১৯. বন্ধ দরজায় মৃদু করাঘাত

সেদিনই সন্ধ্যা।

বন্ধ দরজায় মৃদু করাঘাত শুনতে পেলো রেবেকা।

যদি বন্ধু হন, নির্ভয়ে ভেতরে আসুন, বললো ও। আর যদি শক্ত হন, আপনাকে বাধা দেয়ার ক্ষমতা তো আমার নেই।

আমি তোমার শত্রু কি বন্ধু এখনই ঠিক হবে, বলতে বলতে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো টেম্পলার ব্রায়ান।

তাকে দেখেই রেবেকা জড়সড় হয়ে ঘরের এক কোণে গিয়ে দাঁড়ালো।

আমাকে দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই রেবেকা, বললো ব্রায়ান। অন্তত এখানে নেই। তুমি ডাকলেই রক্ষীরা ছুটে আসবে।

না, আপনাকে আমার আর ভয় নেই, বললো রেবেকা। ঈশ্বর আমাকে নির্ভয় হওয়ার শক্তি দিয়েছেন। কিন্তু, আবার কেন আমাকে বিরক্ত করতে এসেছেন? আপনার যা বলার তাড়াতাড়ি বলে বিদায় নিন।

আমি তোমাকে বিরক্ত করতে বা তোমার সাথে তর্ক করতে আসিনি, রেবেকা। শুধু জানাতে এসেছি চ্যাম্পিয়ন দাবি করার কাগজটা কে তোমাকে দিয়েছিলো?–এই আমি।

তাতে কয়েকটা দিন সময় পাওয়া গেছে শুধু। তার বেশি আর কি হয়েছে?

না, রেবেকা, সত্যিই আমি তোমাকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, আমিই তোমার চ্যাম্পিয়ন হবো। আমার সঙ্গে এখানকার কেউই কয়েক মিনিটের বেশি টিকতে পারতো না। নিশ্চয়ই আমি জয়ী হতাম, আর তাহলে তুমি নির্দোষ তা প্রমাণ হয়ে যেতো। কিন্তু গ্র্যান্ড মাস্টার সব মাটি করে দিলেন। আমাকে তিনি নির্বাচিত করলেন মঠের পক্ষ থেকে লড়বার জন্যে।

আর আপনি তা নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিলেন! এরকমই তো বাঁচাতে চেয়েছিলেন। এখন যদি আমার পক্ষে কোনো নাইট লড়তে রাজি হন, আপনি প্রাণপণে চেষ্টা করবেন তাকে পরাজিত করার। তবু ভান করছেন, আপনি আমার বন্ধু, আমাকে বাঁচাতে এসেছেন!

হ্যাঁ, এখনও আমি তোমার বন্ধু হতে পারি, তোমাকে বাঁচাতে পারি। কিন্তু সেজন্যে ভয়ানক মূল্য দিতে হবে আমাকে। সে মূল্য আমি দেবো কি তা নির্ভর করছে তোমার সিদ্ধান্তের ওপর।

আমার সিদ্ধান্তের ওপর?

হ্যাঁ, সম্পূর্ণ তোমার সিদ্ধান্তের ওপর। তুমি যদি বলো, আমি লড়বো না মঠের হয়ে। তাহলে অবশ্য নাইট বলে আর নিজের পরিচয় দিতে পারবো না, জীবন কাটাতে হবে অপমানের বোঝা মাথায় নিয়ে। কিন্তু তাতেও আমি রাজি, শুধু একবার তুমি বলো, আমাকে ভালোবাসো।

পাগলামি ছাড়ন, টেম্পলার। সত্যি সত্যিই যদি আমাকে বাঁচানোর ইচ্ছা থাকে, রিচার্ডের কাছে গিয়ে আমার কথা বলুন। শুনেছি তিনি নাকি দেশে ফিরেছেন। তিনিই এই অন্যায়ের প্রতিকার করবেন।

সব যদি আমাকে ছাড়তেই হয়, একমাত্র তোমার কথায় ছাড়বে। রিচার্ডের দয়া ভিক্ষা করতে যাবো না।

তাহলে ঈশ্বরের যা ইচ্ছা তা-ই হবে। মানুষের কাছ থেকে আর কোনো সাহায্যের আশা আমি করি না।

ভাঙবে তবু মচকাবে না! বিদ্রুপের সুরে বললো বোয়া-গিলবার্ট। ঠিক আছে, রেবেকা, আমি তাহলে যাই। একটা কথা মনে রেখো, লড়তেই যদি হয়, আমি প্রাণ দিয়ে লড়বো। এবং ফলাফল কি হবে তা তুমি জানো।

জানি। এবার আপনি আসুন। খামোকা কথা বাড়িয়ে লাভ নেই।

তাহলে এভাবেই আমাদের বিদায় নিতে হবে? তোমাকে কেন যে আমি দেখেছিলাম। আর যদি দেখলামই কেন তুমি ইহুদী না হয়ে খ্রীষ্টান্ত হলে না!…আমাকে ক্ষমা করো, রেবেকা!

নিহত মানুষ তার আততায়ীকে যতটা ক্ষমা করতে পারে, সর্বান্তঃকরণে তাই করছি।

বিদায় রেবেকা? ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল ব্রায়ান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *