১.০৮ সামান্যতম আওয়াজ না করে

সামান্যতম আওয়াজ না করে পানির উপর ভেসে উঠল মসৃণ, কালো মাথা। আকারে বেশ বড়, দেখলে অস্বস্তি হয়। মাথার দুপাশে নিপ্রাণ কুচকুচে কালো দুটো চোখ, একটু সামনে ভোঁতা নাক। প্রাণীটা পুলের ভিতর কিছুক্ষণ স্থির থাকল, একটু পর তার পাশে দেখা দিল আরেকটা কালো মাথা। কৌতূহল নিয়ে ই-ডেকের ব্যস্ততা দেখছে দুই দানব।

উইলকক্স আইস স্টেশনের পুলে এই দুই কিলার ওয়েইল আসলে ছোট স্পেসিমেন। যদিও, প্রতিটির ওজন কমপক্ষে পাঁচ টন। দৈর্ঘ্যে লেজ থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত কমবেশি পনেরো ফুট।

একটু দূরে ধাতব ডেকে কী যেন করছে দু পেয়ে প্রাণীগুলো, কৌতূহল মিটে যেতেই, নিস্পৃহ চোখে চারপাশ দেখল দুই তিমি। গোলাকার পুলের কিনারা ধরে ঘুরতে শুরু করল। একটু পর পর পুলের মাঝে ডাইভিং বেল ঘিরে চক্কর কাটছে।

রানার নির্দেশে ডাইভিং সুট পরছে ডুবুরিরা।

তিমি দুটোর নড়াচড়া খুবই নিয়ন্ত্রিত, পুলের কিনারা ধরে ঘুরছে। একটা এক দিকে চাইলে, অন্যটা উল্টো দিক দেখছে। ভাব দেখে মনে হয় কী যেন খুঁজছে তারা।

ওরা খাপ পেতে আছে লিলির জন্য, সি-ডেকের ক্যাটওয়াক থেকে দুই তিমি দেখছে মেরি। নির্বিকার এবং ঠাণ্ডা কণ্ঠ শুনে মনেই হয় না আসলে ও বারো বছরের কিশোরী।

প্রায় দুঘণ্টা হলো ওর দল নিয়ে উইলকক্স আইস স্টেশনে এসেছে রানা। আপাতত আছে ই-ডেকে, ওর দলের ডুবুরিরা ডগলাস মওসন ডাইভিং বেল নিয়ে ডুব দেবে জন প্রাইস ও অন্যদের খোঁজে।

সি-ডেক থেকে রানা ও ডুবুরিদের দিকে চেয়ে ছিল মেরি, এমন সময় পুলের ভিতর দেখা দিয়েছে দুই কিলার ওয়েইল। মেরির পাশে উইঞ্চ কন্ট্রোলে কাজ করছে দুজন।

এদেরকে পছন্দ করে মেরি। অন্যদের মত বয়স্ক নয়, কিছু জানতে চাইলে হুঁ-হাঁ করে না, সব ভাল করে বুঝিয়ে দেয়। মেরি খুশি যে এদের দুজনের একজন মেয়ে।

লেফটেন্যান্ট তিশা করিম ছিপছিপে, সুন্দরী, দেখলে মনে হয় এমপি-৫ অস্ত্রটা ওর হাতের বাড়তি অংশ হয়ে উঠেছে। হেলমেটের নীচে চকচকে কালো দীর্ঘ চুল। মিষ্টি মুখটা দেখলে মনেই হয় না কঠোর হতে জানে। বয়স মাত্র তেইশ বছর। বাংলাদেশ আর্মির যুবক অফিসাররা ওর নাম দিয়েছে: বিদুষী। কোনও প্রেমাকাতক্ষী অফিসার এক পা সামনে বাড়লে তাকে ভাল ব্যবহারে দশ গজ পিছিয়ে দেয় তিশা। আপাতত নীচের পুলে দুই তিমির চক্কর কাটা দেখছে ও।

ওরা লিলির জন্য অপেক্ষা করছে? চট করে ক্যাটওয়াকে চোখ ফেলল তিশা। ওর পাশেই আছে গেযেলা সিল। অস্বস্তি বোধ করে ক্যাটওয়াকের কিনারা থেকে সরে গেল ওটা। মনে হলো ভয় পাচ্ছে: চল্লিশ ফুট নীচ থেকে উঠে আসবে দুই খুনি তিমি।

ওরা লিলিকে পছন্দ করে না, বলল মেরি।

কারণটা কী? জানতে চাইল তিশা।

ওরা একাকী, তার উপর তরুণ বয়সী, বলল মেরি। ওরা কাউকে পছন্দ করে না। ওদের যেন প্রমাণ দিতে হবে ওরা অন্যদের চেয়ে আকারে অনেক বড়। ছেলেরা এমনই তো হয়। কিলার ওয়েইলগুলো এমনিতেই কমবয়সী কাঁকড়া-খেকোদের ধরে খায়। কিন্তু এই দুটো কয়েকদিন আগে পুলের ভিতর লিলিকে সাঁতার কাটতে দেখেছে, তারপর থেকে বারবার ঘুরে ঘুরে আসছে।

কাঁকড়া-খেকো বলতে কী বোঝাচ্ছ? উইঞ্চ কন্ট্রোল থেকে জানতে চাইল টনিকেলগ।

এক ধরনের সিল, বলল মেরি। বেশ বড় আর মোটা। ওদেরকে তিন কামড়ে খেয়ে ফেলে কিলার ওয়েইলরা।

আস্ত সিল মাছ খেয়ে ফেলে? অবাক হয়ে জানতে চাইল টনি।

হ্যাঁ, মাথা দোলাল মেরি।

বাপরে! আগে হাইস্কুলের ছাত্র ছিল টনি, কোনও দিন ওর মনে হয়নি বই পড়া উচিত। স্কুল জীবনটা খুব কষ্টে কেটেছে। আর্মিতে যোগ দেয়ার পর ওর মনে হয়েছে কাজের কাজ করেছে, আর কখনও পড়াশোনা করতে হবে না। লিলির উপর চোখ রাখল টনি, আঁচ করছে সিলের আকার ও বয়স। তুমি এত কিছু জানলে কী করে, মেরি?

সচেতন ভাবে শ্রাগ করল মেরি। আমি অনেক বই পড়ি।

ও।

টনির দিকে চেয়ে হাসছে তিশা।

ভুরু কুঁচকে ওকে দেখল টনি। অত হাসছেন কেন?

ভাবছি তুমি মোট কয়টা বই পড়েছ।

অনেক, মাথা দোলাল টনি।

তাই? হ্যাঁ।

কমিকের বই, টনি?

আমি শুধু কমিকের বই পড়ি না, মাঝে মাঝে প্রেমের বইও পড়ি।

হাসতে শুরু করেছে মেরিও।

কুচকুচে কালো টনি খেয়াল করেছে মেরির হাসি, ভুরু আরও কুঁচকে ফেলল সে। হা-হা করার কিছু নেই। জানি কখনও কলেজের প্রফেসর হব না, তা হলে বেশি বই পড়তে যাব কেন! তিশা এখনও হাসছে, ওর দিকে চেয়ে ডান ভুরু নাচাল টনি। আপনি বুঝি খুব বই পড়েন?

না, কিন্তু তোমার চেয়ে বেশি।

আমিও পড়ি, বলল টনি। বইয়ের মতই মানুষের মন পড়তে পারি। আপনি যার জন্য জান দিতে চান, সে যে কে, তা-ও বুঝে ফেলেছি। 

তিশার চোখের পাতা বার কয়েক কাপল! চোখের ভাষা হয়ে উঠল বিমর্ষ। ঘুরে তিমিগুলোর দিকে চাইল।

একবার ওকে দেখে নিল মেরি। ইতস্তত করে জানতে চাইল, আমি কি জানতে পারি আপনার সেই মানুষটা কে?

না, আসলে কেউ নেই, পুলের দিকে চেয়ে রইল তিশা।

আমাদের দলে দেখতে সবচেয়ে সুন্দর যে পুরুষ, তাকে খুঁজে পেলেই বুঝবে সে কে, বলল টনি।

রেলিঙে কনুই রেখে কিলার ওয়েইল দেখছে তিশা, ঠিক করেছে পাত্তা দেবে না এদেরকে। স্টেশনের ভিতর চক্কর কাটছে দুই তিমি, এখনও খুঁজে চলেছে লিলিকে। একবার থমকে গেল একটা তিমি, মনে হলো দেখছে তিশাকে। তারপর এক পাশে মাথা সরাল ওটা, আরও মনোেযোগ দিয়ে চাইল।

ওরা এত দূর থেকে পরিষ্কার দেখে? মেরির কাছে জানতে চাইল তিশা। আমি তো জানতাম পানি থেকে চোখ তুললে তিমির দৃষ্টি অস্বচ্ছ হয়ে ওঠে।

অন্য সব তিমির চেয়ে কিলার ওয়েইলের চোখ অনেক বড় আর পরিষ্কার, বলল মেরি। পানি থেকে উঠলেও ভাল দেখে। …আপনি ওদের সম্পর্কে আর কিছু জানেন?

কিছু বই পড়েছি, অল্প-স্বল্প জানি ওদের বিষয়ে, কিলার ওয়েইলের দিকে চেয়ে আছে তিশা।

পুলের কিনারা দিয়ে ঘুরছে দুই তিমি। ওরা যেন পানির ভিতর টর্পেডো। ধৈর্যের অভাব নেই, শান্ত-শিষ্ট ভঙ্গি। নীচের ডেকে রানা ও অন্যদেরকে দেখছে তিশা। আবার চাইল পুলের দিকে, সাঁতার কেটে চলেছে দুই তিমি। মেরির কাছে জানতে চাইল, ভিতরে কীভাবে ঢুকল? বরফের শেলফের নীচ দিয়ে?

উপর-নীচ মাথা দোলাল মেরি। হ্যাঁ। এই স্টেশন তো সাগর থেকে মাত্র এক শ গজ দূরে। আর বরফের শেলফ খুব গভীরও নয়, বড়জোর পাঁচ শ ফুট। শেলফের নীচ দিয়ে আসে ওরা, এখানে এসে ভেসে ওঠে স্টেশনের ভেতর।

পুলের আরেক দিকে চলে গেছে দুই তিমি, ওগুলোর দিকে আবারও চাইল তিশা। ওগুলোর ভঙ্গি খুব শান্ত, যেন দুই কুমির অপেক্ষা করছে শিকার ধরবার জন্য।

চারপাশ দেখা শেষে খুব ধীরে ডুবে গেল তিমি দুটো। পানিতে তৈরি হলো ছোট দুটো ঢেউ। চোখ খুলে রেখেছে তিমিদুটো, চেয়ে আছে উপরের দিকে।

ওরা হঠাৎ করেই বিদায় নিচ্ছে, মন্তব্য করল তিশা।

ডাইভিং প্ল্যাটফর্মের পাশে পুল এখন খালি। দক্ষিণের সুড়ঙ্গ থেকে সার্জেন্ট জনি ওয়াকারকে বেরিয়ে আসতে দেখল তিশা। লোকটার কাঁধের উপর কয়েকটা স্কুবা : ট্যাঙ্ক। নিনা ভিসার ওদেরকে জানিয়েছে, দক্ষিণ সুড়ঙ্গে ছোট একটা মালবাহী এলিভেটার আছে, ওটা দিয়ে ই-ডেকে নামানো যায় ডাইভিং গিয়ার। ওই লিফট ব্যবহার করেছে ওয়াকার।

প্ল্যাটফর্মের আরেক দিকে চোখ গেল তিশার। ওখানে মাথা ঝুঁকিয়ে কী যেন করছে মাসুদ রানা। ডান হাত রেখেছে কানের উপর। যেন হেলমেট ইন্টারকমে কিছু শুনছে। তারপর হঠাৎ করেই কাছের একটা রাং-মইয়ের দিকে রওনা হলো সে। হাঁটতে হাঁটতে হেলমেট মাইকে কী যেন বলছে।

স্টেশনের আরেক প্রান্তে রাং-ল্যাডারের কাছে থেমে চট করে তিশার দিকে চাইল। খড়খড় আওয়াজের ভিতর দিয়ে মানুষটার কণ্ঠ শুনল তিশা: তিশা, টনি, এ-ডেকে ওঠো। জলদি।

কাছের রাং-ল্যাডারের দিকে রওনা হলো তিশা, হেলমেট মাইকে বলল, কী হয়েছে, স্যর?

খুব গম্ভীর কণ্ঠে রানা বলল, বাইরে ট্রিপ-ওয়ায়ারে ছেদ পড়েছে। সার্জেন্ট ভাইপার ওখানে আছে। এইমাত্র বলল, ওটা একটা ফ্রেঞ্চ হোভারক্রাফট।

.

হোভারক্রাফটের দিকে রাইফেলের মাযল ঘোরাল সার্জেন্ট ভাইপার?

নাইট-ভিশন গান সাইটে উজ্জ্বল সবুজ আলোয় দেখা গেল ভেহিকেলের এক পাশে লেখা: ডুমো ডিখ-ঈলেখ – ০২।

স্টেশনের কমপ্লেক্সের বাইরে তুষারের উপর শুয়ে আছে পল সিংগার। শাশা হাওয়া বইছে, সেই সঙ্গে ঝড়ের ভিতর উড়ছে সাদা তুষার। সার্জেন্ট তার ব্যারেট এম৮২১এ স্নাইপার রাইফেলের নল তাক করেছে হোভারক্রাফটের উপর।

গানারি সার্জেন্ট বয়স্ক লোক, বেশ লম্বা-চওড়া, কালো চোখদুটোর চাহনি খুবই গম্ভীর। .তার ইউনিটের মেরিনদের মত নয় সে, নিজ ইউনিফর্মে পরিবর্তন এনেছে। শোল্ডারপ্লেটের উপর ভয়ঙ্কর হিংস্র এক ভাইপার সাপের উল্কি আঁকা। নীচে লেখা: যদি পারো তো চুমু দাও।

পল সিংগার ক্যারিয়ার সোলজার, বাইশ বছর মেরিন কর্পসের সঙ্গে আছে। সাধে গানারি সার্জেন্ট হয়নি। মেরিনদের নন-কমিশন্ড অফিসারদের এই র্যাঙ্ক খুব অল্প লোক অর্জন  করেছে। সিংগারের পক্ষে সহজেই উচ্চ পদে যাওয়া সম্ভব ছিল, কিন্তু সে ঠিক করেছে, তার জন্য গানারি সার্জেন্ট পদ যথেষ্ট। নিজ ইচ্ছাতেই মেরিন ফোর্সের রিকনিসেন্স ইউনিটে রয়ে গেছে।  রিকনিসেন্স ইউনিটগুলোর ভিতর র্যাঙ্ক নিয়ে বাড়াবাড়ি নেই। এই দলে যোগ দেয়া খুব কঠিন, এসব যোদ্ধাদের সমান সম্মান পায় না বহু অফিসার। অনেক সময়েই দেখা যায় চারতারা জেনারেল সিনিয়র রিকন সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করছেন যুদ্ধের কৌশল ও অস্ত্রের বিষয়ে। বেশ কয়েকবার সিংগারের কাছেও এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছেন জেনারেলরা। রিকনিসেন্সের বেশির ভাগ যোদ্ধা সার্জেন্ট বা কর্পোরাল, কিন্তু। এই দলে পদ নিয়ে মাতামাতি নেই। এটাই যথেষ্ট যে তারা : রিকন, ইউনাইটেড স্টেটসের মেরিন কর্পস–এলিট ফোর্স। ওটাই পদ হিসাবে যথেষ্ট।

উইলকক্স আইস স্টেশনে পৌঁছবার পর স্টেশনের ওদিকে তুষার-প্রান্তরে দুই শ গজ দূরে সার্জেন্ট ভাইপারকে লেসার ট্রিপ-ওয়ায়ার বসানোর দায়িত্ব দিয়েছে রানা। আসলে হোভারক্রাফটের রেঞ্জফাইণ্ডারের মত করেই কাজ করে ট্রিপওয়ায়ার। বাক্সের মত কয়েকটা ইউনিট, সেসবের ভিতর দিয়ে চলে সরু অদৃশ্য লেসার বিম। কোনও কিছু ওই বিম ভেদ করে এলে সিংগারের বাহুর গার্ডে জ্বলে উঠবার কথা লাল বাতি।

এ ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।

এরপর দেরি না করে এ-ডেকে মাসুদ রানাকে রেডিয়ো করেছে সিংগার। তখনই দেখে আসতে বলেছে রানা। এমনও হতে পারে, দলবল নিয়ে ফিরছে সার্জেন্ট হোসেন আরাফাত দবির। তাকে দুঘণ্টার ভিতর ফিরতে বলেছে রানা। আর সে সময়ও প্রায় ফুরিয়ে এল। দুঘণ্টা হলো উইলকক্ট আইস স্টেশনে পৌঁছেছে রানা ওর দল নিয়ে। এখন যে-কোনও সময়ে এসে যাবে সার্জেন্ট দবির।

কিন্তু যে বা যারা আসছে, তারা দবির নয়।

সার্জেন্টের হেলমেট ইন্টারকমে শোনা গেল রানার কণ্ঠ: সার্জেন্ট সিংগার, ওটা কোথায়?

দক্ষিণ-পূর্ব কোণে। বাইরের দালানগুলোর পাশ দিয়ে আসছে। সিংগার দেখছে, তুষারে ছাওয়া ঘোট সব দালানের মাঝ দিয়ে খুব ধীরে সামনে বাড়ছে হোভারক্রাফট।

আপনি কোথায়? তুষার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে জানতে চাইল সে। রাইফেল হাতে মূল গম্বুজের দিকে ছুটতে শুরু করেছে।

সদর দরজার আগে, বলল রানা। পিছন থেকে কাভার পজিশনে থাকুন।

আমি প্রায় পৌঁছে গেছি ওখানে।

আকাশ থেকে কাত হয়ে পড়ছে ঘন তুষার, চোখ চলে না বেশি দূর। খুব সাবধানে আসছে হোভারক্রাফট। এক শ গজ তফাৎ রেখে ওটার সঙ্গে ছুটছে ভাইপার। প্রধান গম্বুজের কাছে থামল ভেহিকেল। বেশিরভাগ বাতাস বেরিয়ে যেতেই নিচু হয়ে গেল হোভারক্রাফট। চল্লিশ গজ দূরে তুষারের ভিতর শুয়ে পড়ল সার্জেন্ট সিংগার, গাড়ির দরজার উপর স্নাইপার রাইফেল তাক করেছে।

টেলিস্কোপে চোখ রেখেছে, এমনি সময় হোভারক্রাফটের স্লাইডিং দরজা খুলে গেল, টপাটপ চারজন লোক নেমে পড়ল তুষার-ঝড়ের ভিতর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *