১.২ আমি বন্দী

আমি বন্দী। ব্যাপারটা টের পাবার পরপরই একটা প্রচণ্ড ভয় গ্রাস করে ফেলল আমাকে। পাগলের মত সিঁড়ি বেয়ে নামতে শুরু করলাম। হাতের কাছে যে কটা দরজার সন্ধান পেলাম সব কটা ঠেলে বুলে দেখতে লাগলাম। কিন্তু বৃথা। এ দুর্গ থেকে বেরোবার কোন পথ খুঁজে পেলাম না। হঠাৎ মনে হল এভাবে পাগলের মত ছুটাছুটি করে লাভ হবে না। মাথাটা ঠাণ্ডা রেখে ভাবতে হবে, খুঁটিয়ে দেখতে হবে প্রতিটি সম্ভাবনা। একমাত্র তাহলেই মুক্তি পাওয়ার কোন না কোন উপায় বের করে ফেলতে পারব।

এই সময় নিচে সদর দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ শুনে বুঝলাম ফিরে এসেছেন কাউন্ট। দ্রুতপায়ে নিজের ঘরে এসে দেখলাম আমার বিছানা গুছাচ্ছেন তিনি। এ বাড়িতে যে চাকর-বাঁকরের বালাই নেই এটা আরও স্পষ্ট হল আমার কাছে। স্পষ্ট ইতেই আর একটা ভয়ঙ্কর সম্ভানা মাথা চাড়া দিয়ে উঠল মনে। এই দুর্গে যদি আর কেউ না থেকে থাকে তাহলে সেদিন রাতে টমটম চালিয়ে এসেছিল কে? কাউন্ট নিজে? তাই যদি হয় তাহলে তাঁর অঙ্গুলি সঙ্কেতেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল হিংস্র নেকড়ের দল। আতঙ্কে ঘাড়ের কাছটা শিরশির করে উঠল আমার। নিসট্রিজের লোকেরা সেজন্যেই বোধহয় আমার এখানে আসাটা ভাল চোখে দেখছিল না। আর কাউন্টের সম্পর্কে অলৌকিক কোন কথাবার্তা প্রচলিত কয়ই বোধহয় গলা থেকে কুশ খুলে নিয়ে আমার গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন হোটলের সেই ভদ্রমহিলা। আগেও বলেছি, এখনও বলছি, ধর্মের প্রতি কোন দিনই আমার তেমন বিশ্বাস নেই। কিন্তু আজ গলার কুশটা স্পর্শ করে যেন কিছুটা সাহস সঞ্চয় করতে পারছি মনে।

এখন থেকে সতর্ক থাকতে হবে আমাকে। আমি যে বন্দী এবং কোন ব্যাপারে কাউন্টকে সন্দেহ করছি তা তাঁকে জানতে দেয়া যাবে না। যার সম্মুখ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জেনে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে তাঁর আসল পরিচয়।

হঠাৎ মধ্যরাতের প্রহর ঘোষণা করল কয়েকটা শেয়াল আর পেঁচা। এই ভয়ঙ্কর মৃত্যুপুরীতে বসে, মধ্য রাতে শেয়াল আর পেঁচার ডাক হিম করে দেয় বুকের রক্ত। অজানা আতঙ্কে শিউরে শিউরে উঠতে থাকে শরীর।

ঘর পরিষ্কারের কাজ শেষ হলে আমাকে নিয়ে পড়ার ঘরে এসে ঢুকলেন কাউন্ট। একথা-ওকথার মধ্যে দিয়ে ট্রানসিলভেনিয়ার প্রাচীন ইতিহাস এসে পড়ল। যে-ইতিহাস বলতে গিয়ে রীতিমত উদ্দীপ্ত হয়ে উঠলেন কাউন্ট। সে-যুগের প্রত্যেকটি ঘটনা, বিশেষ করে যুদ্ধের বর্ণনা এমন ভাবে দিয়ে গেলেন যেন তিনি নিজে সে-যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দেশের প্রতিটা বীরের সম্মানে সম্মানিত, তাদের গৌরবে তিনি গর্বিত, তাদের দুর্ভাগ্য যেন নিজেরই দুর্ভাগ্য। যখনই ওই মৃত্যুপুরী আর তার মারা যাওয়া লোকদের কথা উঠছে তখনি আমরা জেকলিরা শব্দটা এমনভাবে ব্যবহার করছেন যেন কোন গর্বিত সম্রাট তাঁর বিলুপ্ত বংশ গৌরবের কথা বলছেন। তাঁর প্রাঞ্জল বর্ণনার মধ্যে দিয়ে সমস্ত অতীত ইতিহাসটা চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে ভেসে উঠল আমার। কথা বলতে বলতে ক্রমেই উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন কাউন্ট। শেষ পর্যন্ত আর বসে থাকতে না পেরে উঠে বাড়িয়ে বিশাল গোঁফের দুপ্রান্ত হাতের আঙুলে পাকাতে পাকাতে ঘরের ভেতরেই পায়চারি শুরু করলেন তিনি। তার বর্ণনা করা ইতিহাস লিখতে গেলে পুরো একটা বই হয়ে যাবে, তাই তা আর লিখলাম না। ওদিকে ভোর হয়ে আসছে, মোরগ ডাকার শব্দ তাই প্রমাণ করছে। আশ্চর্য! গত দিনের মতই মোরগ ডাকার শব্দে চমকে উঠে তড়িঘড়ি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন কাউন্ট। কথাটা শুনলে হয়ত হাসবে, মিনা, তবু বলছি, কাউন্টের ব্যবহার হ্যামলেটের পিতার সেই প্রেতাত্মার মতই মনে হচ্ছে আমার কাছে।

১২ মে।

নিজেকে অকারণ দুশ্চিন্তার হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে গতকাল সারাটা দুপুর বই-পত্র ঘেঁটেই কাটিয়েছি। অন্যান্য দিনের মতই সারাদিন কাউন্টের টিকির ধোঁজও পাইনি এবং সন্ধ্যার পর ভূতের মত কোত্থেকে এসে উদয় হয়েছেন তিনি। এসেই জিজ্ঞেস করে বসলেন লণ্ডনের একাধিক আইনজীবীকে আমি তার কাজে নিয়োগ করতে পারি কিনা। বললাম, তা করা যাবে, কিন্তু ঝামেলাই বাড়বে তাতে, কাজের তেমন সুবিধে হবে না। বুঝিয়ে বলতেই আমার সাথে একমত হলেন তিনি। কয়েক মিনিট চুপচাপ কি যেন ভেবে বললেন, ব্যস্ত মানুষ আমি। সবদিক একা সামলে উঠতে পারি না। ধরুন, নিউ ক্যাসেল ডারহাম, হারউইচ বা ডোভারের যে-কোন বন্দরে জাহাজে করে মাল পাঠাতে চাই আমি। কারও হাতে সে-দায়িত্ব দিয়ে কি নিশ্চিন্ত হওয়া সম্ভব? পাওয়া যাবে তেমন কাউকে?

পয়সা দিলেই পাওয়া যাবে। তবে আমার মনে হয় বিদেশী কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যে অঞ্চলে মাল পাঠাবেন সেখানকার কাউকে কাজটা দিলেই ভাল হবে।

আমার নির্দেশ অনুযায়ী চলবে সে?

টাকা পাবে আপনার কাছে, অথচ নির্দেশ মানবে না এটা কোন কথা হল নাকি? সারা জীবন এক দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় একাকী জীবন যাপন করে বাইরের পৃথিবীতে মাল পাঠানর ব্যাপারে উদ্যোগী হচ্ছেন কাউন্ট, ভেবে একটু অবাক লাগল আমার।

আমার উত্তরে খুশি হলেন কাউন্ট। বললেন, ভাল কথা, আপনি নিরাপদে আমার এখানে এসে পৌঁছেছেন, কথাটা আপনার বস মি. হকিন্সকে নিশ্চয়ই জানিয়েছেন?

কি করে জানালাম? এ পর্যন্ত দিন রাতের প্রতিটি মুহূর্ত তো এ প্রাসাদেই কাটালাম।

আমার কথায় একটু ঝাঁঝ টের পেয়ে মাফ চাওয়ার ভঙ্গিতে আমার কাঁধে মৃদু চাপ দিলেন কাউন্ট। বললেন, ঠিক আছে, ঠিক আছে, এক্ষুণি লিখে দিন। লিখে দিন, আরও প্রায় মাসখানেক এখানে থাকছেন আপনি। আগামীকালই চিঠি পাঠাবার ব্যবস্থা করব আমি।

মাসখানেক? আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করলাম।

তাই, মি. হারকার। অবশ্য যদি আপনার বলার কিছু না থাকে। আর থাকলেই বা কি? আমার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রতিনিধি হয়ে এসেছেন আপনি, সেই সুবাদে ইচ্ছে করলে জোর করেও আপনাকে এখানে রেখে দিতে পারি আমি, তাই না?

বুঝলাম, জোর করেও কোন লাভ নেই। আমি যেতে চাইলেও আমাকে যেতে দেবেন না কাউন্ট। কিন্তু তার মতলবটা কি? আমাকে এখানে বন্দী করে রেখে কি লাভ তাঁর? আমি অসহায় এবং কাউন্টের হাতের মুঠোয়, ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই বোধহয় একটা চাপা উল্লাস ফুটে উঠল তাঁর চোখে-মুখে।

পকেট থেকে তিনটে সাদা কাগজ আর তিনটে বাম বের করে আমার দিকে এগিয়ে দিলেন কাউন্ট। সুন্দর বিদেশী স্ট্যাম্প আঁটা খাম। আমি হাত বাড়িয়ে কাগজ আর খামগুলো নিতেই বললেন কাউন্ট, চিঠিতে কুশল সংবাদ এবং বৈষয়িক বিষয় ছাড়া আর কিছু লিখবেন না। আপনি নিরাপদে আছেন জেনে খুব খুশি হবেন মি. হকিন্স, না? কাউন্টের দিকে তাকিয়ে দেখলাম নিঃশব্দ চাপা হাসিতে ভরে গেছে তার মুখ। লাল টুকটুকে ঠোঁটের দু কোণ থেকে তীক্ষ্ণ দাঁত দুটো বেরিয়ে ভয়ঙ্কর কুৎসিত করে তুলেছে সে হাসিকে। হাসির সাহায্যেই বোধহয় আমাকে সাবধান করে দিতে চাইছেন কাউন্ট, বলতে চাইছেন-সাবধান, একটিও আজেবাজে কথা নয়! পরিষ্কার বুঝলাম কোন রকম চালাকি করে লাভ হবে না কিছু।

মিনা, তোমাকে এবং মি. হকিন্সকে দুটো চিঠি লিখে চুপ করে বসে থাকলাম। নিজেও কয়েকটা চিঠি লিখলেন কাউন্ট। চুপচাপ বসে তাই দেখলাম। কাউন্টের লেখা শেষ হলে আমার চিঠি দুটোও তুলে নিলেন তিনি। তারপর লেখার সাজসরঞ্জাম সহ পাশের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলেন। বুঝলাম সরঞ্জামগুলো আমার কাছ থেকে সরিয়ে ফেলছেন। টেবিলের ওপর ভোলা পড়ে থাকা ওঁর চিঠিগুলোয় চট করে চোখ বুলিয়ে নিলাম আমি। চিঠিগুলোর ঠিকানা যথাক্রমেস্যামুয়েল এফ বিলিংটন, ৭নং ক্রিসেন্ট, হইটবি; হের লুটনার, ভার্ণা; কটস অ্যাও কোং, লণ্ডন এবং একজন ব্যাঙ্ক অধিকর্তা হেরে ঢোপক, বুদাপেস্ট। দ্বিতীয় এবং চতুর্থ চিঠির মুখ বন্ধ করা হয়নি। সবে খুলে দেখতে যাব, এমন সময় দেখলাম দরজার হাতল ঘুরছে। চট করে আগের জায়গায় ফিরে এসে বসে পড়লাম। নতুন একটা চিঠি হাতে নিয়ে ঘরে এসে ঢুকলেন কাউন্ট, বোধহয় ও ঘরে বসে লিখে এনেছেন।

টেবিল থেকে চিঠিসুদ্ধ খামগুলো তুলে নিয়ে পাকা হাতে সেগুলোতে ডাক টিকেট লাগালেন কাউন্ট। লাগানো শেষ হলে বললেন, একটা ব্যাপারে কখনও সতর্ক করে দেয়া হয়নি আপনাকে। আপনাকে বার বার অনুরোধ করছি, আপনার নিজের ঘর ছাড়া প্রাসাদের আর কোন ঘরে রাতের বেলা ভুলেও ঘুমাতে যাবেন না। ঘুম পেলেই সোজা, নিজের ঘরে চলে আসবেন। বহু সুখ-দুঃখের স্মৃতি জড়িত একটা অত্যন্ত পুরানো প্রাসাদ এটা। নিজের ঘর ছাড়া অন্য ঘরে ঘুমালে হয়ত ভয়ঙ্কর আর বিশ্রী সব দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পেতে পারেন। তাই আপনাকে সতর্ক করে দেয়া, বলেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন তিনি। তার হেঁয়ালিপূর্ণ কথার অর্থ কিছুই বুঝতে পারলাম না আমি। এখন যে দুঃস্বপ্নের মধ্যে বাস করছি প্রাসাদের অন্য কোন ঘরে কি তার চেয়ে বেশি দুঃস্বপ্ন দেখব?

ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন-আমার মনে হয় আজেবাজে কথা বলে আমাকে ভয় দেখানর চৈষ্টা করেছেন কাউন্ট, আসলে প্রাসাদের যে-কোন ঘরেই নিরাপদে ঘুমাতে পারি আমি। এখন থেকে ঘুমানর আগে কুশটা যত্ন করে বালিশের নিচে রেখে দেব, এতে বোধহয় অলৌকিক কোন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাব আমি।

পড়ার ঘরে একাকী বসে আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে মাঝরাত হয়ে গেল, শেয়াল আর চোর ভৌতিক কশ স্বরে ধ্যান ভাঙল আমার, কাউন্ট চলে গেছেন অনেকক্ষণ। উঠে দাঁড়িয়ে নিজের ঘরে ফিরে এলাম। অখও নিস্তব্ধতা ভেঙে দিয়েছিল শেয়াল আর পেঁচার ডাক। ওরা চুপ করে যেতেই দ্বিগুণ নিস্তব্ধ মনে হল চারদিক।

বিছানায় শুয়ে বেশ কিছুক্ষণ গড়াগড়ি করেও ঘুম এল না। বিরক্ত হয়ে উঠে পড়ে ঘরের বাইরের পাথরের সিঁড়িটার উপর এসে দাঁড়ালাম। দক্ষিণ দিকটা স্পষ্ট দেখা যায় এখান থেকে। আবছা আঁধারে দূরের বিস্তৃত পাহাড়গুলোকে রূপকথার দৈত্যের মত দেখাচ্ছে। ওগুলোর নিচেই গভীর গিরিখাদ আরও রহস্যময় করে তুলেছে পাহাড়গুলোকে। দেখলেই ছমছম করে ওঠে গা। ভয়ঙ্কর সব অলৌকিক কল্পনা ভিড় করে আসে মনে। আমার কোন পাপের শাস্তিস্বরূপ ঈশ্বর আমাকে এই ভয়ঙ্কর মৃত্যুপুরীতে এনে ফেলেছেন বুঝতে পারছি না।

দূরের অপরূপ দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে নানান কথা ভাবছি, এমন সময় মেঘের ফাঁক থেকে বেরিয়ে এল চাঁদ। রূপালী আলোর বন্যায় ভেসে গেল চারদিক। নিমেষে চেহারা বদলে মাথায় রূপোর মুকুট পরে ফেলল দূরের বরফ ছাওয়া পাহাড়চূড়াগুলো। আরও রহস্যময় হয়ে পড়ল ওগুলোর আশপাশের গভীর গিরিখাদ। স্তব্ধ হয়ে প্রকৃতির এই দৃশ্যপট পরিবর্তন দেখছি, হঠাৎ মনে হল নিচের তলায়, বাঁ দিকে, কাউন্টের ঘরের ঠিক জানালার সামনে কি যেন নড়ছে। চট করে একপাশে সরে গিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম সেদিকে।

গরাদশূন্য জানালা গলে আস্তে করে বেরিয়ে এল কাউন্টের মাথাটা। দূর থেকে ওঁর মুখ দেখা না গেলেও চিনতে পারলাম আমি। অবাক লাগল। গভীর রাতে এভাবে জানালা গলে বেরিয়ে আসছেন কেন কাউন্ট? কয়েক মুহূর্ত পরেই আমার অবাক ভাবটা গভীর আতঙ্কে পরিণত হল। বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হল হৃৎপিণ্ডের গতি। জানালা গলে বেরিয়ে এসে নব্বই ডিগ্রী খাড়া মসৃণ দেয়াল বেয়ে টিকটিকির মত এদিকেই উঠে আসছেন কাউন্ট। বাতাসে বিশাল বাদুড়ের ডানার মত উড়ছে কালো আলখাল্লার দুপাশ। ঘুমের ঘোরে দুঃস্বপ্ন দেখছি না তো? জোরে চিমটি কাটলাম গায়ে। ব্যথা লাগল, অর্থাৎ ঘুমোইনি। কাউন্ট কি মানুষরূপী কোন ভয়ঙ্কর প্রেতাত্মা? তাই যদি হয় তাহলে ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতিতে পড়েছি, সন্দেহ নেই। আতঙ্কে চিন্তাশক্তি লোপ পাচ্ছে আমার, টের পাচ্ছি চেতনা হারাতে চলেছি। কিন্তু এ-সময় তো চেতনা হারালে চলবে না…

১৫ মে।

কিছুটা উঠেই থেমে পড়লেন কাউন্ট। কি মনে করে নেমে যেতে শুরু করলেন নিচের দিকে। শখানেক ফুট নেমেই হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলেন তিনি। কোন জানালা গলে বোধহয় ঢুকে পড়েছেন ভেতরে। ভাল করে দেখার জন্যে সামনে বুকে দাঁড়ালাম, কিন্তু এতদূর থেকে বোঝা গেল না কিছু। প্রাসাদ ছেড়ে বোধহয় বাইরে কোথাও গেছেন কাউন্ট। প্রাসাদটা ঘুরে দেখার এই-ই সুযোগ। দ্রুত নিজের ঘরে গিয়ে বাতিটা নিয়ে ফিরে এলাম। তারপর ঘুরে বেড়াতে লাগলাম সিঁড়ি ধরে ধরে। ঢাকা বারান্দা আর ছোট বড় সিঁড়ি বেয়ে অজস্র গলি ঘুপচি পেরিয়ে চললাম। কিন্তু একটা ঘরেও ঢুকতে পারলাম না। সব কটাতে তালা লাগানো। সম্প্রতি লাগানো হয়েছে তালাগুলো, তা একবার পরীক্ষা করেই বুঝতে পারলাম। দুএকটা ছোটখাট কামরা অবশ্য খোলা অবস্থায় পড়ে আছে, কিন্তু তাতে প্রাচীন আমলের জীর্ণ, ধূলি ধূসরিত কিছু আসবাবপত্র ছাড়া আর কিছুই নেই।

হতাশ না হয়ে খুঁজতেই থাকলাম। শেষ পর্যন্ত প্রধান সিঁড়ি ধরে সবচেয়ে ওপরের তলায় উঠে একটা তালা-ছাড়া দরজা খুঁজে পেলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম এটাও বন্ধ, কিন্তু দরজার গায়ে জোরে একটা ধাক্কা দিতেই বেমক্কা ভাবে খুলে গেল দরজার পালা। আসলে এ দরজাটায়ও তালা দেয়া ছিল, কিন্তু কি করে যেন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল প্রাচীন কজা। আমার ধাক্কায় ভেঙে পড়েছে ওগুলো। চাপ দিয়ে দরজার পাল্লাটা আর একটু ফাঁক করে ভেতরে ঢুকে পড়লাম।

প্রাসাদের ডান দিকের একেবারে শেষ প্রান্তে এ ঘরটা। ঘরের বিশাল জানালার সামনে দাঁড়ালে প্রাসাদের দক্ষিণ-পশ্চিমে সারি সারি ঘরগুলো স্পষ্ট দেখা যায়। এ ঘরে দাঁড়িয়ে আরও ভাল মত বুঝতে পারলাম প্রাসাদের অবস্থান। বিশাল একটা পাথুরে পাহাড়ের ঋজ তিন দিক থেকে দুর্ভেদ্য দেয়ালের মত ঘিরে আছে প্রাসাদটাকে। আর এত উঁচুতে অবস্থিত এটা যে নিচ থেকে প্রাচীন কামানের গোলা বোধহয় এর ধারেকাছে ঘেঁষতে পারত না। এবং সেভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছে প্রাসাদের অবস্থান। পশ্চিমের বিস্তীর্ণ উপত্যকার ওপারে, এখান থেকে অনেক অনেক দূরে ধাপে ধাপে উঠে গেছে খাড়া পাহাড়ের চূড়া।

চাঁদনি রাতে প্রকৃতি দেখার জন্যেই যেন তৈরি হয়েছে এ ঘরটা। পর্দাশূন্য জানালার কাঁচের শার্সি ভেদ করে ঘরের মেঝেতে এসে পড়েছে উজ্জ্বল চাঁদের আলো। পুরু ধুলোর আস্তরণ কাঁচের শার্সির স্বচ্ছতাকে স্নান করে দিয়েছে অনেকখানি, তবু চাদের আলোয় আমার হাতের বাতিটাকে হাস্যকর রকম টিম টিমে দেখাচ্ছে।

চারদিকে বিরাজ করছে অখণ্ড নীরবতা। একটানা এই নিস্তব্ধতা পাগল করে দিতে পারে মানুষকে। তবু এই গা শিরশির করা নীরবতা কাউন্টের উপস্থিতির চাইতে অনেক ভাল মনে হল আমার কাছে। জানালার পাশেই চকচকে কালো রঙ করা মেহগনির ছোট্ট একটা টেবিল এবং চেয়ার। ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে বাতিটা নামিয়ে রাখলাম টেবিলের ওপর। তারপর জানালার একপাশের শার্সি খুলে দিয়ে বসে পড়লাম টেবিলের পাশের চেয়ারটায়। হঠাৎ কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া ঝাঁপটা মেরে নিভিয়ে দিয়ে গেল বাতিটাকে। মনে হল শরীরের একটা অঙ্গ বসে পড়ল আমার, এই অলৌকিকতার রাজ্যে যেন বাতিটাই একমাত্র ভরসা ছিল। যদিও আলোর কমতি নেই, তবু বাতিটার দিকে চেয়ে মনটাকে সতেজ রাখতে পারছিলাম।

অল্পক্ষণেই বাতির চিন্তা মুছে গেল মন থেকে। বাইরের অপরূপ সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম। আমি যে চেয়ারে বসে আছি হয়ত এখানে বসেই সামনের টেবিলে কাগজ পেতে প্রিয়তমের কাছে প্রেমের বার্তা পাঠাত কোন সুন্দরী। মিনা, সেই সুন্দরী কি সেদিন ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পেরেছিল, এই চেয়ারে বসেই জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ডায়েরীতে লিখে তার প্রেমিকাকে জানাবার চেষ্টা করবে এক অসহায় অবস্থায় বন্দী হয়ে পড়া প্রেমিক-পুরুষ?

এখনও যে পাগল হয়ে যাইনি, সেজন্যে ঈশ্বরকে অজস্র ধন্যবাদ। সেক্সপীয়রের হ্যামলেট যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে আমার চোখের সামনে। এসব আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ ভীষণ ঘুম পেল আমার। ঘুমে জড়িয়ে আসছে দুচোখ, কিছুতেই খুলে রাখতে পারছি না। এই সময়ই হঠাৎ মনে পড়ে গেল কাউন্টের সতর্কবাণী। কিন্তু পাত্তা দিলাম না। এই পরিবেশে কাউন্টের কোন কথাই মানতে ইচ্ছে হল না আমার। ঘুম আসছে, আসুক। কাউন্টের স্মৃতি জড়ানো আমার ঘরের আবছা অন্ধকারে আর ফিরে যাব না আজ।

চেয়ারটা ছেড়ে ঘরের এক কোণে জানালার দিকে মুখ করে ফেলে রাখা একটা ইজিচেয়ারে এসে শুয়ে পড়লাম। ঘুমিয়েই পড়েছিলাম, হঠাৎ চমকে উঠে চোখ মেলে চাইলাম। অকস্মাৎ কোন অস্বাভাবিকতা ছাপ ফেলেছে আমার অবচেতন মনে। তাইতেই ঘুম ভেঙে গেছে।

টের পাচ্ছি, এখন আর একা নই আমি। আরও উজ্জ্বল হয়ে ঘরময় ছড়িয়ে পড়েছে চাদের আলো। সে-আলোয় মেঝেতে বিছানো ধুলোর ওপর আমার পায়ের ছাপগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। বাঁ পাশে তাকিয়ে দেখলাম কেউ নেই। ডান পাশে তাকাতেই চোখ পড়ল ওদের ওপর। রাজকীয় পোশাক পরা তিনজন সুন্দরী যুবতী বসে আছে তিনটে চেয়ারে। আমাকে চাইতে দেখেই উঠে দাঁড়াল তিন সুন্দরী। নাচের ছন্দে অতি ধীরে এগিয়ে আসতে লাগল আমার দিকে এগোতে এগোতেই ফিসফিস করে কি যেন আলোচনা করছে নিজেদের মধ্যে। তিনজনের মধ্যে দুজনের রঙ একটু চাপা। কাউন্টের মতই খাড়া নাক ওদের, রক্তাভ কিন্তু মর্মভেদী তীক্ষ্ণ চোখ। হলুদ জ্যোৎস্নায় ঝকঝক করে জ্বলছে সে চোখ।

তৃতীয়জন অপূর্ব সুন্দরী। মাথায় সোনালী চুল, হরিণীর মত আয়ত চোখ; এই রমণীকে কোথাও দেখেছি বলে মনে হল আমার। কিন্তু কোথায় তা মনে করতে পারলাম না। হয়ত এ চেহারারই অন্য কোন মেয়েকেও দেখে থাকতে পারি। আমার আর একটু কাছাকাছি এসে একসাথেই ফিক করে হাসল তিনজন। জ্যোৎস্নার আলোয় ঝিকমিক করে উঠল ওদের আশ্চর্য সাদা দাত। লীলায়িত ছন্দে ক্রমেই এগিয়ে আসছে তিন যুবতী। আবার হাসল ওরা। ওদের বক্তলাল ঠোঁটে চুমু খাবার জন্যে ক্রমেই অধীর হয়ে উঠতে লাগলাম। ইচ্ছে করল আলিঙ্গনে আলিঙ্গনে নিষ্পেষিত করে দিই ওদের পেলব কোমল দেহ। মিনা, আমি জানি এসব পড়লে দুঃখ পাবে তুমি, কিন্তু এ নির্মম সত্য এমনভাবে বলতে না পারলে এখনকার আমার মনের সে অনুভূতি পরিষ্কারভাবে প্রকাশ পাবে না তোমার কাছে। আবার একসঙ্গে খিলখিল করে হেসে উঠল তিন যুবতী। হাসিটা কেমন যেন নিষ্প্রাণ মনে হল আমার কাছে। অপূর্ব সুন্দরী ওই যুবতীদের হাসির শব্দে মাধুর্যের লেশমাত্র নেই।

যেমনি শুরু হয়েছিল তেমনি আচমকা থেমে গেল ওদের হাসি। অপেক্ষাকৃত অসুন্দরী মেয়ে দুটো তৃতীয় মেয়েটাকে বলল, তুমিই আগে যাও, সখী। ও তোমারই যোগ্য।

গর্বিত ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল মেয়েটি, ও তরুণ, সুপুরুষ। আমাদের তিনজনকেই সন্তুষ্ট করতে পারবে ও।

তা পারবে। কিন্তু তোমার সাথেই ওকে মানাতে ভাল। অতএব আগে তুমিই যাও।

ওদের কথাবার্তা শুনে ভয়ে, আশঙ্কায় কেঁপে উঠল আমার সমস্ত শরীর। ধীরে অতি ধীরে এগিয়ে এসে আমার ওপর ঝুঁকে দাঁড়াল মেয়েটি। কাঁধের কাছে স্পষ্ট অনুভব করলাম আশ্চর্য মিষ্টি উষ্ণ একটা স্পর্শ। উত্তপ্ত হয়ে দ্বিগুণ বেগে বইতে শুরু করল শরীরের রক্ত স্রোত। চোখ দুটো আধবোজা হয়ে এসেছে, মোহগ্রস্তের মত চেয়ে থাকলাম তরুণীর দিকে।

মেঝের ওপর হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল তরুণী। পেলব দুই বাহু দিয়ে মালার মত জড়িয়ে ধরল আমার গলা। কিন্তু আমার মনে হল বিশাল একটা সাপ আমার গলা পেঁচিয়ে ধরে ক্রমশ শ্বাসরুদ্ধ করে মারতে যাচ্ছে আমাকে। তীব্র কামনায় হাঁ হয়ে গেছে মেয়েটির মুখ। টুকটুকে লাল ঠোঁটের ফাঁক থেকে বেরিয়ে এসেছে তীক্ষ্ণ সাদা দাঁত। উজ্জ্বল চাঁদের আলোয় এত কাছে থেকে পরিষ্কার দেখলাম কাউন্টের মত ওরও ঠোঁটের দুপাশ থেকে বেরিয়ে আছে দুটো তীক্ষ্ণ দাঁত। বুঝতে পারছি কিছু একটা করা উচিত, কিন্তু প্রচণ্ড অবসাদে চোখের পাতাও নড়াতে পারছি না। স্বপ্নের জগতে বাস করছি যেন আমি।

অতি ধীরে মেয়েটার মুখটা নেমে এল আমার মুখের কাছে, ঠোঁট দুটো আমার দুঠোঁটের ওপর। এ তো কামনা মত্ত কোন রূপসীর প্রণয় চুম্বন নয়! মনে হচ্ছে, কোন অজানা দানব দুঠোঁট দিয়ে চেপে ধরে ছিঁড়ে নিতে চাইছে আমার ঠোঁট দুটো। কয়েক মুহূর্ত পর ওর ঠোঁট দুটো আমার চিবুক বেয়ে পিছলে নেমে চলল গলার কাছে। আগুনের মত তপ্ত নিঃশ্বাসে গলার চামড়া ঝলসে দিতে দিতে আমার রক্তনালী খুঁজতে শুরু করল মেয়েটার মুখ। একসময় রক্তনালী খুঁজে পেল সে। একমুহূর্ত দ্বিধা করেই দাঁত বসিয়ে দিতে লাগল সেখানে। কি ঘটতে চলেছে বুঝতে পারছি, কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। আমার হাত-পা দড়ি দিয়ে যেন আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে কেউ। এক ভয়ঙ্কর পিশাচিনীর হাতে কি আজই আমার জীবনের শেষ? আমার শরীরের সব রক্ত শুষে নিয়ে ছিবড়ে বানিয়ে ফেলে রেখে যাবে ওরা? আতঙ্কে দুপদাপ লাফাতে লাফাতে বুক ফেটে বেরিয়ে আসতে চাইছে হৃৎপিণ্ডটা। তীক্ষ্ণ দাতগুলো আরও, আরও বসে যাচ্ছে আমার ঘাড়ের পাশে রক্তনালীতে। এখুনি ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটবে।

ঠিক সেই মুহূর্তে ঝড়ের মত ঘরে প্রবেশ করল কেউ। প্রচণ্ড এক দমকা হাওয়া যেন ঝাঁপটা দিয়ে গেল আমার শরীরে। চোখ তুলে চেয়ে দেখলাম সুন্দরী মেয়েটার ঠিক পেছনেই এসে দাঁড়িয়েছেন কাউন্ট। বলিষ্ঠ হাতে রূপসীর গলাটা পেছন থেকে চেপে ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন পেছনে সমস্ত লাবণ্য মুছে গেছে রূপসীর মুখ থেকে। তীব্র আক্রোশে সাপের মত হিস হিস করে ফুসছে সে।

ক্রোধে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে কাউন্টের চেহারা। দুটো জ্বলন্ত রুবীর মত লাগছে ওর চোখ দুটো। থমথমে মুখটা দেখে ওঁকে মানুষ বলে মনে হল না আমার কাছে। নরক থেকে যেন উঠে এসেছে সাক্ষাৎ শয়তান। কাউন্টের সে চেহারা জীবনে ভুলব না আমি।

আমার কাছ থেকে সুন্দরী মেয়েটাকে সরিয়ে নিয়েই ঘরের কোণে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন কাউন্ট, একটা বাচ্চা যেন ছুঁড়ে ফেলে দিল একটা খেলার পুতুল। তারপর ঘুড়ে দাঁড়ালেন অন্য মেয়ে দুটোর দিকে। সেদিন অন্ধকার রাতে প্রাসাদে আসার সময় এমনিভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে দেখেছিলাম কোচোয়ানকে। ক্রমশ আমার বিশ্বাস দৃঢ় হচ্ছে, সেই কোচোয়ান কাউন্ট ছাড়া আর কেউ নয়। 

মেয়ে দুটোর দিকে চেয়েই বাঘের মত হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন কাউন্ট, হারামজাদীরা, সেদিন থেকেই না বলছি ও আমার, ওর ধারেকাছে আসবি না কেউ কখনও? কানে যায় না কথা? ফের যদি আমার আদেশ অমান্য করেছিস, সারা জীবন মাথা নিচু করে ওই পাহাড়ের চূড়ায় ঝুলিয়ে রাখব। এখন ভাগ এখান থেকে।

কাউন্টের হুমকিতে বিন্দুমাত্র ভয় পেল না সুন্দরী মেয়েটি। খিল খিল করে হেসে বলল সে, আমরা তো তোমার শিকারের কোন ক্ষতি করতে আসিনি, ওর সাথে একটু প্রেম করতে এসেছিলাম মাত্র।  

সুন্দরীর কথায় সাহস ফিরে পেল বাকি দুজন, হেসে উঠল ওরাও। বলল, হাসালে, সুন্দরী, কাউন্টের কাছে প্রেমের কথা বলহ? প্রেমের কি বোঝে কাউন্ট? জীবনে প্রেম করেছে সে কখনও?

চোখের কোণ দিয়ে আমার দিকে একবার চাইলেন কাউন্ট। তারপর বললেন, করিনি? মনে থাকে না তাদের কিছু?

থাকে না আবার! ট্রিপের ভঙ্গিতে কথাটা বলেই আবার হেসে উঠল সুন্দরী মেয়েটি।

হয়েছে হয়েছে।একটু যেন অপ্রস্তুত মনে হল কাউন্টকে। ওদের সান্ত্বনা দেবার সুরে বললেন, আগে আমার কাজ শেষ করি, তারপর সবাই মিলে চুটিয়ে প্রেম করিস ওর সাথে।

সে না হয় করব, কিন্তু এখন যে বড্ড খিদে পেয়েছে। খাবার এনেছ কিছু? প্রশ্ন করল অপেক্ষাকৃত কম সুন্দরী দুজনের একজন।

এই যে, বলে মেঝে থেকে একটা পোটলা তুলে মেয়েগুলোর দিকে ছুঁড়ে দিলেন কাউন্ট।

পোঁটলাটা শুন্য থেকেই লুফে নিল একটা মেয়ে। সাথেসাথেই পোঁটলার ভেতর থেকে এল মানব শিশুর কান্না। ভুল শুনলাম? নাকি এত কাণ্ডের পর পাগল হয়ে গেছি আমি? প্রচণ্ড আতঙ্কে অভিভূত হয়ে তাকিয়ে থাকলাম মেয়েগুলোর দিকে। পোঁটলাটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে হুড়োহুড়ি লাগিয়েছে ওরা। আবার পোটলার ভেতর থেকে কেঁদে উঠল বাচ্চাটা। আধশোয়া অবস্থা থেকে ওঠার চেষ্টা করলাম, কিন্তু জোর পেলাম না পায়ে। আমার ওঠার আগেই পোটলা সুদ্ধ শিশুটাকে নিয়ে জানালা গলে উধাও হয়ে গেল তিন ডাইনী। পলকের জন্যে চোখে পড়ল উজ্জ্বল জ্যোৎস্নায় গা ভাসিয়ে উড়ে গেল ওরা আকাশে।

ঠিক সেই মুহূর্তে চেতনা হারালাম আমি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *