অথৈ সাগর (অখণ্ড)

অথৈ সাগর (অখণ্ড) - প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড একত্রে। তিন গোয়েন্দা সিরিজ। সেবা প্রকাশনী।

১.০১ দেয়ালে ঝোলানো বিশাল একটা ম্যাপ

দেয়ালে ঝোলানো বিশাল একটা ম্যাপ দেখছিলেন মুসার বাবা রাফাত আমান, প্রশান্ত মহাসাগরের, শব্দ শুনে ফিরে তাকালেন। ও, এসে গেছ, তিন গোয়েন্দার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছেন তিনি। মাত্র আধ ঘন্টা আগে মুসাকে দিয়ে খবর পাঠিয়েছিলেন কিশোর আর রবিনকে, হাজির হয়ে গেছে। কোন রকম ভূমিকা না করে...

১.০২ দরজাটা বন্ধ করে দাও

দরজাটা বন্ধ করে দাও, প্রফেসর ইস্টউড বললেন। কেউ শুনে ফেলতে পারে। দরজা বন্ধ করে দিয়ে এসে কিশোর আর রবিনের পাশে বসল মুসা। ডেস্কের ওপাশ থেকে পুরো ঘরে চোখ বোলালেন প্রফেসর, যেন ভয়, দেয়ালগুলোরও কান আছে। কান অনেকগুলো আছে দেয়ালে, তবে ওগুলো বধির এখন, শোনে না। বিশিষ্ট...

১.০৩ রাজহংসীর মত ভেসে চলেছে

রাজহংসীর মত ভেসে চলেছে মর্নিং স্টার কিশোর বাংলা নাম রেখেছে শুকতারা। ঘোষণা করে দিয়েছে, যতদিন স্কুনারটা তাদের অধিকারে থাকবে, শুকতারা বলেই ডাকবে ওটাকে। রবিন আর মুসা আপত্তি করেনি। ক্যাপ্টেন কিছুক্ষণ গাঁইগুই করে শেষে মেনে নিয়েছে। কিশোর বুঝিয়ে দিয়েছে তাকে, যেহেতু.জাহাজটা...

১.০৪ রাত নেমেছে সাগরে

রাত নেমেছে সাগরে। ডেকে বসে পড়ছে রবিন আর কিশোর। মাছের আলোয়। একধারে বসে আকাশের তারা গুনছে মুসা। ছোট একটা ট্যাংকের দুধারে বসেছে কিশোর আর রবিন। ট্যাংকের পানিতে সাঁতার কাটছে মাছটা, গা থেকে উজ্জ্বল আলো বেরোচ্ছে, চল্লিশ ওয়াট বাল্বের সমান আলো। কি, পেয়েছ? মুখ তুলে জিজ্ঞেস করল...

১.০৫ বাদুড়! বাদুড়!

বাদুড়! বাদুড়! পরদিন সকালে কাকের বাসা থেকে চেঁচিয়ে উঠল রবিন। গ্যারেজের দরজার সমান একেকটা! ।রবিন মিথ্যে বলে না, তবু বিশ্বাস করতে পারল না মুসা। বাদুড় পানিতে সাঁতার কাটে না। আর গ্যারেজের দরজার সমান বড়ও হয় না। কিন্তু রেলিঙের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখে বিশ্বাস করতে বাধ্য হল।...

১.০৬ স্বর্গ যে বলে, ভুল বলে না

স্বর্গ যে বলে, ভুল বলে না! হাঁ করে তাকিয়ে আছে কিশোর। সৌন্দর্য যেন গিলছে। স্বপ্নিল হয়ে উঠেছে সুন্দর চোখের তারা। ডায়মণ্ড হেড ঘুরে এসেছে। শুকতারা, ওয়াইকিকির ধবধবে সাদা সৈকতের পাশ কাটাচ্ছে। সবুজ নারকেল গুচ্ছ মাথা দোলাচ্ছে বাতাসে। ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে জানা-অজানা অসংখ্য গাছ।...

১.০৭ কয়েক দিন সাগরে কাটিয়ে

কয়েক দিন সাগরে কাটিয়েও আশ মিটিয়ে সাঁতার কাটতে পারেনি সাগরপাগল মুসা আমান। প্রথম সুযোগটা পেয়েই তার সদ্ব্যবহার করতে ছাড়ল না। পরদিন সকালে জামাকাপড় খুলে ডাইভ দিয়ে পড়ল পানিতে। দেখে হাসল রবিন আর কিশোর কুমালো, জামবু আর ক্যাপ্টেনকে নিয়ে প্রবাল প্রাচীরের কিনার ধরে হেঁটে চলল...

১.০৮ ভোর থেকেই উত্তেজিত

ভোর থেকেই উত্তেজিত হয়ে আছে শুকতারার যাত্রীরা। অস্বস্তিতে ভুগছে। বিকিনি ছেড়েছে শুকতারা। এগিয়ে চলেছে পোনাপের দিকে। চমৎকার হাওয়া লাগছে পালে, সাগর শান্ত, অস্বস্তি বোধ করার কারণ নেই। তবুও করছে ওরা,কারণ, বাতাস গরম। অসহ্য। বাষ্প মিশে রয়েছে যেন বাতাসের সঙ্গে। নিষ্প্রাণ এই...

১.০৯ প্রায় অচেনা-সাগরে এসে পড়েছে

প্রায় অচেনা-সাগরে এসে পড়েছে এখন জাহাজ। ক্যাপ্টেন কলিগও এখানে আসেনি কখনও। কোন জাহাজ চোখে পড়ল না, জাহাজপথ এখান থেকে অনেক দূরে, উত্তরে এবং দক্ষিণে। দুটো বিশ্বযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়টা এই অঞ্চল জাপানের দখলে ছিল। অন্য কোন দেশের জাহাজকে ঢুকতে দিত না এখানে। জাপান ছাড়া বাইরের...

১.১০ শহরে মাত্র একটা বিজনেস স্ট্রীট

শহরে মাত্র একটা বিজনেস স্ট্রীট। কাজেই পোস্ট এক্সচেঞ্জটা খুঁজে পেতে অসুবিধে হল না জামবুর। ভেতরে ঢুকে এমন ভাব করল, যেন এখানে তার সঙ্গে কারও দেখা করার কথা। বিশালদহেী এক লোক এগিয়ে এল, পিঠটা সামান্য কুঁজো। হাসল না। হাত বাড়িয়ে দিল না। রূঢ়কণ্ঠে বলল, এতক্ষণে এলে? জাহাজটা সেই...

১.১১ একটা বোট জোগাড় করেছি

একটা বোট জোগাড় করেছি তোমাদের জন্যে। পরদিন সকালে দেখা করতে এসে ছেলেদেরকে সুসংবাদটা জানাল কমাণ্ডার ম্যাকগয়ার। সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে আরও দুজন তরুণ অফিসারকে। পরিচয় করিয়ে দিল, লেফটেন্যান্ট ওলসেন আর লেফটেন্যান্ট ফিশার। বোটটা বেশি বড় না, কমাণ্ডার বলল। তিরিশ ফুট। যথেষ্ট বড়,...

১.১২ অনেক পেছনে পড়ে থাকল পোনাপে

অনেক পেছনে পড়ে থাকল পোনাপে। মেঘে ঘেরা উঁচু টটলম চুড়াটাও চোখে পড়ছে না আর এখন। যেদিকেই তাকানো যায়, আকাশ নীল। সাগর শান্ত। ভাল এগোচ্ছে মোটরবোট। আশেপাশে খেলে বেড়াচ্ছে ডলফিন। উড়ুক্কু মাছের ছড়ানো ডানায় রোদের চমক। এই বোটটার নাম রেখেছে কিশোর মেঘনা। আগে জাপানী নাম ছিল কিকু,...

২.০১ কাপড় খুলল কুমালো

কাপড় খুলল কুমালো। লম্বা, শক্ত, বাদামী শরীর, যেন নারকেলের কাণ্ড। দেয়ালের গা থেকে উপসাগরের ওপর বেরিয়ে থাকা একটা পাথরে গিয়ে দাঁড়াল। পরনে সাঁতারের পোশাক বলতে কিছু নেই, হাতে শুধু দস্তানা। ধারাল প্রবাল থেকে তার আঙুল বাঁচাবে ওগুলো। খসখসে খোসাওয়ালা ঝিনুক খামচে ধরে তুলতে...

২.০২ নড়েচড়ে গুঙিয়ে উঠল কুমালো

নড়েচড়ে গুঙিয়ে উঠল কুমালো। যন্ত্রণার ছাপ চেহারায়, ভাঁজ পড়ল কপালে। চোখ মেলল সে। একে একে দেখল কিশোর, রবিন আর মুসার মুখ। কি ঘটেছিল, মনে পড়ল সব। সরি, বেহুশ হয়ে গিয়েছিলাম, উঠে বসার চেষ্টা করল কুমালো। পারল না। চিত হয়ে শুয়ে পড়ল আবার। বিকৃত করে ফেলেছে চেহারা। চুপচাপ শুয়ে থাক,...

২.০৩ কাক-ভোরের ফ্যাকাসে আলোয়

কাক-ভোরের ফ্যাকাসে আলোয় ঘুম ভাঙল তার। পিঠে আর শরীরের এখানে ওখানে ব্যথা। চোখা প্রবালের খোঁচা যেখানে যেখানে লেগেছে সবখানে। বাতাস খুব ঠাণ্ডা, পরিস্কার। ঘুমানর আগে যতটা ক্ষুধা আর তৃষ্ণা ছিল, ততটা নেই। খারাপ লক্ষণ। তারমানে দেহের যন্ত্রপাতিগুলো অবশ হয়ে আসছে। তবে তাজা বাতাস...

২.০৪ ক্ষুধা তীক্ষ্ণ করে দিয়েছে

ক্ষুধা তীক্ষ্ণ করে দিয়েছে ওদের চোখ। মিহি দাঁতের চিরুনি দিয়ে উকুন বাছার মত করে দ্বীপটায় খুঁজতে লাগল খাবার। অতি ছোট বস্তুও এখন চোখ এড়াবে না। ওল্টানো যায় এরকম আলগা পাথর যে কটা পেল, সব উল্টে উল্টে দেখল তলায় কি আছে। প্রায় চষে ফেলল বালির সৈকত। কিন্তু নিরাশ হতে হল। তিন ঘন্টা...

২.০৫ সেরাতে দুঃস্বপ্ন দেখল মুসা

সেরাতে দুঃস্বপ্ন দেখল মুসা। ঘুমের মধ্যেই চেঁচাতে শুরু করল, ওরে বাবারে! কানা হয়ে গেলামরে! সাগর-শসার বিষ লেগেছে! ঠেলা দিয়ে তাকে জাগাল কিশোর। এই মুসা, চেঁচানি থামাও। দুঃস্বপ্ন দেখছ। আর ঘুম এল না মুসার। হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে এল ছাউনি থেকে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। দেখতে...

২.০৬ জায়ান্ট স্কুইডের শুঁড়

পরদিন জায়ান্ট স্কুইডের শুঁড় কেটে লম্বা লম্বা ফালি করল ওরা। চেঁছে ফেলে দিল চামড়ার ভেতরের মাংস। কড়া রোদে খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে গেল চামড়া। ট্যান করার দরকার আছে? মুসা জিজ্ঞেস করল। কয়েক বছর যদি রাখতে চাইতাম, তাহলে করতাম, জবাব দিল কিশার। আমাদের এত বেশি দিন রাখার দরকার নেই।...

২.০৭ ভেলা তৈরি শুরু হল

ভেলা তৈরি শুরু হল। ল্যাগুনের দিকে ঢালু হয়ে আছে জায়গাটা। ইচ্ছে করেই এই স্থান নির্বাচন করেছে ওরা। চারজনকে বয়ে নেয়ার উপযোগী ভেলা বেশ ভারি হবে, বয়ে নিয়ে গিয়ে পানিতে নামাতে পারবে না। জায়গা ঢালু হলে ঠেলে নামাতে সুবিধে হবে। তারপরেও বাড়িতে সতর্কতা গ্রহণ করল কিশোর। কয়েকটা...

২.০৮ যাত্রার প্রথম দুদিন নির্বিঘ্নে কাটল

যাত্রার প্রথম দুদিন এত নির্বিঘ্নে কাটল, যাত্রা শুরুর আশঙ্কার আর বিন্দুমাত্র অবশিষ্ট রইল না অভিযাত্রীদের মাঝে। বাতাসের গতি অপরিবর্তিত রইল, উত্তর-পুব দিক থেকে বইছে, ওরা চলেছে সোজা দক্ষিণে। এই গতি অব্যাহত রাখতে পারলে দিন কয়েকই পোনাপেতে পৌঁছে যাবে ওরা। আর কোন কারণে যদি...