২.১১ কেনফিন্ডের পাগলামি

ডাজার জন সেওয়ার্ডের ডায়েরী থেকে

২ অক্টোবর।

কেনফিন্ডের পাগলামি বেড়ে গিয়ে কোন অঘটন ঘটে যেতে পারে ভেবে সারাক্ষণ একজন লোককে ওর ঘরের বাইরে রেখে ওকে পাহারা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলাম নার্সকে। তার সামান্যতম পরিবর্তন দেখলেও আমাকে খবর দেবে নার্স। কাজেই সেদিক থেকে নিশ্চিন্ত ভেবে হাসপাতালে যাওয়া বাদই দিয়েছি আজ। তাছাড়া গত রাতের অভিযানের পর হাসপাতালে যাবার মত শারীরিক বা মানসিক অবস্থাও ছিল না। কাজেই সারাটা দিন সেঁটে ঘুষ দিয়ে বিকেলের দিকে উঠেছি ঘুম থেকে।

সন্ধ্যার পর ড্রইং রুমে বসে চা খেতে খেতে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে, আলাপ আলোচনা করতে লাগলাম। সকালে সামান্য কিছু মুখে দিয়ে সেই যে কোথায় বেরিয়েছিলেন মিশর হারকার সারাদিন পর একটু আগে বাড়ি ফিরে এসেছেন। তার মুখ দেখে বোঝা গেল যে কাজে বেরিয়েছিলেন তাতে পুরোপুরি সফল না হলেও একেবারে ব্যর্থ হননি। ঘরে ঢুকেই ক্লান্তভাবে ধপাস করে একটা সোফায় বসে পড়লেন তিনি।

কি ব্যাপার, কাউকে কিছু না জানিয়ে কোথায় টো টো করে এলেন? জিজ্ঞেস করলাম আমি।

বলব সবই, কিন্তু আগে কিছু খেয়ে নেয়া দরকার। বলে মিসেস হরকারের দিকে তাকিয়ে হালকা রসিকতার সুরে বললেন তিনি, আপনি কি দয়া করে কৃতার্থ করবেন এ অধমকে?

অবশ্যই, অবশ্য, সেই কখন থেকেই তো হুজুরের ডোগ সাজিয়ে বসে আছি। কিন্তু পাত্তাই নেই হুজুরের। তা দয়া করে এবার গাত্রোখান করা হোক, কপট গাম্ভীর্যের সাথে জবাব দিলেন মিসেস হারকার।

ওদের দুজনের কথার ধরনে হো হো করে হেসে ফেললাম আমরা সবাই, হাসতে হাসতেই উঠে দাঁড়ালেন মিস্টার হারকারও। একটু পর খাওয়া সেরে ফিরে এলেন তিনি। মিসেস হারারের শরীরটা বিশেষ ভাল নেই বলে তাকে জোর করে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে এসেছেন। একটা সোফায় বসে পড়ে পকেট থেকে পাইপ বের করে তাতে তামাক পরে ধরিয়ে নিলেন মিস্টার হারকার।

আমি আর কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে বলেই ফেললাম, ভাবসাব দেখে তো মনে হচ্ছে কাউন্ট ড্রাকুলার সাক্ষাৎ পেয়ে গেছেন আপনি।

সাক্ষাৎ না পেলেও খোঁজ পেয়ে গেছি, মুখ থেকে পাইপটা সরিয়ে বললেন মিস্টার হারকার।

তাহলে তো কাজই করে এসেছ একটা। কোথায় পেলে তার বোজ? এতক্ষণে মুখ খুললেন প্রফেসর।

আসলে সেই একুশটা বাক্সের খোঁজে বেরিয়েছিলাম আমি। কার্টার, প্যাটারসন কোম্পানীর কাছ থেকে পাওয়া সামান্য একটা সূত্র ছিল আমার হাতে। সেই সূত্র ধরেই ক্যারীং কন্ট্রাক্টর টমাস মেলিং-এর খোঁজ করি। সেখান থেকে খোঁজখবর করতে করতে শেষ পর্যন্ত একুশটা বাক্সের হদিস পেয়ে যাই আমি। প্রথম কিস্তিতে ঠেলাগাড়িতে করে টা বাক্স নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মাইল অ্যাণ্ড নিউ টাউনের একশো সাতানব্বই নম্বর চিকস্যাও স্ট্রীটে। দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও হটা নিয়ে যাওয়া হয় ব্রেমওসের জ্যামাইকা লেনে। তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তিতে বাকি নটা বাক্স নিয়ে যাওয়া হয় পিকাডিলি সার্কাসের কাছের পুরানো গির্জাটায়। আমার মনে হয় তিনশো সাতচল্লিশ নম্বর পিকাডিলির সেই বিশাল পুরানো গির্জাটাতেই এখন ঠাঁই নিয়েছে কাউন্ট ড্রাকুলা।

দারুণ আবিষ্কার করে এসেছে দেখছি। তা, তিনশো সাতাশি নম্বর বাড়িটা চেনো তুমি, নিজ চোখে দেখেছ?

দেখেছি। বুঝতে পারছি কেন প্রশ্নটা করছেন। অর্থাৎ কার-ফাক্সের গির্জার মত প্রহরা আছে কিনা, ঢুকতে অসুবিধে হবে কিনা, এই তো? মৃদু হেসে বললেন মিস্টার হারকার, না, প্রফেসর, হবে না।

গুড।

আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে এরপর দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করলাম আমরা। রাতে শুতে যাবার আগে হাসপাতালটা একবার পরিদর্শন করে এলাম আমি। রেনফিডের ঘরেও উঁকি দিয়ে দেখলাম। পরম নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে ও।

.

৩ অক্টোবর

ভোরে কতক্ষণ ঘুমিয়েছি বলতে পারব না, হঠাৎ নার্সের উত্তেজিত ডাকে ঘুম ভেঙে গেল আমার। আমি চোখ মেলতেই বলল সে, সাংঘাতিক কাণ্ড ঘটে গেছে, স্যার, রেনফিন্ডের অবস্থা শোচনীয়। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে সে।

স্যাণ্ডেল জোড়া কোনমতে পায়ে পালিয়ে নিয়ে রাত্রিবাস পরেই ছুটলাম। নার্সের মুখে আগে থেকে শোনার পরও রেনফিন্ডের ঘরে উঁকি দিয়েই আঁতকে উঠলাম। বাঁ পাশে কাত হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে রেনফিল্ড। রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘরের মেঝে। আন্দাজেই বুঝলাম ভয়ঙ্কর কোন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এগিয়ে গিয়ে ওর পাশে বসে পড়লাম। আস্তে করে ওর মুখটা আমার দিকে ঘুরিয়ে দিয়েই থমকে গেলাম। মনে হল, প্রচণ্ড আক্রোশে মেঝেতে ঠুকে ঠুকে ওর মুখটাকে তেলে দিয়েছে কেউ। চুইয়ে চুইয়ে এখনও রক্ত ঝরছে ক্ষতস্থান থেকে। ওর অচেতন দেহের পাশে উবু হয়ে বসে ভালমত পরীক্ষা করে দেখলাম, যেভাবে বাঁকাচোরা হয়ে পড়ে আছে দেহটা তাতে আন্দাজ করলাম কোমরটাও ভেঙে গেছে। কেমন করে ঘটেছে ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে নার্সকে জিজ্ঞেস করলাম, কিন্তু সে-ও বলতে পারল না কিছু।

রেনফিন্ডের ঘরের সামনে সারাক্ষণ পাহারা দেয় একজন দারোয়ান, সুতরাং সামনে দিয়ে কেউ তার ঘরে ঢুকে তাকে এভাবে মারপিট করে যেতে পারবে না। আর পেছনের বন্ধ জানালা দিয়ে রেফিন্ডের অজান্তে কেউ তার ঘরে ঢোকার প্রশ্নই ওঠে না। মারা তো দূরের কথা। বিছানা থেকে পড়ে গিয়েও ওরকম ঘটা অস্বাভাবিক। তাহলে?

ব্যাপারটার মাথামুণ্ড কিছুই বুঝতে না পেরে প্রফেসরকে খবর পাঠালাম। কয়েক মিনিটের মধ্যেই রাতের পোশাক পরা অবস্থায়ই ছুটে চলে এলেন প্রফেসর। কয়েক মুহূর্ত রেনফিডের তেলানো মুখের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে আমার দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন তিনি। আস্তে করে বললেন, অত্যন্ত গুরুতর মনে হচ্ছে আঘাতটা। ভালমত পরীক্ষা করে দেখতে হবে ওকে। ওর ওপর নজর রেখো, এখুনি আসছি আমি।

টেনে টেনে শ্বাস নিচ্ছে রেনফিল্ড। দেখেই বোঝা যাচ্ছে খুবই খারাপ ওর অবস্থা। অল্পক্ষণেই ফিরে এলেন প্রফেসর, হাতে অপারেশনের ইট্রুমেন্টস বক্স। ওর থমথমে গম্ভীর মুখ দেখে অনুমান করলাম গভীর ভাবে ভাবছেন কিছু তিনি। ঘরে ঢুকেই নার্সের দিকে চেয়ে বললেন তিনি, তুমি একটু বাইরে যাও তো। দরকার হলে ডাকব।

মাথা ঝাঁকিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল নার্স। আর বিন্দুমাত্র দেরি না করে রেনফিডের পাশে উবু হয়ে বসে পড়ে তাকে পরীক্ষা করতে শুরু করলেন প্রফেসর। বেশ কয়েক মিনিট ধরে গভীর ভাবে পরীক্ষা করার পর উঠে দাঁড়িয়ে বললেন প্রফেসর, মুখের আঘাতটা তেমন কিছু না, আসলে আঘাত লেগেছে করোটিতে। ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে মাথার তালু। যন্ত্রণার অভিব্যক্তি দেখেই বোঝা যাচ্ছে আঘাতটা মারাত্মক। এখন যত শীঘ্র সম্ভব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে রক্তের চাপ। যেভাবে রক্তক্ষরণ বাড়ছে তাতে শীঘ্রিই অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাবে যন্ত্রণা। ওর মাথার ভেতরের জমাট বাঁধা রক্ত অপসারণের জন্যে এখুনি অপারেশন করতে হবে।

দরজায় টোকা দেবার মৃদু শব্দ হতেই এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলাম। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে আর্থার, মরিস আর মিস্টার হারকার। চেহারা আর পোশাক পরিচ্ছদ দেখেই বোঝা যায় সদ্য ঘুম থেকে উঠে এসেছে ওরা। আর্থার বলল, কি হয়েছে জন? শুনলাম, মারাত্মক দুর্ঘটনা নাকি ঘটে গেছে এখানে?

ঠিকই শুনেছিস। আয়, ভেতরে আয়, ডাকলাম আমি।

ওরা ঘরে ঢুকতেই আবার দরজা বন্ধ করে দিলাম আমি। রেনফিল্ডকে ওভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে প্রায় আঁতকে উঠে বলল আর্ধার, কি হয়েছে লোকটার?

সংক্ষেপে ঘটনাটা জানালাম ওদের। সব শেষে বললাম, অপারেশনের পর সামান্য সময়ের জন্যে হয়ত জ্ঞান ফিরতে পারে ওর। তাহলে ওর এ অবস্থার জন্য কে দায়ী জানা যাবে হয়ত।

আস্তে আস্তে এগিয়ে গিয়ে রেনফিডের বিছানাটায় বসে পড়ল ওরা তিনজন। ততক্ষণে অপারেশনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন প্রফেসর। গভীর উৎকণ্ঠার সাথে, প্রতীক্ষা করতে থাকলাম আমরা। সময় যেন কাটতেই চাইছে না। যেন অনড় হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে আশঙ্কা আর উদ্বেগ ভরা মুহূর্তগুলো। জ্ঞান ফিরে আসবে, তো রেনফিডের? যদি আসে, কি শুনতে পাব ওর মুখ থেকে?

ধীরে, অতি ধীরে শ্বাস ফেলছে রেনফিল্ড। যে-কোন মুহূর্তে থেমে যেতে পারে বুকের ওই মৃদু উত্থান পতন। এক সময় শেষ হল অপারেশন। অত্যন্ত নিপুণভাবে কাজ শেষ করেছেন প্রফেসর। কয়েক মুহূর্তের জন্যে বেশ জোরে জোরে বাস ফেলল রেনফিল্ড, তারপরই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকল ওর শ্বাসপ্রশ্বাস। বার কয়েক চোখের পাতা মিট মিট করে আস্তে করে চোখ মেলল রেনফিল্ড। কাঁপা কাঁপা গলায় প্রায় অস্ফুট স্বরে জিজ্ঞেস করল, এক ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন থেকে জেগে উঠেছি আমি, প্রফেসর। বুঝতে পারছি নির্মম বাস্তবে পরিণত হয়েছে স্বপ্ন। তা আমার আয়ু আর কতক্ষণ আছে, প্রফেসর?

সে প্রশ্নের জবাব না দিয়ে শান্ত ভাবে বললেন প্রফেসর, দুঃস্বরে কথাটা আমাকে খুলে বলবে কি, রেনফিল্ড?

বলব। আগে আমাকে একটু পানি খাওয়ান। তৃষ্ণায় শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে গলা।

আমি মরিসের দিকে চাইতেই আমার ইঙ্গিত বুঝতে পেরে একছুটে গিয়ে একটা ব্রাপ্তির বোতল জোগাড় করে আনল সে। একটা গ্লাসে পানি ঢেলে তাতে খানিকটা ব্র্যাণ্ডি মিশিয়ে রেনফিল্ডের হাঁ করা দুঠোঁটের ফাঁক দিয়ে একটু একটু করে ঢেলে দিলাম। ওটুকু খাওয়ার পর সামান্য একটু যেন চাঙ্গা মনে হল রেনফিল্ডকে। বার দুয়েক ঢোক গিলে মৃদু স্বরে কথা বলতে শুরু করল সে, আসলে স্বপ্ন দেখিনি প্রফেসর, এক ভয়াবহ বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি আমি একটু আগে। আমি জানি, সময় ফুরিয়ে এসেছে আমার। কিন্তু সব বলে যাব আপনাদের। এ পর্যন্ত বলে আর একবার পানি খেতে চাইল রেনফিল্ড। পানি খেয়ে আবার বলতে শুরু করল সে, ঘুমিয়ে ছিলাম, হঠাৎ নেকড়ের কুদ্ধ গর্জনে ঘুম ভেঙে গেল। জেগে উঠে ঠাহর করার চেষ্টা করলাম কোন্ দিক থেকে আসছে ওই গর্জন, বলেই একটু থামল রেনফিল্ড। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে ওর।

গভীর আগ্রহের সাথে রেফিন্ডের কথা শুনছিলেন প্রফেসর। রেনফিল্ড চুপ করতেই ওর হাতে মৃদু চাপ দিয়ে বললেন তিনি, বলে যাও, তারপর?

কি যেন বলছিলাম?

নেকড়ের গর্জন।

হ্যাঁ, নেকড়ের গর্জন। প্রথমে অবাক হলেও কয়েক মুহূর্ত পরেই বুঝে ফেললাম ব্যাপারটা। জানালার দিকে অকিয়ে দেখলাম, গাঢ় কুয়াশায় নিজেকে ঢেকে নিয়ে আমার জানালার ওপাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এর আগেও বহুবার বহুরূপে আমার সামনে এসেছেন তিনি, কিন্তু আজ একেবারে স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করলেন। জ্বলন্ত অঙ্গারের মত জ্বলছে তার চোখ দুটো। আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন তিনি। চাঁদের আলোয় ঝিকিয়ে উঠল তার ঝকঝকে সাদা তী দাঁতের সারি। আমার ঘরে ঢুকতে চাইছেন তিনি। কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছিল আজ জানালা না খোলাই উচিত। খুললেই হয়ত ভয়ঙ্কর কিছু ঘটে যাবে। আবার থামল রেনফিল্ড। কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে একটু জিরিয়ে নিয়ে আবার বলতে শুরু করল সে, প্রায়ই আমার জন্যে খাবার পাঠাতেন তিনি। বড় বড় নীল রঙের মাছি পাঠাতেন, নীলকান্ত মণির মত ঝিকমিক করত ওদের ডানা আর পিঠ। আর পাঠাতেন সুপুষ্ট মাকড়সা, পতঙ্গ। যাদের পিঠে আঁকা থাকত করোটির চিহ্ন। আজ তিনি জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে মৃদু হেসে বললেন, আজ তোমার জন্যে কি পাঠাব জানো? ইঁদুর। হাজার হাজার জ্যান্ত ইঁদুর। টকটকে লাল তাজা রক্ত বইছে ওগুলোর ধমনীতে।

তাঁর কথায় হাসলাম আমি, কিন্তু জানালা খুললাম না। আসলে দেখতে চাইছিলাম তার ক্ষমতা কতটুকু। ঠিক এই সময় আবার একসঙ্গে ডেকে উঠল হাজার হাজার নেকড়ে। ধীরে ধীরে একরাশ জমাট কুয়াশা ছড়িয়ে পড়তে লাগল সামনের মাঠটায়। সেই কুয়াশার ভেতর বিদ্যুৎ চমকের মত ছুটে বেড়াতে লাগল একটা আলোর শিখা। একসময় সরে গেল কুয়াশা। তখনই চোখে পড়ল ওগুলো। হাজার হাজার ইঁদুর। মাঠ পেরিয়ে পিলপিল করে এগিয়ে আসছে আমার জানালার দিকে। আবার এসে দাঁড়ালেন তিনি জানালার সামনে। হেসে বললেন, সব তোমার জন্যে। আর শুধু আজ নয়, আমার উপাসনা করলে হাজার হাজার বছর ধরে এভাবে তোমাকে কৃতার্থ করে যাব আমি।

ধীরে, অতি ধীরে জানালার কাছে এগিয়ে গেলাম আমি, কিন্তু জানালা খুললাম না। শুধু তার জ্বলজ্বল লাল চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। কতক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম জানি না, হঠাৎ মনে হল, তাইতো, জানালা খুলছি না কেন? এতদিন ধরে কি শুধু এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করিনি আমি? কথাটা মনে হতেই আস্তে করে হাত বাড়িয়ে খুলে দিলাম জানালা। পরম শ্রদ্ধা ভরে মাথা নিচু করে তাকে আহ্বান জানালাম, আসুন, প্রভু, ভেতরে আসুন।

চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে গেল ইঁদুরগুলো। একটা দমকা হাওয়ার মত ঘরে এসে ঢুকলেন তিনি, আবার চুপ করে গেল রেনফিল্ড। বার কয়েক জোরে জোরে খাস নিয়ে মৃদু কণ্ঠে পানি চাইল সে। তাড়াতাড়ি তার দুঠোঁটের ফাঁকে ব্র্যাণ্ডি মেশান পানি ঢেলে দিলাম আমি। তার অবস্থা দেখে মনে হল যে-কোন মুহূর্তে আবার জ্ঞান হারাতে পারে সে। এখন জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ওর কথা আর শোনা হবে না, এই ভয়ে আগের কথার খেই ধরিয়ে দিতে গেলাম আমি। বাধা দিয়ে আমাকে ফিসফিস করে বললেন প্রফেসর, না, না, জন, জোর করে এখন কিছু বলিও না ওকে দিয়ে। তাহলে হয়ত স্মৃতি শক্তিই গোলমাল হয়ে যেতে পারে ওর।

বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকেই একটু সামলে নিয়ে আবার বলতে শুরু করল রেনফিল্ড, আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন তিনি। হিংস্র পদের মত জ্বলজ্বল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, সঙ্গী চাও, রেনফিও, মেয়ে সঙ্গী? কে না চায়? ঘাড় কাত করে সম্মতি জানালাম আমি।

হঠাৎ কিসের গন্ধ পেয়েই বোধহয় কুকুরের মত সারা ঘরে ওকে বেড়াতে লাগলেন তিনি। তারপর আমার কাছে এগিয়ে এসে বললেন, আরে, এ ঘরে তো ঘুরে গেছে দেখছি তোমার সঙ্গিনী।

তার কথা শুনে বিদ্যুৎ চমকের মত বুঝে ফেললাম ব্যাপারটা। গত কয়েক মাসে মাত্র একজন মেয়ে মানুষ একবার এ ঘরে প্রবেশ করেছেন, মিসেস হারকার। বুঝলাম মিনা হারকারকে আমার সঙ্গিনী রূপে পাঠাতে চান তিনি। কি করে পাঠাবেন তাও বুঝে ফেললাম। মিসেস হারকারকে আগে জীবন-মৃতাতে পরিণত করবেন তিনি, কারণ সম্পূর্ণ জীবিতাবস্থায় স্বামী ফেলে আমার কাছে মিসেস হারকার আসবেন এটা গাধার শিং গজানোর মতই অসম্ভব। তারপর মিসেস হারকারকে দিয়ে জীবন-মৃত করাবেন আমাকে। এবং শুধু এভাবেই মিসেস হারকার আর আমার মিলন হতে পারে। চোখের সামনে মিসেস হরকারের সুন্দর নিস্পাপ মুখটা ভেসে উঠল। মনে পড়ল কেমন মমতা ডরে আমার সাথে আলাপ করে গেছেন তিনি।

শয়তানের সাধনা করেছিলাম শুধু ক্ষমতার লোভে, নিস্পাপ মানুষের চরম সর্বনাশের কারণ হবার জন্যে নয়। আস্তে করে জিজ্ঞেস করলাম তাকে, আপনি কি মিসেস হরকারের কথা বলছেন?

চমৎকার, বুঝতে পেরেছ দেখছি। হ্যাঁ, আমার সহকারী হবার যোগ্যতা তোমার আছে, খুশি হলেন তিনি।

কিন্তু মিসেস হারকারকে সঙ্গিনী হিসেবে পেতে চাই না আমি, নিজেকে জীবন-মৃততে পরিণত করতেও আপত্তি আছে আমার।

কি বললে? মুহূর্তে হাসি হাসি ভাবটা মুছে গেল তার মুখ থেকে। দ্বিগুণ হিংস্রতায় জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠল তার চোখ দুটো, আবার চুপ করল রেনফিল্ড। ঘড় ঘড় আওয়াজ হচ্ছে ওর বুকের ভেতর। বুঝলাম, সময় শেষ হয়ে এসেছে রেফিরে।

আর একটু ব্র্যাঙি মেশান পানি ঢেলে দিলাম রেনফিল্ডের হাঁ করা মুখে। যেভাবেই হোক আর একটুক্ষণ টিকিয়ে রাখতে হবে ওকে। শুনতে হবে ওর কাহিনী। মিসেস হারারের নাম শোনা মাত্র ধক্ করে উঠেছিল আমার বুকের ভেতর। বুঝতে পারছি চরম দুর্যোগ ঘনিয়ে আসছে ওঁর মাথার ওপর। রেনফিডের কাহিনীর শেষাংশ না শুনতে পারলে বোঝা যাবে না কিভাবে মিসেস হরকারের ওপর চড়াও হবে পিশাচ ড্রাকুলা।

আস্তে আস্তে আবার বলতে শুরু করল রেনফিল্ড, আমি তার কথায় প্রতিবাদ করায় দারুণ খেপে গিয়ে সারা ঘরে পায়চারি করে বেড়াতে লাগলেন তিনি। মাঝে মাকে আমার দিকে এমন ভাবে চাইতে লাগলেন যেন আমি একটা ঘৃণ্য কীট। উনি ক্ষমতাশালী ঠিক, কিন্তু আমিও তো একেবারে অকেজো নই। সাধনা করে করে আমিও তো মোটামুটি ক্ষমতা অর্জন করেছি। তাহলে, শুধু আমার স্বপক্ষে একটা কথা বলতেই তিনি অমন ভাব দেখাবেন কেন? আমি তার সাধনা করেছি, এক আধটা ভুল করে ফেললেও তো আমাকে তার ক্ষমা করা উচিত। আজ বুঝতে পারছি, ঈশ্বরকে বাদ দিয়ে শয়তানের পূজা করা কত বড় ভূল, কত বড় অপরাধ।

কথাটা বুঝতে পেরেই মনে মনে বার বার ডাকতে লাগলাম ঈশ্বরকে। আমার কৃত অপরাধের জন্য মাফ চাইলাম তার কাছে। ওদিকে শয়তানটার ঔদ্ধত্য ক্রমশঃ সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। দেশে আগুন ধরে গেল আমার মাথায়। আর সহ্য করতে না পেরে ঈশ্বরের নাম নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লাম ওর ওপর। দুহাতে জাপটে ধরলাম শয়তানটাকে। পারি আর না পারি, এতে আগের ভুলের কিছুটাও যদি প্রায়শ্চিত্ত হয় তো ক্ষতি কি?

আমার আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেবার আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল শয়তানটা। কিন্তু পারল না। বহু ভাবে চেষ্টা করেও আমার হাত থেকে ছাড়া না পেয়ে হঠাৎ স্থির হয়ে গেল সে। ভাবলাম বুঝি জয়ী হতে চলেছি আমি। আমার ওপর যে অবজ্ঞা সে দেখিয়েছে ঠিক সেটাই ফিরিয়ে দেবার জন্যে থুথু ছিটিয়ে দিলাম তার মুখে, এবং দিয়েই বুঝলাম চরম ভুল করেছি। থুথু ছিটাতে গিয়েই তার চোখের দিকে চোখ পড়ল আমার। সাথে সাথে পৈশাচিক ক্ষমতায় আমার মত অলৌকিক ক্ষমতার শক্তিধর লোককেও সম্মোহিত করে ফেলল সে। সম্মোহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাময়িক ভাবে ক্ষমতা হারালাম আমি। এই সুযোগে আমার বাইপাশ থেকে বেরিয়ে এল শয়তানটা। পরমুহূর্তে আমাকে দুহাতে চেপে ধরে এক ঝটকায় মাথার ওপর তুলে প্রচণ্ড এক আছাড় মারল সে। মনে হল একটা পাহাড় ভেঙে পড়ল আমার ওপর। জ্ঞান হারাবার আগের মুহূর্তে শুনলাম হাজারো নেকড়ের সম্মিলিত ক্রুদ্ধ গর্জন, বলে কয়েকবার খুব জোরে টেনে টেনে শ্বাস নিল রেনফিল্ড। খাস নেবার সময় সাংঘাতিক ভাবে বেড়ে গেল তার বুকের ঘড় ঘড় আওয়াজ। তারপর অতি কষ্টে ফিসফিসিয়ে বলল, আপনাকে মিসেস হরকারের সম্পর্কে আগেই হুঁশিয়ার করেছিলাম, ডাক্তার, কিন্তু আমার কথা শোনেননি… বলেই চুপ করে গেল সে। তাড়াতাড়ি তার দুঠোঁটের ফাঁকে একটু পানি ঢেলে দিলাম। কিন্তু সেটুকু গিলতে পারল না রেনফিল্ড, গড়িয়ে পড়ে গেল কষা বেয়ে।

রেনফিল্ড মারা যাবার সঙ্গে সঙ্গে কঠোর দৃষ্টিতে আমার দিকে চাইলেন প্রফেসর। বললেন, ও তোমাকে মিনা সম্পর্কে হুঁশিয়ার করেছিল, কথাটা বলনি কেন আমাকে?

আমি, আমি স্যার ওটাকে পাগলের প্রলাপ বলে ভেবেছিলাম, আমতা আমতা করে জবাব দিলাম।

হুঁহ! বলে একলাফে মেঝে থেকে উঠে দাঁড়ালেন প্রফেসর। আমাদের কারও দিকে আর একবারও না তাকিয়ে ছুটে বের হয়ে গেলেন ঘর থেকে। আমরাও ছুটলাম তার পিছু পিছু। বাড়ি পৌঁছে সোজা মিসেস হরকারের ঘরের দিকে এগিয়ে। গেলেন প্রফেসর। ঠেলা দিতেই খুলে গেল ঘরের দরজা। খিল দেয়া হয়নি, শুধু ভিড়িয়ে রাখা হয়েছিল দরজার কপাট। প্রায় একসাথেই ঘরে ঢুকলাম আমরা চারজনে। মিসেস হারকারের বিছানার দিকে চোখ পড়তেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম। আতঙ্কে খাড়া হয়ে উঠল গায়ের নোম, মেরুদণ্ড বেয়ে শিরশির করে নেমে গেল হিমেল শিহরণ।

চিৎ হয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন মিসেস হারকার। জানালা দিয়ে জ্যোৎস্না এসে পড়েছে সেই বিছানার ওপর। বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে তার গলার ওপর ঝুঁকে আছে কালো আলখেল্লা পরা, ও কে? মিসেস হরকারের হাত দুটো বুকের ওপর জড়ো করে বা হাতে ধরে রেখেছে, আর নিজের মুখটা ভালমত মিসেস হারারের গলার কাছে ঠেকানোর জন্যে ডান হাত দিয়ে তার ঘাড় চেপে সামান্য একটু ওপরে তুলে ধরেছে মূর্তিটা।

আমাদের পায়ের শব্দে চমকে উঠে ঘুরে দাঁড়াল কালো আলখেলা পরা মূর্তিটা। সাথে সাথেই আতঙ্কিত গলায় ফিসফিস করে বললেন মিস্টার হারকার, কাউন্ট, কাউন্ট ড্রাকুলা!

ঘরের ভেতর আমাদেরকে দেখে রাগে আগুনের শিখার মত দপ করে জ্বলে উঠল কাউন্টের দুই চোখ। প্রচণ্ড আক্রোশে দুঠোঁটের কোণ থেকে বেরিয়ে এসেছে তার ঝকঝকে সাদা দাঁত দুটো। শিকার হাতছাড়া হয়ে যায় দেখে বাষের মত হার দিয়ে উঠল পিশাচ কাউন্ট, পরক্ষণেই তেড়ে এল আমাদের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে কোটের দুই পকেট থেকে ঝটকা মেরে বেরিয়ে এল প্রফেসরের দুই হাত। বা হাতে ঝকঝক করে উঠল একটা ছোট্ট সোনার ক্রুশ, সেটা কান্টের দিকে উঁচিয়ে ধরলেন তিনি, যেন দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল কাউন্ট। সেখান থেকেই রুদ্ধ আক্রোশে দাঁত খিচাতে থাকল আমাদের উদ্দেশ্যে! বিড়বিড় করে কি যেন পড়লেন প্রফেসর-বোধহয় বাইবেলের পবিত্র শ্লোক, তারপরই ডান হাতের জিনিসটা ছুঁড়ে দিলেন কাউন্টের দিকে। বিস্কুটের মত জিনিসটা দেখেই বুঝলাম–ধুনো।

সঙ্গে সঙ্গে অমানুষিক আর্তনাদ করে উঠে পিছিয়ে গেল কাউন্ট। পরমুহূর্তেই কুয়াশায় রূপ নিতে শুরু করল সে। কয়েক সেকেণ্ডেই গাঢ় কুয়াশায় ঢেকে গেল একটু আগে কাউন্ট যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল সেখানটা। ওই গাঢ় কুয়াশার ভেতর ছুটে বেড়াচ্ছে দুটো জ্বলন্ত অঙ্গারের মত জ্বলজ্বলে শাল চোখ। এ বীভৎসতা ভয়। দুস্বপ্নেও কল্পনা করা যায় না। ধীরে ধীরে জানালা গলে বেরিয়ে যেতে লাগল কুয়াশার স্তর। কুয়াশার স্তরের পেছনের অংশে যেন ৰূলে থেকে বেরিয়ে গেল চোখ দুটোও। সঙ্গে সঙ্গে একবারের জন্যে শোনা গেল হাজার হাজার নেকড়ের সম্মিলিত ক্রু হিংস্র গর্জন।

চোখের সামনে থেকে বিভীষিকাটা দূর হয়ে যেতেই মিসেস হরকারের বিহানার কাছে ছুটে গেলেন প্রফেসর। ওর গলার ক্ষত দুটোতে হালকা ভাবে আঙুল বোলাতে বোলাতে আস্তে করে ডাকলেন মিসেস হারকারকে। ধীরে ধীরে চোখ মেলে চাইলেন মিসেস হারকার। আমাদের সবাইকে ওর বিছানার পাশে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, এত রাতে আপনারা এখানে কেন?

দুর্ঘটনায় মারা গেছে রেনকি। সবাই আমরা সেখান থেকেই আসছি। ভাবলাম, তুমি যখন রেনফিডের সম্পর্কে আগ্রহ, তোমাকে খবরটা এখনই জানাই,আসল কথা মিসেস হরকারের কাছে ভাঙলেন না প্রফেসর।

আ-হা-হা। তাই নাকি? মরে বেঁচেছে তাহলে লোকটা। আসলে পাগল হলেও সত্যিই ভাল ছিল রেফিন্ড। ওর অকস্মাৎ মৃত্যুতে আন্তরিক দুঃখ হচ্ছে আমার, বলতেই গলার কাছে হাত দিলেন মিসেস হারকার। ক্ষতস্থানে হাত দিয়ে ব্যথা লাগতেই বললেন, উহ! আমার এখানটায় এত ব্যথা করছে কেন? আজ শরীরটাও এত দুর্বল লাগছে কেন?

ও কিছু না। বোধহয় পিপড়ে কামড়েছে গলায়। আর বেশি রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে অমন দুর্বল লাগে সবারই। হয়েহে, ঘুমাও এখন। ভোর হতে দেরি আছে এখনও। বলে মিস্টার হরকারের দিকে ফিরে ফিসফিসিয়ে বললেন প্রফেসর, খবরদার, রাতের বেলা মিসেস হারকারকে একা ফেলে আর যাবে না কোথাও। যাও এখন ওর পাশে শুয়ে পড়গে। আর এই নাও, এটা ওর বালিশের নিচে রেখে দিও, বলে আর একটুকরো ধুনো মিস্টার হরকারের দিকে এগিয়ে দিলেন প্রফেসর।

আজ সকালেই মিনার চেহারা দেখে কেমন যেন সন্দেহ হয়েছিল আমার, প্রফেসর। কিন্তু তখন তেমন গুরুত্ব দিইনি, বললেন মিস্টার হারকার।

তোমাদের এই গুরুত্ব না দেয়াটা কতবড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় বুঝতে পারছো তো এখন? তোমাদের সবাইকে বলহি, আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন প্রফেসর। এখন থেকে যত সামান্যই হোক, কোন কিছু সন্দেহ হলেই আমাকে জানাবে। বুঝেছ?

ঘাড় কাঁত করে আমরা সাড়া দিলাম সবাই।

মিস্টার হারকারকে মিসেসের কাছে রেখে বেরিয়ে এলাম আমরা তিনজনে। বাইরে বেরিয়ে প্রফেসরকে জিজ্ঞেস করলাম, স্যার, মিসেস হারকারকে না জাগালেও তো পারতেন?

পারতাম, কিন্তু লুসির কথা ভুলে গেছ? পিশাচের দ্বারা সম্মোহিত হয়ে মারা গিয়ে পিশাচিনীতে পরিণত হয়েছিল সে। মিসেস হারকারের বেলায়ও তা ঘটতে পারত। তাই তার ঘুম ভাঙিয়ে তাকে সমোহনমুক্ত করে দিলাম। এখন ঈশ্বর না করুন, আরেকবার পিশাচের দ্বারা সমোহিত হবার আগে মারা গেলে আর পিশাচিনীতে পরিণত হবে না মিনা।

প্রফেসরের অসাধারণ সূক্ষ্ম দৃষ্টির তারিফ করলাম মনে মনে। আরেকবার ওই অসাধারণ প্রতিভাবান লোকটার প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে এল আমার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *