৯. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে এ পর্যন্ত নিরুদ্বেগে কেটে গেছে জেমস মরগানের। ভবিষ্যতের কথা ভেবে রোদ ঝলমলে সকালটা মাটি করতে চায়নি। পাই প্যালেসে নাস্তা সেরে ঘুরে বেড়িয়েছে সারা শহরে। সেলুনে বসে পোকার খেলেছে, কয়েক পেগ হুইস্কি পান করেছে। দুপুরের জন্যে অপেক্ষা করছে ও। রোদ একটু জাকিয়ে বসতে ফিরে এল আস্তাবলে, সোরেলটাকে তৈরি রাখল। সময় কাটছে না ওর, অবশ্য অধৈর্যও লাগছে না। আলফ্রেড টেনিসন উপস্থিত হওয়ার পর আর অল্প কয়েকটি মুহূর্ত থাকতে হবে এখানে, জানে ও, তারপর হয় ওর নয়তো টেনিসনের ছুটি। দুজনের একজনকে মরতে হবে আজ। হয়তো দু’জনকেই, এমন ডুয়েল অনেক ঘটেছে-দু’জনের গুলিই পরস্পরের মরণ ডেকে। এনেছে। ভয় পাচ্ছে না মরগান। ফয়সালা শেষ করার তাড়া অনুভব করছে, তারপরই শহর ছাড়বে।

আলফ্রেড টেনিসন একটা আস্ত হারামি। লোকটাকে শেষ করতেই হবে। বারবার ওকে আঘাত করেছে সে, আত্মরক্ষা করে কূল পায়নি মরগান। এবার সুযোগ এসেছে-প্রতিঘাতের।

আস্তাবলের সামনে দাঁড়িয়ে সিগারেট রোল করল মরগান। ধরিয়ে বুক ভরে ধোয়া টেনে নিল। রাস্তাটা জনশূন্য, রোদের আঁচে তপ্ত হয়ে উঠেছে মাটি। পায়ের ভর বদল করে আরাম করে দাঁড়াল ও, হঠাৎ দেখতে পেল আলফ্রেড টেনিসনকে। ঠিক উল্টোদিকের সেলুন থেকে বেরিয়ে এসেছে। বরাবরের মত পরিপাটি পোশাক। পরনে, কোমরে হোলস্টারসহ পিস্তলটাই শুধু নতুন। চকচকে বাট ওর মনে বিপদসঙ্কেত বাজাল যদিও তার কিংবদন্তীর নামটাই যথেষ্ট। মরগান খেয়াল করল টেনিসনের হাতে খবরের কাগজের একটা তাড়া দেখা যাচেছ।

ওর উদ্দেশে মৃদু নড করল আয়রন হক ওরফে আলফ্রেড টেনিসন। হেসে আরও দু’পা এগিয়ে এল। দেরি করলাম নাকি, মরগান?

ভ্রূকুটি করল মরগান। ঠিক সময়েই এসেছ, এবং দেখতে পাচ্ছি, তৈরি হয়েই।

তৈরি তো সবসময়েই। তুমি যখন এখানে প্রথম এসেছ, তখন থেকেই।

সন্দেহ আছে আমার। কিছু বেপরোয়া লোকের সাহায্য নিয়েছ তুমি। আমাকে পেড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল ওঁরা, পারেনি। তোমার নিয়মেই খেলতে হলো আমাকে। নিজে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর সাহস দেখাতে যে চায় না, তাকে টেনে আনতেই হয়। তাছাড়া হারানো লোকটাকে খুঁজে বের করারও একটা তাগিদ ছিল। এখানকার লোকেরা জানবে আলফ্রেড টেনিসন আসলে কে, কেন সে এই বৈরী দেশে পিস্তল ছাড়া ঘুরে বেড়ায়। নিজের পরিচয় লুকিয়ে এখানে আর থাকতে পারছ না তুমি। এখন থেকে তোমার আসল পরিচয় জানবে সবাই।

মাথা ঝাঁকাল টেনিসন। সারা মুখে প্রচ্ছন্ন কৌতুক খেলা করছে, খানিকটা ব্যঙ্গাত্মক ভাবও আছে। যাই বলো না কেন, খেলাটা কিন্তু দারুণ জমেছিল। কার্টারের দলটাকে কানা করে দিলে তুমি, অবশ্যই আমার দেয়া চালে। আর তোমাকেও পেয়ে গেলাম আমি। এখানে কটা দিন আটকে রাখতে চেয়েছি। কেন জানো? হাতের কাগজের দিকে ইঙ্গিত করল সে। এগুলোয় কি আছে, ধারণা করতে পারছ?

অসহায় বোধ করল মরগান, সেকেন্ড কয়েক কিছুই বলতে পারল না। শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নেমে গেল শেষ কশেরুকা পর্যন্ত। অস্বস্তি নিয়ে তাকাল প্রতিদ্বন্দ্বীর দিকে। পারছি, নিজের কণ্ঠ অচেনা মনে হলো ওর! আট মাস আগের পত্রিকা ওটা।

একটু ভুল হলো, দুটো পত্রিকা। আরেকটা পাঁচ দিন আগের। নভেম্বরে টুকসনের এক ব্যাংকে ডাকাতি হয়েছিল, পাঁচ লাখ ডলার লুট হলো। ডাকাতদের পেছনে লাগল ওয়েলস ফারগো, কিন্তু কিছুই করতে পারল না। তবে ধারণা করল ডাকাতদের সংখ্যা চারজন। তারপর, সাত মাস…এর মধ্যে পুরো ব্যাপারটা ভুলতে বসেছে সবাই। তবে আশা ছাড়েনি ওয়েলস ফারগো। দশ দিন আগে মন্টানায় ধরা পড়েছে লুইফ বেক্সটার। তক্কে তক্কে ছিল ওরা, নোটগুলোর খবর পেতে গোপনে সেখানে চলে যায় এবং বেক্সটারকে খুঁজে পায়। চার দিন আগে ফাঁসি হয়ে গেছে বেক্সটারের, কিন্তু মরার আগে সঙ্গীদের নাম বলে গেছে সে। উইলিয়াস ডরেস ওরফে জেমস মরগান তাদেরই একজন।

মৃদু হাসল মরগান যদিও চরম হতাশা কাটাতে পারছে না। খেলাটা তুমি শুরু করলেও আমিই শেষ করব। তোমার সাধের ইচ্ছে আপাতত পূরণ হচ্ছে। লজপোল পাইনের ওই জায়গাটা পাচ্ছ না তুমি, মেলিসা বডম্যানকেও পাবে না।

হাসল টেনিসন, ঠিক পিশাচের মত। মেলিসা আমার কি হয়, জানো?

থমকে গেল মরগান। মেলিসা বডম্যানের সাথে কি সম্পর্ক থাকতে পারে শয়তানটার?

স্ত্রী। ভালবাসার পর বিয়ে করা স্ত্রী। এখনও আমাকে ভালবাসে ও, আমিও। আর শ্যন? …ও আমার ছেলে। পৃথিবীতে দু’জন মানুষের চোখ দেখবে ছাইরঙা-একজন আমি, আরেকজন শ্যন। আমার আর লিসার মাঝখানে এসে দাঁড়িয়েছিল একটা মেয়ে, ভুল বোঝাবুঝি এবং ছাড়াছাড়ির কারণ ওটাই। তবে লিসা আর আমি পুরো ব্যাপারটা খুব শিগগিরই মিটিয়ে ফেলব।

জেমস মরগান হতবাক। জীবনে এরচেয়ে বেশি কখনোই বিস্মিত হয়নি। মনে পড়ল মেলিসাকে টেনিসনের কাছে যেতে চাপ দিত মি. বডম্যান, টেনিসনের সামনে আসলে নিজেও দুর্বল বোধ করত মেলিসা, একটা রাতও কাটিয়েছে টেনিসনের সাথে। আর টেনিসন সম্পর্কে মিথ্যে বলেছে ওর কাছে। বেশিক্ষণ ভাবতে পারল না মরগান, মাথা ধরে এল। এই একটি লোক, ওর জীবনে দেখা লোকগুলোর মধ্যে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। কোনভাবেই একে বুঝতে পারছে না মরগান। লোকটা একাধারে কপট, অহঙ্কারী এবং ধুরন্ধর। পেছনের অতীত সে জয় করেছে, এমনকি মেলিসা বডম্যানকেও যার সাথে তিক্ত একটা সম্পর্ক ছিল তার।

সহসা বিপুল সতর্কতা গ্রাস করল মরগানকে। টেনিসনের ছাইরঙা চোখের দিকে তাকাল, চ্যালেঞ্জ সেখানে। ধীরে ধীরে তীব্র ক্রোধে আচ্ছন্ন হয়ে গেল ওর শরীর। সেকেন্ড কয়েকের মধ্যে সে হয়ে গেল উইলিয়াম ডরেস, দুধর্ষ এক আউট-ল যার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি বোকা বানিয়েছিল ওয়েলস ফারগোর তুখোড় গোয়েন্দাদের। কিন্তু ভজকট করেছে বেক্সটার শালা, তিক্ত মনে ভাবল মরগান, নইলে নির্বিঘ্নে মিসৌরি পৌঁছে যেতে পারতাম। পুরো ব্যাপারটা চাপাই থাকত, ডাকাতির আগে যেমন ভেবেছে। তবু, ক্যাসল টাউনে আটকে না থাকলে বোধহয় কিছুই আসত-যেত না। জনতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা কিংবদন্তীর এই লোকটি যত নষ্টের গোড়া। এর প্রতি রোষের অন্ত নেই মরগানের। যেভাবেই হোক শেষ করতে হবে একে। টেনিসনের ছাইরঙা চোখে কাঁপন দেখতে পেল ও-তারমানে ড্র করতে যাচ্ছে শয়তানটা! বিদ্যুৎ খেলে গেল মরগানের হাতে।

ক্যাসল টাউনের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুতগতির আর ভয়ঙ্করতম ডুয়েল হলো ওটা।

.

সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে, তখন ফ্ল্যাগ-বি বাথানে পৌঁছল সে। হিচিং রেইলে ঘোড়ার লাগাম বেঁধে গায়ের ধুলো ঝাড়ল প্রথমে, পোর্চ হয়ে বারান্দায় উঠে এল এরপর। ভেজানো দরজা ঠেলে র‍্যাঞ্চ–হাউসে ঢুকে পড়ল সে। ভেতরে কোন সাড়া নেই। মেলিসা বডম্যানের কামরার দিকে এগোল আগন্তুক।

সামনে এসে খানিক ইতস্তত করল সে, তারপর ভেজানো দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ল। কামরাটা পরিপাটি করে গোছানো। নরম কার্পেটের ওপর দিয়ে এগোল ও। ওপাশের জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে মেলিসা বডম্যান, জানালা গলে আসা বিকেলের রোদ মধুরঙা চুলগুলোকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

ঠিক পেছনে এসে দাঁড়াল সে। ডাকল মেয়েটিকে।

চমকে ঘুরে তাকাল মেলিসা। তুমি?

হ্যাঁ, আমি। পুরো ব্যাপারটা শেষ, হাতের কাগজ দুটো এগিয়ে দিল ও। পড়ো।

কি আছে এসবে?

আট মাস আগে জেমস মরগান

ওর ব্যাপারে কোন আগ্রহ নেই আমার, নিস্পৃহ কণ্ঠে বলল মেলিসা। লোক লাগিয়ে তুমিই হয়রানি করেছ ওকে, শেষে নিজেই বাকি কাজটুকু শেষ করেছ, তাই না? কিন্তু এত ঝামেলার কি দরকার ছিল? প্রথম দিনই শেষ করে দিতে পারতে ওকে, মাঝখানে এতগুলো লোক অযথা খুন হলো।

আমার দুটো উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে তাতে। উপরি হিসেবে কার্টারের দলটা পঙ্গু হয়ে গেল। তাছাড়া প্রথমে নিশ্চিত ছিলাম না যে ও-ই উইলিয়াম ডরেস।

মিথ্যে বোলো না। তোমার আরও উদ্দেশ্য ছিল-ম্যাকলয়ারীদের শিক্ষা দেয়া, আমার কাছ থেকে জমিটা কেড়ে নিতে চেয়েছ।

খোদার কসম, লিসা, তা চাইনি আমি!

নিজের কানকেও অবিশ্বাস করব? লজপোল পাইনের ওই জমিটা চাওনি তুমি?

চেয়েছি, কিন্তু কেড়ে নিতে চাইনি। ন্যায্য দামে কিনতে চেয়েছি।

আরেকটু হলে আমাকে বাধ্য করতে তুমি! এখনও কি তাই চাও?

জায়গাটা আমার দরকার, তোমার চেয়ে বেশিই দরকার। আমার জমিতে ঘাস নেই, অথচ এটা ব্যবহার করছ না তুমি। আবার বলেছ কাঁটাতারের বেড়া দেবে নিজের সীমানায়। তাহলে আমার এতবড় স্টক কোথায় চরবে?

সেটা আমি জানি? ঝাঝিয়ে উঠল মেলিসা।

কিন্তু ওই জমির প্রয়োজন হবে না, যদি ফ্রি রেঞ্জের সুবিধেটুকু আমি ভবিষ্যতেও পাই। তুমি এমন জেদী…অথচ দুটো বাথানকে একটাতেই রূপান্তরিত করতে পারি আমরা। আমাদের সম্পর্কটা তো ওরকমই।

নিরাসক্ত দৃষ্টিতে টেনিসনকে দেখল মেলিসা। এবার নিশ্চই সবাইকে বলা শুরু করবে?

টেনেসি থেকে যখন চলে এলে, সম্পর্ক গোপন রাখার কোন প্রতিশ্রুতি বিনিময় হয়নি আমাদের মধ্যে। এখানে এসে দেখলাম শ্যনের বাবার পরিচয় গোপন করেছ। খারাপ লাগলেও মুখ খুলিনি, কারণ আমি সবসময়ই সুখী করতে চেয়েছি তোমাকে। কেবল একটি ভুলই করেছি, স্বীকার করছি ওটা জঘন্য অপরাধ ছিল, ডোনা রাইস…।

ওই বেল্লিক মেয়েমানুষটার নাম আমার সামনে উচ্চারণ কোরো না! ঝামটে উঠে ফের টেনিসনকে থামিয়ে দিল মেলিসা।

অধৈর্য দেখাল বক্স-টি মালিককে। নড়েচড়ে শরীরের ভর এক পা থেকে অন্য পায়ে চাপাল। ঠিক আছে, তুমি যা চাও, তাই হবে। বাথানের সীমানায় তারের বেড়া দাও, ওই জায়গারও দরকার নেই আমার। কেবল তোমাকে পেলেই হলো, আর কিছু চাই না!

তুমি আমাকে এত অপমান করার পরও তোমার সাথে থাকতে বলছ?

তুমি আমার স্ত্রী।

প্রবলভাবে মাথা নাড়ল মেলিসা। আমাকে জোর করেছ তুমি! অস্বীকার করার পরও অধিকার চাপিয়ে দিচ্ছ। চালাকি করে তোমার বাথানে নিয়ে গেছ আমাকে, তারপর.. হায় খোদা, এর আগে আমাকে, আমার ভালবাসাকে অপমান করেছ তুমি আর সেদিন…আমি নিজেই তা আরও বাড়িয়ে দিলাম! পাগলের মত তোমাকে চেয়েছি আমি। নিজের ওপর ঘৃণা হচ্ছে আমার!

টেনিসন অবাক হয়ে দেখল কাদছে মেলিসা। মেয়েটির আচমকা উপলব্ধি চমকে দিল ওকে। শ্যনের কি হবে ভেবে দেখেছ?

জানাব ওর বাবা…’

এখানেই আছে, নাম আলফ্রেড টেনিসন, মেলিসার মুখের কথা কেড় নিয়ে শেষ করল টেনিসন।

না, এ পরিচয় ওকে দেব না আমি! দৃঢ় স্বরে ঘোষণা করল বডম্যান-কন্যা।

কিন্তু সত্যটি জানার অধিকার আছে ওর।

আমার ছেলের ব্যাপারে আমিই সিদ্ধান্ত নেব, তুমি নও।

স্মিত হাসল টেনিসন; আশান্বিত, ওষুধে ধরছে। মেলিসাকে তার চেয়ে বেশি আর কে চিনবে! জানে অন্তরঙ্গ কথাবার্তা আর একটু সাহচর্য মেলিসাকে দুর্বল। করতে যথেষ্ট; পুরানো ক্ষতের ঘা আর নেই এখন, সেখানে দরকার মমতার প্রলেপ। ও কি তোমার একার ছেলে? এগিয়ে গিয়ে মেলিসার খুব কাছাকাছি দাড়াল, ভেজা নীল চোখের দিকে তাকাল। আমার সামনে একটিবার আনো। ওকে, আমি ওর চোখের দিকে তাকাই, তারপর দেখব তোমার একার অধিকার কতটুকু গ্রহণ করে ও।

ফ্রেড, প্লীজ! অসহায় দেখাল মেলিসাকে। চলে যাও তুমি। শ্যন জেগে গেলে আমার সর্বনাশ হবে। চলে যাও, ওই জায়গাটা ছেড়ে দেব আমি, এক শর্তে-কক্ষনো ওর অধিকার চাইবে না!

মেলিসার কোমর পেঁচিয়ে ধরল টেনিসন। লিসা, আমি কি ক্ষমা পেতে পারি?

তাকে দেখল মেলিসা, বোঝার চেষ্টা করছে। এখন তুমি একটা জোচ্চোরে পরিণত হয়েছ, অথচ আগে…

কিন্তু লিসা, আমি যাই হই না কেন, তোমাকে ছাড়া যে চলবে না আমার। শ্যনকে আজই নিয়ে যাব আমি, সাথে ওর মা-ও যাবে।

যাব না আমি!

আমাদের মধ্যে আর কোন ডোনা রাইস আসবে না।

এরকম প্রতিশ্রুতি কি একবার দাওনি?

আরও দশ মিনিট ধরে তর্ক করল ওরা। তারপর ক্ষুব্ধ মেজাজে পাশের কামরার দিকে এগোল টেনিসন, জানে ওখানেই শুয়ে আছে ছোট্ট ছেলেটা। দৌড়ে ওর সামনে এসে পথ রোধ করল মেলিসা।

ওর কাছে যেতে পারবে না তুমি!

একশোবার যাব! চেঁচাল টেনিসন। সরো!

না!

পরস্পরের দিকে তাকিয়ে থাকল ওরা।

এরকম করছ কেন, লিসা? একটা ভুল করেছি বলে নিকৃষ্ট হয়ে গেছি? তোমাকে কথা দিয়েছি, কেবল একটা সুযোগ দাও! বুঝতে পারছি তোমার বিশ্বাস হারিয়ে গেছে। শুধু নিজের কথাই ভাবছ তুমি, শ্যন কি কষ্ট পাচ্ছে না? আমি কি পাই না? আমি তো জানি ওই একটা ভুলের কারণে কি হারিয়েছি! অস্বীকার করতে পারবে এখনও আমাকে ভালবাস না? নইলে তোমাকে কাছে পেতাম সেদিন? আমাকে সহ্য করতে না পারলে ডিভোর্স দিচ্ছ না কেন? সবাইকে বলে দিলেই হয় আমি তোমার বখে যাওয়া স্বামী, তারপর কারও সাথে ঝুলে পড়লেই হয়? তোমাকে পেলে ধন্য হয়ে যাবে এ তল্লাটের যে কোন পুরুষ।

তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভাবতে পারি না আমি!

আবার আমাকে ক্ষমাও করতে পারছ না! টেনিসনের সারা মুখে হাসির দ্যুতি দেখা গেল। মেলিসা বাধা দেয়ার আগেই ওকে নিজের দিকে টেনে নিল। এই মেয়ে, দ্বিধা কোরো না আর, শেষবারের মত বিশ্বাস করো আমাকে। তোমার অবচেতন মন তাই চাইছে। কিন্তু মুখে কেবল না না করছ।

নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করল মেলিসা, কিন্তু পেরে উঠল না সুঠামদেহী লোকটির সাথে। একসময় আবিষ্কার করল টেনিসনের বাঁধনে আটকা পড়েছে পুরোপুরি। দেহের সাথে ওকে চেপে ধরেছে সে, এবং মুখটা নেমে আসছে। ছাইরঙা চোখ দুটোর দিকে তাকাল মেলিসা। হারানো বিশ্বাস খুঁজে পেল সেখানে, মুহূর্তে সব অতীত ভুলে গেল ও। আনন্দে জড়িয়ে ধরল টেনিসনের গলা। আমি এ জিনিসটাকেই ভয় পাই, ফ্রেড, রুদ্ধ স্বরে বলল মেলিসা। তোমার স্পর্শ আমাকে সব ভুলিয়ে দেয়। আর এ দুর্বলতার জন্যেই আমাকে ঠকিয়েছ তুমি। যদি আরেকবার ঠকাও, খোদার কসম, নিজেকেই খুন করব আমি! নিশ্চিন্ত থাকো, মিসেস টেনিসন, হেসে বলল টেনিসন, উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে সারা মুখ। আমারও শিক্ষা হয়েছে, আর ভুল করছি না। মেলিসা বডম্যানের মত মেয়ের স্বামীরা জীবনে ওরকম ভুল একবারই করে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *