ওল্ড ইয়েলার

ওল্ড ইয়েলার । ফ্রেড জিপসনের রুদ্ধশ্বাস এক ওয়েস্টার্ন কাহিনী । রূপান্তর: রকিব হাসান । প্রথম প্রকাশ: জুন, ১৯৯৪

০১. আমরা ওকে ডাকতাম ওল্ড ইয়েলার বলে

এ গল্প এক কিশোরের গল্প, কৈশোর সবে ছাড়তে উদ্যত হয়েছে যাকে। সেই বুনো পশ্চিমে খুনে ইনডিয়ানদের যখন-তখন হামলা তখনও বন্ধ হয়নি, টেকসাসে বসতি স্থাপন সবে শুরু হয়েছে, সেটলারদের টাকার অভাব, দল বেঁধে গরু নিয়ে দুর্গম পথ পেরিয়ে বিক্রি করতে যাওয়ার জন্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে শত শত মাইল...

০২. পরদিন সকালে এসে হাজির

পরদিন সকালে এসে হাজির হলো বিশাল হলদে কুকুরটা। আলো ফুটেছে তখন। ডগ রানে গিয়ে খানিকটা মাংস কেটে এনে দিতে বলল আম্মা। দরজা খুলে দেখি মাংসটা নেই। ভালুক-ঘাসে তৈরি দড়ি দিয়ে বেঁধে কাঠের খুঁটিতে ঝুলিয়ে রেখেছিলাম। এখন শুধু দড়িটা ঝুলছে, মাথাটা ছেড়া। নিচে তাকালাম। এক কোণে একটা...

০৩. শিকার করতে আমার খুব ভাল লাগে

শিকার করতে আমার খুব ভাল লাগে। নরম হয়ে এলাম অনেকটা। কুত্তাটার ভাবনা আপাতত দূর করে দিলাম মন থেকে। উঠে গিয়ে গরু দোয়ালাম। বালতিতে করে এনে দিলাম আম্মাকে। দুধের ব্যাপারে আমার দায়িত্ব শেষ, যা করার এখন আম্মাই করবে। রাইফেলটা বের করে নিয়ে চলে এলাম জাম্পারের কাছে। একটা দড়ির এক...

০৪. দুদিন পর আরও খেপে গেলাম

দুদিন পর আরও খেপে গেলাম ওল্ড ইয়েলারের ওপর। কারণটা খুলেই বলি। দুটো লংহর্ন ষাঁড় এসে আমাদের উঠানে ঝগড়া বাঁধাল। রুটি, হরিণের মাংস ভাজা, আর ঝর্নার ভাটি থেকে তুলে আনা শালুক দিয়ে ডিনার খাচ্ছিলাম। দক্ষিণের উঁচু শৈলশিরা থেকে নেমে এল একটা ষাঁড়। ক্যাটক্ল আর ওকের জঙ্গলের ভেতরে...

০৫. আরলিসটাকে নিয়ে আর পারা যায় না

আরলিসটাকে নিয়ে আর পারা যায় না! যেমন দুষ্টু তেমন বেয়াড়া। ঘর থেকে বেরোতে শেখার পর থেকেই একটা আজব অভ্যাস হয়েছে। যে প্রাণী দেখবে সেটারই পিছে লাগবে, ধরতে পারলে রেখে দেবে। প্রতি রাতেই শুতে যাওয়ার আগে আটকায় তাকে আম্মা। সারা দিনের সমস্ত শিকার বের করে দিয়ে পকেট খালি করতে বলে।...

০৬. আরলিসকে যে আমি এতটা ভালবাসি

আরলিসকে যে আমি এতটা ভালবাসি, ভালুকটার সঙ্গে লড়াইয়ের আগে বুঝতে পারিনি। আব্বা আর আম্মা যতটা বাসে তার চেয়ে কম বাসি না। মনে হতে লাগল, কিছু কিছু ব্যাপারে তাদের চেয়ে বরং বেশিই বাসি। সুতরাং সে যাকে পছন্দ করে সেই কুকুরটাকে আমি শেষ পর্যন্ত যে পছন্দ না করে পারব না এ তো...

০৭. ব্যাপারটা নিয়ে অনেক ভাবলাম

ব্যাপারটা নিয়ে অনেক ভাবলাম। কোন উপায় বের করতে না পেরে আম্মাকে বলার জন্যে রওনা হলাম। আমিও আন্দাজ করেছি, আম্মা বলল। আমরা নাহয় সহ্য করলাম, কিন্তু লোকে কেন করবে? রেগে আগুন হয়ে যাবে ওরা। দেখলেই গুলি করে মেরে ফেলবে। বেঁধে রাখা দরকার। সেই চেষ্টাই করলাম। শেকল কিংবা লোহার তার...

০৮. তার নাম বার্ন স্যাণ্ডারসন

তার নাম বার্ন স্যাণ্ডারসন। বয়েসে তরুণ। চমৎকার একটা ঘোড়ায় চেপে এল আমাদের বাড়িতে। ভদ্র, নরম ব্যবহার। আম্মাকে দেখেই হ্যাট খুলে সম্মান জানাল। ঘোড়া থেকে নামল আমাদের ঘরের সামনে। জানাল, সল্ট লিকে নতুন এসেছে। গরু নিয়ে এসেছে স্যান অ্যানটোনিও থেকে। ডেভিলস রিভারে আছে এখন ওগুলো,...

০৯. কিশোর বয়েসী ছেলেরা

কিশোর বয়েসী ছেলেরা, যৌবন যাদেরকে হাতছানি দিচ্ছে, বুনো জানোয়ারের সঙ্গে তাদের অনেক মিল। কোন কারণে আজ যদি কাবু হয়ে যায়, কালই দেখা যাবে সব ভুলে গেছে। আমার ক্ষেত্রে অন্তত সে রকমই হয়েছে। বার্ন স্যাণ্ডারসনের কাছে জলাতঙ্কের কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম। ভাল করে ঘুমাতে পারলাম না...

১০. বিশাল বনের মধ্যে

বিশাল বনের মধ্যে ঘুরে বেড়ায় শুয়োরের পাল। যতই চিহ্ন দিয়ে রাখো না কেন, কখন কোথায় ওগুলোকে খুঁজে পাওয়া যাবে বলা মুশকিল। তবে দল বেঁধে থাকে বলে বের করা হরিণের চেয়ে সহজ। কাজকে কঠিন ভেবে বসে থাকলে সেটা আর করা হবে না। তাই কষ্ট করেই খুঁজে বের করতে লাগলাম। চিহ্ন দিয়ে কাটা কানের...

১১. মনে হতে লাগল

মনে হতে লাগল, কোন দিনই আর ওল্ড ইয়েলারের কাছে ফিরে যেতে পারব না। বাড়ি যাওয়ার জন্যে এত তাড়াহুড়ো করছি, হাঁপিয়ে গেলাম অল্পক্ষণেই। সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। পায়ের কাটাটা যন্ত্রণা দিচ্ছে খুব। এখনও শক্ত হয়নি। হয়ে যেত। অতিরিক্ত ব্যবহার হচ্ছে পেশীগুলো, সে জন্যেই পারছে না। তবে...

১২. পরের দুটো হপ্তা

পরের দুটো হপ্তা আমার আর ইয়েলারের জন্যে বড়ই দুঃসময়। আমি শুয়ে থাকলাম ঘরের মধ্যে বিছানায়। ইয়েলার রইল ডগ রানে, গরুর চামড়ায়। দুজনেই ভুগতে লাগলাম। জখমের যন্ত্রণায় গোঙানো ছাড়া আর কিছুই করার সাধ্য নেই। মাঝে মাঝে এতটাই ব্যথা বাড়ে, কি ঘটছে খেয়াল রাখতে পারি না। চিৎকার আর গোঙানি...

১৩. আমিও আম্মার সঙ্গে একমত

আমিও আম্মার সঙ্গে একমত। এখানকার কাজ করতে পারবে না লিজবেথ। গায়ে কিছু নেই ওর। বরং আম্মার জন্যে বাড়তি আরেকটা ঝামেলা হবে। কিন্তু আমরা দুজনেই ভুল করেছি। ঠিকই বলে গেছে বাড সারসি। সত্যিই কাজের মেয়ে লিজ। ঝর্না থেকে পানি আনা, মুরগীকে খাবার খাওয়ানো, কাঠ জড় করা, রুটি তৈরি, বাসন...

১৪. বোকামি করে ফেললাম

বোকামি করে ফেললাম। ষাঁড়টাকে বাড়ির এত কাছে না মারলেও চলত। মাংস পচা গন্ধ ছড়াবে। বিষাক্ত করে তুলবে পরিবেশ। ঝর্নাটাও কাছেই। ওটার পানিতেও বিষ ছড়াতে পারে। খাওয়ার পানিই পাব না তাহলে। সরিয়ে ফেলা দরকার, আম্মা বলল। তারপর পোড়াতে হবে। পোড়াবে? অবাক হয়ে বললাম, দরকার কি? ফেলে রাখলেই...

১৫. অন্ধকার হয়ে গেল

অন্ধকার হয়ে গেল। ফিরল না আম্মারা। অস্বস্তি বাড়তে লাগল আমার। যদিও চিন্তার কিছু নেই। একটা গরু পোড়াতে কতটা সময় লাগে তা তো দেখেছি। তেমন কোন বিপদেরও আশঙ্কা দেখছি না। বাড়ি থেকে বেশি দূরে যায়নি যে হারিয়ে যাবে। হারালেও সমস্যা নেই। জাম্পার রাস্তা চেনে। ইয়েলার তো রয়েছেই। তবু...

১৬. দিন যায়

দিন যায়। কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না ব্যাপারটা। খেতে পারি না। ঘুমাতে পারি না। কাঁদতে পারি না। ভেতরটা কেমন খালি খালি লাগে। যন্ত্রণা হয়। সারা জীবনে যত যন্ত্রণা পেয়েছি সেগুলো এর তুলনায় কিছুই নয়। রোগ হলে কিংবা আহত হলে যন্ত্রণা হয়, তার চিকিৎসাও থাকে, কিন্তু এর কোন চিকিৎসা...