কি ভীষণ বিপদে পড়েছে, বুঝতে অসুবিধে হল না দুই গোয়েন্দার।

ভাবছে। রবিন, ঠিকই অনুমান করেছে কিশোর। কঙ্কাল দ্বীপের ওই পুরানো গুহাতেই লুকানো আছে টাকাগুলো। কিন্তু দুই ফিশারের সঙ্গে জিমেরও যোগসাজশ আছে, একথা কিশোরও কল্পনা করেনি। আজ রাতেই টাকা নিতে আসবে দুই ডাকাত, এটাও ভাবেনি। আগামী কাল ভোর থেকেই শুরু হবে গুপ্তধন খোঁজা, নিশ্চয় ঘোষণা করা হয়েছে রেডিওতে। দ্বীপের কোন জায়গা খোঁজা বাদ রাখবে না ওরা। কেউ না। কেউ আবিষ্কার করে ফেলবে টাকার থলেগুলো। তাই, বুকি নিয়েও চলে এসেছে ওরা। টাকাগুলো বের করে নিয়ে যাবার জন্যে। যাবার আগে ওকে আর মুসাকে…

আর ভাবতে চাইল না রবিন। চারদিক নীরব নিঃশব্দ। কানে আসছে। শুধু নৌকার গায়ে ঢেউয়ের বাড়ি লাগার মৃদু ছলছলাৎ।

হঠাৎ আরেকটা শব্দ কানে এলো রবিনের। খুবই মৃদু। বোটের সঙ্গে কিছুর ঘষা লেগেছে, আলতো করে একবার দুলে উঠল। চোখের কোণ দিয়ে দেখতে পেল সে, বোটের ধারে একটা মাথা। আবছা।

অতি সাবধানে উঠতে লাগল। মাথাটা। গলা দেখা গেল. কাঁধ. বোটের ভেতরে চলে এলো সে। হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে এলো। উঁকি দিয়ে তাকাল একবার তীরের দিকে। আবার মাথা নামাল। রবিন আর মুসার পাশে এসে থামল।

এক মুহূর্ত ঘন ঘন শ্বাস ফেলার শব্দ কানে এলো রবিনের। কানের কাছে ফিসফিস করে উঠল একটা কণ্ঠ, চুপ! আমি পাপালো!

পাপালো! ও কি করে এলো এখানো অবাক হয়ে গেল দুই গোয়েন্দা। ওর তো এখন জেলে থাকার কথা!

কিছু একটা বলতে চেষ্টা করল রবিন, গোঙানির শব্দ হল।

চুপ! আবার বলল পাপলো। কোন কথা নয়। ছুরি দিয়ে বাঁধন কাটতে লাগল পাপালো। মাত্র কয়েক সেকেন্ড, কিন্তু রবিনের মনে হল। কয়েক যুগ পেরিয়ে যাচ্ছে।

কাটা হয়ে গেল বাঁধন। মাথাতুলতে গেল মুসা। হাত দিয়ে চেপে নামিয়ে দিল পাপালো। ফিসফিস করে বলল, খবরদার, দেখে ফেলবো পেছনের দিকে এগোও। পানিতে নামতে হবে।

হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গেল মুসা। তার পেছনে রবিন। সবার পেছনে পাপালো।

নেমে পড়া বলল পাপালো। খুব সাবধান! কোন শব্দ যেন না হয়! হালের দন্ডটা ধরে থাকবে। আমি আসছি।

হাজারো প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে মনে, পরে জিজ্ঞেস করবে। পাপালোকে। আস্তে করে নেমে এলো রবিন। শব্দ হল অতি সামান্য, ঢেউয়ের ছলছলাৎ ঢেকে দিল সে শব্দ।

রবিনের পর পরই নামল মুসা। চলে এলো পেছনে। রবিন ধরে রেখেছে হালের দন্ড। সে-ও এসে ধরল।

খাইছে! রবিনের কাছে মুখ এনে বলল মুসা। ও এলো কি করে!

জানি না! তবে এসে পড়ায় বেঁচে গেলাম বোধহয়া ফিসফিস করে বলল রবিন।

বান মাছের মত পিছলে পানিতে নামল পাপালো। নিঃশব্দে। দুই গোয়েন্দার কাছে চলে এলো। এসো আমার সঙ্গে। খুব সাবধানে সাঁতরাবো কোন আওয়াজ যেন না হয়।

তীরের ধার ধরে সাঁতরে চলল পাপালো, নিঃশব্দে। তাকে অনুসরণ করল। দুই গোয়েন্দা। রবিন ভাবছে, জ্যাকেট আর প্যান্ট খুলে নিতে পারলে ভাল হত।

কালো পানি। আবছা কালো তিনটে মাথা, ভাল করে খেয়াল না। করলে দেখাই যায় না। কোনরকম শব্দও করল না ওরা। মিনিট দশেক পরে একটা জায়গায় এসে পৌঁছুল। সাগরের দিকে সামান্য ঠেলে বেরিয়ে আছে এখানে সৈকত। ওটা ঘুরে আরেক পাশে চলে এলো। বোটটা আর দেখা যাচ্ছে না। জিম রিভানের দৃষ্টির বাইরে চলে এসেছে ওরা।

তীরের দিকে ফিরে সাঁতরাতে শুরু করল পাপালো। অনুসরণ করল। দুই গোয়েন্দা।

বালিতে ঢাকা সৈকত নেই এখানে। পানির ওপর নেমে এসেছে ঝোপ ঝাড় আর ছোট ছোট গাছ। একটা শেকড় ধরে উঠে গেল পাপালো। এগিয়ে গিয়ে থামল দুটো বড় পাথরের মাঝে। মুখ বের করে উঁকি দিল। তার পাশে এসে বসেছে দুই গোয়েন্দা। ওরাও উঁকি দিল।

প্রায় তিনশো ফুট দূরে মোটর বোটটা। তারার আলোয় আবছা। জিম রিভানের মূর্তিটা আরও কাছে।

এবার কথা বলতে পারি, নিচু গলায় বলল পাপালো। আমাদেরকে দেখতে পাবে না ওরা।

এখানে এলে কি করে? একই সঙ্গে প্রশ্ন করল দুই গোয়েন্দা।

মুখ টিপে হাসল পাপালো। তোমাদের সঙ্গে কথা বলে শিওর হয়ে এসেছেন হোভারসন, আমি চোর নই। কাজ শেষ করে ফিরে এসেছেন। তখন জিজ সাহেব। নিজের পকেট থেকে জামিনের পঞ্চাশ ডলার দিয়ে দিয়েছেন চীফ। জামিন হয়েছে হাক স্টিভেন। হাজত থেকে বাড়ি নিয়ে গেলেন। আমাকে হোভারসন। খাওয়ালেন। তারপর ছাড়লেন।

কিন্তু এখানে এলে কি করে? কি করে জানলে আমরা এখানে এসেছি? জিজ্ঞেস করল রবিন।

সোজা বাসায় চলে গেলাম, বলল পাপলো। বাবাকে যতটা খারাপ অবস্থায় দেখব ভেবেছিলাম, তত খারাপ নয়। পড়শি এক মহিলা দেখাশোনা করেছেন। বেরিয়ে এলাম। বাইরে। সাগরের দিকে চেয়ে বসে ভাবতে লাগলাম। ছুরিটা ট্রেলারে গেল কি করে? আমাকে চোর বানানোর জন্যে কেউ একজন ফেলে রেখেছিল ওখানে ছুরিটা, কে? ছুরিটা হারিয়েছি। পরশু, যেদিন গুহায় ঢুকেছিলাম। জিম রিভান তাড়া করল, পালালাম। তার পর থেকেই আর পাইনি ছুরিটা। তারমানে তাড়াহুড়োয় খেয়াল করিনি, ওটা রেখেই পালিয়েছিলাম। এরপর একটা মাত্র লোকের হাতেই পড়তে পারে জিনিসটা, জিম রিভান। তার পক্ষেই ট্রেলারে ঢোকা সহজ, অবশ্যই দরজা দিয়ে। লেন্স চুরি করা সহজ। ট্রেলারের জানালা ওই ভেঙেছে, ছুরিটা ফেলে রেখেছে মেঝেতে। ব্যাটার ওপর চোখ রাখা দরকার মনে করলাম। ঘাটে বাঁধা একটা নৌকা চুরি করে নিয়ে চলে এলাম দ্বীপে। থামল সে। তারপর বলল, নৌকাটা একটা ঝোপের ধারে বেঁধে রেখে চলে গেলাম ক্যাম্পের কাছে। পার্কের দিকে এগোতে দেখলাম জিমকে। পিছু নিলাম। পার্কের পরে ছোট একটা জংলা পেরিয়ে সৈকতে বেরোল সে। দূরে একটা মোটর বোট দেখলাম। হাতের টর্চ সেদিকে করে তিনবার জ্বালাল-নেভাল জিম। তীরে এসে ভিড়ল বোট। তাজ্জব হয়ে দেখলাম, নামল। দুই ভাই, ডিক আর বাড ফিশার।

মুসার দিকে ফিরল পাপালো। হাসল। দাঁড় খুব ভাল টানতে পাের। না তুমি, মুসা। ছপাৎ ছপাৎ শব্দ হচ্ছিল। লুকিয়ে পড়ল তিনজনে। তোমাদের তীরে ওঠার অপেক্ষায় রইল। তারপর আর কি? বোকার মত

সত্যি, তুমি না এলে প্ৰাণেই মারা পড়তাম আজ। পাপালোর কাঁধে। হাত রাখল। রবিন।

শ শ শ ঠোঁটে আঙুল রাখল পাপালো। ফিশার ব্যাটারা আসছে। দুটো মূর্তি এগিয়ে এসে দাঁড়াল জিমের কাছে। দুজনের হাতে দুটো বড় প্যাকেট, দশ লক্ষ ডলার।

সব ঠিক আছে? স্পষ্ট ভেসে এল ডিকের গলা। কোন গোলমাল নেই তো?

না, গোলমাল নেই, জবাব দিল জিম। শোন, আমার ভাগের টাকাটা দিয়ে দাও।

পরে, বলল বাড ফিশার। বোটে উঠে দেব। ডিক, জলদি করা। চল উঠে পড়ি।

পথ রোধ করে দাঁড়িয়ে আছে জিম। ধাক্কা দিয়ে তাকে সরিয়ে দিল। বাড। এগিয়ে গেল বোটের দিকে।

বোটে উঠে পড়ল দুই ভাই।

আরে! চেঁচিয়ে উঠল বাড। বিচ্ছু দুটো কোথায়! জিম, তুমি ছেড়ে দিয়েছ ওদেরকে।

আমি ছাড়িনি! রেগে গিয়ে বলল জিম। যাবে কোথায়? আছে, দেখ!

নেই। কর্কশ গলা বাডের।

কই, দেখি, বলতে বলতে এগিয়ে এলো জিম। আলো ফেলল। বোটে। আরে, সত্যিই নেই দেখছি! গেল কোথায়! এক চুল নড়িনি। আমি জায়গা ছেড়ে।

দেখি, প্যাকেটটা দাও, হাত বাড়াল ডিক। জলদি নেমে গিয়ে ধাক্কা দাও। এখুনি পালাতে হবে।

কিন্তু আমার ভাগ? বলল জিম। দুটো বছর অপেক্ষা করেছি। পুরো দশ লাখ পেলেও আমার হাতের দাম হবে না। সেটা না হয় না-ই বললাম। তোমরা তো পালাবে, আমি যাব কোথায়? ছেলে দুটো পালিয়েছে। গিয়ে বলে দেবে সব। জেলে যাব তো!

সেটা তোমার ব্যাপার, হাত নেড়ে বলল ডিক। বাড, ধাক্কা দাও। সটাটারে চাপ দিল সে।

ধাক্কা দিতে গিয়েও থেমে গেল বাড। গায়ে ওপর ঘেষে এসেছে জিম। খবরদারা প্যাকেট দুটো দিতে বল ডিককে। নইলে…

ব্যাডা শোনা গেল ডিকের আতঙ্কিত চিৎকার। বাড, স্টার্ট নিচ্ছে না! জিম, ইঞ্জিনের কি করেছ?

আমি কিছু করিনি, জবাব দিল গার্ড।

ইঞ্জিন তো স্টার্ট নিচ্ছে না, এখন কি করব?

সেটা তোমাদের ব্যাপার। প্যাকেট দুটো দাও, জলদি!

আবার চেষ্টা করল ডিক, আবার, কিন্তু সন্টার্ট হল না ইঞ্জিন। অবাক হয়ে দেখল দুই গোয়েন্দা, নীরব হাসিতে ফেটে পড়ছে পাপালো।

কি হল! ফিসফিস করে বলল রবিন।

স্পার্কিং প্ল্যাগের তার ছিড়ে ফেলে দিয়েছি, বলল পাপালো। হারামজাদারা! এবার যাও! পালাও! ওই হারামির বাচ্চা ডিকই আমার নৌকা ভেঙেছে। ওই বোট দিয়েই। এইবার পেয়েছি কায়দায়। চল, ক্যাম্পে গিয়ে লোক ডেকে আনি।

উঠতে যাবে, এমন সময় কানে এলো ইঞ্জিনের শব্দ। বসে পড়ল আবার পাপালো, দ্বীপের দিকেই এগিয়ে আসছে একটা বড় মোটর লঞ্চ।

কাছে এসে গেল লঞ্চ। আলো জ্বলে উঠল, সার্চ লাইট। সোজা এসে পড়ল ফিসারদের বোটের ওপর।

এক লাফে বোট থেকে নেমে এলো ডিক। ছুটল। হকচকিয়ে গেল জিম। এই সুযোগে থাবা মেরে তার হাতের রিভলভার ফেলে দিল বাড। ভাইয়ের পেছনে ছুটল সে-ও।

আরে! বলে উঠল পাপালো। ব্যাটারা এদিকেই আসছে। দাঁড়াও, দেখাচ্ছি মজা! দ্রুত হামাগুড়ি দিয়ে সামনে এগোল সে।

কাছে এসে গেল ডিক। আর দুকদম ফেললেই ঝোপ পেরিয়ে যাবে। ঠিক তার পেছনেই রয়েছে বাড।

দাঁড়িয়ে উঠে হঠাৎ সামনে পা বাড়িয়ে দিল পাপালো। হোঁচট খেল ডিক। হুমড়ি খেয়ে পড়ল মাটিতে। ভাইয়ের গায়ে হোঁচট খেল বাড। পড়ে গেল সে-ও।

ডিকের ওপর গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো পাপালো। একনাগাড়ে কিল ঘুষি মারতে লাগল। চেঁচাতে লাগল, হারামজাদা! আমাকে হাজতে পাঠিয়েছিলি! ডাকাতের বাচ্চা ডাকাত! চোর বানিয়েছিলি আমাকে…

উঠে দাঁড়াল বাড। পাপালোর চুল ধরে হ্যাঁচকা টানে সরিয়ে আনল ভাইয়ের ওপর থেকে। চিত করে শুইয়ে ফেলল। পাথরে জোরে ঠুকে দিল মাথা। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পা তুলল পাপালোর বুক সই করে।

মাথা নুইয়ে ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের মত ছুটে গেলো মুসা। নিগ্রোর খুলি কতখানি শক্ত, তলপেটে অনুভব করল বাড। হুকক করে একটা শব্দ বেরোল মুখ থেকে। চিত হয়ে পড়ে গেল। তার ওপর পড়ল মুসা।

চার হাত-পায়ে ভর দিয়ে উঠতে গেল ডিক, পারল না। পিঠের ওপর লাফিয়ে এসে বসেছে রবিন। আবার হাত-পা ছড়িয়ে উপুড় হয়ে পড়ে গেল সে।

ঝাড়া দিয়ে গায়ের ওপর থেকে মুসাকে ফেলে দিল বাড। উঠে দাঁড়াল হাঁচড়ে-পাঁচড়ে। এই সময় এসে পড়ল জিম। জ্যাকেটের কলার চেপে ধরে সোজা করল বাডকে। ঠেলে নিয়ে চলল। সামনের দিকে। ষাঁড়ের জোর তার গায়ে। ওর এক হাতের সঙ্গেই পেরে উঠল না বাড।

ঠেলে বাডকে পানির ধারে নিয়ে চলল জিম। আমার সঙ্গে চালাকি দেখাচ্ছি। মজা!

বাডকে নিয়ে পানিতে পড়ল জিম। কোমর পানি। উঠে দাঁড়াল আবার। মাথা তুলল বাড। জ্যাকেটের কলার এখনও জিমের হাতে।

বাডকে ঠিকমত দম নিতে দিল না জিম। চুবাতে লাগল। একনাগাড়ে। রাগে পাগল হয়ে উঠছে সে। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।

রবিনকে গায়ের ওপর থেকে ফেলে দিয়ে উঠে দাঁড়াতে গেল ডিক। এবারেও পারল না। প্রায় এক সঙ্গে এসে হাজির হয়েছে মুসা আর পাপালো। দুহাতে ডিকের দুপা ধরে উচু করে ফেলল মুসা। টান দিল। হাত বাড়িয়ে একটা ছোট গাছের গোড়া ধরে ফেলল। ডিক। লাথি মেরে হাতটা সরিয়ে দিল পাপালো। এ হারামজাদাকেও পানিতে ফেল!

তিন কিশোরের সঙ্গে পেরে উঠলো না ডিক। হিড়হিড় করে টেনে তাকে পানির ধারে নিয়ে এলো ওরা।

বাডকে ছাড়ছে না। জিম। চোবাচ্ছে এখনও। মেরেই ফেলবে যেন। তার পাশেই ডিককে নিয়ে এসে পড়ল তিন কিশোর।

বাডকে ছেড়ে দিয়েই ডিকের ঘাড় চেপে ধরল জিম। তাকে চুবাতে শুরু করল।

হয়েছে ছাড়া শোনা গেল একটা গম্ভীর আদেশ। মেরে ফেলবে তো!

চমকে ফিরে চাইল তিন কিশোর। তাদের পেছনে কয়েক হাত দূরে এসে গেছে দুটো নৌকা। একটা নৌকায় দাঁড়িয়ে আছেন পুলিশ চীফ হোভারসন। এক হাতে রিভলভার, আরেক হাতে টর্চ।

ছাড়া আবার আদেশ দিলেন হোভারসন। এই জিম শুনতে পাচ্ছ।

ডিককে ছেড়ে দিল জিম। সরে যাবার তাল করছিল বাড, তাকে চেপে ধরল। দিল আরেক চুবানি।

হয়েছে হয়েছে। মেরে ফেলবে, ছেড়ে দাও! বললেন পুলিশ চীফ।

দুই ডাকাত আর জিমকে টেনে ডাঙায় তুলল। কয়েকজন পুলিশ। হাতকড়া পরিয়ে দিল।

ধপাস করে মাটিতে বসে পড়ল দুই ফিশার। প্রচুর মার খেয়েছে। দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি নেই।

তিন কিশোরের ওপর আলো ফেললেন হোভারসন। একটা কাজের কাজ করেছ তোমরা। পাপু, তুমি এখানে এলে কি করে?

প্ৰশংসা সব ওরই পাওয়া উচিত, চীফ, পাপালো কিছু বলার আগেই বলে উঠল রবিন। ও না এলে আমাকে আর মুসাকে মেরে পানিতে ফেলে দিত ডাকাতগুলো। কিন্তু আপনি এলেন কেন? আজি রাতেই ব্যাটারা টাকা নিতে আসবে জানতেন?

না, মাথা নাড়লেন হোভারসন। ব্যাটারা স্কেলিটন আইল্যান্ডে টাকা লুকিয়ে রেখেছে, কল্পনাই করিনি কখনও! কিশোর, তোমাদের বন্ধু কিশোর পাশা… মিনিট চল্লিশেক আগে ঝড়ের বেগে এসে ঢুকাল থানায়। অদ্ভুত এক গল্প শোনাল। বলল, ফিশার ব্যাটাদের বমল ধরতে হলে এখুনি যান। এমনভাবে বলল, ওর কথা বিশ্বাস না করে পারলাম না। তাড়াতাড়ি লঞ্চ নিয়ে ছুটে এলাম।

কিশোর কোথায়? জিজ্ঞেস করল মুসা।

লঞ্চে, বললেন চীফ। জোর করে রেখে এসেছি। গোলাগুলি চলতে পারে, তাই আনিনি।

Share This