জুল ভার্ন – রহস্যের দ্বীপ

জুল ভার্ন - রহস্যের দ্বীপ । সেবা অনুবাদ সিরিজ । রূপান্তর: শামসুদ্দীন নওয়াব

০১. ওপরে কি উঠছি আমরা

১৮৬৫ সালের ২৪ মার্চ। প্রশান্ত মহাসাগরের এক নির্জন দ্বীপে বিধ্বস্ত হলো ঝড়ের কবলে পড়া এক আমেরিকান বেলুন। কেউ নেই দ্বীপে। শুধু পাঁচজন অভিযাত্রী, সাথে একটি কুকুর  না আছে খাবার, অস্ত্র, না বাড়তি জামা-কাপড় কিচ্ছু না। শুরু হলো ক্যাপ্টেন সাইরাস হার্ডিং-এর নেতৃত্বে ওদের টিকে...

০২. গৃহযুদ্ধের তান্ডবলীলা চলছে

গৃহযুদ্ধের তান্ডবলীলা চলছে তখন সমস্ত আমেরিকা জুড়ে। রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ বন্ধ করার সংকল্প নিয়ে ১৮৬৫ সালের মার্চের মাঝামাঝি রিচমন্ড শহর অবরোধ করে বসলেন জেনারেল গ্র্যান্ট। জোর লড়াই করেও কিন্তু তিনি রিচমন্ড দখল করতে পারলেন না। শহরের মধ্যেই বন্দী হয়ে আছেন জেনারেলের কয়েকজন...

০৩. কোথায় গেলেন ক্যাপ্টেন

কোথায় গেলেন ক্যাপ্টেন? নিবিড় অন্ধকারে গিডিয়ন স্পিলেটের উদ্বিগ্ন প্রশ্ন শোনা গেল। পানিতে পড়ে গেলেন কি তিনি? নাকি বেলুন থেকে নামারই সুযোগ পাননি? চারজন লোক নেমে পড়ায় হালকা হয়ে যাওয়া বেলুন হয়তো তাঁকে নিয়েই শূন্যে উধাও হয়ে গেছে। পানিতে পড়ে গিয়ে থাকলে উন্মত্ত ঢেউয়ের বুকে...

০৪. বিকেল নাগাদ নদীর জল কমে গিয়ে

বিকেল নাগাদ নদীর জল কমে গিয়ে হাঁটু পানিতে এসে ঠেকল। সকালের ভয়ঙ্কর খরস্রোতা নদীটাকে খালই বলা চলে এখন। হেঁটেই নদী পার হয়ে গেল অভিযাত্রীরা। ওপরে উঠেই নেব যেপথে গিয়েছিল সে পথে রওনা দিলেন স্পিলেট। যাবার আগে বলে গেলেন, নেবের খোঁজে যাচ্ছি আমি। খাবার, আর রাতে মাথা গোঁজার একটা...

০৫. চেঁচিয়ে বললেন স্পিলেট

ওদের দেখেই চেঁচিয়ে বললেন স্পিলেট, ক্যাপ্টেনকে পাওয়া গেল না। অনেক খুঁজলাম, কিন্তু ক্যাপ্টেনের পায়ের ছাপ পর্যন্ত চোখে পড়ল না। একটু থেমে আবার বললেন, খাবার-খাবারের জোগাড় করেছ? তা করেছি, জবাব দিল পেনক্র্যাফট, কিন্তু পানি? পানির কি হবে? তার জন্যে ভাবনা নেই। একটা মিষ্টি...

০৬. বেলুন থেকে নামার পর

বেলুন থেকে নামার পর কি কি জিনিস আছে তার একটা হিসেব তৈরি করতে বসল সবাই মিলে। পরনের জামা-কাপড় ছাড়া বিশেষ কিছুই  নেই কারও। গিডিয়ন স্পিলেটের নোট বই আর ঘড়িটা ছাড়া সব ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে বেলুন থেকে। এক কথায় ব্যবহার করার মত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিছুই নেই ওদের কাছে। থাকার...

০৭. সকাল থেকে কোথাও পাওয়া গেল না নেবকে

সকাল থেকে কোথাও পাওয়া গেল না নেবকে। খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে গেল তাঁরা তিনজনে, কিন্তু কোন হদিস করতে পারল না। শেষ পর্যন্ত ভাবল ওরা কোথাও গেছে নেব, সময় হলেই ফিরবে। কিন্তু ফিরল না নেব  সারাদিন অপেক্ষা করেও যখন নেবকে ফিরতে দেখল না ওরা, ধরেই নিল মনিবের খোঁজে গেছে নেব।...

০৮. ওরা ঢুকলেও ফিরে চাইল না নেব

ওরা ঢুকলেও ফিরে চাইল না নেব। যেন শুনতেই পায়নি। ক্যাপ্টেনের দেহে প্রাণ আছে কিনা জানতে চাইল পেনক্র্যাফট। কিন্তু উত্তর দিল না নেব। তবে কি সত্যিই মারা গেছেন ক্যাপ্টেন? অনুমানের ওপর কখনও ভরসা করেন না স্পিলেট। এগিয়ে গিয়ে উবু হয়ে বসলেন ক্যাপ্টেনের পাশে। নাড়ী দেখলেন, বুকে কান...

০৯. হতবুদ্ধি হয়ে দাঁড়িয়ে রইল পেনক্র্যাফট

হতবুদ্ধি হয়ে দাঁড়িয়ে রইল পেনক্র্যাফট। কিন্তু আগুন নিভে যাওয়ায় আর কেউ ততটা মাথা ঘামাল না। হার্বার্ট অবশ্য একটু ঘাবড়ে গেল। সান্ত্বনার সুরে স্পিলেট বললেন, অত ভাবনার কি আছে, পেনক্র্যাফট ? ক্যাপ্টেন যখন বেঁচে আছেন আগুনের অভাব হবে না। হবে না? তা, আগুনটা আসবে কোত্থেকে? জানি...

১০. ধোঁয়া, মানে আগুন

ধোঁয়া! মানে আগুন! চোখ কপালে তুলে বলল পেনক্র্যাফট, সেরেছে! যাদু জানেন নাকি ক্যাপ্টেন? যাদুকর? স্তম্ভিত হয়ে গেছে পেনক্র্যাফট। প্রশান্ত মহাসাগরের এই অজানা দ্বীপে, আগুন জ্বালাবার কোন ব্যবস্থাই যেখানে নেই, সেখানে আগুন জ্বালালেন ক্যাপ্টেন সাইরাস হার্ডিং। লোকটা প্রেতসিদ্ধ...

১১. ভোর হলো

ভোর হলো। তিরিশে মার্চ সেদিন। এটা দ্বীপ কিনা দিনের আলোয় ভালমত যাচাই করার জন্যে লাভার সিঁড়ি বেয়ে উঠতে শুরু করল অভিযাত্রীরা। যদিও তারা জানে, ভুল হতে পারে না ক্যাপ্টেন সাইরাস হার্ডিং-এর। দিনের আলোয় পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে পঞ্চাশ মাইল পর্যন্ত পরিষ্কার দেখা গেল। ওদিকের কোথাও...

১২. পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই ক্যাপ্টেন বললেন, নতুন পথে চিমনিতে ফিরব আমরা। তাহলে আরও ভাল করে জানা যাবে দ্বীপটাকে। এই দ্বীপে প্রাকৃতিক সম্পদ কি আছে তাও খুঁজে দেখতে হবে। জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত যদি লিঙ্কন আইল্যান্ডেই থাকতে হয়, তাহলে সেভাবেই গুছিয়ে নিতে হবে জীবনটা। সূর্য...

১৩. পরদিন সকালে খাওয়া-দাওয়ার পর

পরদিন সকালে খাওয়া-দাওয়ার পর কাজের জন্যে তৈরি হলো সবাই। একেবারে গোঁড়া থেকে শুরু করতে হবে সবকিছু। ক্যাপ্টেন বললেন, কাঠ আর কয়লার অভাব নেই দ্বীপে! শুধু তন্দুরটা হলেই আগুনে পুড়িয়ে মাটির বাসন পেয়ালা তৈরি করে ফেলা যাবে। তন্দুর! অবাক কণ্ঠে প্রশ্ন করল পেনক্র্যাফট, তন্দুর পাব...

১৪. মাপজোকের কাজ শুরু করলেন ক্যাপ্টেন

মাপজোকের কাজ শুরু করলেন ক্যাপ্টেন। আগের রাতের অর্ধেক বের করে রাখা ল্যাটিচিউডের কাজ শেষ করতে হবে, তাই সাগরতীর থেকে বিশ ফুট আর পাহাড় থেকে পাঁচশো ফুট দূরে একটা বারো ফুট লম্বা লাঠি পুঁতলেন ক্যাপ্টেন। লাঠিটার দুফুট রইল মাটির তলায়, দশফুট ওপরে। তারপর পিছু হটতে লাগলেন...

১৫. গহ্বরের মুখ

চওড়ায় বিশ ফুট, কিন্তু উচ্চতায় মাত্র দুফুট গহ্বরের মুখটা! এত কম উচ্চতায় চলবে না। আপাতত নেব আর পেনক্র্যাফট গাঁইতি চালিয়ে খানিকটা বড়ো করে নিল সুড়ঙ্গ-মুখ। চকমকি আর ইস্পাত ঠুকে দুটো মশালে আগুন জ্বালানো হলো। যুগ যুগ ধরে প্রবল বেগে পানি বয়ে যাওয়া আশ্চর্য সুড়ঙ্গে একে একে...

১৬. জুনের শুরুতেই শীত নামল

জুনের শুরুতেই শীত নামল। প্রথমেই মোমবাতির প্রয়োজন বোধ করল অভিযাত্রীরা। ক্যাপ্টেনের নির্দেশে আবার গোটা ছয় সীল মেরে আনল পেনক্র্যাফট। প্রথমে চুন আর চর্বি দিয়ে তৈরি হলো সাবান। সালফিউরিক অ্যাসিডের সাহায্যে আলাদা করে ফেলা হলো ক্যালশিয়াম সালফেট। বাকি রইল তিনটে ফ্যাটি...

১৭. যেন ভূত দেখছে এমন ভাবে

যেন ভূত দেখছে এমন ভাবে গুলিটার দিকে চেয়ে রইল সবাই। পেকারির বাচ্চাটার বয়স কত ছিল, পেনক্র্যাফট? জিজ্ঞেস করলেন ক্যাপ্টেন। মাস তিনেক। ফাঁদে আটকেও মায়ের দুধ খাচ্ছিল। তিন মাসের মধ্যেই কেউ গুলিটা ছুঁড়েছে। যেই ছুঁড়ে থাকুক সে হয়ত এখনও এ দ্বীপেই আছে। কাজেই হুঁশিয়ার থাকতে হবে...

১৮. জাহাজডুবি হয়ে সত্যিই কেউ দ্বীপে উঠেছে কিনা

পরদিন ভোরে, জাহাজডুবি হয়ে সত্যিই কেউ দ্বীপে উঠেছে কিনা দেখার জন্যে নৌকোয় চেপে রওনা দিল অভিযাত্রীরা। জোয়ার এসেছে তখন মার্সি নদীতে। মাঝ নদীতে নৌকোটা নিয়ে গিয়ে হাল ধরে বসে রইল পেনক্র্যাফট। জোয়ারের টানে আপনি ভেসে চলল নৌকো। একজায়গায় তীরের খুব কাছাকাছি চলছিল নৌকো। ওই সময়েই...

১৯. দ্বীপের দক্ষিণ তীর ঘেঁষে চলা শুরু হলো

পরদিন, পহেলা নভেম্বর সকাল থেকেই দ্বীপের দক্ষিণ তীর ঘেঁষে চলা শুরু হলো।  ঠিক হলো, দক্ষিণ তীরে জাহাজডুবির চিহ্ন খুঁজে রাতের আগেই মার্সি নদী পেরিয়ে গ্রানাইট হাউসে পৌঁছতে হবে। নৌকোটা যেখানে আছে সেখানেই থাকুক দিন কয়েক। নৌকোটা নিরাপদেই থাকবে ওখানে, কি বলো? পেনক্র্যাফটকে...

২০. একটু দূরে জঙ্গলের ধারে

একটু দূরে জঙ্গলের ধারে ওরাং ওটাং এর লাশগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হলো! সহজেই পোষ মানিয়ে ফেলা গেল জাপকে। কখনও বেয়াড়াপনা করে না, যা শেখানো হয় চুপচাপ শিখে নেবার চেষ্টা করে। এবার কয়েকটা কঠিন কাজে হাত দিল অভিযাত্রীরা। একটা ব্রিজ তৈরি করে ফেলল মার্সি নদীর ওপর। ব্রিজের মাঝখানটা...