কিশোরের চিৎকারে ফিরে তাকাল মুসা। বরফে ঢাকা ঢাল বেয়ে গড়িয়ে পড়তে দেখল কিশোরকে। থাবা দিয়ে ধরে ফেলল ওর বাঁ পায়ের গোড়ালি। কিশোরের ওজন ওকেও নীচে টেনে নিয়ে যেতে চাইছে। বুটের ডগা তুষারে গেঁথে ফেলে নিজের পতন ঠেকানোর চেষ্টা করল। পারল না। পড়ে যেতে শুরু করল সে-ও কিশোরের সঙ্গে।

তিরিশ ফুট নীচের পাথরে পড়লে কী ঘটবে আর ভাবতে চাইল না। মরিয়া হয়ে পা দিয়ে কিছু একটা আঁকড়ে ধরতে চাইছে। পা ঠেকল একটা সিডারের চারায়। ছোট্ট ওই গাছটাকেই পা দিয়ে পেঁচিয়ে ধরল। ভারের চোটে বাঁকা হয়ে গেল গাছ। তবু শিকড় উপড়াল না।

ঝুলে থাকো, মুসা বলল। একটুও নড়বে না। আমি তোমাকে টেনে তুলছি।

ডান হাতে কিশোরের গোড়ালি ধরে আছে ও। গাছের চারায় পা আটকে নিয়ে বাঁ হাতটাও বাড়িয়ে দিল। দুই হাতে এখন কিশোরের গোড়ালি ধরল। এক হাতের ওপর চাপ কিছুটা কমল। পেটের পেশীকে ব্যবহার করে ইঞ্চি ইঞ্চি করে পিছাতে শুরু করল ও। সঙ্গে কিশোরকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ডান পা উঁচু করল কিশোর এক হাতে বা পাটা ধরে রেখে অন্য হাতে কিশোরের ডান পাটাও ধরল মুসা। ধীরে ধীরে টেনে তুলে আনতে লাগল কিশোরকে। বরফে ঢাকা দেয়ালের কিনারে আঙুল বাধানোর অবিরাম চেষ্টা চালাচ্ছে কিশোর। সুবিধে করতে পারছে না।

অবশেষে বহু কসরত করে ওকে আগের জায়গায় নিয়ে এল মুসা। বরফের ওপর চিত হয়ে শুয়ে পড়ল দুজনে। ভয়ানক পরিশ্রমে হাঁপাচ্ছে।

গেছিলাম আজ! হাঁপাচ্ছে কিশোর।

হ্যাঁ, মুসাও হাঁপাচ্ছে। লুক মেঝেতে কী ফেলেছেন?

জানি না। তোমার কোন অসুবিধে হচ্ছে না তো?

না। উঠে দাঁড়াল মুসা। চলো, কাছে গিয়ে দেখি।

সাবধানে ঢাল বেয়ে নামতে শুরু করল দুজনে।

চলে গেছেন লুক। কেবিনে ঢুকল ওরা। মেঝেতে একটা হাতুড়ি পড়ে থাকতে দেখে তুলে নিল কিশোর। হাতলে খোদাই করা দুটো ইংরেজি অক্ষর: টি এফ।

টি এফ, আনমনে বলল ও। টেক্স ফেরানির নামের আদ্যাক্ষর।

নিজে জুতো চুরি করে ঘরে গোল্ডের হাতুড়িটা ফেলে গেছেন লুক, যাতে দোষটা গোল্ডের ঘাড়ে গিয়ে পড়ে, কিশোর বলল। কেবিনটা কার জানতে পারলে ভাল হতো।

নিশ্চয় এমন কেউ, যে থিম পার্কের বিপক্ষে।

হ্যাঁ!

তারমানে লুকই অপরাধী! বিশ্বাস হতে চাইছে না মুসার। এখন বুঝলাম, ফিশহুইলের কাছে কেন গিয়েছিলেন তিনি। আমরা সময়মত চলে গিয়েছিলাম বলে রক্ষে, নইলে ওটাও যেত। নষ্ট করে দিতেন। সর্বনাশ হয়ে যেত জো বেচারার। এখন বোেঝা গেল, নৌকার তলাও লুকই ফুটো করেছেন। রাত দুপুরে নিজের বাড়িতে ইলেকট্রিক করাত চালিয়ে রেখে গিয়েছিলেন, যাতে ওই শব্দে গজালের ওপর হাতুড়ি পিটানোর শব্দ চাপা পড়ে যায়। কেবিনে থেকে মহিলা তাই শুধু করাতের শব্দই শুনেছিল।

কিন্তু তাঁকে ধরার মত কোনও প্রমাণ নেই আমাদের কাছে, নীচের ঠোট কামড়াল কিশোর। জুতো চুরি করতে দেখলেও হাতেনাতে ধরতে না পারলে তার মত প্রভাবশালী টাকাওয়ালা একজন মানুষকে জেলে পাঠানো কঠিন। শুধু আমাদের মুখের কথায় হবে না।

কী করা যায় বলো তো?

চিবুকে টোকা দিল কিশোর। একটা বুদ্ধি আসতে আরম্ভ করেছে মাথায়। দেখি, আরেকটু ভাবি।

অ্যাসেম্বলি হলে ফিরে এল ওরা। পটল্যাচ শেষ। লোকজন চলে যেতে শুরু করেছে। ইলকিস বিগ আছে এখনও। ওকে একপাশে ডেকে নিয়ে এল কিশোর। নিচুস্বরে বলল, আপনার সঙ্গে কথা আছে। এখানে বলা যাবে না।

দীর্ঘ একটা মুহূর্ত কিশোরের দিকে তাকিয়ে থেকে মাথা ঝাঁকাল বিগস। ঠিক আছে, আমার কেবিনে চলো।

কেবিনে ঢুকে কিশোর বলল, আপনি জানেন, গ্লিটারে গত কয়েক দিন ঘরে যে সব দুর্ঘটনা ঘটছে, তার জন্য আপনাকে আর আপনার কোম্পানিকে দায়ী করছে লোকে?

অন্যায় করছে, বিগ বলল। আমি কিছু করিনি। আমার কোম্পানি কিছুই জানে না।

আপনার কোম্পানির কোন দুর্নাম নেই, খবর নিয়েছি আমরা। তবে টাকার টানাটানিতে আছে। যা-ই হোক, আমরা আপনাকে দোষী ভাবছি না। গ্লিটারবাসীর কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার একটা সুযোগ আপনাকে দিতে পারি। তাতে আপনার লাভই হবে। অপরাধীকে ধরতে আমাদের সাহায্য করুন।

কিন্তু তোমরা তো ছেলেমানুষ…

বয়েস কম বলতে পারেন। তাতে কী? আরও অনেক কম বয়েস থেকেই গোয়েন্দার কাজ করছি আমরা, শখের গোয়েন্দা। অনেক জটিল কেসের সমাধান করেছি। পুলিশকে অপরাধী ধরতে সাহায্য করেছি। বিশ্বাস না হলে জোসিকে জিজ্ঞেস করুন। সে সব জানে।

জোসি ভাল ছেলে, চিন্তিত ভঙ্গিতে ঠোট কামড়াল বিস্। পরিবারটাও খুব ভাল, যদিও আমাদের থিম পার্কের বিপক্ষে। তবে বিরোধিতা করলেই মানুষ খারাপ হয় না। যাই হোক, আমিও এ সব দুর্ঘটনা বন্ধ করতে চাই। বদনাম হয়ে গেলে আমার ক্যারিয়ার শেষ।

মুসার দিকে তাকাল কিশোর। স্বস্তি বোধ করছে। অপরাধীকে ধরতে বিগস্ সাহায্য করতে রাজি না হলে ওকে সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দিতে পারত না। লুক আর বিগস যুক্তি করে দুর্ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে, এই ভাবনাটা জোরাল হতো।

চলুন এখন, অপরাধীকে ধরতে যাই, মুসা বলল।

হাঁ হয়ে গেল বিগস্। কে অপরাধী, জানো নাকি?

মাথা ঝাঁকাল মুসা। লুক স্টার্লিং।

কী বলছ? চেঁচিয়ে উঠল বিগস্।

বিশ্বাস করলেন না তো?

না, করেছি। ওর যা টাকার লোভ, ওকে দিয়ে সব সম্ভব এখানকার হস্তশিল্পের বাজারটাকে ও কোণঠাসা করে ফেলেছে। মানুষকে বাকিতে জিনিস দেয়, কেউ কিছু চাইলে কখনও না করে না, যে যা চায় দিয়ে দেয়। ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে। তারপর সুযোগ বুঝে চাপে ফেলে ঋণ শোধ করার নামে খুব কম দামে ওদের ঠকিয়ে দামি দামি জিনিসগুলো আদায় করে নেয়। এভাবে প্রচুর জিনিস জমিয়েছে। সেগুলো যে কোন মিউজিয়ামের কাছে চড়া দামে বেচতে পারবে।

কিন্তু বিক্রি করবেন না, কিশোর বলল। তার উদ্দেশ্য এখন আমার কাছে পরিষ্কার। মানুষকে হ্যাঁ ভোটে বাধ্য করার জন্য রাজ্যের শয়তানি করে বেড়াচ্ছেন তিনি। জো সারটনের মত দিন-আনা দিন-খাওয়া মানুষগুলোর সহায়-সম্বল ধ্বংস করে দিয়ে ওদের অসহায় করে ফেলতে চাইছেন, যাতে টাকার অভাবে থিম পার্কের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য হয় ওরা। গ্লিটারে থিম পার্ক হলে সবচেয়ে বেশি লাভ তার। টুরিস্টদের কাছে জিনিস বিক্রি করবেন। যত ইচ্ছে দাম নেবেন। গ্লিটারে আর কোন দোকান নেই, ভবিষ্যতেও বসতে দেবেন না–একচেটিয়া ব্যবসা করবেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে ঠকিয়ে নেয়া অ্যান্টিক দেখিয়ে টুরিস্টদের আকৃষ্ট করবেন। ওসব জিনিসের নকল তৈরি করে সুভনিয়ার হিসেবে চড়া দামে বিক্রি করবেন। হস্তশিল্পের ব্যবসাটাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলবেন এখানে, তবে শুধুই নিজের জন্য। কী সাংঘাতিক প্ল্যান!

একটু থেমে দম নিয়ে আবার লল কিশোর, বিগ, শুনুন, আপনাকে একটা কাজ করতে হবে। আপনার প্যাডের কাগজে লুককে একটা চিঠি লিখুন। তাকে বলুন, তাঁর কাজ আপনার পছন্দ হয়েছে। আপনি এবং আপনার কোম্পানি সেটা প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখছেন। তাকে নানারকম সুযোগ দিতে চান। এ নিয়ে আলোচনার জন্য তাঁর সঙ্গে মিটিঙে বসতে চান।

মাথা নেড়ে বিগস বলল, উঁহু, আমি তা করতে পারব না। ওই চিঠি অন্য কারও হাতে পড়লে ভীষণ বিপদে পড়ব। আমার চিঠি প্রমাণ করে দেবে, আমিও লুকের সহযোগী। না, আমি পারব না।

বিপদে পড়বেন কেন? মুসা বলল। চিঠির কোথাও তো দুর্ঘটনার কথা লেখা থাকছে না। শুধু লিখবেন ওর কাজ আপনার পছন্দ হয়েছে। কাজ তো কত রকমেরই হতে পারে।

আর কেউ না বুঝলেও লুক ঠিকই বুঝবে কোন কাজের কথা আপনি বলেছেন, কিশোর বলল।

মস্ত ঝুঁকি নেয়া হয়ে যাবে, দ্বিধা যাচ্ছে না বিগসের।

দেখুন, আজ হোক কাল হোক লুককে আমরা ধরবই, দৃঢ় কণ্ঠে বলল কিশোর। ওকে ধরতে সাহায্য করে গ্লিটারবাসীর কাছে ভাল হওয়ার এই সুযোগটা আপনি ছাড়বেন কেন? বলা যায় না, কাজটা করলে আপনার পক্ষে ভোটও বেড়ে যেতে পারে।

ভ্রূকুটি করল বিগস্। কথাটা মন্দ বলনি। বেশ, আমি তোমাদের সাহায্য করব। তবে এই চিঠি লেখার ব্যাপারটা আমার একটুও ভাল লাগছে না। লুক কী করবে, কিছু জানি না। আমাদের ফাঁদে যদি সে পা না দেয়?

ভোটে জেতার জন্য কিছুটা ঝুঁকি তো নিতেই হবে আপনাকে।

আর আপত্তি করল না বিগস্। প্যাড বের করে লিখতে তৈরি হলো। কোথায় দেখা করতে বলব?

বিগৃসের কেবিনটা ভাল করে দেখল কিশোর। ছোট ঘর। একটা অংশকে অফিস বানিয়েছে বিগস্। ছোট একটা রান্নাঘরও আছে এক কোণে। জানালাগুলো ছোট ছোট, ভারী কাঁচ লাগানো, যাতে ঠাণ্ডা ঢুকতে না পারে। ওপরে একটা চিলেকোঠা আছে। ওটা দেখিয়ে বিগকে জিজ্ঞেস করল, ওখানে জায়গা আছে?

থাকতে পারে, জবাব দিল বিগস্। দেখিনি।

ওপরে ওঠার সরু একটা মই আছে। বেয়ে ওপরে উঠে গেল কিশোর ও মুসা। পুরানো কিছু বাক্স আর পিপা রাখা। ওগুলো সরালে কিছুটা জায়গা বেরোবে।

ওখান থেকেই বিগসকে বলল কিশোর, ওকে জানিয়ে দিন, দেড় ঘণ্টার মধ্যে ওর সঙ্গে এখানে দেখা করতে চান আপনি। আশা করি, ততক্ষণে তৈরি হয়ে যেতে পারব আমরা।

 

ঘণ্টাখানেক পর। চিলেকোঠার সঙ্কীর্ণ জায়গায় ঠাসাঠাসি করে বসেছে কিশোর, মুসা, টেড, জোসি ও জেফরি। উত্তেজিত চারটে মুখের দিকে একে একে তাকাল কিশোর। সাক্ষী হওয়ার জন্য জেফরি, জোসি আর টেডকে ডেকে নিয়ে এসেছে। এখনও নিজেদের মধ্যে আচরণে সহজ হতে পারেনি জোসি ও টেড। তবে মনে মনে দুজনেই খুশি। পুরানো বন্ধুত্বটা জোড়া লাগতে যাচ্ছে আবার।

বিগস নীচে অপেক্ষা করছে। ওর কাশি শোনা গেল। কাগজপত্র ঘাটাঘাটির খসখস শব্দ। নিশ্চিন্ত হলো কিশোর। এত মৃদু শব্দও যখন কানে এসে পৌছাচ্ছে, লুক আর বিগসের সমস্ত কথাবার্তা চিলেকোঠা থেকে শোনা যাবে।

অবশ্য যদি আসে লুক!

চুপচাপ বসে অপেক্ষা করতে লাগল ওরা। বার বার ঘড়ি দেখছে কিশোর। বিগসের চিঠি লুকের মত ধড়িবাজ লোককে টেনে আনতে পারবে কি না নিশ্চিত হতে পারছে না। ঘুণাক্ষরেও যদি সন্দেহ করে বসেন ফাঁদ পাতা হয়েছে, তাহলে কেবিনের ত্রিসীমানা মাড়াবেন না। বরং বিগকে ফাঁসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন। সোজা চিঠিটা নিয়ে হাজির হবেন আদালতে।

গড়িয়ে কাটছে সময়। ভাবনার ঝড় বইছে কিশোরের মাথায়। লুক চিঠি পাওয়ার পর গোপনে এসে আড়াল থেকে চোখ রাখেননি তো কেবিনের ওপর? কিশোর-মুসা আর অন্যদেরকে দল বেঁধে বিগসের কেবিনে ঢুকতে দেখলেই বুঝে যাবেন, তাঁকে ফাঁদে ফেলার জন্য ওই চিঠি লেখা হয়েছে। তুষারে পাঁচ জোড়া জুতোর ছাপ পড়েছিল। সেগুলো মুছে ফেলা হয়েছে জেফরির নির্দেশে। সতর্ক লোক। সতর্ক না হলে এই বুনো অঞ্চলে টিকতে পারতেন না। তাড়াহুড়ো করে জুতোর ছাপগুলো মোছা হয়েছে। হয়তো কিছু চিহ্ন রয়েই গেছে। চোখে পড়ে যাবে না তো লুকের?

একই কথা মুসাও ভাবছে। ভাবতে ভাবতে মাথা গরম হয়ে যাবার জোগাড়। সময় কাটাতে বিড়বিড় করে কবিতা আবৃত্তি শুরু করল। কাঁধে হাত পড়তে চমকে গেল ও। ঠোটে আঙুল রেখে ওকে শব্দ না করতে ইশারা করছে টেড।

অপেক্ষা করছে ওরা। লুক আর আসেন না। সবাই যখন ভাবতে আরম্ভ করেছে, লুক আসবেন না, অত সাধারণ একটা চিঠির ফাঁদে ধরা দেবেন না তাঁর মত চতুর লোক, ঠিক তখনই দরজায় শোনা গেল টোকার শব্দ। মুহূর্তে বরফের মত জমে গেল যেন চিলেকোঠার সবাই।

নীচে কাঠের মেঝেতে জুতোর শব্দ।

দরজার দিকে এগোচ্ছে বিগস্।

দরজা খোলার শব্দ হলো।

এসেছেন। আন্তরিক কণ্ঠে বিগ ডাকল, আসুন। রাইফেল এনেছেন কেন? শিকারে বেরোবেন নাকি?

সঙ্গীদের দিকে তাকাল মুসা। গম্ভীর হয়ে আছে সবাই। লুক রাইফেল নিয়ে আসবেন ভাবেনি।

গম্ভীর কণ্ঠে জবাব দিলেন লুক, ঝুঁকি নিতে চাইনি।

বিগস বলল, আমার কোম্পানির জন্য ক্ষতির কারণ হয় এমন কোন ঝুঁকি আমিও নিতে চাই না। তবে মনে হচ্ছে একসঙ্গে কাজ আমরা করতে পারব। দাঁড়িয়ে কেন, বসুন না।

বিগস ও লুকের কথাবার্তা টেপ করার জন্য পকেট থেকে একটা মাইক্রো ক্যাসেট রেকর্ডার বের করল কিশোর। অন সুইচ টিপল। খুব সামান্য শব্দ হলো। অতি মৃদু। কিন্তু লুকের কান এড়াল না।

কীসের শব্দ? চাবুকের মত শপাং করে উঠল যেন তাঁর কণ্ঠ।

রাইফেলের বোল্ট টানার শব্দটা যেন বোমা ফাটাল শ্রোতাদের কানে।

Share This