৪. কিছু কিছু মুহূর্ত আছে

কিছু কিছু মুহূর্ত আছে যখন খুব কম সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তার ওপর বাঁচা-মরা নির্ভর করে। এ ধরনের মুহূর্তের সাথে পরিচিত জেমস মরগান। অবচেতন মন আর সহজাত প্রবৃত্তি সক্রিয় করল ওকে। পুরো ব্যাপারটা ঘটল মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই।

নির্দ্বিধায় গুলি করল ও। ফলাফলের দিকে নজর দেয়ার ফুরসৎ নেই, গুলি করার পরপরই ঝাঁপ দিয়েছে। পড়ন্ত অবস্থায়, যখন উইলির শরীরের আড়াল থেকে ডান দিকে সরে এসেছে কেবল, ফের গুলি করল। নিশানা করার সুযোগ পেয়েছিল চুরুটঅলা, মরগানের পাঠানো গুলি ওর কপাল ফুটো করল। গুলির ধাক্কায় দু’হাত দূরে ছিটকে পড়ল শরীরটা। নিথর পড়ে থাকল।

শুয়ে থেকে অন্যদেরকে কাভার করল মরগান। ওর বাম হাতে চলে এসেছে অন্য সিক্সশটারটা। দো-আঁশলার চোখে কেবলই বিস্ময়। পিঠের ওপর থেকে দুরি সমেত হাত সরিয়ে আনল সে। অন্যরা যেমন ছিল তেমনি আছে, যদিও ওদের চোখে বিস্ময়ের বদলে আতঙ্ক ভর করেছে এখন।

উইলি, যে তাদেরকে সুযোগ করে দিয়েছিল, চিৎ হয়ে পড়ে আছে। বুলেটটা ওর বুকে বিধেছে। যন্ত্রণাকাতর মুখ, বাতাসের জন্যে হাঁসফাঁস করছে। একনজর দেখে মরগান বুঝল খুব বেশি হলে কয়েক ঘণ্টা টিকবে। হ্যাঁ, কফির মগ এখনও ওর হাতে ধরা। এবার, ধীরে ধীরে ছেড়ে দিল মগটা, কাত হয়ে পড়ে যেতে যেটুকু কফি ছিল মাটিতে গড়িয়ে পড়ল।

উঠে দাঁড়াল মরগান। টের পেল এটুকুতেই ঘেমে গেছে, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। সুস্থির হতে কিছুটা সময় লাগল। তারপর তাকাল লোকগুলোর দিকে, ফ্যাকাসে তিনটা মুখ দেখে বিন্দুমাত্র করুণা হলো না ওর। জানে সুযোগ পেলে এখুনি ওকে খুন করবে এদের যে কেউ। উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ো সবাই! শীতল স্বরে নির্দেশ দিল ও। আরেকবার বলব না। তুমি, হলদে শেয়াল, দো-আঁশলার উদ্দেশে বলল। শোয়ার আগে ছুরিটা সামনের দিকে ছুঁড়ে দাও।

মরগানের নির্দেশমত দ্রুত উবু হলো লোকগুলো, হাত খালি করল দো আঁশলা।

কয়েক পা পেছনে সরে এল ও। শেয়ালটার দিকে সরে এসো অন্যরা, হ্যাঁ। এবার হলুদ শেয়াল, তোমার হাত দুটো ওদের পিঠে তুলে দাও। তোমরাও ওর। পিঠে হাত তুলে দাও। কেউ নই তো পাছায় গুলি করব। তোমরা জানেনা ওখানে একটা সীসা ঢুকলে কি হবে, একটা হপ্তা বসতে পারবে না।

লোকগুলো ওর নির্দেশ তামিল করতে চুরুটঅলার কাছে এল মরগান, ডেরিঞ্জারটা মুঠি থেকে খসিয়ে ক্রীকের দিকে ছুঁড়ে দিল। তারপর উইলির কাছে এল, তরুণকে ভয়ে সিঁটিয়ে যেতে দেখে হেসে মগটা তুলে নিল ও। কেতলি থেকে কফি ভরে ফিরে এল আগের জায়গায়।

কাছেই ছিল ওদের ঘোড়াগুলো, ল্যাসো সংগ্রহ করে সবচেয়ে কাছের লোকটার দিকে ছুড়ে দিল মরগান। বাধো ওদের, আয়েশ করে কফিতে চুমুক দিল ও। আরও শক্ত করে, তাগাদা দেয়ার সময় আড়চোখে পড়ে থাকা উইলির দিকে তাকাল। রক্তে সয়লাব হয়ে গেছে ছেলেটার শরীরের ওপরের অংশ। হাঁ করে শ্বাস নিচ্ছে, কিন্তু বুক ফুটো হয়ে যাওয়ায় সব বাতাস আর রক্ত বেরিয়ে আসছে। নীল হয়ে গেছে মুখ। বেশি হলে আর কয়েক মিনিট টিকবে।

কফি শেষ করল মরগান। মগ ছুঁড়ে ফেলে মুক্ত লোকটার দিকে এগোল। ঘুরে দাঁড়াও! আদেশ করল ও, লোকটা নির্দেশ তামিল করতে তার কানের পেছনে নামিয়ে আনল পিস্তলের বাঁট। সশব্দে সঙ্গীদের পাশে আছড়ে পড়ল সে। দ্রুত অন্যদের সাথে তাকেও বাঁধল মরগান। কাজ শেষে উইলির কাছে ফিরে এল।

দয়া করে মেরে ফেলো আমাকে! থেমে থেমে কথাগুলো উচ্চারণ করল ছেলেটা, চোখে অনুনয়। এত কষ্ট

ধৈর্য ধরো, একটু পর তোমার আশা এমনিতেই পূরণ হবে।

হকিন্স খুন করবে তোমাকে!

এগোচ্ছিল মরগান, ঝট করে ফিরল উইলির দিকে। তাতে তোমার লাভটা কি হচ্ছে শুনি? নিস্পৃহ ভাব দেখালেও মনে মনে স্মৃতির পাতা হাতড়াচ্ছে-কিন্সটা আবার কে?

উত্তর দিল না উইলি, আসলে উত্তর দেয়ার ক্ষমতাই হারিয়েছে।

ক্রীক ধরে এগোল ও, ইচ্ছে থাকলেও দ্রুত চলতে পারছে না। ক্লান্তি লাগছে, ধকল তো কম যায়নি। মন থেকে বিপদের আশঙ্কা তাড়াতে পারছে না, এ পাঁচজনের সাথে আরও লোক নেই তা কে বলবে। ভালয় ভালয় এখান থেকে কেটে পড়তে পারলে খুশি হয় মরগান।

প্রশ্নটা ভাবাচ্ছে ওকে। হকিন্স লোকটা কে? উইলির গলায় এমন কিছু ছিল যে হেলাফেলা করতে পারছে না। নিজের ভাগ্যকে অভিসম্পাত করল ও। কি অলক্ষুণেই না এখানে এসে পড়েছিল! এতক্ষণে অন্তত পঞ্চাশ মাইল সামনে থাকত, যদি না…উঁহু, মেলিসা বডম্যানের সাথে পরিচয় চমৎকার একটা অভিজ্ঞতা। এমন মেয়ে পশ্চিমে খুব কম আছে। সমস্যাটা ও নিজেই সৃষ্টি করেছে। ট্রেইলের পাশে ওই ঘেসো প্রান্তরে ঢুকে পড়া মোটেও উচিত হয়নি। তাহলে এত কিছু ঘটত না। সহসাই মনে পড়ল নামটা-রডনি অ্যাশ, কুখ্যাত রেঞ্জার। দুশো মাইল পেছনে অ্যাবিলিনে দেখেছিল তাকে। পিছু নিয়ে এতদূর চলে এসেছে লোকটা, বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে না, কিন্তু ঠিকই দেখা হয়ে গেল। যোগাযোগটা দৈবাৎ বলে মানতে পারছে না।

পুরো ব্যাপারটাই ধাঁধার মত লাগছে মরগানের কাছে। মরিয়া হয়ে ওর পিছু নিয়েছে কেন লোকগুলো? টেনিসন লেলিয়ে দিয়েছে? লোকগুলোর ঘোড়ার মার্কা দেখেছে ও, একটার সাথে আরেকটার মিল নেই। তাছাড়া স্রেফ কাউহ্যান্ড মনে হয়নি ওদেরকে। অনেক বন্ধুর, বেআইনী পথে এদের চলাফেরা। কয়েকজন সম্ভবত আউট-লই। টেনিসনের বাথান আউট-লদের আখড়া নাকি? ফ্ল্যাগ-বি বাথানে আসা লোকগুলোর বেশভূষা আর চালচলন মনে করার চেষ্টা করল মরগান। প্রায় সবাই ছিল সাধারণ পাঞ্চার, রাইফেল বা সিক্সটারের চেয়ে শ্যাসোই ওদের হাতে যেন বেশি মানায়। দুটো বাথানের মধ্যে রেঞ্জ ওঅর হলে এর কাউহ্যান্ডরাও অংশ নেয়। ওদেরকে দেখে তাই মনে হয়েছে মরগানের।

আরেকটা চিন্তা এল ওর মাথায়, কিন্তু তার ভিত্তি খুব দৃঢ় নয়। হতে পারে ওর স্যাডল ব্যাগের টাকাগুলোর কথা জেনে গেছে লোকগুলো, কিন্তু সম্ভাবনাটা একেবারে অসম্ভব হলেও উড়িয়ে দিতে পারছে না মরগান। টাকার ব্যাপারটা হয়তো আঁচ করেছিল রডনি অ্যাশ, এবং সেই ফ্রিসকো থেকে ওর পিছু নিয়েছিল। লোকটাকে শেষ দেখেছিল লারেডো হিলে-ক্যাসল টাউন থেকে চল্লিশ মাইল দূরে ছোট্ট এক কাউটাউনে। ওখান থেকে খুব দ্রুতই মরগানকে ধরে ফেলেছে সে। সুযোগের অপেক্ষায় ছিল, ঘেসো উপত্যকায় না ঢুকলেও ট্রেইলের কোথাও ঠিকই ওকে অ্যাম্বুশ করত অ্যাশ। উপত্যকায় ঢুকে তার কাজ সহজ করে দিয়েছিল মরগান। এদেরকে টাকার কথা জানিয়েছে অ্যাশ, মানতে নারাজ ও। কারণ রডনি একাই কাজ করতে পছন্দ করে। নিজের প্রাপ্য অংশ অন্যকে ভাগ দেয়ার লোক সে নয়।

তবে?

জানে না মরগান, জানার ইচ্ছেও নেই। নিরাপদে এখান থেকে সরে পড়তে পারলে খুশি ও। যত দ্রুত সম্ভব মিসৌরি পৌঁছানো দরকার।

উপত্যকায় চলে এসেছে ও। ভেতরে ঢুকতে এগিয়ে এল সোরেলটা। কাছে এসে মুখ দিয়ে ওর পেটে খোঁচা মারল, আনন্দ প্রকাশ করছে। দ্রুত কাজে নেমে পড়ল মরগান, ল্যামসা খুলে পেচিয়ে স্যাডল হর্নের সাথে ঝোলাল, বেডরোল শুটিয়ে জায়গামত রাখল। রাইফেল হাতে এরপর স্যাডলে চেপে ফিরতি পথ ধরল। মনে আশঙ্কা হয়তো দেখবে অন্য কেউ মুক্ত করে দিয়েছে লোকগুলোকে, আর সবাই মিলে অপেক্ষা করছে ওর জন্যে।

তেমন কিছু অবশ্য ঘটল না। যেমন দেখে গিয়েছিল তেমনই আছে সব। বাঁধা তিনজন অক্লান্ত চেষ্টা করছে নিজেদের মুক্ত করার, ওর সাড়া পেয়ে তাতে ইস্তফা দিয়ে ঠায় পড়ে থাকল। মনে মনে একচোট হাসল মরগান, বোঝা যাচ্ছে পশ্চাৎদেশে গুলি খাওয়ার ইচ্ছে কারও নেই। উইলির পানে তাকাল ও, তার জন্যে কারও করার কিছু নেই এখন।

ঘুমিয়ে পড়লে নাকি সবাই? একটা সিগারেট তৈরি করতে শুরু করল ও। উত্তর এল না, কেউ নড়লও না

অ, ঘুমিয়ে পড়েছ তাহলে। বাপু, তোমাদের তিনজনকে জাগানো তো, সহজ কাজ নয়। তারচেয়ে পাছায় একটা করে গুলি সেঁধিয়ে দেয়া যাক, বলে পিস্তলের হ্যামার টানল ও। সাথে সাথেই নড়ে উঠল তিনটে দেহ।

তোমরা তাহলেজেগেই আছ, এমনভাবে বলল মরগান যেন খোশ-গল্প করছে। যাক, অযথা তিনটে গুলি খরচ করতে হলো না। ধন্যবাদ। রোল করা সিগারেট ধরিয়ে আয়েশ করে টান দিল ও। ঝেড়ে কাশো, ছেলেরা। খোদার কসম, তোমাদেরকে আজই প্রথম দেখলাম! অথচ তোমাদের ভাব দেখে মনে হচ্ছে জনম জনম ধরে আমাদের শত্রুতা। ব্যাপার কি বলো তো, কোন্ সুখে আমার পিছু লাগলে?

এবারও কোন উত্তর এল না।

বুঝলাম কথাগুলো তোমাদের কানে ঢুকছে না। কিন্তু এরচেয়ে জোরে বলাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তারচেয়ে, গুলি করল, ও, ডানের লোকটার চুলে সিঁথি কেটে বেরিয়ে গেল তপ্ত সীসা। এই যে, তুমি, শুনতে পাচ্ছ?

পা-পাচ্ছি। এক্কেবারে পরিষ্কার! কাঁপা গলায় বলল লোকটা

আমার পিছু লাগলে কেন?

তুমিই তো আগে হামলা করেছ! গুলির শব্দ পেয়ে এখানে এসেছিলাম আমরা। চিহ্ন দেখে বুঝলাম উপত্যকায় গেছ। ওখানে গিয়ে তোমার তোপর মুখে পড়লাম।

আরেকটা গুলি করল মরগান। ঊরুর কাছে ট্রাউজার ফুটো করল এটা। থরথর করে কেঁপে উঠল লোকটার শরীর।

বদহজম হয়েছে তোমার, তাই বাজে বকছ। শোনো, এটাই শেষ সুযোগ, পরেরবার ঠিক মেরুদণ্ডে গুলি করব। সারা জীবন বিছানায় পড়ে থাকার ইচ্ছে থাকলে আবারও মিথ্যে বলতে পারো।

ওদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখো!

প্রমাদ গুণল মরগান। তোমাদের ব্যাপারটা কি? একসাথে এতজনই বা কেন?

হায় খোদা, এ লোকটা জানে না অথচ একটা রেঞ্জ ওঅরের মধ্যে নাক গলিয়েছে!

এবার মরগানের চমকে যাওয়ার পালা। পেট খালি করো, স্ট্রেঞ্জার।  

এটা ম্যাকলয়ারীদের বাথানের অংশ, পাশের এলাকার দখল নিয়ে টেনিসনের সাথে লড়াই চলছে ওদের। তুমি তো টেনিসনেরই লোক।

ম্যাকলয়ারীদের মার্কা কি?

সার্কেল-এম।

তোমরা ওই মার্কা ব্যবহার করছ না।

আমরা ভাড়াটে। নিজেদের ঘোড়া ব্যবহার করছি।

সম্ভষ্ট হতে পারছে না মরগান। আমাকে টেনিসনের লোক মনে করেছ কেন?

গতকাল বিকেলে দলবল নিয়ে শহরে গিয়েছিল টেনিসন। ম্যাকলয়ারীদের এক ভাইকে পিটিয়েছে সে। আর হুমকি দিয়েছে দেশছাড়া করবে ওদেরকে। ফেরার পথে সার্কেল-এমের দুই কাউহ্যান্ডকে গুলি করে মেরেছে ওর ক্রুরা। টেনিসনের দলবল আক্রমণ করতে পারে ভেবে এদিকে অপেক্ষা করছিলাম আমরা।

বিরক্তি বোধ করছে মরগান, খাপে খাপে মিলছে না কিছুই। হতে পারে। মনের গভীরে পাগলাঘণ্টী বাজছে, এখান থেকে সরে পড়ার জন্যে তাগাদা দিচ্ছে। হকিন্স কে? ফের জানতে চাইল ও।

চিনি না ওকে।

আমার ধৈর্য কিন্তু কম, মেজাজ খারাপ হয়ে আছে।

খোদার কসম, ওই নামে কাউকে চিনি না!

হলদে শেয়াল, তুমি চেনো?

না! একগুয়ে সুরে জবাব দিল লোকটা।

মরগানের একবার ইচ্ছে হলো গুলি করে লোকটাকে, কিন্তু তাতে অযথাই রক্তক্ষয় হবে। কিছু জানলেও সহজে বলবে না এ লোক। যথেষ্ট সময় পেলে। হয়তো সত্যটা বের করা সম্ভব, কিন্তু তা নেই এখন। দক্ষিণে বনভূমির দিক থেকে খুরের আবছা শব্দ কানে আসছে, নিশ্চিত তে কান পাতল ও। যা ভয় পেয়েছিল, হয়তো এদেরই সঙ্গী হবে। মনে হচ্ছে কয়েকজন।

হোলস্টারে পিস্তল ফেরত পাঠিয়ে স্যাড়লে চেপে উত্তরে ঘোড়া ছোটাল ও। কোন ট্রেইল ছাড়াই, ঝোঁপ-ঝাড়ের ফাঁক গলে ছুটল সোরেলটা। পুরো একটা দিন পর ছুটতে পেরে যেন পাখা গজিয়েছে। বারবার গতি বাড়াতে চাইছে, কিন্তু লাগাম টেনে মাঝে মধ্যেই গতি কমাল ও। ঝোঁপের সাথে সংঘর্ষ এড়ানোর জন্যে প্রায়ই এদিক-ওদিক সরে যেতে হচ্ছে। একটু পর কিছুটা ডানে সরে এসে লজপোল পাইনের বনে ঢুকে ইচ্ছেমত ছুটতে দিল ঘোড়াটাকে। সামনেই ক্যাসল টাউনের ট্রেইল পড়বে।

কয়েক মিনিট পর শেষ হয়ে গেল পাইনের বন। ক্রমশ ঢালু জমির শুরু হয়েছে। শহরের ট্রেইলে উঠে আসার পর খানিকটা নিশ্চিন্ত বোধ করল। থেমে কান পেতে শোনার চেষ্টা করল ও, আড়াআড়ি পশ্চিমে এগোচ্ছে কয়েক ঘোড়সওয়ার। ওর আগেই ক্যাসল টাউন থেকে মিসৌরি যাওয়ার ট্রেইলে পৌঁছে যাবে। সম্ভবত উপত্যকার লোকগুলোও যোগ দিয়েছে এদের সাথে, ভাবল মরগান, হাতের নাগালের মধ্যে ওকে পেলে খুন করতে দ্বিধা করবে না এরা।

উল্টোদিকে যেতে পারে, ভাবছে মরগান…ফ্ল্যাগ-বি বাথানে। চিন্তাটা মাথায় আসতে কষে নিজেকে গাল দিল।ওকে পেয়ে বসেছে মেলিসা বড়ম্যান, ঘুরে ফিরে তার কথাই মনে পড়ছে। ওখানে যাওয়া মানে ওদেরকেও বিপদে ফেলা। সে-অধিকার নেই ওর। সবচেয়ে বড় কথা, তিক্ত মনে ভাবল মরগান, নিজের লড়াই নিজেই করতে অভ্যস্ত ও

দ্রুত এগোচ্ছে ঘোড়াটা। ক্যাসল টাউনে পৌঁছতে সময় লাগবে। ট্রেইলটা যেহেতু ঘুরপথের, এছাড়া উপায়ও নেই। হয়তো আজকের রাতটা শহরে কাটাতে হবে, বিতৃষ্ণার সাথে ভাবল ও, কিংবা ফিরতি পথে পঞ্চাশ মাইল পিছিয়ে মিসৌরি যাওয়ার অন্য ট্রেইল ধরতে হবে।

মরগান যখন, শহরে পৌঁছল, দুপুর পেরিয়ে গেছে তখন। রাস্তায় লোজন কম, গনগনে সূর্যের নিচে অযথা সিদ্ধ হতে কে চায়! খুরের দাপটে ক্ষত-বিক্ষত রাস্তার ধুলো উড়ছে। হাটার গতিতে এগোচ্ছে ঘোড়াটা। প্রথম যে আস্তাবল চোখে পড়ল, ঢুকে পড়ল ও। টুলে বসে ঢুলছিল বুড়ো হসল্যার, ওকে দেখে চোখ মেলে তাকাল

হাউডি, স্ট্রেঞ্জার!

মৃদু নড করল মরগান। স্যাডল ছেড়ে লোকটার হাতে ঘোড়া হস্তান্তর করল। স্যাডল ছাড়িয়ো না, অনুরোধ করল ও, রাস্তায় থিতিয়ে আসা ধুলোর ওপর থেকে চোখ সরিয়ে বুড়োর দিকে তাকাল, দেখল নির্বিকার মুখে ওর অদ্ভুত নির্দেশ শুনল লোকটা। রাতে এখানেই থাকব, জানাল মরগান।

সেজন্যে বাড়তি এক ডলার দিতে হবে।

মাথা ঝাঁকাল, মরগান। হসল্যার ঘোড়াটাকে ভেতরে নিয়ে যেতে আস্তাবল থেকে বেরিয়ে এল। ক্লান্তি লাগছে, তবে চেষ্টা করছে স্বাভাবিকভাবে হটতে। কারও মনোযোগ কাড়ার ইচ্ছে নেই। পঞ্চাশ গজের মত এগিয়ে ডানে একটা ক্যাফে চোখে পড়ল। খাওয়ার ব্যাপারে ভাল-মন্দের বাছ-বিচার করে না মরগান, এখন সে-সময়ও নেই। কাঁচের দরজা ঠেলে ঢুকে পড়ল।

দুটো কামরা নিয়ে ক্যাফেটা। বাইরের দিকে বড় ডাইনিংরূম, ভেতরে কিচেন। ডাইনিংরূমটা সাজানো-গোছানো। প্রায় খালিই, দু’জন খদ্দের খাওয়ায় ব্যস্ত। বেসিনে হাত-মুখ ধুয়ে খালি একটা টেবিল দখল করল মরগান। দেয়ালের দিকে পিঠ দিয়ে বসল যাতে রাস্তা আর জানালার ওপর চোখ রাখতে পারে।

কিচেন থেকে মাঝবয়সী এক মহিলা বেরিয়ে এল। হট খুলে তাকে বাউ করল মরগান।

কি দেব তোমাকে?

তোমার ইচ্ছেমত দাও, ম্যাম কে আগেই জানিয়ে রাখি বেশি টাকা নেই আমার পকেটে

সীম, সুপ, রুটি, মাংস আর কফি। চলবে?

ধন্যবাদ। ওগুলোই গত কয়েকদিন পাইনি।

মিনিট তিন পর খাবার নিয়ে এল এক তরুণী। মহিলার নকল বলা যেতে পারে। খুব বেশি হলে বিশ হবে এর বয়েস, ধারণা করল ও। খাবার ভর্তি ট্রে টেবিলে নামিয়ে রেখে চলে গেল মেয়েটা।

খাবার দেখার পর খিদে চাগিয়ে উঠল মরগানের। মনে পড়ল সকালে শুধু শুকনো জার্কি আর সীম পেটে পড়েছিল। দ্রুত খাওয়া শেষ করল ও। খাবারটা ভাল, রান্না চমৎকার। কত হলো, ম্যাম? বিল দেয়ার সময় জানতে চাইল ও।

দুই ডলার পনেরো সেন্ট।

বেশ সস্তা, ভাবল ও। পাঁচ ডলারের একটা নোট এগিয়ে দিল মহিলার দিকে। তারপর দরজার দিকে এগোল

মিস্টার, তোমার টাকা? পেছন থেকে ডাকল মহিলা।

ঘুরে হাসল ও। খাবারটা ভাল, ম্যাম, পছন্দ হয়েছে আমার। রাতে আবার আসব। আগাম বিল হিসেবে রেখে দাও।

বেরিয়ে এসে, পোর্চে দাঁড়িয়ে চারপাশ খুঁটিয়ে দেখে নিল মরগান, চিন্তিত হওয়ার মত কিছু নেই। ধৈর্য ধরার পক্ষপাতি ও, দেখতে চায় ওরখোঁজে সার্কেল এমের রাইডাররা শহরে আসে নাকি ট্রেইলে অপেক্ষা করবে। এ ফাঁকে বিশ্রাম হয়ে যাবে। অবশ্য, মিসৌরি পৌঁছা’নোর তাড়া ওর ঠিকই আছে। নিশ্চিত জানে শহর থেকে বেরুলে শত্রুপক্ষের সামনে পড়তে হবে। আগে শরীরটা ঝরঝরে থোক, তারপর দেখা যাবে কি করা যায়।

সিগারেট ধরিয়ে দিগন্তের শেষ সীমানায় ফুটে ওঠা ক্যাকটাস হিলের আবছা অবয়বের দিকে তাকাল ও। একেবারে ডান দিকে, পশ্চিমে মালভূমির আকারে। শেষ হয়েছে ওটা। ওদিকেই মিসৌরি যাওয়ার ট্রেইল। মরগান নিশ্চিত জানে। ওখানে ওঁৎ পেতে আছে প্রতিপক্ষ। অপেক্ষা করছে কখন বেরিয়ে আসবে ও। থাকুক ওরা। আজকের দিনটি এখানে শুয়ে-বসে কাটিয়ে দেবে সে।

আগের মতই টুলে বসে আছে হসল্যার। দোতলায় চলে যাও, ওকে দেখে বলল। ডান দিকে কাঠের সিঁড়ি আছে। ভাড়া আগাম দিতে হবে।

মরগানের ছুঁড়ে দেওয়া রূপোর ঈগল দুটো লুফে নিল বুড়ো।

কিছু খবর দরকার আমার।

তুমি নিজেই তো একটা খবর।

খানিকটা বিস্মিত হলো ও, কতটুকু জানে লোকটা? তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখল। বুড়োকে, কিন্তু নির্বিকার দেখাচ্ছে তাকে। নীল চোখের গভীর চাহনিতে এমনকি স্বাভাবিক কৌতূহলও নেই। চাপা স্বভাবের মানুষ, শেষে সিদ্ধান্তে পৌঁছল ও, হসল্যারের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা না করলেও চলবে বোধহয়। পরে এ নিয়ে আলাপ করবে ভেবে সিঁড়ির দিকে এগোল। আপাতত নিরবিচ্ছিন্ন একটা ঘুম চাই ওর।

.

খড়ের বিছানায় আড়মোড়া ভাঙল জেমস মরগান, আলসেমি লাগছে। চোখ বুজে আরও কয়েক মিনিট পড়ে থাকল। শেষে বিছানা ছেড়ে মাথার নিচ থেকে স্যাডল ব্যাগ তুলে নিল। এটা কোথাও লুকিয়ে রাখা দরকার, ভাবল ও। ব্যাগ খুলে ফিল্ড গ্লাস বের করে পকেটে ভরল

খড়ের গাদার পাশে গরাদহীন একটা জানালা আছে। মেঝের কাঠ দেয়াল ছাড়িয়ে বাইরের দিকে বেরিয়ে আছে কিছুটা। জানালা দিয়ে নিচু হয়ে কাঠের প্রান্তে ব্যাগ ঝুলিয়ে রাখল মরগান। ইচ্ছে করলে যে কোন সময় আস্তাবলের পেছনে গেলে তুলে নিতে পারবে। আরেকটি সুবিধা, কেউ যদি এটার খোঁজে খড়ের গাদায় তল্লাশি চালায়, পাবে না।

নিশ্চিন্ত হয়ে নিচে নেমে এল ও। হসল্যারকে কোথাও দেখতে না পেয়ে পেছনে স্টলের সারির কাছে চলে এল, একটা স্টলে দেখতে পেল সোরেলটাকে। ওর সাড়া পেয়ে বিজাতীয় একটা শব্দ করল ঘোড়াটা। কাছে গিয়ে ওটার কেশরে হাত বুলাল মরগান, পিঠ চাপড়ে দিল।

এককোণে বড়সড় পাত্রে পানি রাখা। পাশে টিউবওয়েল। লণ্ঠনের আলো ওখানে কমই পৌঁছেছে, তবে কাজ সারতে অসুবিধা হলো না ওর। হাত-মুখ ধুয়ে বেরিয়ে এল আস্তাবল থেকে। দরজার একপাশে সরে দাঁড়াল ও। রাতের আঁধার তখন ভালভাবেই জাকিয়ে বসেছে ক্যাসল টাউনে, সেলুন আর ড্যান্স হল থেকে হৈ-হল্লা, বাদ্যের শব্দ কানে আসছে। সিগারেট রোল করার ফাঁকে আশপাশে নজর বুলাল মরগান। রাস্তায় লোকজন কম। চল্লিশ গজ দূরের একটা সেলুনে গুলির শব্দ হলো, তারপর ভাঙচুরের আওয়াজ। একটু পর ব্যাটউইং দরজা ঠেলে পোর্চের ওপর আছড়ে পড়ল একটা দেহ। হাঁচড়ে-পাচড়ে উঠে দাড়াল লোকটা, অকথ্য খিস্তি করে সটকে পড়ল পাশের গলির ভেতর।

পেছনে হসল্যারের পায়ের শব্দ পেল ও, দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে লোকটা। তোমাদের শহরটা দেখছি সন্ধের পরপরই গরম হয়ে ওঠে, হালকা সুরে মন্তব্য করল মরগান।

সুযোগ পেয়েছে ওরা। ল-অফিসটা এ মুহূর্তে খালি পড়ে আছে, নিস্পৃহ কণ্ঠে বলল হসল্যার।

এসব ঘটনা সামাল দেয়ার লোক নেই?

আপাতত নেই। মার্শালের কাজটা নেয়ার ইচ্ছে আছে নাকি?

এ কাজে ঝামেলা বেশি, পোর্চ ছেড়ে নেমে উত্তরে, এগোল ও। উদ্দেশ্যহীনভাবে হটিল কিছুক্ষণ, খিদে বাড়াচ্ছে। একেবারে উত্তরে গির্জার কাছে। চলে এল একসময়। ঘর-বাড়ি কম এদিকে। যা-ও বা কয়েকটা আছে, ভেতরে। জ্বালানো আলোর খুব কমই রাস্তায় এসে পড়েছে। সুবিধাই হলো মরগানের, দূর থেকে ওকে শনাক্ত করতে পারবে না কেউ। গির্জার লাগোয়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এল, একেবারে ঘণ্টার কাছাকাছি। ঘণ্টা-ঘরটা ছোট, চারটা খিলানের ওপর ছাত, বড়সড় ঘণ্টা ঝুলছে মাঝখানে। একটা খিলানে হেলান দিয়ে দাঁড়াল ও। ফিল্ড গ্লাস চলে এসেছে হাতে। চোখে ঠেকাতে ক্যাকটাস হিলের পশ্চিম প্রান্ত আর মিসৌরি যাওয়ার ট্রেইল স্পষ্ট চোখে পড়ল।

যা খুঁজছিল, পেতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না। নিজেদেরকে গোপন করার কোন চেষ্টাই করেনি ওরা। ট্রেইলের দু’পাশে দু’জন করে অবস্থান নিয়েছে। ঝোঁপের আড়ালে বসে অলসভাবে সময় কাটাচ্ছে একজন। শুয়ে আছে অন্যরা। একটু দূরে বিশ্রাম নিচ্ছে ঘোড়াগুলো, তবে ছোটার জন্যে তৈরি।

এবার উল্টোদিকে চলে এল মরগান। যে ট্রেইল ধরে গতকাল ক্যাসল টাউনে এসেছিল, তার ওপর নজর বুলাল। অনেকক্ষণ ধরে চোখ দেখেও কিছু দেখতে পেল না। তবে ও নিশ্চিত এদিকেও আছে কয়েকজন, আড়ালে থাকায় চোখে পড়ছে না।

ফ্ল্যাগ-বি বাথানের ট্রেইলটাও বাদ দিল না। ক্যাকটাস হিলের পাশে, লজপোল পাইনের বনেও দু’জন আছে। শক্ত আর অটুট একটা জাল পাতা হয়েছে, বেরিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। লোকগুলো চাইছে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুক ও, তাতে সহজ হয়ে যায় ওদের কাজ। সম্ভবত শহরে এসে কিছু করার সাহস ওদের নেই, যদিও সেটাই সহজ হত। তবে বেরিয়ে সে যাবেই। তার আগে অপেক্ষা করে দেখা যাক ক্লান্তি আর বিরক্তির শিকার হয় কি-মা ওরা। সে সুযোগই নেবে ও। ওরা জানে না কার পিছু লেগেছে।

চিন্তিত মনে পাই-হাউসের দিকে এগোল মরগান। দূর থেকে ভেতরে ভিড় দেখে মত বদলে ফিরতি পথে এগোল। সেলুনে ঢুকে গলা ভেজাতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কোন সেলুন কিংবা পাই-হাউসের মত জমজমাট যে কোন ক্যাফে ওর জন্যে বিপজ্জনক জায়গা হয়ে উঠতে পারে। সার্কেল-এম রাইডারদের সাথে দেখা হয়ে যেতে পারে। নিজের চেহারা যত কম দেখানো যায় তত মঙ্গল।

ডানের গলিতে ঢুকে পড়ল মরগান। বছর দুই আগে এক বাড়িতে ব্যবসাটা চলত, এখন ও থাকলে ওর সমস্যা মিটে যায়। বিশ গজের মত এগিয়ে বাড়িটা পেল ও। বন্ধ দরজায় নক করল।

সতর্কতার সাথে খুলে গেল দরজার কপাট, খানিকটা ফাঁক হতে এক মহিলার চর্বিবহুল মুখ দেখা গেল। কি চাই? নিস্পৃহ কণ্ঠে জানতে চাইল মহিলা, তীক্ষ্ণ নজর বুলাচ্ছে ওর শরীরে।

একটা মেয়ে দরকার আমার।

নোংরা হাসিতে উজ্জ্বল হলো মহিলার, মুখ, দরজা থেকে সরে দাঁড়াল। ভেতরে ঢুকল মরগান। দরজা আটকে ওকে অনুসরণ করতে বলে করিডর ধরে হাঁটতে শুরু করল মহিলা। কতক্ষণ?

দুই ঘন্টা।

অকারণেই হাসল মহিলা। ভেতরে পার্লারের একপাশে চারটে মেয়েকে বসে থাকতে দেখল মরগান। চোখে নির্লজ্জ আমন্ত্রণ। বেছে নাও, উদার কণ্ঠে আহ্বান করল মহিলা। প্রতি ঘন্টার জন্যে দশ ডলার, আর আমাকে দিতে হবে দশ ডলার। হুইস্কির জন্যে পাঁচ ডলার, যদি লাগে তোমার।

লাগবে, চারজনের ওপর চোখ বুলাল মরগান। ডানের মেয়েটাকে পছন্দ হলো ওর, জানাল।

মারিয়া, তোমার কামরায় নিয়ে যাও ওকে। হুইস্কি পাঠিয়ে দিচ্ছি আমি।

উঠে দাঁড়াল মেয়েটি। হাসল অযথাই, চাপা স্বরে বলল: আমার সাথে এসো

দোতলার একটা কামরায় এল ওরা। একটু পর হুইস্কি দিয়ে গেল আরেকটা মেয়ে। ছোট্ট কামরাটায় ডাবল-বেড, ছোট্ট একটা টেবিল আর দুটো চেয়ার রয়েছে। দরজা বন্ধ করো, চেয়ারে বসে হুইস্কির বোতলের মুখ খোলার সময় বলল মরগান, দুটো গ্লাসে পানীয় ঢালল। দরজা বন্ধ করে মেয়েটা সামনে এসে দাঁড়াতে বসার ইঙ্গিত করল ও। শোনো, এখানে শুধু সময় কাটাতে এসেছি আমি, এবং কিছু তথ্য দরকার আমার। যদি দরকারী কিছু জানাতে পারো, বাড়তি কিছু টাকা রোজগার করতে পারবে।

মেয়েটার চোখে লোভের ছায়া, তবে প্রথমে অবাকই হলো। কি জানতে চাও?

আগে হুইস্কি নাও। ভেবে-চিন্তে বলবে, না জানলে বলার দরকার নেই কিন্তু মিথ্যে বা মনগড়া কিছু শুনতে চাই না।

মাথা ঝাঁকাল মেয়েটা। গ্লাসে চুমুক দিয়ে ধন্যবাদ জানাল।

আলফ্রেড টেনিসনকে চেনো?

ভয় ফুটে উঠল মেয়েটার চোখে। সে তো এখানে আসে না!

মারিয়ার বোকামিতে বিরক্ত হলো মরগান। সে এখানে আসে কি-না জানতে চাইনি আমি, তুমি ওকে চেনেন কি-না তাই জানতে চাইছি। নিশ্চই বহু লোক আসে এখানে, অনেক কিছু জানতে পারো তোমরা, একটু থেমে সময় দিল মেয়েটাকে। এখানকার কয়েকজন সম্পর্কে জানতে চাই আমি, গ্লাস নামিয়ে রেখে সিগারেট ধরাল ও। হয়তো এদের কাউকেই দেখোনি, কিন্তু অনেক গল্প শুনেছ, এ ব্যাপারে নিশ্চিত আমি। ওদের অধীন লোকেরা আসে এখানে।

কে তুমি?

কেউ না।

কিন্তু আমার তা মনে হচ্ছে না। তুমি হয়তো টেনিসনকে খুন করতে এসেছ, কেউ ভাড়া করেছে তোমাকে। ডেভিড ম্যাকলয়ারী হতে পারে।

আমাকে দেখে খুনী মনে হয়?

তুমি টাফ লোক এটা তো ঠিক।

পাঁচ ডলারের একটা নোট টেবিলে রেখে উঠে দাঁড়াল মরগান। বুঝেছি, অন্য মেয়েগুলোর সাথে কথা বলতে হবে। ভেবেছিলাম তুমি হয়তো চারপাশের খোঁজ খবর রাখো, আর মুফতে কিছু টাকা রোজগার করতে চাইবে। দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করল ও।

দাড়াও, মিস্টার! ব্যস্ত হয়ে উঠল মারিয়া, দৌড়ে সামনে এসে দাঁড়াল। আমি যা জানি বলব, কতটুকু তোমার কাজে আসবে জানি না। কিন্তু কাউকে এসবের কিছুই বলতে পারবে না, এমনকি মিসেস টার্নারকেও নয়। তাহলে এতেও ভাগ বসাবে চর্বির দলাটা! খেদ প্রকাশ পেল মেয়েটার কণ্ঠে।

যথার্থ নাম, স্মিত হেসে ভাবল মরগান, ফিরে এসে চেয়ারে বসল।

আমি কোন ঝামেলায় পড়ব না তো?

নিশ্চিন্ত থাকতে পারো, এরপর দেখাই হবে না আমাদের।

যা বলব, তার সবই শোনা। এর কতটুকু সত্যি, জানি না আমি। অবসরে ক্যাসল টাউন আর আশপাশের লোকজন নিয়ে আলোচনা করি আমরা। বেশি আলাপ হয় টেনিসনকে নিয়ে, কারণ সে-ই এখানকার সবচেয়ে সফল মানুষ।

মাত্র দুই বছর আগে এখানে এসেছে ও। আগে টেনেসিতে থাকত। এখানে এসে বাজে একটা জমি ক্লেইম করেছিল, ভালগুলো অবশ্য অনেক আগেই দখল হয়ে গিয়েছিল। বড় স্টক আর কিছু করিৎকর্মা পাঞ্চার ছিল ওর সঙ্গে। এ তল্লাটের সব বাথান ফ্রি রেঞ্জের অধীন: ওর জমিতে পর্যাপ্ত ঘাস না থাকলেও অসুবিধা হলো না। অবাধ রেঞ্জে ছড়িয়ে পড়ল সব গরু। ফ্রি রেঞ্জের সুবিধা নিয়ে লাভবান হলো টেনিসন। কৃতজ্ঞতাবশতই বোধহয়, বিনিময়ে সবাইকে রাউন্ড-আপ আর গরু বিক্রির সময় যথেষ্ট সাহায্য করে সে। কিন্তু যার যার বাথানের সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে ইদানীং। তেমন হলে টেনিসনই বেশি বিপদে পড়বে, এবং সবার আগে। সেজন্যেই ফ্ল্যাগ-বির দিকে হাত বাড়াতে চাইছে সে, ট্রেইলের ওপাশের জমিটার ওপর চোখ পড়েছে ওর। ক্যাকটাস:হিলের যে-অঞ্চল থেকে ঝর্নার শুরু, ওখান থেকে এঞ্জেলো রীভারের উৎপত্তি, শুকনো মরসুমের সময় পানির জন্য এটার ওপর নির্ভর করতে হয় প্রায় সবগুলো বাথানকে। তাছাড়া আছে–লজপোল পাইনের বিস্তীর্ণ সমভূমি, ছোটখাট সমৃদ্ধ একটা বাথান গড়ে তোলা সম্ভব ওখানে।

প্রথমে মেলিসা বডম্যানের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছিল টেনিসন, পাত্তা পায়নি। শেষে ওই জায়গাটা বিক্রি করার প্রস্তাব দিয়েছে। সাফ না করে দিয়েছে ফ্ল্যাগ-বি। তবু চাপ দিচ্ছে লোকটা ম্যাকলয়ারীদের শায়েস্তা করতে হলেও জায়গাটা দরকার তার, থেমে হুইস্কির গ্লাসে চুমুক দিল মারিয়া, শ্রাতার মধ্যে আগ্রহ আছে কি-না বোঝার চেষ্টা করল, কিন্তু, চোখে বা মুখে কোন অভিব্যক্তি নেই তার। সিগারেট টেনে চলেছে সে, দৃষ্টি জানালা পথে বাইরে চলে গেছে।

ম্যাকলয়ারীদের সম্পর্কে কতটুকু জানো?

তিন ভাই ওরা। টেমিসন সন্দেহ করে রাসলিং করছে ওরা, কিন্তু প্রমাণ করতে পারেনি। তবে এটা ঠিক, সবারই কিছু না কিছু গরু রাসলিং হচ্ছে। এদিকে লয়ারীরা, দোষ চাপিয়েছে টেনিসনেরই ঘাড়ে। ওর পাঞ্চাররা গরু। দাবড়ানোর পাশাপাশি অন্ত্রেও পারদর্শী। গত তিন দিনে তাই প্রমাণিত হয়েছে। গতকাল ম্যালিয়ারীদের ছোট ভাইকে পিটিয়েছে টেনিসন, পরে সার্কেল-এমের দুই পাঞ্চারকে খুন করেছে ওর ক্রুরা। শেষ পর্যন্ত কে যে টিকে থাকে, আগাম বলা মুশকিল। টেনিসন পণ করেছে ম্যাকলয়ারীদের দেশছাড়া করে ছাড়বে তিন ভাইও বসে থেকে মজা দেখবে না। অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে মার্শাল মারা যাওয়ায়। রাসলিঙের তদন্ত করতে ক্যাকটাস হিলের ওদিকে গিয়েছিল সে, পরের রাতে ট্রেইলে পাওয়া যায় ওঁর লাশ

ফ্ল্যাগ-বি?

তিন বছর আগে এখানে এসেছে ওরা, আগে টেনেসি থাকত। অনেকের ধারণা টেনিসন আর বড়ম্যানদের সাক্ষাৎ-এখানেই প্রথম ঘটেনি। র‍্যাঞ্চিং জিনিসটা ভালই বলঝে মহিলা। তবে একটা কথা ঠিক, মহিলা এ তল্লাটের সেরা সুন্দরী।

একটা ছেলে আছে জানার পরও অনেকেই ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছে ওর সাথে।

ওদের বাথান দেখে কিন্তু আমার মনে হয়নি মাত্র তিন বছর হলো।

বাথানটা অনেক পুরানো। আগে এক বুড়ো থাকত, ওর কাছ থেকে কিনে নিয়েছে বড়ম্যানরা।

হকিন্স নামে কাউকে চেনো?

মাথা নাড়ল মারিয়া। প্রথম শুনলাম নামটা। মেয়েটার চোখে দ্বিধা। বুঝতে পারছে না তথ্যগুলো কতটুকু কাজে এসেছে আগম্ভকের। হয়তো এর বিনিময়ে কোন টাকাই পাবে না, তবে এ-ও ঠিক এগুলো খুবই সাধারণ তথ্য, এখানকার যে কোন লোক এসব জানে

ফের গ্লাসে পানীয় ঢালল মরগান। ভাবছে। অনেকগুলো ব্যাপারে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এখানকার অবস্থা সম্পর্কে আবছা হলেও একটা ধারণা পেয়েছে। টেনিসনের বাথানটা কোথায়? জানতে চাইল ও।

ঠিক জানি না, তবে ফ্ল্যাগ-বি ছাড়িয়ে আরও পুবে। ক্যাকটাস হিলের লাগোয়া

সার্কেল-এম?

শহরের দক্ষিণে, ট্রেইলের পশ্চিমে।

বিষম খেল মরগান। উইলির সঙ্গী মিথ্যে বলেছে ওকে! ওরা দাবি করেছিল ওটা সার্কেল-এমের এলাকা। লোকগুলো টেনিসনের নয়তো? তবে আউট-ল বা রাসলারও হতে পারে। কিংবা আসলেই সার্কেল-এমের লোক। পুরো ব্যাপারটা একটা ধাঁধা।

এ ব্যাপারগুলো এ মেয়ে জানবে না, ওকে জিজ্ঞেস করে লাভ নেই। আনমনে গ্লাসে চুমুক দিল মরগান। নিজের ওপর কিছুটা বিরক্ত। ফালতু একটা ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছে সে। কে যে আসল শত্রু, সেটাই বুঝতে পারছে না। শুরু থেকেই ব্যাপারটা গোলমেলে, নইলে রডনি অ্যাশ ওকে এভাবে কোণঠাসা করার সুযোগ পায়?

আমি কি তোমার সাহায্যে আসতে পেরেছি? ভয়ে ভয়ে জানতে চাইল মেয়েটা।

হ্যাঁ, ধন্যবাদ, হাসল মরগান, পকেট থেকে টাকা বের করে পঞ্চাশ ডলার এগিয়ে দিল। মারিয়ার বিস্মিত অভিব্যক্তি এড়িয়ে দরজার দিকে এগোল।

অদ্ভুত মানুষ তুমি! পেছন থেকে বলল মেয়েটা। তোমার কথা কখনও ভুলব না আমি।

ঘুরে তাকাল মরগান। বোকা মেয়ে, স্রেফ ভুলে যাও আমার কথা! মৃদু ভর্ৎসনার সুরে পরামর্শ দিল। ভুলে গেলেই ভাল করবে।

নিচে নেমে চর্বির দলার পাওনা মেটাল মরগান। তাকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বেরিয়ে এল। রাস্তায় লোকজন নেই, প্রায় ফাঁকাই বলা চলে। সেলুনগুলোর হৈ-হল্লা কমে এসেছে। নিভে গেছে অনেক বাড়ির বাতি। পাই হাউসের দিকে এগোল।

যা আশা করেছিল মরগান, মোটে তিনজন খদ্দের ক্যাফেতে! কোণের একটা টেবিল দখল করার পর ফরমাশ নিয়ে গেল তরুণী মেয়েটা। খাবারের জন্যে অপেক্ষা করছে এসময়ে দরজায় আলফ্রেড টেনিসনকে দেখতে পেল ও। চোখাচোখি হলো ওদের।

প্রথমে থমকে গেল টেনিসন, বিস্ময় দেখা গেল চোখে, স্বতঃস্ফূর্ত হাসিতে উজ্জ্বল হলো মুখ। হয়তো এর পুরোটাই ভান। সোজা ওর দিকেই এগিয়ে আসছে। আরে, তুমি দেখছি যাওনি! সামনে এসে উল্টোদিকের চেয়ারে বসে পড়ল সে।

কিছু বলল না মরগান

কি দেব তোমাকে, মি. টেনিসন? মেয়েটা এসে জানতে চাইল

প্রথমে নড করল সে। কেমন আছ, জেনি? তোমার মাকে দেখছি না যে?

রান্নাঘরে।

ফরমাশ দিল টেনিসন।

জেনি নামের মেয়েটির মধ্যে অতিরিক্ত উৎসাহ খেয়াল করল মরগান। টেনিসন অবশ্য সে ধরনের লোকই। সুদর্শন, সুঠাম শরীর। মুখে গাম্ভীর্যের সাথে নিষ্ঠুর একটা ভাব আছে, অনেক মেয়েই সেটা পছন্দ করবে।

এদিকে থাকবে ঠিক করেছ নাকি? আলাপী সুরে জানতে চাইল টেনিসন।

প্রশ্নটার পেছনের অর্থ খোজার চেষ্টা করল মরগান। ঠিক বোঝা যাচ্ছে না কি বোঝাতে চাইছে লোকটা, নিখাদ কৌতূহল তার চোখে। আমি থাকলে তোমার বুঝি খুব অসুবিধা হয়?

হবে, যদি গরুচোরদের সাথে হাত মেলাও।

তোমাকেও তো অনেকেই গরুচোর হিসেবে সন্দেহ করে।

হাসল টেনিসন, চোখে কৌতুক। শুধু ম্যাকলয়ারীরা। খুব স্বাভাবিক নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চাইছে ওরা।

এটা শুধু তুমিই বলছ।

হয়তো। আর কারও কথা জানি না, আমার গরুই বেশি ছাপ্পড় মারছে ওরা। ওদের আর আমার বাথানই ক্যাকটাস হিলের কাছাকাছি। অন্যদের গরু এত দূরে আসে না, তৃণভূমির আরও ভেতরে চলাফেরা করে।

ধরছ না কেন?

মার্শাল যখন নেই, ব্যাপারটাকে আমার নিজেরই সামলাতে হবে। তাছাড়া নিজের পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান করি আমি। কোন গরুচোরকে এ তল্লাটে থাকতে দেব না।

মার্শালের জন্যে দুঃখ হচ্ছে আমার।

ঠিক কি বোঝাতে চাইছ? ওর মুখ জরিপ করছে টেনিসন।

কিছুই না। অন্যের সমস্যা মেটাতে গিয়ে মারা পড়ল বেচারা।

এটাই তার কাজ। ওর বেতনের বড়সড় একটা অংশ আমরা ক্যাটলম্যানরা দেই।

জেনি খাবার দিয়ে যেতে খাওয়া শুরু করল ওরা

মিস্টার টেনিসন ম্যাককার্থিদের নাচের আসরে যাচ্ছ তো? আগ্রহভরে জানতে চাইল জেনি।

উ..যাব হয়তো।

ধুরন্ধর এ লোকটিকে চিনতে পারেনি মেয়েটা। মেয়েটাকে নিয়ে ভাবার মত লোক টেনিসন নয়, তার চোখ ওর দিকে। জেনি কি তা জানে?

আমাদের সাথে বসো, জেনি। তোমার মাকেও ডাকো, প্রস্তার করল টেনিসন

অদ্ভুত এ লোকটি দ্বিধান্বিত করে তুলেছে ওকে। নিপাট ভদ্রলোকের মত এর আচরণ, ভেতরে গরল অথচ সহজে ধরার উপায় নেই। জীবনে দুর্বোদ্ধ চরিত্রের লোক অনেক দেখেছে মরগান, কিন্তু জানা লোকগুলোর সাথে টেনিসনকে মেলাতে পারছে না। লোকটা অহঙ্কারী, অথচ আচরণে বোঝা যায় না। কোমরে পিস্তল ঝোলায় না, কিন্তু হাতের বুড়ো আঙুলে হামার টানার দাগ? অস্ত্রে পারদর্শী সে, এবং লুকানো কোন অস্ত্রও বহন করছে না, বাজি ধরে বলতে পারবে মরগান। টেনিসনের চরিত্রে আরও কয়েকটা জিনিস চোখে পড়ার মত, আত্মবিশ্বাস আর সাহস। এ লোকটি শক্ত না হয়ে বন্ধু হলেই ভাল হত, তিক্ত মনে ভাবল ও।

একটা বিস্ময় অপেক্ষা করছিল মরগানের জন্যে-শেষ খদ্দেরকে বিদায় করে মা-মেয়ে দুজনেই কফির মগ হাতে ওদের টেবিলে এসে বসল। আচরণে মনে হচ্ছে টেনিসনের আমন্ত্রণে নিজেদেরকে সম্মানিত বোধ করছে।

মিসেস উইলিয়ামস, সম্ভাষণ জানানোর পর বলল টেনিসন। এর সাথে কি পরিচয় হয়েছে তোমাদের? এ হচ্ছে জেমস মরগান। আর এরা মা-মেয়ের দিকে তাকিয়ে হাসল সে। মিসেস উইলিয়ামস আর ওঁর মেয়ে জেনিফার

নতুন করে নড করতে হলো মরগানকে। ভেতরে ভেতরে বিরক্ত। স্পষ্ট বুঝতে পারছে ওকে নিয়ে এক ধরনের মজা করছে টেনিসন। শক্রর সাথে সহজ আচরণ করে বুনো আমোদ পাচ্ছে সে, এবং হয়তো ভণ্ডুকে দিতে চাইছে ওকে।

বাপু, ভাবল মরগান, এত সহজে ভড়কে যাওয়ার মত লোক নই আমি।

যদি এখানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকো, আমার আউটফিটে যোগ দিতে পারো, প্রস্তাব দিল টেনিসন। তাতে আমার কাজ সহজ হয়ে যাবে। ম্যাকলরীরা…’

অবাক হলো না মরগান; কপট লোকটার পক্ষে এমন একটা প্রস্তাব দেয়া খুবই স্বাভাবিক। কারও অধীনে কাজ করি না আমি, দ্রুত বাধা দিল ও। অন্তত যাকে আমার পছন্দ নয়।

সূক্ষ্ম রাগ দেখা গেল টেনিসনের মুখে, দ্রুত সামলে নিল নিজেকে। হাসল, তবে হাসিটা চোখ স্পর্শ করল না। তাহলে সার্কেল-এমে যোগ দেবে? শীতল সুরে জানতে চাইল। যদ্দুর জানি তোমাকে পেলে কচুকাটা করে ফেলবে ওরা। তোমাকে নাকি তাড়া করছিল ওদের পাঞ্চাররা?

আসলেও কি তাই? ওদেরকে দেখে কিন্তু মোটেও পাঞ্চার মনে হয় আমার। ভাড়াটে কিছু গানহ্যান্ড। হয়তো ক্যাকটাস হিলের ওপাশের হাইড আউ থেকে এসেছে ওরা।

ফের অবাক হলো টেনিসন। মরগান ধরে নিল এটাও ভান। তাই নাকি? তারমানে…আউট-লদের সহায়তায় কাজটা করছে ওরা! সার্কেল-এম পাঞ্চারদের ওপর চোখ রেখেও কেন ধরতে পারিনি বোঝা গেল এবার।

একবিন্দুও বিশ্বাস করল না মরগান। তুমি একটা আস্ত মিথ্যুক! শীতল কণ্ঠে বলল ও, তাকিয়ে আছে টেনিসনের চোখে।

হতভম্ব দেখাল আলফ্রেড টেনিসনকে। বোধহয় ভাবতে পারেনি এভাবে তাকে অপদস্থ করবে মরগান। রাগে ভয়ঙ্কর, বীভৎস দেখাচ্ছে সুদর্শন মুখ। তারপর শীতল দৃষ্টিতে দেখল ওকে। খোদার কসম, আমার কাছে পিস্তল থাকলে আরেকবার কথাটা উচ্চারণ করতে বলতাম!

এতটুকু ম্লান হলো না মরগানের হাসি। কেন হাত দুটো তো আছে!

উই, রাত-দুপুরে তোমার সাথে মারামারি করব না আমি। অন্তত এখানে, দু’জন লেডির সামনে।

তোমার সুবিধামত? খোঁচা মারল মরগান, কিন্তু নিশ্চিত জানে ধাপ্পা দেয়নি লোকটা,পিস্তল থাকলে সত্যিই হয়তো ডুয়েল লড়ত। সে-সাহস আছে লোকটার।

উঠে দাঁড়াল টেনিসন। যখন ইচ্ছে, তোমার পছন্দ মত হবে, কেমন? শান্ত স্বরে বলল সে কথাগুলো, স্বাভাবিক হয়ে এসেছে আচরণ, একটু আগের রাগ বা। বিদ্বেষ নেই। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবটা চলে এসেছে আবার। আবার হয়তো দেখা হবে আমাদের, এগোল সে। যদি তুমি চাও।

হকিন্স কে, মি. টেনিসন? চেনো নাকি? পেছন থেকে জানতে চাইল মরগান, আন্দাজে ঢিল ছুড়েছে। ওর আশা ঠিকমতই লাগবে।

থেমে গিয়ে ঝট করে ঘুরল সে। ও নামে কাউকে চিনি না, চোখে চোখ রাখল টেনিসন, শীতল দৃষ্টি বিদ্ধ করল মরগানকে। মি. জেমস মরগান, তুমিও একটা মিথ্যুক! বলে আর দেরি করল না, দরজা খুলে বেরিয়ে গেল।

শীতল একটা স্রোত বয়ে গেল মরগানের মেরুদণ্ড বেয়ে। বুঝতে ভুল হয়নি তো ওর? লোকটা কি আসলেই তা বোঝাতে চেয়েছে? কিন্তু সেটা কি করে সম্ভব?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *