পরদিন সকালে আবার হলিউডে রওনা হল দুই গোয়েন্দা, কিশোর আর মুসা। রবিন আসতে পারেনি। কাজের চাপ বেশি। লাইব্রেরিতে চলে গেছে।

প্যাসিফিক স্টুডিওর ফটকে এসে থামল রোলস রয়েস। আজ আর কোন অসুবিধে হল না। কেরি ওয়াইল্ডার জানে ওরা আসছে, জানিয়ে রেখেছে। গার্ডকে। খুলে গেল দরজা। ভেতরে ঢুকে পড়ল। রোলস রয়েস।

কয়েক মিনিট পরেই মিস্টার ক্রিস্টোফারের অফিসে এসে ঢুকল দুই গোয়েন্দা।

এসে গেছ। বস, ভারি গলা পরিচালকের, তারপর? কি খবর?

ভূতুড়ে বাড়ি খুঁজে পেয়েছি, স্যার, বসতে বসতে বলল কিশোর।

তাই নাকি? ভুরু কোঁচকালেন পরিচালক। কি ধরনের ভূত?

ধরন ঠিক করা কঠিন, বলল কিশোর। আসলে ভূতুড়ে করে। রেখেছিলেন একজন মানুষ। মরা নয়, জ্যান্ত।

তাই মজার ব্যাপার! চেয়ারে হেলান দিলেন মিস্টার ক্রিস্টোফার। খুলে বল তো, সব।

চুপচাপ সব শুনলেন পরিচালক। তারপর বললেন, জন ফিলবি বেঁচে আছে জেনে ভালই লাগছে। এককালের মস্ত অভিনেতা, কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু একটা ব্যাপার তো বললে না। নার্ভাস করত কি করে লোককে?

গতরাতে মিস্টার ফিলবির ওখান থেকে ফিরে অনেক ভেবেছি, স্যার। শেষে বুঝে ফেলেছি ব্যাপারটা। পাইপ অর্গান।

পাইপ অর্গান!

হ্যাঁ, স্যার। চাচার বুক শেলফে অর্গানের ওপর একটা বই আছে। এক জায়গায় লেখা আছেঃ সাবসোনিক ভাইব্রেশন অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া করে মানুষের স্নায়ুর ওপর। এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। প্ৰথমে অস্বস্তি বোধ শুরু হয়। বাড়তে থকে অস্বস্তি, তারপর ভয়, এবং সব শেষে আতঙ্কিত করে তোলে।

বুদ্ধি আছে লোকটার! বললেন পরিচালক, কিন্তু ভূতুড়ে ক্যাসলের ভূতকে লোকের সামনে বের করে আনাটা কি উচিত হবে? একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে ফিলবি।

এখন একমাত্র আপনিই বাঁচাতে পারেন ওঁকে, বলল কিশোর।

আমি?

হ্যাঁ, স্যার, আপনি। ওঁর সমস্ত নির্বাক ছবিকে সবাক করে তুলতে পারেন। কণ্ঠ উনিই দিতে পারবেন। এখন। গলায় আর কোন দোষ নেই। প্রচুর আয় হবে। ক্যাসলটা আবার কিনে নিতে পারবেন মিস্টার ফিলবি। এতদিন ভূত সেজে মানুষকে কি করে ভয় দেখিয়েছিলেন, প্ৰকাশিত হবে। খবরের কাগজে। লোকে দেখতে আসবে। টেরর ক্যাসল। ভেতরের অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানা পয়সার বিনিময়ে দেখাতে পারবেন। তিনি। বেশ ভালই আয় হবে ওখান থেকেও। মস্ত বড় একটা প্ৰতিভাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল লোকে, না বুঝে। এতগুলো বছরে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। তাঁর, তবে আপনি সাহায্য করলে পুষিয়ে নিতে পারবেন কিছুটা।

হুম্‌ম্‌ম্‌! হালকা পাতলা ছেলেটার দিকে চেয়ে আছেন মিস্টার ক্রিস্টোফার। তোমার অনুরোধ আমি রাখব, কিশোর পাশা, কথা দিলাম।

থ্যাঙ্ক ইউ, স্যার, থ্যাঙ্ক ইউ খুশি হয়ে উঠল। কিশোর। মিস্টার ফিলবির অভিনীত ছবিগুলো এবার দেখতে পাব।

হ্যাঁ, এবার দেখতে পাব, বলল পাশে বসা মুসা।

হ্যাঁ, ভাল কথা, অনেক খোঁজ-খবর করেছি আমি, বললেন মিস্টার ক্রিস্টোফার। কিন্তু সত্যি সত্যি কোন ভূতুড়ে বাড়ি নেই কোথাও। গুজব থাকে, ভূত আছে ভূত আছে। কিন্তু ভালমত খোঁজখবর করলেই বেরিয়ে পড়ে অন্য কিছু। যাই হোক, ওই প্রোজেক্ট বাদ দিতে হচ্ছে আমার।

তাহলে কি… সামনে ঝুঁকল কিশোর।

হাত তুললেন মিস্টার ক্রিস্টোফার। আগে শোন সব কথা। কথা দিয়েছিলাম, তোমাদের নাম প্রচার করব। ব্যবস্থাটা আসলে তোমরাই করে দিলে। চমৎকার এক গল্প হবে, সত্যি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে। টেলিভিশনের জন্য যদি একটা ফিল্ম তৈরি করি? নাম দিইঃ মিস্টার ফিলবি অভ টেরর ক্যাসল, কেমন হয়?

প্রায় লাফিয়ে উঠল কিশোর আর মুসা। হাততালি দিয়ে উঠল। চেঁচিয়ে উঠল, খুব ভাল হয়, স্যার, খুব ভাল!

হ্যাঁ, আরেকটা ব্যাপার। তোমাদের মাঝে সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। আমি। গোয়েন্দা হিসেবে ভালই নাম করতে পারবে। চালিয়ে যাও। দরকার হলে আমিও সাহায্য করব তোমাদের।

খুশিতে ধেই ধেই করে লাফানো বাকি রাখল শুধু দুই গোয়েন্দা।

কিশোর বলল, আমরা যাই, স্যার। রবিনকে খবরটা দিতে হবে।

ঘর থেকে প্রায় ছুটে বেরিয়ে এল দুই কিশোর। পেছনে তাকালে, দেখতে পেত, সারাক্ষণ সদা-গম্ভীর চিত্র-পরিচালকের মাঝেও সংক্রমিত হয়েছে তাদের আনন্দ। কুৎসিত ঠোঁটে ফুটেছে নিষ্পাপ। সুন্দর এক চিলতে হাসি।