কি ভাল গেল। বোঝাই যায়নি বৃষ্টি আসবে। তাড়াতাড়ি চলো, বলল রবিন। ভিজে চুপচুপে হয়ে যাব। মাথা বাঁচানোরও জায়গা নেই। মোড় নিয়ে কয়েক কদম এগিয়েই...

০৪. সঙ্গে খাবার যা আছে খেয়ে নিল রবিন

সঙ্গে খাবার যা আছে খেয়ে নিল রবিন। ঢকঢক করে আধ জগ পানি খেয়ে মাদুরের ওপর কম্বল বিছিয়ে শুয়ে পড়ল। জিনা আর কিশোরের সাড়ার আশায় কান খাড়া। কিন্তু বেশিক্ষণ চোখ খোলা রাখতে পারল না। সারা দিন অনেক পরিশ্রম গেছে। ঘুমিয়ে পড়ল সে। বাইরে বেশি হাঁটাহাঁটি করার সাহস হলো না মুসার। বৃদ্ধার...

০৫. উঠে আড়মোড়া ভাঙল মুসা

উঠে আড়মোড়া ভাঙল মুসা। সারা গায়ে ধুলো-মাটি, নোংরা। খিদেও পেয়েছে। আচ্ছা, পয়সা পেলে রুটি, পনির আর এক গেলাস দুধ দেবে তো বৃদ্ধা? রবিনেরও নিশ্চয় খিদে পেয়েছে। কি অবস্থায় আছে কে জানে। সাবধানে বাইরে বেরোল মুসা। চিলেকোঠার জানালার নিচে এসে দাঁড়াল। রবিনের উদ্বিগ্ন মুখ দেখা...

০৬. ডিয়াটোতে থানা আছে

ডিয়াটোতে থানা আছে। ছোট্ট থানা, একজন মাত্র গ্রামরক্ষী। আশপাশের চারটে গাঁয়ের দায়িত্বে রয়েছে সে, ফলে নিজেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট না ভাবলেও বেশ দামী লোক মনে করে। শেরিফ হলে কি করত কে জানে। গ্রামরক্ষী সাহেবের বাড়িটাই থানা। আরামে বসে ডিনার খাচ্ছে, এই সময় এসে হানা দিল...

০৭. ফার্মহাউস থেকে বেরিয়ে

ফার্মহাউস থেকে বেরিয়ে বলল কিশোর, টু-ট্রীজ কতদূরে, সেটা আগে জানা দরকার। সম্ভব হলে আজই যাব, নইলে কাল। বেলা এখনও আছে। কতদূরে সেটা, কি করে জানছি? বলল মুসা। ম্যাপ দেখে বোঝা যাবে? যদি ম্যাপে থাকে। থাকার তো কথা, হ্রদ যখন। উপত্যকায় নেমে এল আবার ওরা। রাস্তা থেকে দূরে নির্জন...

০৮. কারোই পছন্দ হলো না জায়গাটা

কারোই পছন্দ হলো না জায়গাটা। নীরবে হাত তুলে দেখাল কিশোর। মূল বাড়িটা যেখানে ছিল তার দু-ধারে বিশাল দুটো গাছের পোড়া কাণ্ড। ওই গাছগুলোর জন্যেই নিশ্চয় নাম রেখেছে টু-ট্রীজ, বলল সে। এতটা নির্জন হবে, ভাবিনি। নির্জন কি বলছ? বলে উঠল মুসা। রীতিমত ভূতুড়ে। গা ছমছম করে। সূর্য ডোবার...

০৯. নকশাটা সাবধানে ভাঁজ করে

নকশাটা সাবধানে ভাঁজ করে নিজের কাছে রেখে দিল কিশোর। আরেকটা অংশ কিন্তু আছে টিকসির কাছে, মনে করিয়ে দিল মুসা। সেটা ছাড়া সমাধান হবে? হতেও পারে, বলল কিশোর। হয়তো তার কাছেও এটারই আরেক কপি পাঠানো হয়েছে। তাহলে তো সেও খুঁজতে আসবে এখানে, বলল জিনা। এলে আসবে, মুসা বলল। লুকিয়ে থাকব।...

১০. ওই দুজন আসবে

ওই দুজন আসবে, জানাই আছে ছেলেদের, তাই চমকাল না। ।ডারটিকে চিনতে কোন অসুবিধে হয়নি মুসার। রাতে দেখেছে, সকালেও দেখেছে—চওড়া কাঁধ, সোজা হয়ে দাঁড়ালে সামান্য কুঁজো মনে হয়, মাথায় ঝাকড়া চুল। তবে, তার বাড়িতে তাকে যেমন লেগেছিল, এখন ঠিক ততটা ভীষণ মনে হচ্ছে না। তবে মেয়েমানুষটাকে...

১১. ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের দাঁড়

ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের দাঁড় ঝোলানো রয়েছে দেয়ালে। ভেলা বাওয়ার জন্যে বিশেষভাবে তৈরি চারটে ছোট দাড়ি রয়েছে ওগুলোর মধ্যে। খুলে নিয়ে আসা হলো ওগুলো। চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখছে রাফিয়ান। কোন কাজে সহায়তা করতে পারছে না। খারাপ লাগছে তার, বুঝিয়ে দিচ্ছে ভাবেসাবে। কোণের হাতল ধরেই রয়েছে...

১২. বোটহাউসে ঢুকল ভেলা

বোটহাউসে ঢুকল ভেলা। খুঁটিতে আগের জায়গায় বাঁধা রয়েছে লিটল মারমেইড, ডারটি আর টিকসি নেই। গেল কোথায়? টর্চ জ্বেলে দেখছে কিশোর। শোনো, ভেলাটা এখানে রাখা ঠিক না। চলো, কোন ঝোপের তলায় লুকিয়ে রাখি। ঠিকই বলেছে কিশোর। অন্যেরাও একমত হলো। হাত অবশ হয়ে গেছে। তবু কোনমতে ভেলাটা আবার বের...

১৩. এক এক করে ধরা যাক

এক এক করে ধরা যাক, উত্তেজনায় মৃদু কাঁপছে কিশোরের গলা। টু-ট্রীজ। এই যে, এখানে। ব্ল্যাক ওয়াটার। যেখানে লুটের মাল লুকানো রয়েছে। ওয়াটার মেয়ার। যার মধ্যে লুকানো রয়েছে। হ্রদের পানিতে কোথাও লুকিয়ে রেখেছে নৌকাটা। বলে যাও, জিনা আর রবিনকে ঠেলে সরিয়ে এগিয়ে বসল মুসা। টিকসি হয়তো...

১৪. কাছে এগিয়ে আসছে নৌকা

কাছে এগিয়ে আসছে নৌকা। দাঁড় তুলে নিয়েছে টিকসি, দুই-তিনটা চিহ্নের ওপর একা চোখ রাখতে হচ্ছে তাকে। খালি মাথা ঘোরাচ্ছে এপাশ-ওপাশ। ঘেউ ঘেউ করেই চলেছে রাফিয়ান। তার মাথায় হাত রেখে শান্ত হতে বলল জিনা। দুই ডাকাতের অবস্থা দেখে হাসি পেল অভিযাত্রীদের। ওরা চারজন চারটে চিহ্নের ওপর...

১৫. হেসে খেলে কেটে গেল সারাটা দিন

হেসে খেলে কেটে গেল সারাটা দিন। পশ্চিম দিগন্তে নেমে যাচ্ছে সূর্য। ডুবে গেল এক সময়। আকাশের লালিমা ঢেকে দিল এক টুকরো কালো মেঘ। শঙ্কা ফুটল জিনার চেহারায়। ও কিছু না, সরে যাবে, আশ্বস্ত করল কিশোর। ভেলা লুকিয়ে রেখে পাড়ে নামল ওরা। আস্তানায় ফেরার পথে চট করে একবার বোটহাউসে ঢুকে...

১৬. রাফিয়ানের চেঁচামেচিতে সকালে ঘুম ভাঙল

রাফিয়ানের চেঁচামেচিতে সকালে ঘুম ভাঙল ওদের। সিঁড়িমুখ দিয়ে রোদ ঢুকছে। লাফিয়ে উঠে বসল কিশোর। অন্যদের ঘুমও ভেঙে গেছে। কি হয়েছে দেখার জন্যে ওপরে উঠে এল গোয়েন্দাপ্রধান। টিকসি দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে ভাব জমাতে চাইল, তোমাদের কুকুরটা কিন্তু খুব ভাল। ধারেকাছে ঘেষতে দেয় না...