অ্যানিমেল ফার্ম – জর্জ অরওয়েল

অ্যানিমেল ফার্ম - জর্জ অরওয়েল মূল: জর্জ অরওয়েল রূপান্তর : সুরাইয়া আখতার জাহান। সেবা প্রকাশনী। প্রথম প্রকাশ - ১৯৯৯

০১. ম্যানর ফার্মের মালিক মি. জোনস

ম্যানর ফার্মের মালিক মি. জোনস মাতাল অবস্থায় মুরগির খাঁচার দরজা বন্ধ করলেন। কি পপ-হোলগুলো বন্ধ করতে ভুলে গেলেন, লণ্ঠন হাতে টলতে টলতে রান্নাঘরের মদের পিপে থেকে এক গ্লাস বিয়ার ঢেলে রওনা হলেন শোবার ঘরের দিকে। মিসেস জোনস তখন বিছানায় নাক ডাকাচ্ছেন। শোবার ঘরের আলো নিভতেই...

০২. বুড়ো মেজর ঘুমের ভেতর মারা গেল

এই ঘটনার তিনরাত পর বুড়ো মেজর ঘুমের ভেতর মারা গেল। তার মৃতদেহ পুঁতে ফেলা হলো বাগানের ধারে। সময়টা ছিল মার্চের শুরু। এরপর তিনমাস ধরে গোপনে বিদ্রোহের প্রস্তুতি চলল খামারে। মেজরের বক্তৃতা বুদ্ধিমান জয়দের চোখ খুলে দিয়েছে। তারা জানে না মেজরের কথিত সেই বিদ্রোহ কবে হবে। কিন্তু...

০৩. পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায়

পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় শস্য কেটে জড়ো করতে ঘেমে নেয়ে উঠল জন্তুরা। তবে তাদের পরিশ্রম বৃথা গেল না, ফসলের পরিমাণ হলো আশাতীত। ফসল কাটতে খুব কষ্ট হলো। যন্ত্রপাতিগুলো মানুষের ব্যবহারের জন্য তৈরি, জন্তুদের জন্য নয়। সবচেয়ে বড় অসুবিধে হলো পেছনের দুপায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে সামনের...

০৪. গ্রীষ্মের শেষাশেষি

গ্রীষ্মের শেষাশেষি জন্তুখামার-এর ঘটনা পুরো উইলিংডন জেলায় ছড়িয়ে পড়ল। স্নোবল ও নেপোলিয়ন রোজ সকালে কবুতরদের আশপাশের খামারগুলোতে পাঠাত, বিদ্রোহের গল্প শুনিয়ে সেখানকার জন্তুদের উত্তেজিত করতে আর বিস্টস অভ ইংল্যাণ্ড শেখাতে। ওদিকে মি. জোনস সময় কাটাতেন উইলিংডনের রেড লায়ন বারে...

০৫. দেখতে দেখতে শীতকাল এসে গেল

দেখতে দেখতে শীতকাল এসে গেল। সবকিছু ঠিকমতই চলছে, কেবল মলি একটু ঝামেলা করছে। রোজ কাজে যেতে দেরি করে সে। অজুহাত দেখায় ঘুম পেয়েছিল বলে। শরীরের নানান জায়গায় অদ্ভুত সব অসুখ, যদিও স্বাস্থ্যটা বরাবরই ভাল তার। এরকম নানা অজুহাতে কাজ ফাঁকি দিয়ে চলে যেত সে পুকুরের ধারে। পানিতে...

০৬. জন্তুরা ক্রীতদাসের মত খাটল

সেই বছরটা জন্তুরা ক্রীতদাসের মত খাটল। এত খাটুনি সত্ত্বেও তারা ছিল সুখী। কোনরকম স্বার্থ ত্যাগে কারও কোন দ্বিধা নেই। কারণ, তারা জানে—এই খাটুনি, স্বার্থত্যাগ কেবল তাদের উত্তরসুরিদের স্বার্থেই, অলস-শোষক মানুষের স্বার্থে নয়। পুরো গ্রীষ্ম আর বসন্তকালে জন্তুরা সপ্তাহে ষাট...

০৭. শীতকালটা দুর্যোগ বয়ে নিয়ে এল

শীতকালটা দুর্যোগ বয়ে নিয়ে এল। তুষার ঝড় আর শিলাবৃষ্টি চলল ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত। নতুন করে উইণ্ডমিলের কাজ শুরু করল জন্তুরা। এজন্য কঠোর পরিশ্রম করছে সবাই। তারা জানে, বাইরের পৃথিবীর হিংসুটে মানুষগুলো তাদের কার্যকলাপ উদগ্রীব হয়ে দেখছে। ব্যর্থ হলে তাদের কাছে মুখ দেখানোর...

০৮. নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের ধকল

কয়েক দিন পর, নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের ধকল যখন, কাটিয়ে ওঠা গেল; জন্তুদের কারও কারও মনে পড়ল, জন্তু মতবাদের ছয় নম্বর নীতিটা ছিল জন্তুরা, একে অপরকে হত্যা করতে পারবে না। যদিও শুয়োর-কুকুরদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেল না। তবুও তাদের মনে হতে লাগল-কয়েক দিন আগের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে...

০৯. বিজয় উৎসবের পরপর

বক্সারের পা ভাল হতে অনেক দিন লাগল। বিজয় উৎসবের পরপরই আবার, নতুন করে উইণ্ডমিল তৈরির কাজে হাত দিল জন্তুরা। বক্সার আহত হলেও বিশ্রাম নিতে অস্বীকার করল। পায়ের ব্যথাটা লুকিয়ে রাখা তার কাছে এখন আত্মসম্মানের ব্যাপার। কেবল গোপনে ক্লোভারকে জানাল সে, তার খুব কষ্ট হচেছ। ক্লোভার...

১০. বছর গড়িয়ে যায়

বছর গড়িয়ে যায়, ঋতু বদল হয়, স্বল্পায়ু জন্তুরা পৃথিবী থেকে বিদেয় নেয়। এমন একটা সময় এল, যখন বিদ্রোহের কথা মনে রাখার মত কেউ রইল না। কেবল রইল ক্লোভার, বেনজামিন, মোজেস আর কয়েকটা শুয়োর। মুরিয়েল নেই, রুবেল, জেসি আর পিনশারও মারা গেছে। মি. জোনস মারা গেছেন অতিরিক্ত মদ পানে লিভার...