২.১২ জরুরী বৈঠক

জোনাথন হারকারের ডায়েরী থেকে

৩ অক্টোবর।

সকালবেলা আবার আমাদের জরুরী বৈঠক বসলো ডাক্তার সেওয়ার্ডের পড়ার ঘরে। আলোচ্য বিষয়-কাউন্ট ড্রাকুলা। প্রফেসর বললেন, আজ সূর্যাস্তের আগে যেভাবেই হোক খুঁজে বের করতে হবে শয়তানটাকে। পঞ্চাশটা বাক্সের সব কটা খুঁজে বের করে খুলে খুলে দেখতে হবে। এমন ভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে নিজেদের যেন কাউন্ট ড্রাকুলাকে খুঁজে পাওয়া মাত্র হত্যা করতে পারি তাকে, একে একে সবার মুখের দিকে তাকালেন তিনি। কারও কোন আপত্তি আছে?

না, নেই, বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বললেন মিস্টার মরিস। ওই কাউন্ট হারামজাদাকে খুন করা ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোন ইচ্ছেই নেই আমার।

মৃদু হেসে বললেন প্রফেসর, আসলে তোমার মুখ থেকে এই জবাবই আশা করছিলাম আমি, মরিস।

চার-চারটে জায়গায় হানা দিয়ে আজকের মধ্যে পঞ্চাশটা বাক্স পরীক্ষা করা সব, স্যার? মৃদু প্রতিবাদ জানালাম আমি।

একেবারে অসম্ভব না হলেও সহজ নয় কাজটা। দুটো দলে ভাগ হয়ে যেতে হবে আমাদের। মরিস আর আর্থার থাকবে এক দলে, অন্য দলে থাকব আমি, তুমি আর জন। ওরা দুজন হানা দেবে মাইল অ্যাও নিউ টাউনের একশ সাতানব্বই নম্বর চিকস্যাও লেন আর মেসের জ্যামাইকা লেনে। আমরা খুঁজব কারফার আর পিকডিলির পুরানো গির্জায়। আর্থার আর মরিসের খোঁজার জায়গা দুটোর ওপর তেমন গুরুত্ব দিচ্ছি না আমি, কিন্তু তবু একবার দেখা উচিত। মরিস, তোমাদের কাজ হবে বাক্সের ডালাগুলো খুলে ভেতরটা দেখা। ভেতরে কাউন্ট না থাকলে সেখানে একটুকরো করে ধুনো রেখে আবার বন্ধ করে দেবে ডালা।

আর থাকলে? জিজ্ঞেস করলেন মিস্টার মরিস।

যেভাবে লুসির জীবন-মৃত আত্মাটাকে হত্যা করেছি, অবিকল তেমনি ভাবেই তাকে হত্যা করবে। এবং কাজটা করার ভার দিচ্ছি আমি তোমাকে, উত্তর দিলেন প্রফেসর।

তাহলে, এখুনি এই মুহূর্তে ঈশ্বরের নাম নিয়ে বেরিয়ে পড়তে চাই আমি।

এসো, ঈশ্বর সহায় থাকুন তোমাদের।

লর্ড গোডালমিং আর মিস্টার মরিস বেরিয়ে যাবার পর আমরাও বেরিয়ে পড়লাম। প্রথমেই হানা দিলাম কারফাক্সের বিশাল পুরানো গির্জাটায়। আজ আমরা তৈরি হয়েই এসেছি, কাজেই গির্জায় ঢুকতে বাধা দিতে পারল না আমাদের দারোয়ান। টমাস মেলিং-এর কাছ থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে তার প্রতিনিধি হয়ে এসেছি আমি। অবশ্যই মিছে কথা বলে অনেক কষ্টে রাজি করান গেছে টমাস মেলিংকে।

বাক্সগুলো যেখানটায় পড়ে আছে সেখানে দিনরাতের কোনো ভেদাভেদ নেই। সেদিন রাতের মতই আজ দিনের বেলায়ও মোমবাতি জ্বেলেই কাজ করতে হল আমাদের। ব্যাগ থেকে বড় একটা স্কু-ড্রাইভার বের করে মাটি ভর্তি সেই বিশাল বাক্সের ডালাগুলো খুলে ফেললেন প্রফেসর। প্রত্যেকটা বাক্সের ভেতরই একবার করে উঁকি মেরে দেখে নিয়ে একটুকরো করে ধুনো ভেঙে ফেললেন ডেতরে, তারপর আবার বন্ধ করে দিলেন ডালাগুলো। ঊনত্রিশটা বাক্সই খুঁজে দেখলাম, কিন্তু পাওয়া গেল না পিশাচটাকে।

গির্জা থেকে বেরিয়ে এসে বললেন প্রফেসর, হারামজাদা টের পেয়ে গেছে আমরা পিছু লেগেছি ওর, তাই পালিয়েছে। চলো, দেরি না করে পিকাডিলির পরিত্যক্ত গির্জাটায় হানা দিই।

ফেনচার্চ স্ট্রীটে পৌঁছে হঠাৎ আমাকে বললেন প্রফেসর, গ্রীন পার্ক থেকে একজন চাবির কারিগর ডেকে নিলে কেমন হয়? বলা তো যায় না। গির্জার সদর দরজায় তালা মারাও থাকতে পারে।

লাগবে না, প্রফেসর, বললাম আমি। সেদিনই ওই গির্জার আশপাশটা ভালমত দেখে গেছি আমি। আস্তাবলের সামনের জানালাটায় গরাদ নেই। অনায়াসে ওই জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যেতে পারব আমরা।

বেশ, চলো তাহলে, লোক যত কম জানাজানি হয় ততই মঙ্গল, আমার কথায় সায় দিয়ে বললেন প্রফেসর।

এখান থেকে একটা ঘোড় গাড়ি নিয়ে পিকাডিলি সার্কাস পর্যন্ত এলাম আমরা, তারপর পায়ে হেঁটে দুপুরের একটু পর এসে দাঁড়ালাম পরিত্যক্ত গির্জাটার সামনে। আশপাশটা অত্যন্ত নির্জন। ঘুরে গিয়ে পেছনে আস্তাবলটার কাছে পৌঁছে জানালা টপকে একে একে ভেতরে ঢুকলাম আমরা। নিচের হল ঘরটায় পৌঁছতেই একটা ভ্যাপসা পচা দুর্গন্ধ এসে লাগল নাকে। ওই গন্ধের সাথে আমি ভালভাবেই পরিচিত, কাউন্ট ড্রাকুলার গায়ের গন্ধ ওটা। বুঝলাম, অতি সম্প্রতি এই হলঘরটা ব্যবহার করছে শয়তানটা। বিরাট হল ঘরের শেষ প্রান্তে পড়ে আছে কাঠের বাক্সগুলো। এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে এগিয়ে গিয়ে বাক্সের ডালা খোলায় মন দিলেন প্রফেসর। কিন্তু এখানেও পাওয়া গেল না কাউন্টকে। টমাস মেলিং-এর হিসেব মত এখানে মোট নটা বাক্স থাকার কথা, কিন্তু গুণে দেখলাম আটটা আছে, আর একটা কোথায় গেল? গির্জার সব কটা ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজেও পাওয়া গেল না বাটা। অর্থাৎ এখান থেকেও পালিয়েছে কাউন্ট ড্রাকুলা, একেবারে বার সহ।

কঠিন গলায় আমাদের সবার সামনে প্রতিজ্ঞা করলেন প্রফেসর, কাউন্ট ড্রাকুলা, আমার হাত থেকে পার পাবে না তুমি, শত শত নিরপরাধ প্রাণোচ্ছল যুবক যুবতী আর মিনার মুখ চেয়ে যেভাবে হোক তোমাকে খুঁজে বের করবই আমি।

সন্ধ্যার পর ডাক্তার সেওয়ার্ডের বাড়িতে ফিরে এসে দেখলাম আমাদের আগেই ফিরে এসেছেন মিস্টার মরিস আর শর্ড গোডালমিং। ভঁরাও খুঁজে পাননি কাউন্ট ড্রাকুলাকে। তবে জায়গা মতই পেয়েছেন বারটা বাক্স। অর্থাৎ সত্যিই একটা বার উধাও।

৪ অক্টোবর সকাল।

সারা দিনের খাটুনির পর গভীর ভাবে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, হঠাৎ মিনার ডাকে ঘুম ভেঙে গেল। ধড়মড় করে উঠে উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে, মিনা?

প্রফেসরকে একবার ডেকে নিয়ে এসো না, জলদি, উত্তেজিত গলায় আমাকে অনুরোধ করল মিনা।

ব্যাপার কি? হঠাৎ প্রফেসরের দরকার পড়ল কেন? জানতে চাইলাম আমি।

একটু আগে এসেছিল ও। কিন্তু প্রফেসরের দেয়া কুশটার জন্যে আমার কাছে আসতে পারেনি। দূর থেকেই অবশ্য সম্মোহিত করার চেষ্টা করছিল আমাকে, কিন্তু খুব একটা কার্যকরী হতে পারছিল না। কাল বলে দিয়েছেন প্রাফেসর, যদি পিশাচটা এসে আমাকে সম্মোহিত করার চেষ্টা করে, আর আমি বুঝতে পারি, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে যেন তার কাছে খবর পাঠাই। জলদি যাও না, প্লিজ।

যাচ্ছি, বলে তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে নেমে স্যাণ্ডেল জোড়া পায়ে গলাতে গলাতে ছুটলাম। বারান্দায় বেরিয়েই প্রায় ধাক্কা খেতে যাচ্ছিলাম, আরে মিস্টার মরিস, আপনি এখানে? এই রাতের বেলা?

সারারাত বাড়ির আনাচে কানাচে পাহারা দেবার ভার পড়েছে আমার ওপর। অবশ্যই ভার দিয়েছেন প্রফেসর। কিন্তু আপনি এভাবে হন্তদন্ত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন কোথায়?

প্রফেসরকে ডেকে আনতে।

কেন? মিসেসের কিছু হয়েছে নাকি? উদ্বিগ্ন কণ্ঠ মিস্টার মরিসের।

না, তেমন কিছু নয়। একটু আগে নাকি কাউন্ট ড্রাকুলা এসে তাকে সম্মোহিত করার চেষ্টা করেছিল।

তাই নাকি? কিন্তু মিসেসকে একা ফেলে যাওয়া ঠিক হবে না আপনার। আপনি ঘরে যান। এক্ষুণি ডেকে আনহি আমি প্রফেসরকে, বলেই ঘুরে দাঁড়িয়ে ছুটলেন মিস্টার মরিস।

ঘরে ফিরে এলাম। সারাটা রাত জেগে থেকে আমাদেরকে পাহারা দিয়েছেন মিস্টার মরিস। কথা ভাবতেই কেমন যেন লজ্জা লাগল আমার। আর আমাদের কথা এতটা ভাবেন প্রফেসর, ভেবে তার প্রতি জাগল গভীর শ্রদ্ধা। দুমিনিট পরেই মিস্টার মরিসকে নিয়ে এসে ঘরে ঢুকলেন প্রফেসর। হাসতে হাসতে মিনাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার? অসময়ে এ বুড়ো ছেলেকে এত জরুরী তলব কেন?

ড্রাকুলা এসেছিল, প্রফেসর। আমাকে সম্মোহিত করার চেষ্টাও করেছিল, কিন্তু সুবিধে করতে পারেনি। আমি টের পেয়ে গেছি সাথে সাথেই।

ভেরি গুড। হারামজাদাটাকে পেয়েছি এতদিনে। তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়তো মা! হ্যাঁ, আর আমার চোখের দিকে তাকাও। মিনা প্রফেসরের চোখে চোখ রাখতেই অদ্ভুত ভঙ্গিতে সেদিকে তাকিয়ে থেকে দুহাতের তালু মাথার দুপাশ থেকে একশ আশি ডিগ্রী কোণ করে কোমর পর্যন্ত ঘুরিয়ে আনলেন তিনি কয়েকবার। ধীরে ধীরে অর্ধমুদিত হয়ে এল মিনার চোখের পাতা, ভারি হয়ে উঠল শ্বাস-প্রশ্বাস। মিনার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে ইঙ্গিতে মিস্টার মরিসকে কাছে ডাকলেন প্রফেসর। মিস্টার মরিস এগিয়ে যেতেই ফিসফিস করে তাকে লর্ড গোডালমিং আর ডাক্তার সেওয়ার্ডকে ডেকে নিয়ে আসতে বললেন। একটু পরই এসে হাজির হল ওরা।

মিনার বিছানার কাছে এগিয়ে গিয়ে অনেকটা ফিসফিসিয়ে অদ্ভুত কণ্ঠে ডাকলেন প্রফেসর, মিনা, শুনতে পাচ্ছি আমার কথা?

যেন স্বপ্নের ওপার থেকে জবাব এল, হ্যাঁ, প্রফেসর।

কোথায় এখন তুমি?

জানি না।

ধমকে উঠলেন প্রফেসর, বল কোথায়?

কি জানি, ঠিক বুঝতে পারছি না। অচেনা লাগছে সব কিছু।

কি দেখতে পাচ্ছ?

কিচ্ছু না। কেবল অন্ধকার, গাঢ় অন্ধকার চারদিকে।

আলো নেই কোথাও?

না।

কিছু শুনতে পাচ্ছ?

হ্যাঁ।

কি?

পানির অস্পষ্ট কলকল, কোন কিছুর গায়ে ঢেউয়ের চাপড় মারার মৃদু ছল ছলাৎ শব্দ।

সবই স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে?

হ্যাঁ।

অর্থাৎ কোন খোলের মধ্যে মাছ এখন তুমি?

হ্যাঁ।

স্তব্ধ বিস্ময়ে প্রফেসর ছাড়া একে অন্যের মুখের দিকে চাওয়াচাওয়ি করলাম আমরা সবাই। ওদিকে প্রশ্ন করেই চলেছেন প্রফেসর, আর কি শুনতে পাচ্ছ?

তেমন কিছু না।

তবু?

ব্যস্ত সব মানুষের পায়ের শব্দ, নোঙরের গায়ে লোহার শেকল জড়ানোর একটানা বিশ্রী ঘড় ঘড় আওয়াজ।

এ সমস্ত শব্দও অস্পষ্ট?

হ্যাঁ।

কি করছ তুমি এখন?

শুয়ে আছি। মৃত্যুর মত নিশ্চল নিস্পন্দ হয়ে শুয়ে আছি। মনে হচ্ছে করে… হঠাৎ এই সময় বাইরে কোথাও মোরগ ডেকে উঠল। সঙ্গে সঙ্গেই যেন অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করে উঠল মিনা। মনে হচ্ছে শাস নিতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে ওর। চেঁচিয়ে উঠলেন প্রফেসর, জলদি, জলদি আমার চোখের দিকে তাকাও, মিন হ্যাঁ, হয়েছে। এবার ফিরে এস তুমি আমাদের পৃথিবীতে। হ্যাঁ, এস এস। শুধু তুমি, একা। এসো। এসো।

আস্তে করে চোখের পাতা সম্পূর্ণ খুলল মিনা। আমাদের সবাইকে ওর বিছানার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, প্রনের, আপনারা সব কি করছেন এখানে? আমার দিকে অবাক হয়ে অমন তাকিয়ে… বলতে গিয়েই হঠাৎ থেমে গিয়ে শব্দ করে হাসল মিনা। ওই হো, ভুলেই গিয়েছিলাম, আমাকে সম্মোহিত করেছিলেন আপনি। তা কিছু জানতে পারলেন, প্রফেসর?।

পেরেছি, আমরা সবাই, উত্তর দিলেন মিস্টার মসি। একটু আগে মিনার মুখ থেকে বেরোনো কথার সুর নকল করে বললেন তিনি, আপনি এখন খোলর মধ্যে।

মিস্টার মরিসের কথা শুনে হো হো করে হেসে উঠলাম আমরা সবাই। বুঝতে পেরে অবাক হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকল,মিন। হাসির বেগ একটু প্রশমিত হয়ে এলে মিনাকে সব কথা বললেন প্রফেসর।

প্রফেসরের কথা শেষ হলে জিজ্ঞেস করলাম আমি, তাহলে কোন নৌকা বা জাহাজের খোলের মধ্যে আছে এখন কাউন্ট ড্রাকুলা?

হ্যাঁ। এবং উধাও হওয়া বাটার ভেতরে।

অর্থাৎ লণ্ডন ছেড়ে পালাচ্ছে সে?

হ্যাঁ, পালাচ্ছে।

তাহলে তো এখুনি বাক্সটা খুঁজতে বেরিয়ে পড়া উচিত আমাদের, উত্তেজিত ভাবে বললেন মিস্টার মরিস।

অত তাড়াহুড়োর কিছু নেই, মরিস, ওর তাড়াতাড়ি দেখে হেসে ফেলে বললেন প্রফেসর। যেটুকু বুঝতে পারছি-জাহাজটা এখনো কোনও বন্দরে নোঙর করা অবস্থাতেই আছে। এখন প্রথমে আমাদের জানতে হবে বিরাট মাটি ভর্তি বাক্স নিয়ে ট্রানসিলভেনিয়ার দিকে রওনা হচ্ছে কোন্ জাহাজটা।

ট্রানসিলভেনিয়ার নাম শুনেই ধক করে উঠল আমার হৃৎপিণ্ডটা। বললাম, তাহলে আবার নিজের দুর্গে ফিরে যাচ্ছে পিশাচ কাউন্ট ড্রাকুলা?

হ্যাঁ, উত্তর দিলেন প্রফেসর। এবং সেখানে পৌঁছতে পারার আগেই ওকে শেষ করতে হবে আমাদের। একবার নিজের প্রাসাদে পৌঁছে গেলে আর ওকে খুঁজে বের করা যাবে না সহজে।

.

মিনা হারারের ডায়েরী থেকে

৭ অক্টোবর।

আজ সকালে আবার জরুরী বৈঠক বসল আমাদের। কেমন করে, কোন্‌পথে কোন্ জাহাড়ে পালাচ্ছে কাউন্ট ড্রাকুলা, এক এক করে আমাদের র শোনালেন প্রফেসর। গত কয়েকদিন ধরেই এ সব খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি। মিস্টার মরিসের এক প্রশ্নের জবাবে বললেন তিনি, ট্রানসিলভেনিয়ার দিকে রওনা দেয়া ছাড়া কোন উপায় ছিল না শয়তানটার। আন্দাজ করলাম যেপথে এসেছিল সেপথেই ফিরে যাবে সে। হয় দানিয়ুব মাউথ দিয়ে, নয় কৃষ্ণ সাগর পার হয়ে। এই আন্দাজের ওপর ভিত্তি করেই বন্দরে খোঁজ নিই কোন জাহাজ দানিয়ুব মাউথ কিংবা কৃষ্ণ সাগর পাড়ি দিচ্ছে কিন্তু এভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম না কিছু। শেষ পর্যন্ত আর্থারের একটা কথা বেশ মনে ধরল। সে বলল, গত কয়েক দিনের পুরানো দি টাইমস পত্রিকা ঘেঁটে দেখলেই কবে, কোন্ জাহাজ, কোত্থেকে যাত্রা করে কোথায় গিয়ে পৌঁছবে তা জানা যাবে। সাথে সাথেই গত বিশ দিনের দি টাইমস জোগাড় করে খুঁজে দেখতে শুরু করলাম। যা চাইছিলাম, পেয়েও গেলাম শেষ পর্যন্ত। জারিনা ক্যাথেরিন নামে রাশিয়ান জাহাজ ডোলিটিল ওয়ার্ক থেকে ছেড়ে জানা যাবে। জাহাজটা বন্দর ত্যাগ করে গেছে গতকাল। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, মাটি বোঝাই একটা বাও বয়ে নিয়ে গেছে জাহজটা! ভার্না থেকে নিসটিকস নামে একজন লোক ছাড়িয়ে নিতে আসবে বাক্সটা।

তাহলে জারিনা ক্যাথেরিনকে কিভাবে ধরা যায় তাই এখন ভেবে দেখতে হবে আমাদের, বললেন মিস্টার মরিস।

ভার্না পৌঁছতে কম করেও তিন সপ্তাহ লাগবে জাহাজটার। স্থলপথে আজ থেকে দিন দশেক পরে রওনা দিলেও জাহাজটা পৌঁছার আগেই ডানা পৌঁছে যেতে পারব আমরা।

তারপর? জানতে চাইলেন লর্ড গোডালমিং।

সুযোগ পেলে সেখানেই হত্যা করব কাউন্টের জীবন-মৃত আত্মাকে। একান্তই যদি সে সুযোগ না পাই তাহলে যেভাবেই হোক অন্তত একটা বুনো গোলাপের ডাল ভরে দেব বাটায়, যেন বাক্স থেকে বেরিয়ে না আসতে পারে পিশাচটা। তারপর কোথায় নেয়া হয় বাক্সটা দেখব। সেটা জানা হয়ে গেলে একসময় না একসময় পিশাচটাকে হত্যার সুযোগ আমরা পাবই।

এরপর আলোচনা করে ঠিক করা হল কবে ভার্নার উদ্দেশে রওনা দেব। দশ দিন নয়, তার অর্ধেক, অর্থাৎ আজ থেকে ঠিক পাঁচ দিন পর, অর্থাৎ, ১২ অক্টোবর যাত্রা শুরু হবে আমাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *