জুল ভার্ন – মরুশহর

জুল ভার্ন - মরুশহর । সেবা অনুবাদ সিরিজ । শামসুদ্দীন নওয়াব । প্রথম প্রকাশ: ১৯৮২

০১. ভূপৃষ্ঠের তিনলক্ষ বর্গমাইল জায়গা জুড়ে

ভূপৃষ্ঠের তিনলক্ষ বর্গমাইল জায়গা জুড়ে রয়েছে বিশাল সাহারা মরুভূমি। উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে তখনকার যে কোন নিঁখুত এবং আধুনিক ম্যাপেও বিরাট এই ভূখন্ডকে ফাঁকা জায়গা হিসেবে দেখানো হত। অজ্ঞাত এই অঞ্চলে কি আছে, জানত না এমনকি বড় বড় ভূগোল বিশারদেরাও। এই সময়টাতেই সাহারার দিকে...

০২. বন্দী হওয়ার পর চব্বিশ ঘণ্টা কেটে গেছে

(আমিদী ফ্লোরেন্সের নোটবই থেকে) ২৫ মার্চ। বন্দী হওয়ার পর চব্বিশ ঘণ্টা কেটে গেছে। মোটামুটি শান্তিতেই কেটেছে গত রাতটা। সকালবেলা, এখন একটু ভাল লাগছে। তাই লিখতে বসেছি। কিন্তু এ কোথায় এলাম? চাঁদে? বললে বিশ্বাস করবেন? উড়ে এসেছিলাম। না, বেলুন নয়, উড়োজাহাজ। রীতিমত এঞ্জিন...

০৩. কয়েদখানায় বসে লিখছি

(আমিদী ফ্লোরেন্সের নোটবই থেকে) ২৬ মার্চ। কয়েদখানায় বসে লিখছি। মাজেপ্পার পর এখন সিলভিও পেলিকোর অবস্থায় পড়েছি। গুপ্ত সমিতির কারবোনারির সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে দশ বছর জেল হয়েছিল যার এবং এর কাহিনী নিয়ে নাটক লিখেছিলেন লর্ড বায়রনের এক ইটালিয়ান নাট্যকার বন্ধু। কিন্তু আমার...

০৪. হ্যারি কিলারের নৃশংসতায়

২৬ মার্চ-৮ এপ্রিল। হ্যারি কিলারের নৃশংসতায় দমে এতটুকু হয়ে গেল অভিযাত্রীদের মন। কখন আবার কি অনর্থ ঘটায় নিষ্ঠুর পাগলটা, তাই ভয়ে ভয়ে রইল তারা। অভিযাত্রীদের অবাক করে দিয়ে কিন্তু পরদিন থেকে তাদের সঙ্গে অন্যরকম ব্যবহার শুরু করল হ্যারি কিলার। বোধহয় জেনের মন জয় করার জন্যেই...

০৫. সত্যিই বেঁচে আছে টোনগানে

সত্যিই বেঁচে আছে টোনগানে। এমন কি বহাল তবিয়তেই আছে। টোনানের মুখেই শুনল অভিযাত্রীরা। অন্ধকারে সেদিন জঙ্গলের মধ্যে অভিযাত্রীদের ঘিরে ধরেছিল হ্যারি কিলারের সৈন্যরা। কিন্তু তার আগেই বিপদের গন্ধ পেয়ে পালিয়েছে টোনগানে। গভীর জঙ্গলে লুকিয়ে থেকেছে। সকাল হলে আড়ালে লুকিয়ে থেকে...

০৬. অতি তুচ্ছ সৌজন্য

অতি তুচ্ছ সৌজন্য। কিন্তু শত্রু এলাকায় এটুকুও আশা করেনি অভিযাত্রীরা। বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেল তারা। নির্বাক, নিঃশব্দে সিড়ি ভেঙে এগিয়ে চলল মারসেল ক্যামারেটের পিছু পিছু। বিশ ধাপ পেরিয়ে একটা হলঘরে এসে দাঁড়াল তারা। এগিয়ে গিয়ে ওপাশের একটা দরজা খুলে ফিরে চাইলেন ক্যামারেট।...

০৭. চওড়ায় আড়াইশো গজ কারখানা এলাকা

চওড়ায় আড়াইশো গজ কারখানা এলাকা, বললেন ক্যামারেট, লম্বায় তিনশো ষাট, রেড রিভারের তীর বরাবর আয়তক্ষেত্রাকার মোট জমি ষাট বিঘে। এই আয়তক্ষেত্রের পশ্চিমে প্রায় ছত্রিশ বিঘে জুড়ে শুধু সব্জীখেত, বাগান ইত্যাদি। কিন্তু খেত, বাগান কেন? প্রশ্ন করল ফ্লোরেন্স। বাহ! সব্জী খায় না লোকে?...

০৮. বারজাক মিশন ছেড়ে আসার পর

বারজাক মিশন ছেড়ে আসার পর থেকেই মন ভাল নেই ক্যাপ্টেন মারসিনের। জেনের চিন্তা করে প্রায় সারাক্ষণই। কিন্তু মনে-প্রাণে সৈনিক সে। কাউকে বুঝতে দিল না, মনের ভেতরে তার কি চলছে। একটানা নদিন চলে সিগৌসিকোর পৌঁচেছে বাইশে ফেব্রুয়ারি রাতে। পরের দিনই কর্নেল সেন্ট অবানের আদেশপত্র...

০৯. বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে নিজেই বিপদে পড়ল হ্যারি কিলার। বন্ধ হয়ে গেল চাষের মেশিন, পাইলনের চুড়ো থেকে আর ছুটছে না ওয়েভ। বন্ধ হয়ে গেল পানির পাম্প। দুটো পাম্পের একটা ফ্যাক্টরির ভেতরে। পাম্প বন্ধ হতেই দেখতে দেখতে খালি হয়ে গেল রিজারভয়ের। কিন্তু নদী থেকে পানি এসে খালি...

১০. নিঃসীম হতাশায় ভেঙে পড়ল অভিযাত্রীরা

নিঃসীম হতাশায় ভেঙে পড়ল অভিযাত্রীরা। হাজারো ফন্দী-ফিকির করল সবাই বসে, কিন্তু দেশে ফিরে যাবার কোন সত্যিকারের সুরাহা করতে পারল না। দুর্ভাবনায় পড়লেন মারসেল ক্যামারেটও। নতুন প্লেন তৈরি হতে কমপক্ষে দুমাস লাগবে। এদিকে খাবার রয়েছে মাত্র পনেরো দিনের। আরও কিছু বেশি খাবার আছে...

১১. ভেতর থেকে সদর দরজা খোলার পদ্ধতি

ভেতর থেকে সদর দরজা খোলার পদ্ধতি জানাই আছে জেনের। গত কয়েক দিন ফ্যাক্টরিতে থেকে থেকে অনেক কিছুই জেনে নিয়েছে সে। তাই বেরোতে কোন অসুবিধেই হলো না। অন্ধকার রাত। তাছাড়া ক্ষুধা তৃষ্ণা-উত্তেজনায় জেনের কথা মনেই নেই কারও। তাই অন্ধকার নামার পর, টোনগানের কাছ থেকে সিগন্যাল পাবার...

১২. হঠাৎ শ্ৰীমতীর আগমন

তাই তো বলি, বলা নেই কওয়া নেই, হঠাৎ শ্ৰীমতীর আগমন! দরজা জুড়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছে হ্যারি কিলার, জিজ্ঞেস করলাম বলে কিনা, বন্ধুদের বাঁচাতে আমার কাছে এসেছে। আমাকে বিয়ে করার বিনিময়ে ছেড়ে দিতে হবে ওদের। তখনই সন্দেহ হলো। সিংহাসন ঘরের পেছনের দরজাটার দিকে হাঁ করে অনেকদিন চেয়ে...

১৩. কিসের এত শব্দ

কিসের এত শব্দ বুঝতে পারছে না লুই বা জেন কেউই। প্রাসাদের বাইরে থেকে আসছে শোরগোলের আওয়াজ। থেকে থেকেই বন্দুক গর্জাচ্ছে, বিস্ফোরণের শব্দ হচ্ছে। বাড়ছে ক্রমেই। হঠাৎই ব্যাপারটা অনুমান করতে পারল জেন। ভাইকে জিজ্ঞেস করল, হাটতে পারবে? চেষ্টা করব। চলো তাহলে। ধরে ধরে অতিকষ্টে...

১৪. পরিষ্কার বুঝল জেন

পরিষ্কার বুঝল জেন, এভাবে আর বড়জোর কয়েক ঘণ্টা টিকতে পারবে ফ্যাক্টরিবাসীরা। শেষ পর্যন্ত মরতেই চলেছে তারা। এদিকে আরও একটা দরজা ভেঙে ফেলেছে উইলিয়াম ফার্নির লোকেরা। ক্রমেই এগিয়ে আসছে ওরাও। বিস্ফোরণের শব্দ আরও এগিয়ে আসছে। সমানে চলছে গোলাগুলির আওয়াজ। আবার আগের ঘরে ফিরে এল...